পত্রিকা: 'নিজভূমে পরবাসী ১২০ ভারতীয়'

Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'নিজভূমে পরবাসী ১২০ ভারতীয়'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভারত থেকে নিয়মিতভাবেই কিছু নাগরিককে সীমান্ত পেরিয়ে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

অনেকে বুঝতেই পারে না যে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়েছে। এসব মানুষ সীমান্তে ঘোরাঘুরির সময় বিজিবির নজরে আসে এবং স্থানীয়রা তাদের ফেরত পাঠায়।

জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ১২০ ভারতীয় নাগরিককে সীমান্ত থেকেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তারা আসাম, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের আধার কার্ডধারী বাসিন্দা।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ কোনোভাবেই বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ মেনে নেবে না।

মুসলিম, বাংলাভাষী ভারতীয় কিংবা রোহিঙ্গা কাউকেই জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা সহ্য করা হবে না।

ভারতের সীমান্তরক্ষীরা মাঝরাতে অস্ত্রের মুখে মানুষকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম সীমান্তে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে।

এমনকি অনেকের আধার কার্ড, ভোটার আইডি থাকার পরও তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

কেউ কেউ নিখোঁজ হয়ে গেছেন, যাদের খোঁজ মেলেনি। সীমান্তে আটক হওয়া মানুষরা বারবার নির্দয় আচরণের অভিযোগ করছেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক কারণে ভারত বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে এভাবে বাংলাভাষীদের ঠেলে দিচ্ছে।

অথচ আন্তর্জাতিক আইনে পুশব্যাক বা পুশইনের কোনো স্বীকৃতি নেই। ভারতে বিদেশি নাগরিক ধরা পড়লে তাকে আদালতে হাজির করার নিয়ম রয়েছে।

এই অবস্থা বহু ভারতীয় বাংলাভাষীর মধ্যে ভয় তৈরি করেছে। এমনকি কলকাতার এক নাগরিক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর আতঙ্কে আত্মহত্যা করেছেন।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমবে'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীকে কেন্দ্র করে যে একচ্ছত্র ক্ষমতার কাঠামো আছে, তা কমানোর জন্য সংবিধান সংস্কার কমিশন ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন কিছু প্রস্তাব দিয়েছে।

মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রক্ষমতার ভারসাম্য আনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের উত্থান ঠেকানো।

প্রস্তাব অনুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান হতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশন গঠনে বাছাই কমিটির ভূমিকা থাকবে, যেখানে সরকারি দল, বিরোধী দল ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

এতে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নিয়োগের ক্ষমতা কমবে। মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল ও আইন কমিশনে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিয়োগ দিতে পারবেন। জরুরি অবস্থা জারির ক্ষেত্রেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

তবে এসব বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য হয়নি। বিএনপিসহ কয়েকটি দল সাংবিধানিক কাউন্সিল বা নিয়োগ কমিটির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

তাদের মতে, এতে নির্বাহী বিভাগ দুর্বল হয়ে পড়বে। সংসদে ভারসাম্য আনার জন্য দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা ও উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাব থাকলেও বিএনপি এ ব্যাপারেও দ্বিমত পোষণ করেছে।

যতটুকু ঐকমত্য হয়েছে, তাতে বলা যায় প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কিছুটা সীমিত হবে। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশন গঠন, কিছু প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির নিয়োগ ক্ষমতা, এবং সংসদের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলকে দেওয়া।

যদিও সব প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে বাস্তব ভারসাম্য তৈরি হবে, কিন্তু ভিন্নমতের কারণে পরিবর্তনগুলো সীমিত থাকছে।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'পাচারকৃত অর্থে গড়া ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া বিপুল অর্থের খোঁজে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের গোয়েন্দা সেল সিআইসি প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে।

পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে ৩৪৬টি সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নয়টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্টের খোঁজ মিলেছে, যেগুলো টাকার বিনিময়ে কিছু বাংলাদেশি অর্জন করেছে।

এর মধ্যে অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমেনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মালটা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক রয়েছে।

সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব জানিয়েছেন, এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের একটি অংশমাত্র, আরও অনেক তথ্য উন্মোচন বাকি। এ কাজে ছয়টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনার আমলে অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডাটাবেজ নিয়ন্ত্রণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গায়েব করেছিল।

তবে এখন সিআইসি সেই তথ্য উদ্ধার করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এসব তথ্য শুনে বলেন, দেশের সম্পদ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে দুদক, সিআইসি ও পুলিশের সিআইডিসহ সব সংস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি একে ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা আখ্যা দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর দেশ গড়তে হলে এই লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

এছাড়া অনুসন্ধান আরও বিস্তৃত করে বিদেশে গড়া সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে দেশে ফেরাতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'ভোটে তিন ক্যাম্পাস সরগরম, 'নড়বড়ে' ছাত্রদল নীরব'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে ক্যাম্পাসগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন প্যানেল গঠন ও প্রচারে ব্যস্ত থাকলেও বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল এখনো নীরব।

ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পর ছাত্রদলকে সবচেয়ে বড় সংগঠন হিসেবে দেখা হলেও নির্বাচনে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।

তারা নির্বাচন পেছানোর দাবি ও কিছু সংস্কারের শর্ত তুলেছে, তবে সেসব মানা না হলেও ভোটে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে।

আওয়ামী লীগ আমলে দীর্ঘ দমনপীড়নের কারণে ছাত্রদলের সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হয়। ৫ আগস্টের পরও তারা পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি।

বর্তমানে তারা ক্যাম্পাস কমিটি করছে, তবে অনেক জ্যেষ্ঠ নেতার ছাত্রত্ব শেষ হওয়ায় তারা প্রার্থী হতে পারছেন না।

নতুন কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বও তৈরি হয়েছে, যা প্যানেল গঠনে বাধা দিচ্ছে। তিন ক্যাম্পাসেই কিছু মধ্যম সারির নেতা আগ্রহ দেখালেও মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়ায় প্রচারণা শুরু হয়নি।

ডাকসুর ভোট হবে ৯ই সেপ্টেম্বর, জাকসুতে ১১ই সেপ্টেম্বর এবং রাকসুতে ১৫ই সেপ্টেম্বর। দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকে তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়েই জিতেছিল ছাত্রদল, কিন্তু এবার তারা দৃশ্যমানভাবে পিছিয়ে আছে।

এদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাম সংগঠনগুলো ইতিমধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে প্রচারণায় নেমেছে।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'ইসির সামনে যত চ্যালেঞ্জ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ইসির ওপর আস্থা ফেরানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনা।

এর পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষ রাখা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকানো, ভোটকেন্দ্র নিরপেক্ষভাবে স্থাপন এবং প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।

ইসি এসব নিয়ে বৈঠক করেছে এবং আরপিও সংশোধন, খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ, নতুন দল নিবন্ধন ও ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।

তবে আস্থা ফেরানো ও রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এখনও বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

নির্বাচন কমিশনাররা মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণই প্রধান চ্যালেঞ্জ। এজন্য সেনা, নৌ, বিমানবাহিনী ও কোস্ট গার্ডকে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর অনৈক্য নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ইসি আশা করছে সময়ের সাথে পরিস্থিতি বদলাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব দল অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে এবং ভোটার উপস্থিতিও বেশি হবে। তবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে না পারলে ইসি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে।

তাই ইসি এখন মূলত প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে ধাপে ধাপে কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে চায়, যাতে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রথম পাতার খবর, 'Retired officials' promotions plunged civil service into crisis' অর্থাৎ, 'অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পদোন্নতি সিভিল সার্ভিসকে সংকটে ফেলেছে'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর পার হলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এখনো বিশৃঙ্খলা চলছে।

সংস্কার না করে বরং অবসরপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তাকে পিছনের তারিখ থেকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অসন্তোষ ও অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে।

রেকর্ড অনুযায়ী, শুধু ৯ই ফেব্রুয়ারি প্রশাসন ক্যাডারের ৭৬৪ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে ১১৯ জন সচিব এবং ৫০০'র বেশি অতিরিক্ত সচিব হন।

মোট প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে উন্নীত করা হয়েছে, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে।

৮ই অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই প্রশাসন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অনেক কর্মকর্তা অফিসে আসেননি, কেউ আবার দাবি নিয়ে প্রতিদিন সচিবালয়ে ভিড় করেছেন।

এসব সামলাতে সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতি ও নিয়োগ দিতে থাকে। বারবার রদবদল, জোরপূর্বক অবসর ও ওএসডি বানানো প্রশাসনের অস্থিরতা বাড়িয়েছে।

কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব আগের মতোই চলছে এবং প্রশাসন ক্যাডার অন্যদের তুলনায় বেশি সুবিধা পাচ্ছে।

দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অনেককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, অথচ শাস্তির মুখে পড়েছেন অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এতে প্রশাসনের ভেতরে আস্থা ও মনোবল দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্রোহ-পরবর্তী সময়ে প্রশাসন সংস্কারের সুযোগ থাকলেও দুর্বল নেতৃত্বের কারণে সেটি হারিয়ে গেছে।

দুর্নীতি দমন বা পুরনো আইন সংশোধনের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে যোগ্য তরুণ কর্মকর্তাদের অনেকেই এখন বিদেশে চাকরি বা পড়াশোনার সুযোগ খুঁজছেন।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গত দেড় দশকে শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ হাজার ৩৯৯ জন শিক্ষক আছেন, যার মধ্যে ৫৪ শতাংশই নিয়োগ পেয়েছেন আওয়ামী লীগ আমলে।

অভিযোগ রয়েছে, এ নিয়োগের বড় অংশ হয়েছে দলীয় বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি, শর্ত শিথিল ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে।

অনেক যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষার্থী ভালো ফল করেও রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় বঞ্চিত হয়েছেন। অন্যদিকে দলীয় ঘনিষ্ঠরা সুযোগ পেয়েছেন।

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব অনিয়মের ঘটনা আলোচিত হয়েছে। কোথাও সুপারিশপ্রাপ্তদের বেছে নেয়া হয়েছে যোগ্য প্রার্থী বাদ দিয়ে, কোথাও আবার টাকা-পয়সার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। উপাচার্য ও কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলছে, এ ধরনের দুর্নীতির প্রধান কারণ দলীয়করণ ও জবাবদিহির অভাব। এতে উচ্চশিক্ষার মান নষ্ট হচ্ছে এবং মেধাবীরা উপেক্ষিত থাকছেন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তাদের কাজ অগ্রসর হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন সংস্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এ দুর্নীতি বন্ধ হবে না।

👉 আপনার জন্য আমি এই সারাংশটা সহজভাবে ২০০ শব্দের মধ্যে তুলে ধরলাম। চাইলে আমি এটাকে আরও ছোট আকারে, ১০০ শব্দের মতো সংকুচিত করে দিতে পারি।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার খবর, 'Curbing inflation: Rice price a major roadblock to govt measures' অর্থাৎ, '"মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: সরকারি উদ্যোগে বড় বাধা চালের দাম"।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নানা পদক্ষেপ থাকলেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চালের দাম।

পরিকল্পনা কমিশনের জেনারেল ইকোনমিকস ডিভিশনের (জিইডি) আগস্ট আউটলুকে বলা হয়েছে, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতে চালের অবদান যেখানে ৪০ শতাংশ ছিল, জুলাইয়ে তা বেড়ে ৫১ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

সূক্ষ্ম, মাঝারি ও মোটা সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে মাঝারি ও মোটা চালের দামে দ্বি-অঙ্কের মূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে, যদিও বোরো মৌসুমের ফলন দাম কমাবে বলে আশা ছিল।

বিশ্ববাজারে চালের দাম টানা আট বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও বাংলাদেশে প্রতি কেজিতে এখনো গত বছরের তুলনায় ৫ থেকে ১৭ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে।

অথচ সরকারি গুদামে মজুদও বেড়েছে, আমদানি হয়েছে আগের চেয়ে বেশি। জিইডির মতে, বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আউশ ও আমন উৎপাদন কমেছে, যা দামের চাপ বাড়িয়েছে। সরকারের সংগ্রহ ও আমদানির পদক্ষেপ বাজারে প্রভাব ফেলতে আরও কয়েক মাস লাগবে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, একশ্রেণির ব্যবসায়ী বা মিলারদের মজুতকরণও দামের ঊর্ধ্বগতির কারণ। যদিও সরকারের আইনি ক্ষমতা আছে, তা প্রয়োগ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে, ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি চালুর মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি আনার চেষ্টা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে জুলাই মাসে সামান্য বেড়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮.৫৫ শতাংশে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমন্বিত আর্থিক ও রাজস্ব নীতির কারণে বড় ধরনের ঝুঁকি নেই এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হবে।

নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, 'July Charter draft disappoints some political parties' অর্থাৎ, '"জুলাইয়ের সনদের খসড়া কিছু রাজনৈতিক দলকে হতাশ করেছে"'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ভাগ করা ২০২৫ সালের জুলাই জাতীয় সনদের খসড়াকে কিছু রাজনৈতিক দল হতাশাজনক বলে মনে করেছে।

খসড়াটি তিন ভাগে বিভক্ত: একটি প্রারম্ভিক অংশ যেখানে সংশোধন উদ্যোগের ইতিহাস উল্লেখ করা হয়েছে, ৮৪টি স্বীকৃত সংস্কার বিষয় এবং একটি চুক্তিপত্র।

অনেক দল মনে করছে, প্রারম্ভিক অংশে ইতিহাস আংশিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, সংস্কার বিষয়গুলো সব মতবিরোধ স্পষ্টভাবে দেখায়নি, আর চুক্তিপত্র 'বিভ্রান্তিকর'।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, জামায়াত, খেলাফত মজলিস, এবং আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ দলগুলো খসড়ার ওপর আলোচনা করে ২০শে অগাস্টের মধ্যে মতামত জানাবে।

কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম ও অন্যান্য দল খসড়া সংবিধানকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে সমালোচনা করেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির জাভেদ রসিন বলেছেন, প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নের কোনও সময়সীমা নেই, যা তাদের হতাশ করেছে।

খসড়ার চুক্তিপত্রে বলা হয়েছে যে যে কোনও অবিলম্বে বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার সময়মতো সরকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, এবং চার্টারের বিধি-বিধান কেবল সর্বোচ্চ আপিল বিভাগ ব্যতীত অন্য কোথাও চ্যালেঞ্জ করা যাবে না।

এতে সংবিধানের গণতান্ত্রিক মূলনীতি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন কমিউনিস্ট পার্টি। অনেক দল মনে করছে, সংবিধান সংশ্লিষ্ট সংস্কার পরবর্তী সংসদে প্রণয়ন ছাড়া বাস্তবায়ন করা যাবে না।

অন্যদিকে কিছু দল বিশ্বাস করে, সাধারণ সংস্কার যা নিয়ে সব দল একমত হয়েছে তা অবিলম্বে কার্যকর করা যেতে পারে।

সংক্ষেপে, রাজনৈতিক দলগুলো খসড়া নিয়ে নানা সমালোচনা এবং সংশোধনের দাবি তুলেছে, বিশেষত ইতিহাস, সংবিধান ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে।