মানবতাবিরোধী মামলায় শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড, রায় প্রত্যাখ্যান আওয়ামী লীগের

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটিই তার বিরুদ্ধে প্রথম মামলার রায়। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড আর রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

সরাসরি কভারেজ

  1. সোমবার সারাদিন যা যা ঘটেছে:

    • জুলাই গণ-গণঅভ্যুত্থানের সময় সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অপর আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
    • ্ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশে সরকারি আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ। রায়টি “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে অভিহিত করেছেন শেখ হাসিনা।
    • শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ঘোষিত সোমবারের রায়কে "একটি ঐতিহাসিক রায়" বলে মন্তব্য করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন, তাতে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে ক্ষমতার অবস্থান যা-ই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।
    • দণ্ডাদেশ কার্যকর করার জন্য ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানকে বাংলাদেশের সরকারের কাছে হস্তান্তর করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। তাদেরকে ফেরত আনতে ভারত সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবারও চিঠি পাঠানো হবে বলে সোমবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
    • শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, তারা বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভূক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে সব সময় সকল অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছে দেশটির সরকার।
    • শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ আমির হোসাইন বলছেন, তিনি রায়ে "কষ্ট পেয়েছেন এবং ব্যথিত হয়েছেন"। তবে শেখ হাসিনা আত্মসমর্পন না করলে কিংবা গ্রেফতার না হলে রায়ের বিপক্ষে আপিল আবেদন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
    • রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার যে বিচার হয়েছে তা অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি শুধু অতীতের বিচার নয় বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা।
    • জামায়াতে ইসলামী বলেছে, ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের বিচার ছিলো ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার আর আজকের বিচার হলো যথার্থ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত একটি বিচার।
    • শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে একমাসের মধ্যে আদালতের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
    • বুলডোজার নিয়ে শেখ মুজিবের বাসভবনের অবশিষ্ট অংশ ভাঙতে যান একদল ব্যক্তি। দিনভর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
    • ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে আগেই 'কমপ্লিট লকডাউন' কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে রবিবার রাতেও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ, বাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন এবং মশাল মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। ঢাকায় সারাদিন অনেক কম যানবাহন চলেছে। ঢাকাসহ কয়েকটি শহরে পুলিশ, র‍্যাবের পাশাপাশি বিজিবিও মোতায়েন করা হয়েছে। আদালত চত্বরে ছিল সেনাপ্রহরা।

    বিবিসি বাংলার লাইভপাতা আজ এখানেই শেষ হলো। মঙ্গলবার আবারও পাতাটি চালু হবে।

    ততক্ষণ পর্যন্ত বিবিসি বাংলার সঙ্গে থাকুন।

    অন্যান্য খবর পড়ার জন্য মূলপাতায় ক্লিক করুন।

    এতক্ষণ সঙ্গে থাকার জন্য ধন্যবাদ

  2. বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার ভবিষ্যতে আরো একটি ধাক্কা?, মীর সাব্বির, সম্পাদক, বিবিসি বাংলা

      • Author, মীর সাব্বির
      • Role, সম্পাদক, বিবিসি বাংলা
    শেখ হাসিনা

    ছবির উৎস, Getty Images

    বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে শেখ হাসিনা যে আদালত গঠন করেছিলেন ২০১০ সালে, তার ১৫ বছর পর সেই আদালতেই মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হলেন তিনি।

    যদিও ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই এই বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং এই রায়ের ফলে তাকে ভারত ফিরিয়ে দেবে এমন সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।

    তারপরও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দণ্ডিত করার পর একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসছে- এর ফলে তার বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসা, এমনকি দলের নেতৃত্ব দেয়া কতটা কঠিন হয়ে উঠবে বা আদৌ কঠিন হবে কিনা?

    ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য তাকে ফিরিয়ে আনতে আবারো ভারতের কাছে দাবি জানানোর পথ জোরালো হলো। যদিও শেখ হাসিনা এই রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং ট্রাইব্যুনালকে 'ক্যাঙ্গারু কোর্ট' বলে আখ্যা দিয়েছেন।

    এর আগে ভারতের কাছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রত্যর্পণ আবেদন ছিল আদালত অবমাননার লঘুদণ্ডের কারণে। তারা যে অনুরোধ পেয়েছে সেটি স্বীকার করা ছাড়া এ নিয়ে আর কোন কথা বলেনি ভারত।

    এর মধ্যেই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    পরবর্তীতে একটি নির্বাচিত সরকার এসেও যদি এই চাপ অব্যাহত রাখে, তবে ভারতের জন্যও চুপ থাকা কিংবা শেখ হাসিনা সেখান থেকে যেভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, তাতে রাশ না টানা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

    এ রায়ের আগেই গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ প্রকাশে একটি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত, যার নিন্দা জানিয়েছিল তার দল আওয়ামী লীগ। দলটির কার্যক্রমও নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    এখন রায়ের পর যদি শেখ হাসিনার বক্তব্য বা আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরো বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, তবে আওয়ামী লীগের ওপর চাপ আরো বাড়বে।

    অন্যদিকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন ও নির্যাতনের যেসব অভিযোগ করছে আওয়ামী লীগ, এই রায়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পরিসরে তারা নিজেদের ওপরে 'হুমকি'র দাবি আরো জোরালো করে তুলতে পারে।

    যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিষয়ে দলের মধ্যে কোন বিতর্ক নেই। তবে আইনগত বিধিনিষেধ এবং তাকে প্রত্যর্পনের জন্য ভারতের ওপর আরো চাপ পড়লে দলটি ভিন্ন কোনো কৌশল নেয় কিনা সেটিও সামনের দিনগুলোতে দেখার বিষয় হয়ে থাকবে।

  3. হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

    ছবির উৎস, BSS

    ছবির ক্যাপশান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে দণ্ডাদেশ দিয়েছেন, তাতে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে ক্ষমতার অবস্থান যা-ই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

    সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

    "আজ বাংলাদেশের আদালত এমন স্পষ্ট ভাষায় কথা বলেছে যা দেশের ভেতর থেকে বৈশ্বিক পরিসর পর্যন্ত প্রতিধ্বনিত হয়েছে। এ রায় জুলাই আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষের প্রতি পর্যাপ্ত না হলেও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন," বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    এই রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ "বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে" বলেও মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    "শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি," বিবৃতিতে বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

  4. এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে এনে রায় কার্যকর করতে হবে: নাহিদ ইসলাম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

    ছবির উৎস, Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে একমাসের মধ্যে আদালতের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    সোমবার ঢাকায় বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই আহ্বান জানান তিনি।

    "আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। খুনি স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়কে তাঁর দল স্বাগত জানাচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের হাজারো শহীদ এবং কয়েক হাজার আহত যোদ্ধার ওপর যে জুলুম করা হয়েছিল, সেই জুলুমের রায় আজকে হয়েছে," বলেন মি. ইসলাম।

    এই রায় দেশটির বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    "তবে যেদিন এ রায় কার্যকর হবে, সেদিনই আমরা সম্পূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হবো। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মা শান্তি পাবে, শহীদ পরিবার এবং আহত যোদ্ধারা শান্তি পাবে"

    "আমরা দাবি জানাচ্ছি, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে," বলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক মি. ইসলাম।

  5. ধানমন্ডি-৩২ নম্বর ছেড়ে গেছেন বেশিরভাগ বিক্ষোভকারী

    আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সরানো চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ

    ছবির উৎস, Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সরানো চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ

    শেখ মুজিবের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভেঙে ফেলার উদ্দেশ্যে বুলডোজারসহ যেসব বিক্ষোভকারী দুপুরে ঢাকায় ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে অবস্থান নিয়েছিলেন, সন্ধ্যা নাগাদ তাদের বেশিরভাগই চলে গেছেন।

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা আসার পর থেকে তাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।

    তবে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ এখনও ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে আছেন।

    আলোচনার মাধ্যমে তাদেরকে সরানোর চেষ্টা চলছে বলে রাত সাড়ে আটটার দিকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম।

    "আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি, বোঝাচ্ছি। আশাকরি, তারাও দ্রুত সময়ের মধ্যে সরে যাবেন," বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. আলম।

    এর আগে, দুপুরে বুলডোজার নিয়ে শেখ মুজিবের বাসভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    এতে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। একপর্যায়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।

    তবে এই ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মি. আলম।

  6. হাসিনার রায় নিয়ে যা বলল ভারত

    ভারতের বিবৃতি

    ছবির উৎস, Randhir Jaiswal/X

    ছবির ক্যাপশান, ভারতের বিবৃতি

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের ঘটনা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।

    সোমবার সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিষয়ের যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, ভারত সেটি লক্ষ্য করেছে।

    "একজন কাছের প্রতিবেশি হিসেবে, বাংলাদেশের শান্তি, গণতন্ত্র, অন্তর্ভূক্তি এবং স্থিতিশীলতাসহ বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য আমরা সব সময় সকল অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করে যাবো।"

  7. ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ছবি

    ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের অবস্থিত শেখ মুজিবের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভাঙার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সোমবার দুপুর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে একদল বিক্ষোভকারীর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    ছবিতে সেটির কিছু মুহূর্ত তুলে ধরা হলো:

    বিক্ষোভকারীরা যেন শেখ মুজিবের বাড়ির দিকে যেতে না পারে, সেজন্য সেনা-পুলিশের সতর্ক অবস্থান

    ছবির উৎস, AFP via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারীরা যেন শেখ মুজিবের বাড়ির দিকে যেতে না পারে, সেজন্য সেনা-পুলিশের সতর্ক অবস্থান
    সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ

    ছবির উৎস, Reuters

    ছবির ক্যাপশান, সমাবেশকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ
    বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের অ্যাকশান

    ছবির উৎস, AFP via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের অ্যাকশান
    ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা আবারও একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছেন

    ছবির উৎস, AFP via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, ছত্রভঙ্গ হওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা আবারও একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছেন
  8. হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতকে যে প্রক্রিয়ায় চিঠি দেবে বাংলাদেশ

    পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

    ছবির উৎস, TV Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সরকারের কাছে আবারও চিঠি পাঠাবে বাংলাদেশ।

    দুই প্রক্রিয়ায় এই চিঠি পাঠানো হবে বলে সোমবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

    "তাদেরকে, তাকে ফেরত আনতে হবে, যেহেতু শাস্তি দিয়েছে কোর্ট এবং সেজন্য আমরা ভারতকে অফিসিয়ালি জানাবো।"

    "চিঠি পাঠানোর প্রক্রিয়া হলো দু'টো। একটি অফিসিয়াল নোটের মাধ্যমে যাবে। সেটা স্থানীয়ভাবেও তাদের মিশনকে হ্যান্ডওভার করা যায়, অথবা আমাদের মিশন তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে হ্যান্ডওভার করতে পারে। আমরা দু'টাই করতে পারি," বলেন মি. হোসেন।

  9. দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে আবার ফেরত চাইল বাংলাদেশ

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
    ছবির ক্যাপশান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে হস্তান্তর করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।

    সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ''আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজকের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকান্ডের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনো দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার সামিল''।

    বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ''আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে''।

    এর আগেও কয়েক দফায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল বাংলাদেশ। এজন্য চিঠিও পাঠানো হয়েছিল।

    যদিও ভারত এ ধরনের অনুরোধে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

    এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কয়েকবার জানিয়েছেন, তাকে ফেরত চেয়ে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভারতের কাছ থেকে কোনো ইতিবাচক উত্তর আসেনি।

  10. রায়ের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি

    অন্তর্বর্তী সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড একটি ঐতিহাসিক রায়।

    “এই রায়ের গভীর তাৎপর্য উপলব্ধি করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সর্বস্তরের জনগণকে শান্ত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। রায়-পরবর্তী সময়ে কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা, উত্তেজনাপ্রসূত আচরণ, সহিংসতা বা আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হচ্ছে,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

    বিবৃতিটি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এতে বলা হয়, “জনগণের, বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই রায়কে ঘিরে জনমনে স্বাভাবিকভাবেই আবেগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে সেই আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন কেউ জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়—সরকার এ বিষয়ে দৃঢ়ভাবে সবাইকে সতর্ক করেছে”।

    “সরকার আরও স্পষ্ট করে জানাচ্ছে, যে কোনো ধরনের অরাজকতা, বিশৃঙ্খলা বা জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে,” বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

  11. শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে আবার চিঠি লিখবেন আসিফ নজরুল

    আসিফ নজরুল

    ছবির উৎস, AFP via Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, আসিফ নজরুল, ফাইল ছবি

    আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, তারা শেখ হাসিনার প্রত্যর্পনের জন্য ভারতের কাছে আবার চিঠি লিখবেন।

    “ভারত যদি এই গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দেওয়া অব্যাহত রাখে তাহলে ভারতকে বুঝতে হবে এটা বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে শত্রুতা ও নিন্দনীয় আচরণ,” শেখ হাসিনার বিরুদ্ধ মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি একথা বলেছেন।

    “আজ একটা বিচার হয়েছে। আমরা যতদিন আছি বিচারকার্য পূর্ণবেগে চলবে। আমরা আশা করি, আগামীতে নির্বাচিত সরকার যেন বিচারের গুরুদায়িত্ব থেকে কোনো অবস্থাতেই পিছপা না হয়,” বলেছেন তিনি।

    আসিফ নজরুল বলেন, “আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট, কিন্তু বিস্মিত নই। কারণ শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের মানবতাবরোধী অপরাধের যে তাজা, অকাট্য, জোরালো ও বিস্তৃত প্রমাণ রয়েছে তাতে পৃথিবীর যে কোনো আদালতে বিচার হলেই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার কথা”।

  12. রায় ভিন্নরকম কিছু হতে পারতো: শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী

    শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রের নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন

    ছবির উৎস, Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রের নিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সময় শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ আমির হোসাইন বলছেন, তিনি রায়ে কষ্ট পেয়েছেন এবং ব্যথিত হয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, ''আমি দুঃখিত, রায় ভিন্নরকম কিছু হতে পারতো।''

    "আমি আসলে খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমার ক্লায়েন্ট সর্বোচ্চ সাজা পাচ্ছে, এ বিষয় তো আমাকে কষ্ট দেবেই," সাংবাদিকদের বলেন মি. হোসেন।

    রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী জানান, শেখ হাসিনা আত্মসমর্পণ না করা কিংবা গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ তার হাতে নেই।

  13. ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে ফের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

    পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ছবির উৎস, TV Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া

    ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের অবস্থিত শেখ মুজিবের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভাঙার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের আবারও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

    শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর উচ্ছ্বসিত বিক্ষোভকারীরা আবারও সংগঠিত হন।

    এরপর শেখ মুজিবের বাড়ির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে আগে থেকেই সেখানে অবস্থান নেওয়া পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া দেয়।

    এসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। একপর্যায়ে সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

    এর আগেও দুপুর থেকে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

    উল্লেখ্য, বেলা ১২টার দিকে এক দল মানুষ দুটি বুলডোজার ধানমন্ডি ৩২ এ প্রবেশের চেষ্টা করলে বাধা দেয় পুলিশ। তারা বলছে, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী এ ধরনের কাজ করতে দেওয়ার সুযোগ নেই।

    এর আগে ধানমন্ডির দিকে বুলডোজার নিয়ে যাওয়ার সময় সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা জানান, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা এখানে আছেন।

  14. 'এবারের বিচার যথার্থ ও প্রশ্নাতীত, প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই': জামায়াতে ইসলামী

    প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ
    ছবির ক্যাপশান, প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামী নেতৃবৃন্দ

    জামায়াতে ইসলামী বলেছে, ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের বিচার ছিলো ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার আর আজকের বিচার হলো যথার্থ, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত একটি বিচার।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার মামলার রায়ের পর জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানান জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

    তিনি বলেন, একজন সরকার প্রধানের সর্বোচ্চ শাস্তি দেশের ইতিহাসে প্রথম এবং এ কারণে এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

    “বিচারকদের রায়ে ফুটে উঠেছে যে অপরাধীরা কি পরিমাণ নিষ্ঠুর ঘৃণ্য প্রতিহিংসামূলক অপরাধ করেছে। আমরা মনে করি বিচারের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। বিচার স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে,” বলেছেন মি. পরওয়ার।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি আইনের শাসন ও বিচারের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

    “এদেশের ১৮ কোটি মানুষের আকাঙ্খা ছিলো ঘৃণ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দৃশ্যমান করার। আংশিক হলেও ট্রাইব্যুনালের রায়ে জাতির আশা কিছুটা পূর্ণ হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

    তিনি দাবি করেন যে, এর আগে ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের যে বিচার হয়েছে তা ছিলো য়ে প্রশ্নবিদ্ধ।

    “সে আদালতের রায় বিচারক সব ছিল সাজানো। সে বিচার ছিলো ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মিথ্যাচার। কিন্তু আজকের বিচার হলো যথার্থ নিরপেক্ষ স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত একটি বিচার,” বলেছেন মি. পরওয়ার।

  15. রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বললেন শেখ হাসিনা

    শেখ হাসিনা

    ছবির উৎস, Reuters

    বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে “পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে নিন্দা জানিয়েছেন।

    রায়ের পর প্রকাশিত পাঁচ পৃষ্ঠার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিস্ক্রিয় করে দিতে” অন্তর্বর্তী সরকারের একটি পন্থা হচ্ছে 'তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া'।

    ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা এর আগে বিচারকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

    তিনি বলেন, “এমন একটি ট্রাইব্যুনাল যেখানে ন্যায্যভাবে অভিযোগ যাচাই ও পরীক্ষা করা হয়, সেখানে অভিযোগকারীদের মুখোমুখি হতে আমি ভয় পাই না”।

    তিনি আরও যোগ করেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এই অভিযোগগুলো হেগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নিয়ে যেতে।

    হাসিনা উল্লেখ করেন, তিনি তার “মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংক্রান্ত রেকর্ড নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত”।

  16. আরাফাত বললেন 'রায় ছিল পূর্বনির্ধারিত'

    আওয়ামী লীগের মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিবিসি বাংলাকে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়ার রায়টি ছিলো পূর্বনির্ধারিত।

    “এটি বিচারের আগেই দেয়া রায়। এর সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত,” বলেছেন তিনি।

    মি, আরাফাত বলেছেন, “আজ ট্রাইব্যুনালে রায় দেওয়ার সময় যা দেখেছেন তা খুব সতর্কতার সাথে সাজানো ও সবার সামনে মঞ্চস্থ করা হয়েছিলো”।

  17. হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের খবরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ধানমন্ডি ৩২-এ আনন্দ মিছিল

    ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদেরকেও উচ্ছাস

    ছবির উৎস, TV Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদেরকেও উচ্ছাস

    মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের খবরে আনন্দ মিছিল বের করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    রায় ঘোষণার পর বিকেল সোয়া তিনটার দিকে মিছিলটি বের হয়।

    এদিকে, রায় ঘোষণা উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে একত্রিত হওয়া ব্যক্তিদেরকেও উচ্ছাস প্রকাশ করে নানান স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ মিছিল

    ছবির উৎস, TV Screen Grab

    ছবির ক্যাপশান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আনন্দ মিছিল
  18. যে বিচার হয়েছে তা অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, সালাহউদ্দিন আহমদ

    সালাহউদ্দিন আহমদের ফাইল ছবি
    ছবির ক্যাপশান, সালাহউদ্দিন আহমদ, ফাইল ছবি

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনার যে বিচার হয়েছে তা অপরাধের তুলনায় যথেষ্ট নয়, কিন্তু এটি শুধু অতীতের বিচার নয় বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষা।

    “এ বিচার অপরাধের তুলনায় যথষ্ট নয়। কিন্তু এটা শুধু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা নয়, সামনের দিনের জন্য উদাহরণ। যাতে কেউ আর ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র না হয়, কেউ যাতে ফ্যাসিস্ট না হয়ে ওঠে,” তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

    মি. আহমদ বলেছেন, "আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে কয়েকটি জিনিস প্রমাণিত হয়েছে, আর তা হলো- ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার যত শুক্তিশালী হোক বা যত দীর্ঘদিন ক্ষমতা ভোগ করুক, একদিন না একদিন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে"।

    "এটি একটি মাইলফলক"।

  19. কোন অভিযোগে কী সাজা দেওয়া হয়েছে?

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

    শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের যে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে প্রতিটি প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এগুলোর মধ্যে এক নম্বর অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি প্রমাণিত হওয়ায় তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

    ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে পাঁচটি অভিযোগ তিনটি কাউন্টে ভাগ করে সাজা প্রদান করা হয়েছে আসামিদের।

    তাদের বিরুদ্ধে গঠন করা প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ই জুলাই আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্যে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনকারীদের রাজাকারের বাচ্চা, রাজাকারের নাতি-পুতি বলে উল্লেখ করেন।

    এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ তৎকালীন সরকারের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের 'প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায়' আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও সশস্ত্র 'আওয়ামী সন্ত্রাসী' ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে নিরীহ নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার উপর আক্রমণ করে। প্ররোচনা, উস্কানি, অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে ব্যর্থতা, ষড়যন্ত্রের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে এতে।

    এই অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

    কারণ তিনি অপরাধ সংঘটনের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তা প্রতিরোধ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। এই অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাকে ‘ইমপ্রিসনমেন্ট টিল ন্যাচারাল ডেথ’ অর্থাৎ আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে।

    তিনটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।

    এর মধ্যে দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের 'হত্যা করে নির্মূলের নির্দেশ' দিয়েছেন।

    চার নম্বর অভিযোগে, গত বছরের পাঁচই অগাস্ট রাজধানীর চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা ছয় জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    পাঁচ নম্বর অভিযোগ আশুলিয়াতে জীবিত একজনকে সহ মোট ছয়জনকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে গঠন করা হয়েছে।

    এছাড়া ঢাকার চাঁনখার পুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়াতে জীবিত একজনসহ ছয়জনকে পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

    এদিকে, এই মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি ও ট্রাইব্যুনালের ইতিহাসে প্রথম অ্যাপ্রুভার বা রাজসাক্ষী হয়েছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেছে, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

    কিন্তু অপরাধের ব্যাপকতা এবং যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যেসব অপরাধ তিনি করেছেন সেগুলোর জন্য তিনি সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য।

    কিন্তু যেহেতু তিনি এই মামলাকে অর্থবহ করে তোলার জন্য সাহায্য করেছেন সে বিষয় বিবেচনায় তিনি ন্যুনতম সাজা পাবেন।

    ট্রাইব্যুনাল রায়ে আরো বলেছে, তিনি সকল এট্রোসিটিজের জন্য দায়ী। কিন্তু ঘটনার বিবরণ পূর্ণাঙ্গভাবে ডিসক্লোজ করেছেন তিনি।

    এসব বিষয় বিবেচনায় সাবেক এই আইজিপিকে ট্রাইব্যুনাল পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

  20. রায় প্রত্যাখ্যান করেছে আওয়ামী লীগ

    আওয়ামী লীগের কার্যালয়, ফাইল ছবি
    ছবির ক্যাপশান, আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর দলটির কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়কে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশে সরকারি নির্দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ।

    “আজ যে রায় ঘোষণা করেছে এ রায় বাংলার জনগণ প্রত্যাখ্যান করে। বাংলার জনগণ এ রায় মানে না, মানবে না,” আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় ভিডিও বার্তায় বলেছেন দলটির সভাপতিমণ্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

    তিনি বলেন, “অবৈধ আদালত যে মামলার রায় দিয়েছে সেটি ১৪ অগাস্ট শুরু করে ১৭ই নভেম্বর মামলা শেষ করেছে। ৮৪ জন সাক্ষীকে সামনে রেখে ৫৪ জনকে হাজির করে ২০ দিনে মামলা শেষ করেছে। এই দুই মাসের মধ্যে মাত্র ২০ দিন আদালত চলেছে”।

    “এর প্রধান বিচারক গত এক মাস অনুপস্থিত ছিলেন । তারপরেও প্রতিশোধের লক্ষ্য নিয়ে মানুষের প্রিয় নেত্রীর বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছে,” বলছিলেন মি. নানক।

    তিনি বলেন, “অচিরেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করবো”।

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও রায়ের প্রতিবাদে মঙ্গলবার সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শাটডাউন পালনের ঘোষণাও দেন তিনি।