কারফিউর পঞ্চম দিন: দ্রুতই খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আরেক সমন্বয়কের
টানা পাঁচদিন ধরে বাংলাদেশে এক ধরনের অচলাবস্থা থাকার পর বুধবার সকাল থেকে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। সকাল থেকে কারফিউ শিথিল থাকায় অফিস-আদালত, ব্যাংক খুলেছে, সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনের ভিড় দেখা গেছে। সহিংসতায় জড়িতদের সন্ধানে পুলিশের গ্রেফতার অভিযান থামেনি। মঙ্গলবার রাত থেকে কোনো কোনো স্থানে সীমিতভাবে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুতই খুলছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সার সংক্ষেপ
বুধবার ও বৃহস্পতিবার কারফিউ রয়েছে, তবে দুপুর ১০টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত শিথিল রয়েছে।
তিনদিন পর খুলেছে অফিস-আদালত, ব্যাংক। কারফিউর কারণে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অন্তত দেড়শ মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
টানা পাঁচদিন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার রাতে আবার সীমিত আকারে চালু হয়েছে।
সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত দুইদিনের অভিযানে সহস্রাধিক মানুষ গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের আরেকজন সমন্বয়ক।
আল্টিমেটাম থাকলেও দ্রুতই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
সরাসরি কভারেজ
কারফিউর পঞ্চম দিনে যা যা দেখা গেল
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার বিজয় সরণি মোড়ে বুধবার সকালে যানবাহনের ভিড়, সামনে সেনা সদস্যদের চেকপোস্ট
বুধবার কারফিউর পঞ্চম দিনে রাজধানীতে বিভিন্ন অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহরে যান চলাচল উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি ছিল। অনেক স্থানে যানজটও দেখা গেছে।
গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলো খুলেছে। কাজে যোগ দিতে দেখা গেছে শ্রমিকদের। তবে স্বাভাবিকের তুলনায় শ্রমিক উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল বলে জানা গেছে। গাজীপুরের শিল্প অধ্যুষিত এলাগুলোতে বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশের টহল দেখা গেছে।
ঢাকার বাইরের কিছু বড় বড় শহর, যেমন— খুলনা, রংপুর, সিলেট, গাজীপুরেও কারফিউ শিথিল অবস্থায় ছিল। কিছু কিছু জায়গায় আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করেছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিলেও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হলে দ্রুতই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। বলেন, পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক হলে সবার আগে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি’র বাকি পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হবে। এরপরই খুলতে পারে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো। পর্যায়ক্রমে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আদায়ের চেষ্টা করে আটককারীরা। সেই বিবৃতি না পেয়ে তাকে চারদিন ধরে ‘ইনজেকশন’ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে রাখা হয়েছিল।
কোটা আন্দোলন ঘিরে ঘটে যাওয়া সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি’র ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার বিটিভি ভবনে হামলা ও আগুনের ঘটনায় টেলিভিশন মিউজিয়াম, বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার, সম্প্রচার বাহনসহ ১৭টি গাড়ি, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভাঙচুর ও মূল্যবান সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
শিক্ষার্থীরা আল্টিমেটাম দিলেও শিগগিরই খুলছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শতভাগ নিরাপদ পরিবেশ তৈরি না হলে শিগগিরই
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।
তিনি জানিয়েছেন, পরিস্থিতি আরেকটু স্বাভাবিক
হলে সবার আগে উচ্চ মাধ্যমিক বা এইচএসসি’র বাকি পরীক্ষাগুলো আয়োজন করা হবে। এরপরই খুলতে
পারে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো।
তবে, সারাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো একসাথে
নাও খুলতে পারে বলে জানান সরকারের এই মন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী মি. চৌধুরী বলেন, “ঢাকা জেলা,
মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী গাজীপুর এলাকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনো বিপদ আছে বলে আমাদের
কাছে তথ্য আছে। এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার একটা শঙ্কা রয়েছে। এ কারণে
ঢাকা ও আশপাশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিয়ে আমরা রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট করছি।”
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চালুর পর ধীরে ধীরে
মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও সবশেষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালরে অধীনে থাকা কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো খুলতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান খুলে দিতে সরকারকে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের বেঁধে
দেয়া সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয় শিক্ষামন্ত্রীর
কাছে।
জবাবে তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, “তড়িঘরি করে এখনই
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে আবারও শিক্ষার্থীদের জীবন বিপন্ন করার কাজটা আমরা
করতে পারি না।”
ছবির ক্যাপশান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলা
চারদিন ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে রাখা হয়েছিল: আসিফ মাহমুদ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে
যাওয়ার পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আদায়ের চেষ্টা করে আটককারীরা। সেই বিবৃতি না
পেয়ে তাকে চারদিন ধরে ‘ইনজেকশন’ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে রাখা হয়েছিল বলে বিবিসি
বাংলার কাছে দাবি করেছেন মি. মাহমুদ।
কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই আসিফ মাহমুদকে সামনের সারিতে দেখা গেছে। তবে, গত চারদিন ধরে তার সঙ্গে অন্য
সমন্বয়কদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
এই কয়দিন কোথায় কী অবস্থায় ছিলেন তিনি?
বিবিসি বাংলাকে আসিফ মাহমুদ বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে 'কমপ্লিট শাটডাউনের' সময় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।
শাটডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি দেখতে বের হয়েছিলেন তিনি।
“রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিকেতন থেকে মহানগর আবাসিক এলাকার দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ
করে পেছন থেকে মাথায় কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে কয়েকজন। এরপর একটি মাইক্রোবাসে
তোলা হয়,” বলছিলেন মি. মাহমুদ।সেসময় অন্তত পাঁচ-ছয়জন ছিল বলে
ধারণা করছেন তিনি।
এরপর কোথাও নিয়ে যাওয়া হয়। চোখ বাঁধা থাকায় স্থানটি সম্পর্কে কোনো ধারণা পাননি
তিনি।
“আমাকে বলতে বলছিল যে,
আন্দোলন স্থগিত করতেছি, সংঘর্ষ সন্ত্রাসীরা করছে।”
একটা ভিডিও বার্তা ধারণ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু, সেটা দিতে চাননি বলে জানান আসিফ।
“এরপর আমার কোমরে একটা ইনজেকশন দেয়া হয়েছিল। ইনজেকশন দেয়ার পর আমার আর কোনো
কিছু জানা নেই,” যোগ করেন তিনি।
বিবিসি বাংলাকে আসিফ বলেন, “চারদিনে যতবার জ্ঞান ফিরেছে, জ্ঞান ফেরার পরই আবার ইনজেকশন দিয়ে অজ্ঞান করে রাখতো। ইনজেকশন দেয়ার আগে হালকা
খাবার দেয়া হতো।”
সর্বশেষ গতকাল রাত তিনটা বা চারটার পর জ্ঞান ফেরে তার।
“ওরা আমাকে বলে যে, তোমাকে নিয়ে যেতে পারবে এমন কাউকে
ফোন দাও,” বলছিলেন আসিফ।
তবে, রাতের বেলা আন্দোলনের অন্য সমন্বয়ক
ও পরিবারের সদস্যদের ফোন দিলেও কেউ রিসিভ করেননি।
তিনি বলেন, “তারপর যেখান থেকে ধরা হয়েছে
সেখানেই আবার রেখে আসার কথা জানায় আটককারীরা।”
বেলা ১১টার দিকে তাকে মহাখালীর কাছাকাছি ছেড়ে দেয়া হয় বলে জানান আসিফ।
যেখানে ‘আটকে’ রাখা হয়েছিল সেখান থেকে মহাখালীতে পৌঁছুতে বুধবার সকালে আধা
ঘণ্টার মতো সময় লেগেছে বলে বিবিসি বাংলাকে জানান তিনি।
“ছাড়া পাওয়ার পর” পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে বর্তমানে একটি হাসপাতালে
চিকিৎসাধীন আছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম এই সমন্বয়ক।
বিবিসি বাংলার সাথে কথোপকথনে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
এর আগে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে।
ডিবি পরিচয়ে কোনো একটি 'রাষ্ট্রীয় বাহিনী' তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
যদিও মি. ইসলামের এই অভিযোগের বিষয়ে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে পুলিশের সাথে
যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে তাকে আটক বা ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে তারা কিছু
জানেন না।
সোমবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ
ও মাহিন সরকার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন তাদের চারজন সমন্বয়ক নিখোঁজ আছেন।
যে চারজন সমন্বয়কের নিখোঁজের কথা বলা হয়েছিল তারা হলেন আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, রশিদুল ইসলাম রিফাত ও আবু বাকের
মজুমদার।
ছবির ক্যাপশান, আসিফ মাহমুদ
কোটা আন্দোলন ঘিরে ঘটে
যাওয়া সহিংসতায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন বা বিটিভি’র ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছে সরকার।
বুধবার বিকেলে রামপুরার অবস্থিত বিটিভি ভবনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী
আরাফাত।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার
বিটিভি ভবনে হামলা ও আগুনের ঘটনায় টেলিভিশন মিউজিয়াম, বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার,
সম্প্রচার বাহনসহ ১৭টি গাড়ি, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভাঙচুর ও মূল্যবান
সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে।
মি. আরাফাত বলেন, “এখন
বিটিভি ভবন দেখে মনে হয় এটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র। যারা গুরুত্বপূর্ণ এই ভবনে হামলা
চালিয়েছে তারা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এটি করেছে।”
কোটা সংস্কার আন্দোলন
ঘিরে সারাদেশে ঘটে যাওয়া প্রাণহানি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল তথ্য
প্রতিমন্ত্রীর কাছে।
“এখন
পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত নয়। তবে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সরকার
প্রতিটি ঘটনার বিচার করবে,” জানান মি. আরাফাত।
ছবির ক্যাপশান, হামলা ও আগুনের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন
ঢাকার বাইরের কারফিউ পরিস্থিতি
শুক্রবার থেকে বাংলাদেশে কারফিউ চলছে। শুরুর দিকে কারফিউ বেশ কড়াকড়ি থাকলেও এখন ধীরে ধীরে ঢাকাসহ সারাদেশে তা শিথিল হচ্ছে।
আজ বুধবার ঢাকায় সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হয়েছে। ঢাকার বাইরের কিছু বড় বড় শহর, যেমন— খুলনা, রংপুর, সিলেট, গাজীপুরেও কারফিউ শিথিল অবস্থায় আছে।
ওইসব স্থানের স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে আজ থেকে অফিস আদালত শুরু হওয়ায় মানুষজন ঘর থেকে বের হয়েছে।
খুলনার সাংবাদিকরা জানিয়েছে, সেখানে এখনও গণপরিহন কিছুটা কম থাকায় মানুষের উপস্থিতি কম।
তবে রংপুরে আবার আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে এবং সেখানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কারফিউ জারির শুরুর দিকের সাথে তুলনা করলে সিলেটেও যান চলাচল বেড়েছে।
গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা জানিয়েছেন, “আজকে থেকে শিল্পকারখানা খুলেছে।”
কারখানাগুলোতে উপস্থিতি কম হলেও শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ গাজীপুরের শিল্প অধ্যুষিত এলাগুলোতে টহল দিয়েছে।
এছাড়া, গাজীপুরে স্থানীয় যানবাহন চলাচল শুরু হলেও দূরপাল্লার যানবাহন চলছে না। মি. রানা বলেন, “ স্বাভাবিক সময়ের মতো না হলেও মানুষের বাহিরে বের হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।”
ঢাকার বাইরের মানুষ ‘ইন্টারনেটের বাইরে’
মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কোনও কোনও অঞ্চলে কিছুক্ষণের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট চালু হলেও পরবর্তীতে গ্রাহকরা জানান যে তারা ইন্টারনেট পাচ্ছেন না। যারা পাচ্ছেন, তারা বলছেন— “গতি স্লো”।
তবে ঢাকার বাইরের অনেক এলাকার মানুষ একেবারেই ইন্টারনেট পাচ্ছেন না।
কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী বুধবার বেলা দুইটার দিকে বলেন, “রাতে এক ঝলক আসছিলো। আজকে সকালে ১০ মিনিটের জন্য পাওয়া গেছিলো। আর পাওয়া যায়নি।”
গতকাল বরিশালের কোনও কোনও গ্রাহক সীমিত পরিসরে টেলিটকের ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পেরেছিলো। কিন্তু তা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়নি এবং “আজ বিটিসিএল ইন্টারনেট দিচ্ছে না” বলে জানান বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম।
প্রায় একই অবস্থা খুলনাতেও। সেখানকার স্থানীয় সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী বলেন, “গতকাল রাত ১০টার পর বাসায় ওয়াই-ফাই পেয়েছিলাম, কিন্তু অনেক ধীরগতির ছিল। এখন কোথাও আছে, কোথাও নেই।”
রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরে খোঁজ নিলে সেখান থেকেও একই তথ্য পাওয়া যায়। গাজীপুর থেকে স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, শুধু শিল্পকারখানার ভেতরে ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে।
ঢাকার বাইরেও গ্রেফতারের হিড়িক
বুধবার ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো বলছে, গত কয়েকদিনে সহিংসতার ঘটনায় সারাদেশে দুই থেকে আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নিউ এজ পত্রিকার একটি প্রতিবেদন বলছে, গত তিন দিনে পুলিশ প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মাঝে রাজনীতিক থেকে শুরু করে সাধারণ শ্রমিক, সবাই আছে।
যুগান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম বলছে, কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নাশকতা ও বিস্ফোরক মামলায় বিএনপি-জামায়াতের ২,১০১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আবার সমকালের প্রতিবেদন বলছে, গতকাল পর্যন্ত সারাদেশে নাশকতার ঘটনায় দায়েরকৃত অন্তত ১৫৯টি মামলায় ২,৭৪৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সারাদেশের যেসব স্থানে বেশি সহিংসতা ঘটেছে, তার মাঝে অন্যতম হল গাজীপুর।
গাজীপুরের স্থানীয় সাংবাদিক মাসুদ রানা জানিয়েছেন, গত দু’দিনে গাজীপুর মহানগরীর ৮টি থানায় মোট ২৮টি মামলা হয়েছে এবং এতে মোট গ্রেফতার হয়েছে ২৩৪ জন।
গ্রেফতারকৃতদের মাঝে জামায়াত বিএনপি’র নেতাকর্মী বেশি। আর কিছু গ্রেফতারকৃত ব্যাক্তির পরিচয় সুনির্দিষ্টভাবে বলেনি পুলিশ, এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।
তবে যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের মাঝে কিছু “শিক্ষার্থী থাকতে পারে, কিন্তু পুলিশ সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলছে না” বলে উল্লেখ করেন মি. রানা।
এদিকে, গতকাল রাতে গাজীপুর সদর থানা ৪৫জন ডুয়েট শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে, এমন একটি খবর জানিয়েছে স্থানীয় সাংবাদিকরা। তবে পুলিশ তা স্বীকার করেনি।
গাজীপুর সদর থানায় পাঁচটি মামলা হয়েছে উল্লেখ করে থানার ওসি রাফিউল করিম বিবিসিকে বলেন, “ডুয়েট স্টুডেন্টকে আটক করবো কেন? ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সম্পৃক্ততায় আমরা ওই মামলায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৪৫ জনকে গ্রেফতার করেছি।”
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিলো।
কুমিল্লার স্থানীয় সাংবাদিক মাসুক আলতাফ চৌধুরী জানান, গত পাঁচ দিনে ৭ মামলায় মোট ১৩৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তারা “সবাই বিএনপি-জামায়াতের সাধারণ কর্মী। তাদেরকে ওয়ার্ড বা ইউনিয়নভিউত্তিক তালিকা করে গ্রেফতার করা হয়েছে।”
শিক্ষার্থীদেরকে আটক করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আটককৃতদের মাঝে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী না থাকলেও বিএনপি জামায়াতের শিক্ষার্থীরা আছে।”
খুলনার স্থানীয় সাংবাদিক গৌরাঙ্গ নন্দী জানান, আন্দোলন চলাকালীন খুলনা “শান্ত” ছিল এবং সেখানে কোনও “সহিংসতা হয়নি”। তারপরও প্রায় ৭-৮টি মামলা হয়েছে।
রংপুরের স্থানীর সাংবাদিক ফরহাদুজ্জামান ফারুক জানান, সেখানে গত পাঁচদিনে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ মোট গ্রেফতারকৃত’র সংখ্যা ১১৬ জন।
সিলেটের স্থানীয় সাংবাদিক আজহার উদ্দিন শিমুল জানান, চলমান আন্দোলনে পুলিশ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি মামলায় ১১০জনকে গ্রেফতার করেছে।
এছাড়া, বরিশালেও গতকাল সকাল পর্যন্ত ছয়টি মোট ৮৭ জনকে গ্রেফতার হয়েছে। এইসব মামলার মোট আসামী সংখ্যা ১৩০ জন বলে জানিয়েছেন বরিশালের স্থানীয় সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতদের মাঝে শিক্ষার্থী আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "এটা ওরা (পুলিশ) বলছে না।"
আসিফ মাহমুদের ‘খোঁজ মিলেছে’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদের খোঁজ মিলেছে বলে জানিয়েছেন অপর এক সমন্বয়ক
সারজিস আলম।
বুধবার দুপুর ১২
টার দিকে মি. আসিফের সঙ্গে তাদের কথা হয় বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন সারজিস আলম।
কোটা সংস্কার
আন্দোলনের শুরু থেকেই আসিফ মাহমুদকে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে।
তবে, গত চারদিন ধরে তার সঙ্গে অন্যদের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
সোমবার রাতে
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ ও মাহিন সরকার
সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন তাদের চারজন সমন্বয়ক নিখোঁজ আছেন।
যে চারজন
সমন্বয়কের নিখোঁজের কথা বলা হয়েছিল তারা হলেন আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, রশিদুল
ইসলাম রিফাত ও আবু বাকের মজুমদার।
সারজিস বলেন,
আসিফ তাদের জানিয়েছেন তাকে কে বা কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল।
“ছাড়া পাওয়ার পর” শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে
আসিফের মোবাইল ফোনে কল করা হলেও কেউ রিসিভ করেন নি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া
মেলেনি।
এর আগে আন্দোলনের
অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন যে, তাকে চোখ বেঁধে তুলে নিয়ে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক
নির্যাতন করা হয়েছে।
ডিবি পরিচয়ে কোন
একটি 'রাষ্ট্রীয় বাহিনী' তাকে তুলে নিয়ে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
যদিও মি. নাহিদের
এই অভিযোগের বিষয়ে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা
জানান যে মি. ইসলামকে আটক বা ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না।
নরসিংদী কারাগারের ফটকে পালিয়ে যাওয়া অনেক কয়েদি
নরসিংদীতে বুধবারও অনেক কয়েদি আত্মসমর্পণের জন্য জেলা কারাগারের ফটকে উপস্থিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিবিসি সংবাদদাতা তাফসীর বাবু।
তিনি জানিয়েছেন, জেল পালানো এই কয়েদিরা তাদের আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার পরামর্শ দিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে আজ ঠিক কত সংখ্যক কয়েদি আত্মসমর্পণের জন্য এসেছেন, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে নরসিংদীর জেলা প্রশাসক বদিউল আলম বলেছেন, শুক্রবার নরসিংদী জেলখানা থেকে পালানো কয়েদিদের মধ্যে মঙ্গলবার ১৩১ জন আত্মসমর্পণ করেছেন।
এছাড়া পুলিশ গ্রেফতার করেছে চারজনকে।
ফলে এ পর্যন্ত মোট ১৩৫ জন জেল পালানো কয়েদিকে কারাগারে ফেরানো সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুক্রবার নরসিংদীর জেল থেকে মোট ৮২৬জন কয়েদি পালিয়ে যায়।
বুধবার সকালে ঢাকার পুলিশ জানিয়েছিল যে, নরসিংদী কারাগার থেকে পাঠানো দুই নারী জঙ্গিকে তারা গ্রেফতার করেছে।
নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো দুই জঙ্গি গ্রেফতার
নরসিংদী কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া দুইজন নারী জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকে জানানো হয়েছে, শুক্রবার নরসিংদী কারাগারে হামলার পর যে আটশোর বেশি বন্দী পালিয়ে যায়, তাদের মধ্যে কয়েকজন জঙ্গি ছিলেন।
তাদের মধ্যে দুইজন নারী জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকার পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।
বিক্ষোভের পর বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ করল আরব আমিরাত
বাংলাদেশের একটি দৈনিক পত্রিকা বণিক বার্তার খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। তবে এটি সুনির্দিষ্টভাবে কর্মীদের জন্য নাকি সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্য দিতে পারেননি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা।
দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার আরব আমিরাতের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
ওই বিক্ষোভের দায়ে সোমবার ৫৭জন বাংলাদেশিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ইউএই সরকার। এর একদিন পরই গতকাল বাংলাদেশিদের জন্য সাময়িকভাবে ভিসা বন্ধের ঘোষণা দিল দেশটি।
প্রসঙ্গত, আরব আমিরাতে বিক্ষোভের দায়ে কারাদণ্ড পাওয়া ৫৭ বাংলাদেশীর মধ্যে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এছাড়া, ৫৩ বাংলাদেশীর ১০ বছর করে এবং একজনের ১১ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, বণিক বার্তা পত্রিকা
দেশব্যাপী কবে ইন্টারনেট চালু হবে, তা বলতে পারছে না বিটিআরসি
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার রাত থেকে সীমিত পরিসরে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হলেও এখনও দেশের সবাই ইন্টারনেট পাচ্ছেন না।
এদিকে, কবে নাগাদ দেশব্যাপী ইন্টারনেট সেবা চালু হবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারছে না বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।
মঙ্গলবার রাত আটটার পর প্রাথমিকভাবে শুধু বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের কিছু কিছু এলাকার ব্রডব্যান্ড সংযোগগুলো চালু হয়।
অন্যান্য বিভাগে কবে নাগাদ আসবে, সে ব্যাপারে বিটিআরসি’র সচিব নূর-ই-খাজা আলামীন বলেন, “ধাপে ধাপে আসবে, কাজ চলছে, দিয়ে দিবে।”
“আসলে এটা টেকনিক্যাল বিষয়। অনুমান করে এখনও বলা যাচ্ছে না যে কবে আসবে।”
সংঘাতের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে
বাংলাদেশে কোটা আন্দোলনকে ঘিরে গত কয়েকদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতির পর বুধবার থেকে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
তিন দিনের সাধারণ ছুটির পর আজ বুধবার থেকে শুরু হয়েছে অফিস আদালতের কার্যক্রম।
আজ ঢাকাসহ চার জেলায় সাত ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়েছে।
সেই সাথে বুধবার সকাল ১১টা থেকে চার ঘন্টার জন্য সরকারি – বেসরকারি সব অফিস খোলা থাকবে।
এছাড়া গতকাল দিনের বেলাতেই বিভিন্ন রুটে সীমিত পরিসরে চলতে শুরু করেছে দূরপাল্লার যানবাহন।
মঙ্গলবার রাত থেকে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট চালু করা হয়েছে।
আজ থেকে খোলা থাকবে পোশাক কারখানাগুলোও।
এছাড়া মহাসড়কগুলোতে যান চলাচল শুরু হয়েছে। যানবাহন বেড়েছে ঢাকার সড়কে। সীমিত পরিসরে খুলছে দেশের বানিজ্যিক ব্যাংকগুলো।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী এবং বিজিবির সদস্যদের টহল রয়েছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে ১৬ই জুলাই থেকে সারাদেশে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে সংঘাতে রূপ নেয়।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায়
এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অন্তত দেড়শ মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
ছবির উৎস, BBC/Shyadul Islam
ছবির ক্যাপশান, ঢাকার বিজয় সরণি মোড়ে বুধবার সকালে যানবাহনের ভিড়, সামনে সেনা সদস্যদের চেকপোস্ট
সহিংসতার মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার অব্যাহত
কোটা সংস্কার ইস্যুতে আন্দোলন ঘিরে সংঘাত ও সহিংতার ঘটনায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মঙ্গলবার থেকে বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত, মানে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শুধুমাত্র রাজধানী ঢাকা থেকেই মোট ৬৪১ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি।
এর আগের দুইদিনে ডিএমপি মোট ১,১১৭ জনকে গ্রেফতার করেছিলো। সে হিসাবে, এখন পর্যন্ত মোট গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির সংখ্যা ১,৭৫৮ জন।
প্রাথমিকভাবে মামলার সংখ্যা ছিল ৩৮টি। তবে এখন “মামলার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে” বলে বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন ডিএমপি’র মিডিয়া শাখার ডিসি গোলাম ফারুক।
গ্রেপ্তারকৃতদেরকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা থেকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়। তারপর তাদেরকে হয় রিমান্ডে নেওয়া হয়, অথবা সরাসরি কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি বলেন যে “সিসিটিভি ক্যামেরা, গোয়েন্দা রিপোর্ট” এর ভিত্তিতে তারা গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছেন।
কোটা আন্দোলন ঘিরে এ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে
কোটা আন্দোলন ঘিরে এ পর্যন্ত যা যা ঘটেছে:
কোটা আন্দোলন ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুক্রবার মধ্যরাতে বাংলাদেশে যে কারফিউ জারি করা হয়েছে, তা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে দুপুর ১০টা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত শিথিল থাকবে। এই সময়ে সেনা মোতায়েন থাকবে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকল অফিস, আদালত, ব্যাংক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম খোলা থাকবে। তবে কারফিউর কারণে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
কোটা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে রোববার আপিল বিভাগ যে আদেশ দিয়েছে, তার আলোকে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশের সরকার।
প্রজ্ঞাপনকে চূড়ান্ত সমাধান হিসাবে না মেনে সারা দেশে কারফিউ প্রত্যাহার, ইন্টারনেট সংযোগ চালু, বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া ও সারা দেশের সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।
কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় এ পর্যন্ত বাংলাদেশ অন্তত দেড়শ মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।
টানা পাঁচদিন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার রাতে আবার সীমিত আকারে চালু হয়েছে।
সংঘাত ও সহিংসতার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশে গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গত দুইদিনের অভিযানে সহস্রাধিক মানুষ গ্রেফতার হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে, যাদের মধ্যে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী রয়েছে।
কোটা সংস্কারের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়, যা এক পর্যায়ে সংঘাতে রূপ নেয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনে আগুন দেয়া হয়, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জসহ অনেক এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। নরসিংদী কারাগারে হামলা চালিয়ে আটশো বেশি বন্দী পালিয়ে যায়।
সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ও সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ হয়ে যায়। সব ধরনের যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হলে শুক্রবার রাত থেকে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার রাত থেকে সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
কারফিউর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে সরকার জনগণকে চরম বিপদ ও দুর্ভোগের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে বিএনপি-জামায়াত সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় ৫৭ জন বাংলাদেশিকে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে সেখানকার একটি আদালত। বাংলাদেশে ছাত্র হত্যার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ হয়েছে।
বিবিসি বাংলার লাইভ
শুক্রবার থেকে বাংলাদেশে কারফিউ চলছে। এর মধ্যেই অফিস-আদালত-ব্যাংক খুলেছে। সর্বশেষ সব তথ্য নিয়ে বিবিসি বাংলার লাইভ আয়োজনে স্বাগতম।