শনিবার সারাদিন যা ঘটেছে
সুপ্রিম কোর্ট ঘিরে শনিবার দিনভর ছিল নানা উত্তেজনা, আলোচনা ও নাটকীয়তা। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের দুপুর ১ টার মধ্যে পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
সকাল ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে ঢল নেমে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে হাইকোর্টে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করে।
শনিবার সকালে ফুলকোর্ট সভা ডেকেছিলেন বাংলাদেশের বিদায়ী প্রধান বিচারপতি। তবে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রবল প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে সেই সভা বাতিল করা হয়। ঘটনা পরম্পরায় পদত্যাগ করেছেন প্রধান বিচারপতি। এছাড়া আপিল বিভাগের আরো পাঁচজন বিচারপতি পদত্যাগ করেন।
এরপর বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর এই নিয়োগ নিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এদিকে কোটা আন্দোলন চলার সময় নিহত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের পীরগঞ্জের বাড়িতে গিয়েছেন প্রধান উপদেষ্ঠা ড.মুহাম্মদ ইউনূস। আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের পর তিনি পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেন।
সেখানে তিনি বলেছেন, ''আবু সাঈদ এখন আর এক পরিবারের সন্তান না। ''বাংলাদেশে যত পরিবার আছে, তাদের সন্তান। যারা বড় হবে, স্কুল-কলেজে পড়বে, তারা আবু সাঈদের কথা জানবে এবং নিজে বলবে,আমিও ন্যায়ের পক্ষে লড়ব।''
অন্যদিকে শেখ হাসিনাকে ‘সম্মানের সাথে দেশে ফিরিয়ে আনার’ দাবিতে গোপালগঞ্জ এবং বরগুনা সদরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গোপালগঞ্জে এনিয়ে টানা তিনদিন বিক্ষোভ করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা।বিক্ষোভের সময় তারা হাতে রাম দা, লাঠি, হকিস্টিক ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে শ্লোগান দিয়েছে। গোপালগঞ্জ শেখ হাসিনার নিজ জেলা।
গোপালগঞ্জে বিক্ষোভকারীরা সেনাবাহিনীর একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে কিছু সাংবাদিকের নাম প্রকাশ করে সাংবাদিক অঙ্গনে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফ থেকে এ দাবি সম্বলিত একটি চিঠি জাতীয় প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের কাছে দেয়া হয়েছে। বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফ থেকে অর্ধশত সাংবাদিকের তালিকা দেয়া হয়।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আগামীকাল থেকে হটলাইন চালু করতে চায় সরকার। এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন ও পরামর্শের প্রেক্ষিতে এ কথা জানান অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, কোথাও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর কোনো হামলা বা সহিংসতার ঘটনা ঘটে হটলাইনে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেবেন তারা।












