সমকামিতার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ

সমকামিতার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যার পর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থমথমে রয়েছে সেখানকার পরিবেশ।
রোববার সন্ধ্যায় শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট কার্যালয়ের সামনে এই সংঘর্ষ ঘটে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট ইসরাফিল রতন পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে বলে দাবি করেছেন।
অধ্যাপক রতন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “এটা অনাকাঙ্খিত, হল প্রভোস্ট মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে কমিটি করে দিয়েছিলেন। সেই কমিটি বসছিল। সেটা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ হওয়ার কোনো কারণ দেখি না। পরবর্তী পর্যায়ে শুনলাম যে, দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান করছে। পরে হল প্রভোস্ট জানালে প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”
উল্লেখ্য, শনিবার ওই হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিলের রুমে অবস্থান করা বহিরাগত দুইজন যুবকের বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগে এরই মধ্যে ছাত্রশিবিরের এই নেতাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর।
অধ্যাপক রতন বলেন, “আমরা চাচ্ছি যে, সুষ্ঠু তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা যাতে নেওয়া যায়। তদন্ত পক্ষপাতিত্বহীন হওয়া জরুরি। এই ঘটনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসম্মান জড়িত। এই ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকা কোনোভাবে আমরা উৎসাহিত করতে পারি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ে রুলস অনুযায়ী, বহিরাগত কোনো ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে থাকতে পারেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, রুলসে কোনোভাবেই বহিরাগতদের হলে থাকার নিয়ম নেই।
“ছেলেদের হলে এ ধরনের থাকবার রেওয়াজ নাই। কিন্তু ছেলেদের হল মেয়েদের হলের চাইতে কিছুটা অরক্ষিত। কোনো গেস্ট আসলে হয়তো অনেক সময় থেকে যায়। তবে রুলসে কোনোভাবেই বাইরের কারো হলে থাকার কোনো নিয়ম নাই” বলেন প্রক্টর অধ্যাপক রতন।
একইসঙ্গে, “অভিযোগ প্রমাণের আগেই তাৎক্ষণিক এই বিষয়টিকে জরুরি ভেবে ওই রুমের যিনি লিগ্যাল বোর্ডার তাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় তখন হয়তো অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে” বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে মি. খলিল দুঃখপ্রকাশ করে ফেসবুক পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, তারা চিকিৎসার জন্য এসেছিল বলে রুমে থাকতে দিয়েছেন তিনি।
ওই ঘটনার সময় তিনি রুমে ছিলেন না এবং বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঘটনাটির নিন্দা করে মি. খলিল, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে সহায়তা করবেন বলেও ফেসবুকে লিখেছেন।
পরে শনিবারই ঘটনার প্রতিবাদে কিছু শিক্ষার্থী হলে মিছিল করেন।
মি. খলিল ডাকসুর হল সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের সমর্থনে হলের সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হন।







