পত্রিকা: 'জুলাই সনদ নিয়ে অচলাবস্থা'

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'জুলাই সনদ নিয়ে অচলাবস্থা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, "জুলাই সনদ ২০২৫" নিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ, পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষে আসন বণ্টন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ভোট এবং পিএসসি, দুদক, সিএজি ও ন্যায়পাল নিয়োগ সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির মতো প্রস্তাব এসেছে।
বিএনপি বলছে, এই সরকারের সাংবিধানিক পরিবর্তনের বৈধতা নেই, বরং নির্বাচনের পর নতুন সংসদে এসব বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।
তারা উচ্চকক্ষে ভোট বরাদ্দে পিআর পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে এবং 'নোট অব ডিসেন্ট' দিয়েছে।
জামায়াতসহ বেশ কিছু দল পিআর পদ্ধতির পক্ষে, আবার সিপিবি-বাসদ এককক্ষীয় সংসদের পক্ষে মত দিয়েছে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও উভয় কক্ষের গোপন ভোটের প্রস্তাবে মতপার্থক্য রয়েছে।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন চাইছে, এই সরকারের মেয়াদেই আইনি ভিত্তিতে সনদ কার্যকর হোক, নইলে মামলা করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
বিএনপি আবার বলছে, এই সনদ আইন নয়, বরং জনগণের প্রত্যাশা ও প্রতিশ্রুতি। তবে প্রস্তাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও আইনি ভিত্তি এখনো অনিশ্চিত।
সংলাপ শেষ পর্যায়ে হলেও ঐকমত্য কার্যকর করার স্পষ্ট রূপরেখা না থাকায় সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।
৫ই অগাস্ট কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণার কথা থাকলেও রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও অস্পষ্ট।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম 'ট্রাম্পের নতুন শুল্কহার কার্যকর হচ্ছে আজ থেকে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আজ ১লা আগস্ট থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে, যার ফলে বাংলাদেশের রফতানি খাতে বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
যদিও তৃতীয় দফা আলোচনা এখনো চলমান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুল্ক কমানোর সম্ভাবনার আভাস মিলেছে।
আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং ঢাকার বিভিন্ন দপ্তর ভার্চুয়ালি যুক্ত রয়েছে।
মার্কিন শর্তের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা, এলএনজি ও উড়োজাহাজ আমদানির উদ্যোগ। বিশেষ করে বোয়িংয়ের ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবও এসেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক শর্তগুলো শুধু শুল্ক নয়, বরং এমন কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার বাইরে এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির ক্ষতিও করতে পারে।
বাংলাদেশের পক্ষে সব শর্ত মানা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৮৩৬ কোটি ডলারের পণ্য রফতানি করলেও আমদানি করেছে মাত্র ২২১ কোটি ডলারের পণ্য, অর্থাৎ বাংলাদেশের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের ওপর ভিন্ন হারে প্রভাব ফেলছে, কখনো কমানো হচ্ছে, কখনো বাড়ানো, আবার কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক বিরতি দেওয়া হচ্ছে।

কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর, 'বিমানের ঘাড়ে ৫০ হাজার কোটির বোঝা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ও পাল্টা শুল্ক এড়াতে রাষ্ট্রীয় এয়ারলাইন্স 'বিমান বাংলাদেশ' এর জন্য ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নিয়েছে।
এ পরিকল্পনা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিমান ক্রয়চুক্তি হলেও, এর ব্যয় প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং অর্থায়ন কোথা থেকে আসবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বিদেশি ঋণ, ইউএস এক্সিম ব্যাংকের সহায়তা ও আংশিক সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে অর্থ জোগানের চেষ্টা চলছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত বিমানকে আর্থিকভাবে চরম চাপে ফেলবে বলেই বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কারণ বিমান এরই মধ্যে পুরনো ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছে।
বর্তমানে বিমানের বহরে ২১টি উড়োজাহাজ থাকলেও অনেকগুলো অলস পড়ে আছে, রুট ও যাত্রীসংখ্যাও সীমিত।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ অবস্থা যেমন পাইলট সংকট, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি এবং আয়ের বড় অংশ মূল এয়ারলাইনস নয়, বরং সহকারী ব্যবসা খাত থেকে আসছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন উড়োজাহাজ আনা হলেও যদি সেগুলো পরিচালনার উপযুক্ত অবকাঠামো, দক্ষ জনবল ও যাত্রী না থাকে, তাহলে সেগুলো অলস সম্পদে পরিণত হবে।
এমন বড় সিদ্ধান্তে বিমানকেই না জানানো এবং সরকারের এককভাবে চুক্তি করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তাদের মতে, আগে বিমানকে লাভজনক ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই বেশি জরুরি ছিল।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'মৌলিক ১৯ সংস্কার বিষয়ে সিদ্ধান্ত, ৯টিতে ভিন্নমত'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ১৯টি মৌলিক সংস্কার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে এর মধ্যে অন্তত নয়টি বিষয়ে একাধিক দলের ভিন্নমত রয়েছে।
সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে তিন বাহিনীর প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা।
কমিশন প্রস্তাব করেছে রাষ্ট্রপতিকে ১২টি প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনভাবে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হোক, তবে তিন বাহিনীর প্রধানসহ পাঁচটি বিষয়ে ঐকমত্য হয়নি।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিষয়ে দলগুলো গোপন ভোটে নির্বাচন পদ্ধতিতে একমত হলেও একাধিক দল ভিন্নমত দিয়েছে।
সংবিধানের মূলনীতি বহাল রাখার নিশ্চয়তা না থাকায় কয়েকটি বামপন্থী দল আলোচনা বর্জন করেছে।
উচ্চকক্ষ গঠনের জন্য প্রস্তাবিত প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতেও বিএনপিসহ অনেক দল একমত নয়।
নির্বাচন কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ চারটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে ভিন্নমত থাকলেও পিএসসি, দুদক, সিএজি ও ন্যায়পাল পদে বাছাই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এসব পদে নিয়োগ দেবেন রাষ্ট্রপতি। আলোচনার শেষে সিদ্ধান্ত হয়েছে জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করা হবে, এরপর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হবে।
অনেক দল এই সনদকে আইনি ভিত্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তবে কমিশন এখনো বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ঠিক করেনি, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'এড়িয়ে চলার সংকেত বিএনপির'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন "জুলাই সনদ" নামে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব চূড়ান্ত করলেও বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা বাড়ছে।
বিএনপি কিছু বিষয়ে একমত হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দ্বিমত জানিয়ে 'নোট অব ডিসেন্ট' দিয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে বাস্তবায়ন এড়িয়ে চলার সংকেত।
উচ্চকক্ষ গঠন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম, ও কিছু প্রতিষ্ঠানে নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ রয়ে গেছে।
উচ্চকক্ষ গঠনে 'সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর)' পদ্ধতি চূড়ান্ত হলেও বিএনপি, সিপিবি, বাসদসহ অনেকে এর বিরোধিতা করেছে।
তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন গোপন ভোটে করার বিষয়ে সব দল একমত হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারপ্রধানের নিয়োগে 'বাছাই কমিটি' প্রস্তাব করা হলেও বিএনপি বিচারপতির অন্তর্ভুক্তি ও র্যাংকড চয়েস পদ্ধতির বিরোধিতা করেছে।
পিএসসি, দুদক, সিএজি ও ন্যায়পাল নিয়োগের সংবিধানিক ভিত্তি নিয়েও ভিন্নমত রয়েছে।
রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে ১২টি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা গেছে।
জামায়াত আইনি ভিত্তি না থাকলে মামলা করার হুমকি দিয়েছে। কমিশন বলছে, বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর, আর কমিশন কেবল অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবে।
তাই জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দলগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'কর্মসংস্থান বিনিয়োগে মন্দা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি টানা সাড়ে তিন বছর মন্দায় রয়েছে। নতুন সরকার নানা পদক্ষেপ নিলেও বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি।
বেসরকারি খাত এখনো অস্থির, ফলে নতুন চাকরি তৈরি হয়নি, বরং কমেছে।
চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক চাপ ও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
গত সরকারের সময় লুটপাটের কারণে ব্যাংক খাত ভেঙে পড়ে, যা অর্থনীতিকে এখনো পিছিয়ে রাখছে।
সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে খরচ চালানোর কারণে মূল্যস্ফীতি ২০২২ সালে বেড়ে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে ওঠে।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে মূল্যস্ফীতি ও ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে নানা উদ্যোগ নেয়, যার কিছু সুফল পাওয়া যাচ্ছে, জুনে মূল্যস্ফীতি কমে আট দশমিক ৪৮ শতাংশে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এ হার আরও কমে ছয় দশমিক পাঁচ শতাংশে নামবে। কিন্তু মূল্যস্ফীতি এখনো ভোক্তার ওপর বোঝা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপে রপ্তানি ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। অর্থনৈতিক গতি বাড়লেও ব্যাংকগুলো ঋণ দিতে পারছে না।
ফোকলা অর্থনীতির কারণে সরকারের চলতি খরচও মেটাতে ব্যাংক ঋণ নিতে হচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এখনো বেসরকারি খাতে আঘাত করছে।
তবে শিল্প উৎপাদন বাড়ছে, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক ইঙ্গিত মিলছে। তবুও পুনরুদ্ধারে পথ এখনো কঠিন।

ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, 'দেশে প্রতি চার জনে এক জন বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে বাস করছে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রতি চারজন নাগরিকের একজন অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি মানুষ এখনো বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে।
এই দারিদ্র্য শুধু আয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং জীবনমানের নানা ঘাটতির ওপর নির্ভর করে নিরূপণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকাশিত প্রথম 'জাতীয় বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচক' (এমপিআই) থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
এতে দেখা গেছে, গ্রামের মানুষ শহরের তুলনায় অনেক বেশি দরিদ্র, গ্রামে বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের হার ২৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ, আর শহরে ১৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ।
সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্য দেখা গেছে বান্দরবান, কক্সবাজার, সুনামগঞ্জ, রাঙ্গামাটি ও ভোলা জেলায়, যেখানে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশেরও বেশি।
আবার বিভাগীয় দিক থেকে সবচেয়ে বেশি সিলেটে ৩৭ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে শিশুরা, যেখানে প্রায় ২৯ শতাংশ শিশু এই দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে, যা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক বেশি।
ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে পরিকল্পনাবিদ ও অর্থনীতিবিদরা বলেন, এই তথ্য জাতীয় পরিকল্পনায় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত।
এমপিআই সূচককে ভবিষ্যতের উন্নয়ন কার্যক্রম ও নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়।
এই সূচক তৈরিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোরও ভূমিকা ছিল।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান শিরোনাম, 'BB unveils tight monetary policy for H1'FY26 until inflation is below 7%' অর্থাৎ, 'মুদ্রাস্ফীতি ৭% এর নিচে না আসা পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক প্রথম অর্থবছর ২০২৬-এর জন্য কঠোর মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে' ।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য নতুন আর্থিক নীতিমালা ঘোষণা করেছে, যেখানে মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত কঠোর নীতি বজায় থাকবে।
বর্তমান নীতিতে সুদহার ১০ শতাংশেই রাখা হয়েছে এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমিয়ে সাত দশমিক দুই শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকার চাইছে মূল্যস্ফীতি তিন থেকে পাঁচ শতাংশে নামাতে, তবে তা সময়সাপেক্ষ হবে বলে জানানো হয়েছে।
জুন মাসে মূল্যস্ফীতি আট দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমেছে, যা ২৭ মাস পর নয় শতাংশের নিচে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, মূল্যস্ফীতি আরও কমলে সুদের হার কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার ১২ থেকে ১০ শতাংশে নেমেছে এবং ব্যাংকগুলো যাতে সহজে মুনাফা করতে না পারে, সে কারণে ওভারনাইট রেট আট দশমিক পাঁচ থেকে আট শতাংশ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার বড় বিনিয়োগ ও ব্যাংক একীভবনের উদ্যোগ নিচ্ছে এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করে নজরদারি বাড়ানো হবে। দেশে ডলারের ঘাটতি নেই, আমদানি সক্ষমতা যথেষ্ট আছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতি দুর্বল হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের রপ্তানি সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনে নীতিতে পরিবর্তন আনবে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, ''White elephants' bleed Bangladesh dry: SOE debt skyrockets to Tk6.4 lakh crore' অর্থাৎ, ''সাদা হাতি বাংলাদেশকে রক্তশূন্য করে ফেলছে: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ঋণ আকাশছোঁয়া, বেড়ে ৬.৪ লাখ কোটি টাকা''
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো (এসওই) এখন সরকারের কাঁধে বিশাল ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে।
বেসরকারি খাত যখন দেউলিয়া হওয়ার পথে, তখন বহু বছর ধরে লোকসান করা এসব প্রতিষ্ঠান সরকারি সহায়তায় টিকে আছে, কিন্তু দেশের অর্থনীতির জন্য তা হয়ে উঠেছে ভয়াবহ হুমকি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ১০১টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ৩৯ হাজার ৭৮২ কোটি টাকা।
যা আগের বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেশি।
এর মধ্যে ৪২টি প্রতিষ্ঠান (মূলত বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সার ও চিনিখাতে) 'উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত যাদের পক্ষে সরকারের ও অন্যান্য সংস্থার ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়।
২০টি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই খেলাপি। এসব প্রতিষ্ঠান শুধু অদক্ষই নয়, বরং অকার্যকর, ব্যয়সাপেক্ষ এবং জবাবদিহির পুরোপুরি অভাবে ধুঁকছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এগুলো এখন "সাদা হাতি" যা শুধু রাষ্ট্রীয় সম্পদ খেয়ে ফেলে কিন্তু কোনো সুফল দেয় না।
ফাহমিদা খাতুন (সিপিডি) মন্তব্য করেছেন, সরকার এখন যে আর্থিক চাপে আছে, তাতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও টাকা ঢালাটা করদাতার অর্থের অপচয়।
তার মতে, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের উপার্জনে টিকতে পারে না, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া বা বেসরকারি খাতে তুলে দেওয়া উচিত।
এই ৪২টি উচ্চঝুঁকির প্রতিষ্ঠানের ঋণই দেশের জিডিপির চার দশমিক আট শতাংশ। বিশেষভাবে চিনিশিল্পে দুরবস্থা বেশি- ১৫টি চিনি কলের মধ্যে কেবল একটি (কেরু অ্যান্ড কোং) লাভজনক। বাকিগুলো সবসময়ই লোকসানে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশগুলো হলো- নতুন ঋণ না দেওয়া ও গ্যারান্টি বন্ধ করা, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ ব্যবস্থাপনা নীতি ও পরিশোধ তহবিল তৈরি, খরচ কমানো, বিক্রি বাড়ানো, কার্যক্ষমতা বাড়ানো, কাঠামোগত সংস্কার, আইনগত পুনর্গঠন এবং ভালো শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
এই বাস্তবতায় অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন- যদি রাষ্ট্র এখনই এই সাদা হাতিগুলোর লাগাম না টানে, ভবিষ্যতে জনগণের কাঁধে আরও বড় আর্থিক বিপর্যয়ের বোঝা চাপবে।









