পত্রিকা: 'নির্বাচনী জোটে যাওয়া নিয়ে এনসিপিতে টানাপোড়েন'

নির্বাচনী জোটে যাওয়া নিয়ে এনসিপিতে টানাপোড়েন— সমকালের প্রধান খবর এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বিএনপি নাকি জামায়াত— কোন দলের নেতৃত্বাধীন জোটে যাবে এনসিপি, তা নিয়ে দলটিতে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
সরকারে থাকা দুই ছাত্র উপদেষ্টা জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে জোট না হলে এনসিপিতে তারা যোগ দেবেন না।
সে ক্ষেত্রে তারা সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন। কিংবা স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন। কিন্তু স্বতন্ত্র নির্বাচন করলে বিএনপির সমর্থন পাওয়া নিয়ে আবার অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে যারা বিএনপির কাছ থেকে সংসদীয় আসনের বিষয়ে আশ্বাস পেয়েছেন, তারাই শুধু দলটির সঙ্গে জোটে রাজি।
বিএনপি পাঁচ থেকে আটটি আসন ছাড়তে পারে এনসিপিকে। ফলে বাকি নেতাদের অধিকাংশ জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতায় আগ্রহী।
কারণ, তারা মনে করেন, জামায়াত ৪০-৫০টি আসন ছাড়তে পারে।
এদিকে, এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং আপ বাংলাদেশ মিলে যে জোট হওয়ার আলোচনা উঠেছিল তা-ও হচ্ছে না।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে সব পত্রিকার প্রথম পাতায় খবর রয়েছে, কােন কােন সংবাদে এ সংক্রান্ত একাধিক খবরও রয়েছে।
ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরােনাম —Khaleda's condition unchanged; অর্থাৎ খালেদার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত।
এ খবরে বলা হয়েছে, ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
তার চিকিৎসায় সহায়তা করতে গতকাল বুধবার যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রিচার্ড বিল ঢাকায় পৌঁছে খালেদা জিয়ার মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন এবং তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সাথে পরামর্শ ও পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়া যায় তা নিয়ে কথা বলেছেন।
এছাড়া, চীন থেকেও চার সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল টিমও ঢাকায় পৌঁছেছে।
মেডিকেল বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, বিদেশি চিকিৎসকরা নির্ধারণ করবেন, খালেদা জিয়া বিমানে ওঠার জন্য উপযুক্ত কি না।
এর আগে তার দল থেকে বলা হয়েছিল, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিমানে চড়ার মতো হলে তাকে দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হবে চিকিৎসার জন্য।
এদিকে, পত্রিকার প্রথম পাতার আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, গতকাল সন্ধ্যায় হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হাসপাতালের নিচে অবস্থান করছিলেন। তিনি প্রধান উপদেষ্টাকে খালেদা জিয়ার কাছে নিয়ে যান।

পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিতে সিঙ্গাপুরফিলিয়া, ভোক্তারা ঠকছেন কি— বণিক বার্তার প্রধান সংবাদ এটি।
এই খবরে বলা হয়েছে, ক্রুড অয়েল সংগ্রহ করে পরিশোধিত তেল বিভিন্ন দেশে রফতানি করে সিঙ্গাপুর। যার মধ্যে বাংলাদেশ প্রতি বছর সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে।
কিন্তু তাদের পরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এতে খরচ পড়ছে বেশি।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, জাহাজের প্রিমিয়াম কমলেও তার কোনো সুফল পাচ্ছে না দেশের ভোক্তারা।
বাংলাদেশের মতো সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি তেল আমদানি করে ইন্দোনেশিয়াও। মূলত ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে দেশটি সিঙ্গাপুর থেকে তেল আমদানি করে।
তবে এখন নিজের দেশে জ্বালানির দাম হ্রাস ও সিঙ্গাপুরনির্ভরতা কমিয়ে আনতে চাইছে ইন্দোনেশিয়া।
যদিও বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর— প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোথাও তালা, কোথাও পরীক্ষা।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বেতন বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের একাংশ।
এর মধ্যে গতকাল বুধবার 'কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচি শুরু করেছেন তারা। এর ফলে তৃতীয় দিনের মতো দেশের অনেক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি।
তবে ঢাকাসহ অনেক বিদ্যালয়ে সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা হয়েছে। কোথাও কোথাও প্রধান শিক্ষকেরা 'কোনোমতো' পরীক্ষা চালিয়ে নিচ্ছেন।
সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক কোটির বেশি।
গত পহেলা ডিসেম্বর এসব বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়।
এদিকে, গতকাল বুধবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতি ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে যোগদানের নির্দেশনা দিয়েছে।
এতে বলা হয়, শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরেও দেখা যাচ্ছে সহকারী শিক্ষকদের কয়েকটি সংগঠন চলমান বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণ না করে বিভিন্নভাবে পরীক্ষা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মসূচি গ্রহণ সরকারি চাকরি আইন, আচরণ বিধিমালার পরিপন্থী ও ফৌজদারি আইনেও বিবেচ্য।

দেশ রূপান্তরের দ্বিতীয় প্রধান খবর— স্বাস্থ্যসেবায় অশনিসংকেত।
এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ছয় দাবিতে স্বাস্থ্য সহকারীরা পাঁচ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করে এখন ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।
এদিকে আবার দশম গ্রেডের দাবিতে আন্দোলন করছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা।
আজ বৃহস্পতিবার তাদের অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালনের কর্মসূচি রয়েছে।
এছাড়া চার দাবিতে গত দোসরা ডিসেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন। তারাও দশম গ্রেড চায়।
নাসিং খাতেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। তারা আট দাবিতে আন্দোলন করছেন।
এসব আন্দোলনে দুর্ভোগে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। আর স্বাস্থ্য খাতে বিপদের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর— ধস নামবে টেক্সটাইল অ্যাক্সেসরিজ শিল্পে।
এতে বলা হয়েছে, ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানি স্বল্পতা ও অবাধে ভারতীয় সুতা প্রবেশের কারণে দেশের টেক্সটাইল ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্প খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
তার মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের ফ্রি অব কস্টের (বিনামূল্যে কাপড় ও অ্যাক্সেসরিজ আমদানির সুযোগ) সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার, যা এই দুই শিল্পকে আরও বিপদের মুখে ফেলবে।
আমদানিনীতি আদেশ ও কাস্টমসের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বর্তমানে রপ্তানিকারকরা এফওসির মাধ্যমে আগের বছরের মোট রপ্তানিকৃত অর্থের ৫০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের কাঁচামাল শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করতে পারেন। সাধারণত বন্ড লাইসেন্সধারী রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পেয়ে থাকে।
আমদানিনীতি আদেশ সংশোধনের মাধ্যমে এফওসির সীমা তুলে নেওয়া হচ্ছে, এমন খবরে টেক্সটাইল ও অ্যাক্সেসরিজ শিল্প মালিকরা হতবাক।
আলাপ-আলোচনা ছাড়াই এ ধরনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী হবে বলে মনে করছেন টেক্সটাইল মিলমালিকরা।
তাদের দাবি, এফওসির সীমা তুলে দিলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি নিয়ে গার্মেন্ট ও অন্য রপ্তানিমুখী শিল্পমালিকদের দেয়া তথ্য একেবারেই ভিত্তিহীন।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম— অসন্তোষ অন্তত ৭০ আসনে, বদলের চিন্তা ৩০টিতে।
এতে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ঘোষিত ২৩৭ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৭০ আসনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
তবে, নিজেদের মতো একটি বড় দলে মনোনয়ন নিয়ে এমন পরিস্থিতিকে 'অস্বাভাবিক' মনে করছেন না দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
যদিও সৃষ্ট এই পরিস্থিতি সামলাতে তৎপর হয়েছেন দলটি। বিবেচনায় নিচ্ছেন নানা বিষয়, এরই অংশ হিসেবে অন্তত ৩০ আসনে প্রার্থী পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, মনোনয়নসংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে বিএনপির একটি দল কাজ করছে। তারা অভিযোগের বিপরীতে সত্যটা জানার চেষ্টা করছে। তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রার্থীর তালিকা সংশোধন করা হবে।
সূত্র বলছে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বিরোধপূর্ণ প্রতিটি আসনের সব পক্ষকে ঢাকায় ডেকে কথা বলছেন।
মনোনয়ন নিয়ে বড় কোনো ক্ষোভ-অসন্তোষকে সঙ্গী করে ভোটের লড়াইয়ে যেতে চান না বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ জন্য তিনি নিজেও মনোনয়ন না পাওয়া ক্ষুব্ধ অনেক নেতার সঙ্গে আলাপ করছেন।

দেশজুড়ে মাদকের ভয়ংকর আগ্রাসন: সীমান্তপথে ঢোকে, ছড়ায় ট্রেনে— কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি।
এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথে আনা ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক নানা কৌশলে পাচার করা হচ্ছে ট্রেনে করে। মাদক পাচার করতে গিয়ে কেউ সাজছেন রোগী, কেউ বা 'গর্ভবতী'।
মাদক পাচারে বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে নারী ও শিশুদেরকে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, বেনাপোল, আশুগঞ্জসহ পূর্ব রেলের বিভিন্ন স্টেশনে পাচারকারীদের দেখা মিলছে।
আখাউড়া রেলওয়ে থানার তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে এই থানার অধীন জেলার ১১টি রেলস্টেশন এলাকায় বিভিন্ন ট্রেনে ২৫০টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ২১ জন চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে। মোট মামলা করা হয়েছে ১৮টি।
রেলওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদক কারবারিরা ট্রেনে ইয়াবা বহনের সময় পুলিশের চোখ ফাঁকি দেওয়ার জন্য ইয়াবা এক জায়গায় রাখেন, নিজেরা অন্য জায়গায় বসেন।
এসব মাদক পাচারে একাধিক 'লাইনম্যান' জড়িত রয়েছেন।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম— ছায়াযুদ্ধে নিরাপত্তা হুমকি!
এই খবরে বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর একটি পাকিস্তানের করাচি থেকে পরিচালিত টিটিপি এবার তাদের রিক্রুটমেন্ট চ্যানেলে বাংলাদেশকে যুক্ত করেছে।
আর সেই কাজটি করছে বাংলাদেশেরই এক বিতর্কিত ব্যক্তি ইমরান হায়দার, যার অতীত ও বর্তমান— উভয়ই নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন।
সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, গত কয়েক মাসে ইমরান হায়দারের মাধ্যমে ৩০ জনের বেশি বাংলাদেশি পাকিস্তানে পৌঁছেছে।
তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে। এই তথ্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে।
গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, ইমরান হায়দার সাভার এলাকার একজন ব্যক্তি, যার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত।
তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী, ছায়ানট ও ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তার।









