বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের
পক্ষ থেকে দেয়া শুক্রবারের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছেন অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম। তবে এর আগে, শুক্রবারের কর্মসূচি নিয়ে সমন্বয়কদের মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে আসে।
অপর এক সমন্বয়ক আবদুল কাদেরের নামে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শুক্রবারের যে 'প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিলের' কর্মসূচি দেয়া
হয়েছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গিয়েছিল সারজিস আলমকে। তার অভিযোগ ছিল, তাদের সাথে আলোচনা না করেই এই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।তবে পরবর্তীতে এই কর্মসূচির সাথে একমত পোষণ করে মি. আলম বিবিসি বাংলাকে বলেন, কালকের ঘোষিত কর্মসূচি থাকবে। আগামীকাল সবার
সাথে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি দেয়া হবে।
“বিগত ছয় দিন ধরে বাকি
তিন থেকে চারজন সমন্বয়ক যারা কর্মসূচি দিচ্ছে, আমরা বের হওয়ার পর তাদের সাথে আর কথা
হয়নি। যেহেতু আমরা একটার দিকেই বের হয়েছি সেহেতু আমরা কথা বলেই, একটু দেরি হতো, কিন্তু একসাথেই কর্মসূচিগুলো দিতে পারতাম। যেহেতু ওরা একটা কর্মসূচি দিয়েছে এবং
সফলভাবে এ ছয়দিন ওরা কর্মসূচিগুলো দিয়েছিল। তাই ওই কর্মসূচিটা আজকের জন্য থাকবে। আর
আগামীকাল থেকে আমরা একসাথে কর্মসূচি দিবো,” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. আলম।
সন্ধ্যায় শুক্রবারের কর্মসূচি
ঘোষণা করেছেন সমন্বয়ক আবদুল কাদের। তার সাথে কথা না হলেও দ্বিতীয় সারির তিন সমন্বয়কের
সাথে কথা হয়েছে বলে জানান মি. আলম।
বিবিসি বাংলাকে তিনি
বলেন, “আমি আব্দুল কাদেরের সাথে কথা বলিনি। যে তিন জন সমন্বয়ক গত কয়েক দিন ধরে
বিভিন্ন ধরনের ভিডিও কল, কনফারেন্সের মাধ্যমে কর্মসূচি দিয়েছে তাদের সাথে কথা
বলেছি।”
“রিফাত রশীদ, মাহিন
সরকার, হান্নান মাসুদ। এই তিনজনের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছে তাদের কনসার্ন নিয়েই
কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। কিন্তু যেহেতু এখানে সমন্বয়ক আব্দুল কাদের তাদের সিনিয়র সে
জায়গা থেকে তার নাম দেয়া হয়েছে।”
মি. আলম জানান, শিক্ষকদের
সাথে পুলিশের দুর্ব্যবহার, শিক্ষার্থীদের গণগ্রেফতার এসব কিছুর ভিত্তিতে কালকের কর্মসূচি
ঘোষণা করা হয়েছে।
“ওই তিনজন সমন্বয়কের
কাছে জানতে চেয়েছি এটা কিসের ভিত্তিতে দেয়া হলো? কারণ এটাতো বড় কর্মসূচি বিগত দশ
দিনে এটা ছিল না। এই যে হামলা, গণগ্রেপ্তার এইসবের প্রেক্ষিতে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি
তাদের জায়গা থেকে দিয়েছে বলে জানিয়েছে,” বলেন মি. আলম।
সমন্বয়কদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব
তৈরি হয়েছে কি না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই। আমাদের সামনের সারির এই
কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলে পরবর্তীতে কারা নেতৃত্ব দেবে ডিসিশন মেকিংয়ে, সেকেন্ড
লেয়ারে যারা তাদেরকে যদি গ্রেপ্তার করা হয়, থার্ড লেয়ারে কারা করবে এটা আমাদের ঠিক
করাই ছিল। ওই তিনজন আমাদের সেকেন্ড লেয়ারে ডিসিশনগুলো নিয়েছে আসলে।”এদিকে, বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয় থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আন্দোলন নিয়ে নিজেদের আবস্থান তুলে ধরে সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। তবে পরবর্তীতে তাদের ফেসবুক আইডি 'ডিজঅ্যাবল' হয়ে যায়।