যেসব আসনে লড়বেন বিএনপি’র সিনিয়র নেতা ও হেভিওয়েট প্রার্থীরা
খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ ২৩৭ আসনে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রস্তাবিত গণভোটের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা’ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেধে দিয়েছে সরকার। সবশেষ খবর জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সরাসরি কভারেজ
সোমবার সারাদিন যা যা হলো:
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশের ৩০০
আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনের সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিএনপি।
এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একা তিনটি আসনে
এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটে অংশ নিচ্ছেন একটি আসন
থেকে।
খালেদা জিয়া ছাড়াও এই আসনগুলো থেকে নির্বাচনে লড়বেন আরো
নয়জন নারী প্রার্থী।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে
এই তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার
নাম।
বিএনপি সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর চট্টগ্রামে
বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় রাস্তা অবরোধ ও টায়ারে আগুন জালিয়ে বিক্ষোভ
করেছেন তার কর্মী সমর্থকরা।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পূর্বঘোষিত পাঁচ দফা দাবি
আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী-ইসলামী আন্দোলনসহ সমমনা আটটি দল।
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন
পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার আবেদনের পর তা তদন্তে মহানগর গোয়েন্দা বা ডিবিকে
নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক
থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রস্তাবিত গণভোটের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে
‘ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা’ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেধে দিয়েছে সরকার।
বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় সাথে থাকার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। দেশ-বিদেশের আরও খবর, বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি মূল পাতায়...
ছবির ক্যাপশান, চট্টগ্রামে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর কর্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ
চট্টগ্রামে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী মনোনয়ন না পাওয়ায়
তার অনুসারীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে। সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে
বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন তার অনুসারীরা।
সন্ধ্যায় বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পরপরই
বিক্ষোভ শুরু করেন মি. চৌধুরীর নেতাকর্মীরা।
বিবিসি বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার
ওসি মজিবুর রহমান।
তিনি জানান, প্রায় ঘণ্টা খানেক ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের
বেশ কিছু জায়গায় রাস্তা অবরোধ, টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন আসলাম চৌধুরীর সমর্থকরা।
পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা
গেছে, ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বেশ কিছু জায়গা অবরোধ করে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ
করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এসময় আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শ্লোগান দিতেও দেখা যায় তার
কর্মী সমর্থকদের।
স্থানীয় সাংবাদিকরা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-৪ আসনে (সীতাকুন্ড ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একাংশ) মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিএনপি
নেতা আসলাম চৌধুরী।
কিন্তু সন্ধ্যায় বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী তালিকা মি. চৌধুরীর নাম
না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার কর্মী সমর্থকরা।
পরে রাস্তা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন তারা। এক পর্যায়ে
রাস্তায় আগুন ধরিয়ে অবরোধ শুরু করলে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়।
উল্লেখ ওই আসন থেকে এবার বিএনপি প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা
করা হয়েছে কাজী সালাউদ্দিনের।
বিবিসি বাংলার খবর এখন হোয়াটসঅ্যাপে
দেশ-বিদেশের খবর, বিশ্লেষণ ও সর্বশেষ তথ্য বিবিসি বাংলায় পেতে যুক্ত থাকতে পারেন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে।
বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নেই যেসব গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম
ছবির উৎস, Getty Images
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩০০টি আসনের
মধ্যে ২৩৭টির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি।
এই তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটি ও কেন্দ্রীয় কমিটির
বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার নাম।
যদিও এই তালিকা ঘোষণার সময়ই বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, এটি দলের প্রাথমিক তালিকা। দল মনে করলে যেকোনো কারণে যেকোনো সংশোধনী আসতে
পারে।
সন্ধ্যায় সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর দেখা গেছে
এই তালিকায় নেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমানের
নাম।
বিএনপি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন বলে আলোচনায় ছিলেন একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের
সাবেক সদস্য রুমিন ফারহানার নাম। তবে মনোনয়ন তালিকায় এবার তার নাম দেখা যায়নি।
ঢাকা ১০ আসন থেকে বিগত সময়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক
বিষয়ক সম্পাদক নাসির উদ্দিন অসীম। এই আসনে একবার প্রার্থী হয়েছিলেন আরেক নেতা রবিউল
ইসলাম রবি। তাদের দুই জনের নামও নেই ঘোষিত তালিকায়।
বাদ পড়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক এজিএস নাজিম উদ্দিন আলম। তিনি এর আগে ভোলা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও এবার ওই আসন থেকে এবার প্রার্থী হয়েছেন যুবদল সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম নয়ন।
মাগুরার একটি আসন থেকে এবার দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা
চালাচ্ছিলেন আলোচিত নেতা ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। তবে
তিনিও বাদ পড়েছেন এই তালিকা থেকে।
অন্যদিকে, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের পরিবারের সদস্যদের অনেকেই
বাদ পড়েছেন মনোনয়ন তালিকা থেকে। দলটির একটি সূত্র জানিয়েছে, আগে থেকে এক পরিবার থেকে
একাধিক প্রার্থী না রাখার সিদ্ধান্ত ছিল দলের।
যে কারণে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী
হাসিনা আহমদ, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী
ও সাবেক সংসদ সদস্য রুমানা মাহমুদও বাদ পড়েছেন এই তালিকা থেকে।
তবে যেসব আসন থেকে বিএনপির সিনিয়র নেতারা নির্বাচন করতেন,
তাদের মৃত্যুজনিত কারণে কয়েকটি আসন থেকে তাদের সন্তান বা স্ত্রীদের এবার দলীয় মনোনয়ন
দিয়েছে বিএনপি।
যে সব আসনে লড়বেন বিএনপি সিনিয়র নেতা ও হেভিওয়েট প্রার্থীরা
ছবির ক্যাপশান, বিএনপির লোগো
সোমবার বিকেলে ২৩৭ আসনে দলের প্রার্থী তালিকা
ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই ঘোষণা দেন।
এর মধ্যে খালেদা জিয়া বগুড়ার দুইটি এবং ফেনীর একটি আসন,
এবং তারেক রহমান লড়বেন বগুড়ার ৭ আসনে।
এর বাইরেও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের হেভিওয়েট
ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আসনে দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে এই প্রার্থী তালিকা
ঘোষণা করেন।
খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বাইরেও মহাসচিব ও স্থায়ী
কমিটির সদস্যসহ দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।
নরসিংদী-১ আসনে খায়রুল কবির খোকন এবং লক্ষীপুর-২ আসনে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যান এবং ময়মনসিংহ-১ আসনে সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স রয়েছেন।
এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ নেতা যারা মনোনয়ন পেলেন
লালমনিরহাট ৩ আসনে
আসাদুল হাবিব দুলু, চাপাই নবাবগঞ্জ -৩ আসনে হারুনর রশিদ, রাজশাহী ২ আসনে মিজানুর রহমান
মিনু, নাটোর-২ আসনে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু
খুলনা ২ নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা-৫ আসনে আলী আজগর লবী, পটুয়াখালী -১ আসনে সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরী, নেত্রকোনা-১
ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ ৩ আসনে ড. ওসমান ফারুক, মুন্সিগঞ্জ-২ মিজানুর রহমান
সিনহা, ঢাকা-৬ ইশরাক হোসেন, নরসিংদী-১ খায়রুল কবির খোকন, চাঁদপুর-১ এহসানুল হক মিলন, চট্টগ্রাম-৭ হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
যে কারণে ৬৩ আসন ফাঁকা রাখল বিএনপি
ছবির ক্যাপশান, প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যে ৬৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা
করেনি, এর একটা বড় অংশ মিত্র দল ও জোটগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের জন্য ছেড়ে
দেওয়া হতে পারে বলে দলটির একাধিক সূত্রে জানা গেছে।
বিএনপির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা জানিয়েছেন,
মিত্র দলগুলোর বাইরেও জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি এবং ইসলামপন্থী কিছু দলের সঙ্গে
তাদের আসন ভাগাভাগির প্রশ্নে আলোচনা চলছে।
এসব দলের জন্য আসন আসন ছেড়ে দিতে হতে পারে বিএনপিকে।
এছাড়াও অনেক আসনে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কয়েকজন করে
প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এবং এসব এলাকায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও মীমাংসা করা যাচ্ছে
না।
এসব কারণে ওই আসনগুলো খালি রাখা হয়েছে বলে বিএনপির একাধিক
জানিয়েছেন।
তবে দলটি মিত্র বা অন্য দলগুলোর জন্য শেষপর্যন্ত কতটা আসনের
ছাড় দেবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।
বিএনপির মিত্র একটি জোটের একাধিক নেতা বিবিসিকে বলেন,
তাদের কারও কারও আসনে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু তা
চূড়ান্ত হয়নি।
এখন আসন সমঝোতার আলোচনা হবে বলে তারা আশা করছেন।
বিএনপির প্রার্থীদের পুরো তালিকা দেখুন
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ নির্বাচনের জন্য ২৩৭ জন প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি।
এদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া একা তিনটি আসনে নির্বাচন করবেন। প্রথমবারের মতো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটে অংশ নিচ্ছেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ২৩৭ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী
তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
দিনব্যাপী দলটির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সন্ধ্যায়
প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়া আসনগুলোর তালিকা প্রকাশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম
আলমগীর।
এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা
জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এগুলো হলো দিনাজপুর-৩, বগুড়া-৭ ও ফেনী-১।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করবে
বগুড়া-৬ আসনে। তারেক রহমান এই প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১,
স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোলা -৩, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ঢাকা -৩, মির্জা
আব্বাস ঢাকা -১০ আসনে নির্বাচনে লড়বেন।
এবার তরুণ ও ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের অনেককেই নির্বাচনে
প্রার্থী করা হয়েছে।
বেশ কিছু আসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রার্থী থাকায় ও জোটের
শরীক জন্য বরাদ্দ থাকায় ২৩২টি আসনের তালিকা চূড়ান্ত করেছে দলটি।
এর আগে বিভিন্ন বিভাগের প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করে এই
প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বেশ কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি বিএনপি। ধারণা করা হচ্ছে, জোটের প্রার্থীদের জন্য এসব আসন ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যে ঢাকার ৭, ৯, ১০ ও ১৩ আসনও রয়েছে।
ব্রেকিং, খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ বিএনপির ২৩৭ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা
বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে ২৩৭ আসনের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি।
সোমবার বিকালে এই তালিকা ঘোষণা করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দিনাজপুর-৩, ফেনী-১ ও বগুড়া-৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। অন্যদিকে তারেক রহমান বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
জামায়াতসহ আটটি ইসলামি দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
ছবির উৎস, ISLAMI ANDOLON BANGLADESH
ছবির ক্যাপশান, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন করেন দলগুলোর নেতারা
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটসহ পূর্বঘোষিত পাঁচ দফা দাবি
আদায়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী-ইসলামী আন্দোলনসহ সমমনা আটটি দল।
সোমবার দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি
প্রদানসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী বৃহস্পতিবার গণমিছিল
নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং ১১ই নভেম্বর বিক্ষোভ সমাবেশ।
মামুনুল হক এসময় বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতায়
যে সাত দিনের সময় দিয়েছে সরকার, আমরা বিশ্বাস করি সেই সময়ের মধ্যে দলগুলো বসে একমত
হবে।
এক্ষেত্রে দলগুলোর মধ্যে আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক
মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘রেফারির’ ভূমিকায় থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামের নায়েবে
আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের।
তিনি বলেন, “আমি গতকালকে দলগুলোর মধ্যে একটি আলোচনার আহ্বান
করেছিলাম।আজকে উপদেষ্টা পরিষদও সেই রকম একটি আহ্বান দলগুলোর কাছে জানিয়েছে। আমরাও দেখতে
চাই মেইন স্টেক হোল্ডার দলগুলো এই আহ্বানে যেন সাড়া দেয়। তারাও যদি আমাদের মত একইভাবে
সাড়া দেয়, তাহলে একটা রাস্তা বেরিয়ে আসবে”।
গত অক্টোবরের শেষে জুলাই সনদের বাস্তবায়নে ঐকমত্য কমিশনের
সুপারিশের পরই গণভোটসহ সনদের বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর
মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে দলগুলোকে নিজেদের
মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে সাতদিনের সময় বেঁধে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
ধর্মভিত্তিক আটটি দলের এই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে- অবিলম্বে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট, জোটের প্রতীকে নির্বাচন
নিয়ে আরপিওর পুনঃসংশোধন না করারও দাবি জানায় দলগুলো।
এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার আবেদন
ছবির উৎস, BSS
ছবির ক্যাপশান, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টি
বা এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলার আবেদনের
পর তা তদন্তে মহানগর গোয়েন্দা বা ডিবিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ
যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নকে নিয়ে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে সোমবার
এই মামলার আবেদন করা হয়।
সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত
মুখ্য মহানগর হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে মামলাটি করেন যুবদলের আরেক নেতা কাজী মুকিতুজ্জামান।
মামলার আবেদনে বলা
হয়, গত শনিবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে যুবদল নেতা মি. নয়নকে উদ্দেশ্য করে মানহানিকর বক্তব্য
দেন মি. পাটওয়ারী।
এজহারে বলা হয়, আসামির
(মি. পাটোয়ারীর) এই বক্তব্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ
মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। আসামির দেওয়া মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর
ও মানহানিকর বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি ও রবিউল ইসলাম নয়নের সামাজিক ও রাজনৈতিক মর্যাদা
ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
পরে আদালত অভিযোগ
আমলে নিয়ে ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
এই নিয়ে বিবিসি বাংলার
পক্ষ থেকে মি. পাটোয়ারীর বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
মাদুরোর দিন শেষ হয়ে আসছে, বললেন ট্রাম্প
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলার সাথে যুদ্ধের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট
হিসেবে নিকোলা মাদুরোর দিন শেষ হয়ে আসছে।
ভেনেজুয়েলার সাথে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যাচ্ছে কি-না এমন
এক প্রশ্নের জবাবে ‘সিবিএস ৬০ মিনিট’ এ ট্রাম্প বলেন: “আমার সন্দেহ আছে। আমি তা
মনে করি না। তবে তারা আমাদের সাথে বাজে আচরণ করেছে”।
তিনি এমন সময় এই মন্তব্য করলেন যখন যুক্তরাষ্ট্র মাদক
পাচারের অভিযোগে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে জলযান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ
কমাতে এই হামলা প্রয়োজনীয়।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান করছে না,
তাদের লক্ষ্য মাদুরোকে উৎখাত করা- এই অভিযোগ
প্রত্যাখ্যান করেছেন মি. ট্রাম্প।
ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের
অভিযানে এখন পর্যন্ত ৬৪ জন মারা গেছে বলে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে।
ভেনেজুয়েলার মাটিতে হামলার সম্ভাবনার বিষয়ে এক প্রশ্নের
জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, “ভেনেজুয়েলার বিষয়ে কী করতে যাচ্ছি তা আমি আপনাদের বলবো না”।
মাদুরো এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতি
তৈরির অভিযোগ করেছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে গণভোট প্রশ্নে দলগুলোকে এক সপ্তাহের সময় বেধে দেয়ার পর জরুরি বৈঠকে বসেছে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করছেন
বলে দলটির মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে।
এই বৈঠক শেষে বিকেল তিনটায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে দলটি, যেখানে সরকারের ঘোষণার
প্রেক্ষাপটে দলটির অবস্থান তুলে ধরা হবে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮ দফা প্রস্তাব নিয়ে গণভোট আয়োজনের
যে প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশে করেছে, তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে
দলগুলো।
কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে, " জাতীয়
সংসদ নির্বাচনের পূর্বে যথোপযুক্ত সময়ে অথবা উক্ত নির্বাচনের দিন এই আদেশ অনুসারে
গণভোট অনুষ্ঠান করা হইবে"।
কমিশন ওই সুপারিশে গণভোটের জন্য প্রশ্নও ঠিক করে দিয়েছে। তাহলো, "এ আদেশ ও আদেশের তফসিলে ৪৮টি সংবিধান
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাস্তবায়নের ব্যাপারে জনগণের সম্মতি আছে কি-না"।
বিএনপি চাইছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোট হোক। অন্যদিকে
জামায়াতে ইসলামী নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের দাবি করেছে।
গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে ও এর বিষয়বস্তু কি হবে- এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, সে জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।
আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক থেকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
ওই বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে , সভায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত জুলাই জাতীয় সনদ
(সংবিধান সংস্কার) আদেশ চুড়ান্তকরণ এবং এতে উল্লেখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের
বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা করা হয়।
এই বৈঠকে বলা হয়,
ঐকমত্য কমিশনে দীর্ঘদিন আলোচনার পরও কয়েকটি সংস্কারের
সুপারিশ বিষয়ে ভিন্ন মত রয়েছে।
এই প্রেক্ষিতে গণভোটের সময় কখন হবে,
গণভোটের বিষয়বস্তু কী হবে, জুলাই সনদে বর্ণিত ভিন্নমতগুলো প্রসঙ্গে কী পদক্ষেপ নেওয়া
হবে- তা নিয়ে ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর আলোকে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে সভা অভিমত ব্যক্ত করে।
এসব ক্ষেত্রে ফ্যসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোকে
স্বীয় উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে দ্রুততম সময়ে ( সম্ভব হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে) সরকারকে ঐক্যবদ্ধ
দিকনির্দেশনা প্রদান করার আহ্বান জানানো হয়।
এমন নির্দেশনা পেলে সরকারের পক্ষে
সিদ্ধান্ত গ্রহণ অনেক সহজ হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যেকোনো সুযোগ নাই
সেটাও আমাদের সবার বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
সভায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের
বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যেসব সুপারিশ করেছিলো ঐকমত্য কমিশন
ছবির উৎস, CA PRESS WING
ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা ১৯শে অক্টোবর জুলাই সনদ স্বাক্ষর করেন
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় ঐকমত্য
কমিশন 'জুলাই জাতীয় সনদ
২০২৫' বাস্তবায়নে তাদের সুপারিশ সরকারের হাতে হস্তান্তর করে ২৮শে
অক্টোবর।
সেই সুপারিশে সনদ বাস্তবায়নে অবিলম্বে সরকারি আদেশ
জারি করে একটি গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়।
গণভোটের ব্যালটে দেয়ার জন্য কমিশন যে প্রশ্ন সুপারিশে
করেছে তা হলো: 'আপনি কি জুলাই
জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং ইহার তফসিল-১ এ সন্নিবেশিত সংবিধান সংস্কার
প্রস্তাবসমূহের প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করিতেছেন?'
কমিশন তাদের সুপারিশে বলেছে: "ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একই
সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ হিসেবে কার্যকর থাকবে। তবে সংবিধান
সংস্কার পরিষদ কার্যকর থাকবে ২৭০ দিন"।
এ বিষয়ে বিকল্প প্রস্তাবে কমিশন বলেছে, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০
দিনের মধ্যে তাদের দায়িত্ব সম্পাদন করতে না পারে, তাহলে গণভোটে পাশ হওয়া বিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে
প্রতিস্থাপিত হবে।
ঐকমত্য কমিশন তাদের সুপারিশে সংসদ নির্বাচনের ভোটের
সংখ্যানুপাতে ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষের সুপারিশ করেছে।
এতে বলা হয়েছে, গণভোটে জনগণের সম্মতি এলে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার ৪৫ দিনের
মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়টি প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নির্বাচনের পর যে সংসদ কার্যকর হবে তারাই সংবিধান সংস্কার
পরিষদের সদস্য হবেন।
"এক্ষেত্রে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা একাদিক্রমে সংসদ ও
সংস্কার পরিষদের জন্য আলাদা শপথ নিবেন এবং অনুরূপ শপথপত্রে বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর
দান করিবেন,"
বলা
হয়েছে সুপারিশে।
গণভোট প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে দলগুলোকে এক সপ্তাহের সময় দিলো সরকার
ছবির উৎস, CA PRESS WING
ছবির ক্যাপশান, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে দলগুলোকে এক সপ্তাহের সময় দেয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে
প্রস্তাবিত গণভোটের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সরকারকে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা’ দেওয়ার জন্য এক সপ্তাহের সময়সীমা বেধে দিয়েছে সরকার।
“দলগুলো সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে সরকার সরকারের মতো অ্যাক্ট
করবে,” বৈঠকের পর উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, দলগুলোর মধ্যে আলোচনা আয়োজনে সরকার কোনো উদ্যোগ
নিবে না।
“সরকার আয়োজন করে অনেক আলোচনা করেছে। সরকার আর কোনো আয়োজন করতে যাচ্ছে না। ফ্যাসিবাদ
বিরোধী দলগুলো গত ১৫ বছর নিজেরা আলোচনা করে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেক প্রতিকূল
সময়ে তারা একসাথে কাজ করেছেন। এখন তারা নিজেরা আলোচনা করে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা
দিলে সরকারের জন্য কাজটা সহজ হয়,” বলছিলেন আসিফ নজরুল।
তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের যে সুযোগ নেই, তাও বিবেচনায় রাখা
প্রয়োজন বলে সরকার মনে করে এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচনে
সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা ওনাদের সময় দিতে চাই। যেসব বিষয়
বললাম সেগুলো আলোচনা করে একমত হতে পারে কি না দেখি। আমরা অপেক্ষা করবো – এরপর সরকার
সরকারের মতো অ্যাক্ট করবে”।
তিনি বলেন, দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা
পরিষদই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের সংবাদ সম্মেলন আজ, বিকেলে বিএনপির সংবাদ সম্মেলন
বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কারসহ ৪৮ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য
কমিশনের সুপারিশ নিয়ে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই আজ সরকারের দিক থেকে
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার
প্রেস উইং।
সরকারের দিক থেকে বক্তব্য আসার পর তা পর্যালোচনা করে বিকেলেই সংবাদ সম্মেলনের
মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে বিএনপি। এর আগে বেলা সাড়ে বারটায় ভারপ্রাপ্ত
চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ২৮শে অক্টোবর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন হবে
সেই সম্পর্কে সুপারিশ প্রকাশের পর তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বিএনপি।
দলটির অভিযোগ, কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যেসব বিষয়ে আলোচনা করে একমত
হয়েছিলো সেগুলোর অনেক কিছু যথাযথভাবে সুপারিশে আসেনি । এছাড়া আলোচনা হয়নি এমন কিছু
বিষয়ও সুপারিশে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দলটির নেতারা।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই সুপারিশের মাধ্যমে কমিশন বিএনপি
ও জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন।
মূলত, গণভোট ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ কিছু বিষয়ে বিএনপি আপত্তি জানিয়েছে।
কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, "নির্বাচনের দিনসহ তার আগে যেকোনো দিন সরকার জুলাই জাতীয় সনদ–এর ওপর
গণভোটের আয়োজন করতে পারে"।
তবে বিএনপি চাইছে সংসদ নির্বাচনের দিন একই সাথে গণভোট আয়োজন করা হোক। অন্যদিকে
জামায়াত নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে।
নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি অবিলম্বে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে আদেশ জারির
জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রতি দাবি জানিয়েছে। দলটি অভিযোগ করেছে যে, বিএনপি সংস্কার
ভেস্তে দিতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে একটি স্থায়ী জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপনের জন্য
প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসকে
সভাপতি করে ঐকমত্য কমিশনের যাত্রা শুরু হয়েছিলো চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি।
সুপারিশ সরকারের কাছে দেয়ার পর এ কমিশনের মেয়াদ শেষ হয়েছে ৩১শে অক্টোবর।
কমিশন তাদের সুপারিশে সংবিধান সংশ্লিষ্ট মোট ৪৮টি বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে
কমিশন এগুলো বাস্তবায়নে দুটি বিকল্প সরকারের কাছে তুলে ধরেছে।
"সরকারকে অনুরোধ করেছি যে সরকার যেন অবিলম্বে একটি আদেশ জারি করে। এ আদেশের
বিষয় হবে জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার বিষয়ক। এই আদেশের অধীনে সরকার একটি
গণভোটের আয়োজন করবেন," সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন কমিশনের
সহ-সভাপতি মি. রীয়াজ।
সুপারিশে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও জাতীয় সংসদ হিসেবে
কার্যকর থাকবে, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর থাকবে ২৭০
দিন।
কিন্তু ওই সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে
তাদের দায়িত্ব সম্পাদন করতে না পারে তাহলে গণভোটে পাশ হওয়া বিল স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে
সংবিধানে প্রতিস্থাপিত হবে।
বিএনপির দিক এই সুপারিশের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির
সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ একে ‘অটো পাসের’ সাথে তুলনা করেছে বলেছেন ‘রেফারিকে এভাবে কখনো গোল দিতে দেখিনি’।
বিবিসি বাংলার লাইভ
বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগত। দেশ ও বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনার সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার এই পাতায়।