আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ, পুলিশ-আন্দোলনকারী সংঘর্ষে দুইজন নিহত; শিক্ষার্থীদের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

শুক্রবারও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধন ও মিছিল করতে দেখা গেছে। বেশ কিছু স্থানে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে, খুলনায় সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য ও সিলেটে একজন কর্মজীবী নিহত হয়েছেন। এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৭৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছে।

সার সংক্ষেপ

  • শনি ও রবিবারের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
  • শুক্রবারও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। তাতে যোগ দিতে দেখা গেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।
  • সন্তানদের নিরাপত্তা চেয়ে রাজধানীতে মানববন্ধন করেছেন অভিভাবকরাও।
  • খুলনায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্য নিহত।
  • সিলেটে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত।
  • কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৭৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন।
  • ডিবি হেফাজতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা স্বেচ্ছায় দেননি বলে জানালেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক।

সরাসরি কভারেজ

  1. নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন

    শনি ও রবিবারের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    শুক্রবার রাতে তাদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় শনিবার সারাদেশে "বিক্ষোভ মিছিল" ঘোষণা করা হয়েছে।

    রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য "সর্বাত্মক অসহযোগ" আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    সারাদেশে ছাত্র-নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও ৯ দফা দাবিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে বলে প্রেস বার্তাটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তীতে পাঠানো আরেকটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে 'সারাদেশের প্রতিটি জেলার কেন্দ্রস্থলে ছাত্র, শিক্ষক, আইনজীবী, সংবাদকর্মীদেরকে এক হয়ে বিক্ষোভ মহাসমাবেশ' পালন করার আহবান জানানো হয়েছে

  2. শুক্রবার যা যা দেখা গেল

    • কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা ও নাশকতামূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রুজু হওয়া মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৭৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৫৫, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪, খুলনা বিভাগের ছয় ও রংপুর বিভাগের তিন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
    • খুলনায় বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের একজন কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এসময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।
    • হবিগঞ্জে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোশতাক মিয়া (২৫) নামে ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
    • বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অন্তত ৩২ শিশু নিহত হয়েছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। দ্রুত শিশুদের স্কুলে ফেরানোর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান সঞ্জয় উইজেসেকেরা।
    • কোটা আন্দোলন ঘিরে ছাত্র হত্যার বিচার এবং গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, ইসিবি, মিরপুর-১০, উত্তরা, পল্টন, শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিল সমাবেশ করেছে শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। উত্তরায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের সাথে আন্দোলনকারীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে।
  3. সারাদেশে ৭৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন

    কোটা সংস্কার আন্দোলন কেন্দ্র করে চলমান সহিংসতা ও নাশকতামূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রুজু হওয়া মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৭৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

    এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ১৪ জন, খুলনা বিভাগের ছয় জন ও রংপুর বিভাগের তিন জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।

    এর মধ্যে শুক্রবার ঢাকা সিএমএম আদালত থেকে ৩৭ জন এবং চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী জামিন পেয়েছেন।

    আগামী ১১ আগস্ট থেকে স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

  4. খুলনায় সংঘর্ষে পুলিশের মৃত্যু

    খুলনায় বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের একজন কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। বিবিসি বাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোজাম্মেল হোসেন। এসময় আরো অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি।

    মি. হোসেন মন্তব্য করেন, “খুলনায় গত কিছুদিনের মতো আজও ছাত্রদের বিক্ষোভে কোনো টিয়ার শেল বা গুলি চালানো হয়নি। কিন্তু এক পর্যায়ে ছাত্রদের মধ্য অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও পুলিশের ওপর হামলা করে।”

    এর আগে, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনা নিউ মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল করে প্রায় তিন থেকে চারশো মানুষ জিরো পয়েন্টের দিকে যেতে থাকে। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে সাধারণ মানুষকেও দিতে দেখা গেছে।

    শহরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে জিরো পয়েন্টের কাছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। জিরো পয়েন্টে সাঁজোয়া গাড়ি, জল কামানসহ পুলিশের ব্যারিকেড ছিল।

    এক পর্যায়ে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের সাথে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

    বিক্ষোভকারীরা এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।

    দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

    এসময় আন্দোলনকারীরা মিছিল নিয়ে গল্লামারী সেতুর ওপর অবস্থায় নেন। পুলিশ গল্লামারী মোড় থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

    সন্ধ্যায় গল্লামারী কাঁচাবাজারে আন্দোলনকারীদের সাথে সংঘর্ষের সময় পুলিশের এক সদস্য নিহত হন।

  5. হবিগঞ্জে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজনের মৃত্যু

    হবিগঞ্জে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোশতাক মিয়া (২৫) নামে ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি প্রজেক্টে নিযুক্ত ছিলেন।

    নিহত মোশতাককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক প্রদীপ দাশ সাগর জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় তিনকোনা পুকুর পাড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওই ব্যক্তি।

    পরে সংঘর্ষ থেকে বাঁচতে মোশতাকসহ কয়েকজন একটি জায়গায় আশ্রয় নেন। কিন্তু টিয়ারশেলের কারণে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন তারা। বের হবার সময় আবারও গুলিবিদ্ধ হন মোশতাক।

    বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ মোশতাক মিয়াকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।

    হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

    কিন্তু কী ধরনের বুলেটে তার মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

    এর আগে দুপুর দুইটার দিকে বিক্ষোভকারীরা শহরের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করে। আড়াইটার দিকে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে।

    এসময় পরিস্থিতি সামাল দিতে টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    এই ঘটনায় আনুমানিক দুইশ মানুষ আহত হয়েছে বলে জানান মি. সাগর।

    এছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৫০-৬০ জন সদস্য আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  6. বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সহিংসতায় ৩২ শিশু নিহত: ইউনিসেফ

    বাংলাদেশে কোটা আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় অন্তত ৩২ শিশু নিহত হয়েছে উল্লেখ করে এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

    শুক্রবার (২ আগস্ট) সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রধান সঞ্জয় উইজেসেকেরা এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউনিসেফ নিশ্চিত হয়েছে জুলাই মাসের আন্দোলনে সংঘটিত সহিংসতায় অন্তত ৩২ শিশু নিহত এবং আরও অনেক শিশু আহত ও আটক হয়েছে। সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে সংস্থাটি।

    শিশুদের সর্বদা রক্ষা করতে হবে এবং এটা সবার দায়িত্ব উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমি এই প্রতিবেদন সম্পর্কে সচেতন যে শিশুদের আটক করা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে একটি শিশুর জন্য, আইনের সংস্পর্শে আসা বা সংঘাতে আসা খুবই ভীতিকর হতে পারে।

    মি. উইজেসেকেরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এবং জাতিসংঘের শিশু অধিকার কনভেনশনে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে শিশুদের আটকের প্রভাব নিয়ে গবেষণার ভিত্তিতে, ইউনিসেফ সব ধরনের শিশুদের আটক বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে। নিছক উপস্থিতির ভিত্তিতে বা তাদের ধর্ম, পরিবারের সদস্যদের কাজ বা বিশ্বাসের কারণে শিশুদের গ্রেফতার বা আটক করা উচিত নয়।

    সহিংসতায় শিশুরা নানা ধরনের সমস্যায় পড়ছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে মি. উইজেসেকেরা বলেন আমি ইউনিসেফ-সমর্থিত চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ পরিদর্শন করেছি যেখানে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর থেকে চাহিদা ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

    “শিশুদের সহিংসতা থেকে পুনরুদ্ধারে এবং সুরক্ষিত রাখতে একটি সর্বোত্তম উপায় হলো সবগুলো স্কুল পুনরায় চালু করা, আবার শেখানো শুরু করা এবং শিশুদের তাদের বন্ধু এবং শিক্ষকদের সাথে পুনরায় একত্রিত করা। প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত ৩০ মিলিয়ন শিক্ষার্থী ১০ দিনের স্কুল মিস করেছে। এই বছরের শুরুতে তাপ, ঘূর্ণিঝড় এবং বন্যার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই শিক্ষার ক্ষতি আরও বেড়ে যায়,” এতে যোগ করা হয়েছে।

    ইউনিসেফ ৪ঠা আগস্ট থেকে বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় পুনরায় চালু করাকে স্বাগত জানালেও, এখনও প্রায় ১৫.৫ মিলিয়ন স্কুল শিশু থাকবে যারা স্কুলে ফিরতে পারছে না বলে বিবৃতিতে মনে করিয়ে দেয়া হয়েছে। মি. উইজেসেকেরা বলছেন, “শিশুরা যত বেশি সময় স্কুলের বাইরে থাকে, বিশেষ করে মেয়েরা, তাদের ফিরে আসার সম্ভাবনা তত কম হয়, তাদের ভবিষ্যত হুমকির মুখে পড়ে।”

  7. রাজধানীর উত্তরায় সংঘর্ষ, গলিতে ঢুকে আন্দোলনকারীদের মারধরের অভিযোগ

    রাজধানীর উত্তরায় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।

    ১১ নং সেক্টরের বিভিন্ন গলিতে ঢুকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে।

    সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দা কথা নাহিয়ান জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে হামলা করে হেলমেটধারী কিছু ব্যক্তি।

    প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত এবং তাদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করলে তারা সেক্টর ১১ এর বিভিন্ন গলিতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে।

    এসময় আক্রমণকারীরা গলিতে সেখানে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে।

  8. আজই মুক্ত হচ্ছেন ৪২ এইচএসসি পরীক্ষার্থী

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতার অভিযোগে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া ৪২ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে জামিন দিয়েছে আদালত।

    শিক্ষার্থীদের জামিননামা কারাগারে পৌঁছেছে। ফলে আজই মুক্ত হচ্ছেন তারা।

    শিক্ষার্থীদের পক্ষে শুনানি করা আইনজীবী সাইদুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।।

    শুক্রবার (২ আগস্ট) কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও নাশকতামূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রুজু হওয়া মামলায় গ্রেফতারকৃত ৩৭ জন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করে ঢাকার সিএমএম আদালত।

    এছাড়া, ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পাঁচজন এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জামিন মঞ্জুর করে।

  9. খুলনায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ

    খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেয়া গণমিছিল কর্মসূচির সমর্থনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করলে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে।

    দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনা নিউ মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল করে প্রায় তিন থেকে চারশো মানুষ খুলনা জিরো পয়েন্টের দিকে যেতে থাকে। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে সাধারণ মানুষকেও দিতে দেখা গেছে।

    শহরের কয়েকটি এলাকা ঘুরে জিরো পয়েন্টের কাছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। জিরো পয়েন্টে সাঁজোয়া গাড়ি, জল কামানসহ পুলিশের ব্যারিকেড ছিল।

    এক পর্যায়ে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে পুলিশের সাথে উপস্থিত বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।

    বিক্ষোভকারীরা এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়ে।

    দুপুর সাড়ে তিনটা থেকে বিকেল প্রায় পাঁচটা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে।

  10. ইসিবি ও মিরপুর-১০ এ জড়ো হয়েছে বিক্ষোভকারীরা

    কোটা আন্দোলন ঘিরে ছাত্র হত্যার বিচার এবং গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজধানীর ইসিবি ও মিরপুর-১০ এ বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

    বেলা পাঁচটার দিকে ইসিবি চত্বরে দেখা যায়, সহস্রাধিক শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। সেসময় বিচারের দাবিতে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়। দুপুর তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে সেখানে তারা জড়ো হতে থাকেন।

    তাদের দাবি, ছাত্র হত্যার বিচারের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দেয়া নয় দফা দাবির বাস্তবায়ন।

    এসময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তবে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলেও সড়কে যান চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।

    এদিকে মিরপুর-১০’এর গোলচত্বরে পুলিশ বক্সের পাশেও শিক্ষার্থীদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

    বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা জানান, বেলা পাঁচটার দিকে সেখানে দুই থেকে তিনশো শিক্ষার্থীর অবস্থান দেখা গেছে। তবে সেময় পর্যন্ত তারা রাস্তা বন্ধ করেনি।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, কোটা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে মৃত্যুর বিচার করতে হবে। একইসঙ্গে গণগ্রেফতার বন্ধ করতে হবে।

    মিরপুর-১০’এ পুলিশ অবস্থান নিলেও শিক্ষার্থীদের তারা বাধা দিচ্ছে না। তবে তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

  11. সিলেটে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা পুলিশের

    ছাত্র হত্যা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে সিলেটে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামলে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেছে পুলিশ।

    স্থানীয় সাংবাদিক হাসান নাঈম জানান, শুক্রবার বেলা তিনটা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সামনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন।

    এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, লিডিং ইউনিভার্সিটি, মেট্রোপলিটন, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, এম সি কলেজে, সিলেট সরকারি কলেজ, মদন মোহন কলেজসহ সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেয়।

    শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও মিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। মিছিলে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু, গণগ্রেফতার, নির্যাতনের প্রতিবাদে নানা স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় সরকারের প্রতি ক্ষোভ জানাতে দেখা যায় তাদের।

    পরে 'গণমিছিলটি' বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের সামনে গেলে পুলিশ পেছন থেকে টিয়ারগ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

    এসময় শিক্ষার্থীরাও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। তাদের অনেকের হাতেই ছিল লাঠিসোঁটা।

    এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মদিনা মার্কেট ও পাঠানটুলা এলাকায় পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ অব্যাহত ছিল।

  12. শহীদ মিনারে শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মীসহ হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

    রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে এই এলাকায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী, প্রগতিশীল বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীসহ পেশাজীবীরা। তাতে যোগ দেয় সাধারণ মানুষও।

    বিকেল ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা জানান, আন্দোলনকারীরা সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা, পুলিশের গুলিতে মৃত্যু, গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এসময় তারা নানা ধরনের স্লোগান ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করে।

    শহীদ মিনারে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা সকল হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের বিচার দাবি করছে। তবে আন্দোলনকারীদের অনেকেই বলেছে, তারা মনে করেন সরকারের অধীনে এর সুষ্ঠু বিচার হবে না, কারণ সরকারের নির্দেশেই পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে।

  13. সায়েন্সল্যাব থেকে সহস্রাধিক আন্দোলনকারীর মিছিল

    শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে সহস্রাধিক আন্দোলনকারী মিছিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা 'গণমিছিল কর্মসূচি'র অংশ হিসেবে শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করে একদল শিক্ষার্থী। বাটা সিগন্যাল মোড় থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানান, ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে মিছিলে সহস্রাধিক আন্দোলনকারীকে অংশ নিতে দেখা গেছে। এতে নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ছিল।এর আগে, বেলা আড়াইটার দিকে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা আশেপাশের এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এসময় সমস্বরে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের। আন্দোলনকারীদের অবস্থানের কারণে এই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

  14. জুমার নামাজের পর চট্টগ্রামে গণমিছিল

    শুক্রবার জুমার নামাজের পর চট্টগ্রাম নগরের আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ থেকে গণমিছিল বের করেন মুসল্লিরা।

    প্রথমে মসজিদের সামনে পাঁচ থেকে ১০ মিনিট অবস্থান করে টেরিবাজার ও লালদীঘি হয়ে মিছিল এগিয়ে যায়।

    পরে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা।

    বৃষ্টি কমে এলে নিউমার্কেট এলাকায় জড়ো হয়ে অবস্থান নেয় তারা।

    সেখানে ৩৫-৪০ মিনিট অবস্থান করে তারা। এতে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    সহস্রাধিকের বেশি বিক্ষোভকারী গণমিছিলে অংশ নেয় বলে জানান স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।

  15. রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে গণমিছিল করেছে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী-জনতা

    শুক্রবার সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

    সেখানে আন্দোলনরত এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমার ডেমোক্রেসি কোথায়? আমি আমার চোখের সামনে দেখেছি একটা মানুষের মুখ দিয়ে গড়গড় করে রক্ত বেরোচ্ছে। তাকে আমরা ঠিকমতো হাসপাতালে নিয়ে যেতে পারি নাই।”

    নিজের হাত দেখিয়ে ওই বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বলেন, “আমি আমার হাত দিয়ে বুলেট বের করেছিলাম, বুলেট!! এটা আমার স্বাধীন দেশ? আমার স্বাধীনতা কোথায়?”

    কর্মসূচিতে দাঁড়ানো আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, “প্লিজ গুলি করা বন্ধ করুন, প্লিজ।”

    এদিকে সাইন্সল্যাব মোড় ও সংলগ্ন এলাকায় 'গণমিছিল' করে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

  16. উত্তরায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    বৃষ্টির মধ্যেই উত্তরায় “ছাত্র-জনতার গণমিছিল” কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

    শুক্রবার সকাল থেকেই ঢাকার উত্তরায় রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন অভিভাবকরাও।

    “আমার ভাই জেলে কেন? এই মুহূর্তে মুক্তি চাই”,“আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না”, “জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে”, “we want justice”- এর মতো স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় তাদের হাতে প্ল্যাকার্ডও ছিল।

    আন্দোলনে এক শিক্ষার্থী বলেন, “এই দেশটা কারো বাপের না। এই দেশটা সবার। এই দেশটা জনগণের।”

    “আমি একজন সচেতন অভিভাবক। আমি প্রশ্ন করতে চাই- এটা কি কোনো গণতান্ত্রিক দেশ? প্রতিটা বাচ্চা আমার সন্তান। আমি বসে থাকতে পারি না। আমি বসে থাকতে পারিনি। সরকারের কাছে দাবি, এর সুষ্ঠু বিচার করুক,” বলেন একজন অভিভাবক।

  17. ডিবি অফিস থেকে স্বেচ্ছায় ভিডিও বার্তা দেননি ছয় সমন্বয়ক

    আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে স্বেচ্ছায় ভিডিও বার্তা দেননি বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক। বৃহস্পতিবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

    এতে বলা হয়, “আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে প্রচারিত ছয় সমন্বয়ককের ভিডিও স্টেটমেন্টটি আমরা স্বেচ্ছায় দেইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সিদ্ধান্ত ডিবি অফিস থেকে আসতে পারে না। সারাদেশের সকল সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে না।”

    বিবৃতিতে তাদের কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের সঙ্গে টেবিলে খাওয়াসহ আন্দোলন এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন তারা।

    এছাড়াও গুম, গ্রেফতার ও নির্যাতন থেকে নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তা চাইলেও অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূতভাবে তাদেরকে ডিবি হেফাজতে আটকে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

    “ডিবি অফিসে আমাদের জোর করে খাবার টেবিলে বসিয়ে ভিডিও করা হয়। আমাদের ছেড়ে দেবার আশ্বাস দিয়ে পরিবারকে ডেকে ১৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং মিডিয়ায় মিথ্যা স্টেটমেন্ট দেওয়ানো হয়। আমাদের শিক্ষকরা দেখা করতে আসলে, দেখা করতে দেওয়া হয়নি।”

    এসময় সমন্বয়কদের আটক, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ৩০ই জুলাই রাত থেকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের ডিবি অফিসেই অনশন কর্মসূচী শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তা জানতে পেরে সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুলাহ ও নুসরাত তাবাসসুমও অনশন শুরু করেন।

    গত সাতদিন ডিবি অফিসে তাদের ও তাদের পরিবারের সাথে 'হয়রানি, নির্যাতন ও নাটকের' তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় সমন্বয়করা।

    একইসঙ্গে ‘ছাত্র-নাগরিক হত্যার বিচার ও আটককৃত নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে’ বলেও জানান তারা।

  18. ধানমন্ডিতে শিল্পীদের প্রতিবাদ

    রাজধানীর ধানমন্ডিতে আবাহনী মাঠের পাশে বেশ কিছু শিল্পী জড়ো হয়েছিলেন প্রতিবাদ জানাতে। তাদের মূল বক্তব্য ছিল বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনী যেভাবে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে এবং তাতে যে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর বিচার করতে হবে।

    তারা বলেন, কারফিউ জারির পর থেকে নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে গ্রেফতার করছে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে।

    “আমরা এখানে হত্যার প্রতিবাদ করতে এসেছি। রাত-বিরাতে বাসা থেকে ছাত্রদের তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এটার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট সৈয়দ জাকির হোসেন।

    শিল্পীরা যখন সেখানে অবস্থান নিয়েছিলেন তখন তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে স্থানীয় কিছু বাসিন্দা ও পথচারী যোগ দিয়েছিলেন।

  19. বনানীতে অভিভাবকদের প্রতিবাদ

    শুক্রবার সকাল ১০টায় বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউর ফুটপাতে জড়ো হয়েছিলেন কিছু অভিভাবক যাদের সন্তানরা বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালেয়ে পড়াশুনা করেন। বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে শিক্ষার্থী হত্যার বিচার ও সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করেন তারা।

    সায়মা আহমেদ জয়া নামের একজন অভিভাবক বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, বিক্ষোভের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের ঘটনার বিচার চান।

    “আমাদের অনেক ছেলেকে গুলি করে মারা হয়েছে। এখন তাদেরকে ঘরে থাকতে দিচ্ছে না, আমরা ইয়াং ছেলেদের পড়াশুনা করতে পাঠাতে পারছি না, খেলতে পাঠাতে পারছি না। এভাবে তো চলতে পারে না,” বলছিলেন মিজ জয়া।

    আরেকজন অভিভাবক মঞ্জুরুল আলম বলছিলেন, “আমাদের আরো আগেই রাস্তায় দাঁড়ানো উচিত ছিল। কিন্তু আমরা পারিনি।”

    প্রতিবাদে যোগ দিয়েছিলেন নাদিরুজ্জামান ও হুসনা জাহান শিউলি দম্পতি। তারা নেদারল্যান্ডসের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। সম্প্রতি ঢাকায় এসেছেন ছুটিতে।

    নাদিরুজ্জমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, “যে মানুষগুলোকে মারা হয়েছে, তাদের মারার পর এখন ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে– জামাত শিবির বলে। অন্যায়ের প্রলেপ দেবার জন্য সেটার ওপরে আরো অন্যায় করা হচ্ছে।”

    অভিভাবকরা কিছুক্ষণ ফুটপাতে দাঁড়ানোর পর পুলিশ এসে তাদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। এ নিয়ে সেখানকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অভিভাবকদের বচসাও হয়।