কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে মসজিদ বন্ধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ডাক

ছবির উৎস, ANI
কলকাতার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছেই অবস্থিত গৌরীপুর জামা মসজিদ বা বাঁকরা মসজিদ বন্ধের ঘটনায় শুক্রবার প্রতিবাদের ডাক দিলেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত এই মসজিদ গত শনিবার থেকে বন্ধ রয়েছে। দ্বিতীয় রানওয়ের সম্প্রসারণ এবং বিমান বন্দরের সুরক্ষার কারণে মসজিদ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই বিষয়ে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটি একটি সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে। সেখানে মি. চৌধুরী বলেন, “১৩৬ বছরের পুরানো মসজিদে অন্যায় ও অবৈধভাবে নামাজ বন্ধের বিরুদ্ধে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করব।”
পাশাপাশি, তিনি জানিয়েছেন, ওই মসজিদে যারা এতদিন ধরে নামাজ পড়ে এসেছেন তারা আগামীকাল সেখানে উপস্থিত হবেন নামাজ পড়ার জন্য।
“আমি অনুরোধ করব আমাদের যেন নামাজ আদায় করতে দেওয়া হয়। যদি ঢুকতে না দেয় তাহলে ধস্তাধস্তি করব না। আমরা শান্তিপ্রিয়,” বলেছেন তিনি।
সরকারকে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সুরাহা খোঁজার কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়েছেন, অবিলম্বে যেন তাদের মসজিদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় এই মসজিদ গিয়ে পড়ে এয়ারপোর্টের অংশে। এই প্রথম নয়, বাম আমলে এবং পরে তৃণমূল সরকারের সময়েও অসামরিক বিমানচলাচল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মসজিদ অন্যত্র সরানোর বিষয়ে জানানো হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর এই বিষয়ে নজর দেয়।
এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এই নিয়ে গত মে মাসে বৈঠক হয়। সেই সময়ে মসজিদ কমিটিকেও জানানো হয়েছিল বলে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে।
তবে মসজিদ কমিটির অভিযোগ তাদের এই বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করার পর, পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখে এয়ারপোর্টের শাটল বাস সার্ভিসের চাপিয়ে নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে নিয়ে যাওয়া হতো। সিআইএসএফ-এর জওয়ানরা এর দায়িত্বে থাকতেন।
মসজিদ কমিটির দাবি, শনিবার প্রাথমিকভাবে তাদের জানানো হয়েছিল রক্ষণাবেক্ষণের কাজ ও আবহাওয়ার কারণে শনিবার ভোরে মসজিদ বন্ধ রাখা হয়েছে। পরে নামাজ আদায় করতে জড়ো হওয়া স্থানীয় বাসিন্দাদের আবারো জানানো হয় কর্তৃপক্ষের তরফে মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে। এরপর বিতর্ক শুরু হয়।
সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী অভিযোগ করেন, বুধবার রাতে সংশ্লিষ্ট থানায় গেলেও তাদের অভিযোগ নেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তরফেও সহযোগিতা মেলেনি।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, “আমরা কাউকেই ধর্ম পালনে বাধা দিচ্ছি না। কিন্তু কলকাতা বিমানবন্দরের অবস্থান আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তাই এভাবে মসজিদ খুলে রাখা যায় না।”
আরো পড়তে পারেন: কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে ১৩৬ বছর পুরনো মসজিদ সরানো নিয়ে বিতর্ক







