আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
‘নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আ.লীগ’
দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে উপজেলা নির্বাচনে মন্ত্রী-এমপিদের স্বজনদের অংশ নেয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান শিরোনাম, ‘AL to come up with action plan for directive defiers today’ অর্থাৎ, ‘নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আ.লীগ’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে, আওয়ামী লীগের আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রীদের অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ২১শে মে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে অংশগ্রহণ করতে যাচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের অন্তত ডজন খানেক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় থাকায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
যদিও আজ মঙ্গলবারও চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় আছে। কিন্তু সোমবার প্রতিবেদনটি তৈরি করা পর্যন্ত স্বজনদের সরে দাঁড়ানোর ক্ষীণ সম্ভাবনা দেখা গেছে।
ঢাকা ট্রিবিউন বেশ কয়েকজন প্রার্থীর সাথে কথা বলেছে, যারা দাবি করেছে যে এই আইনপ্রণেতা ও মন্ত্রীদের আত্মীয়রা কেবল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, তাদের প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতিও দেখাচ্ছেন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয় অর্জনের জন্য তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে বলছেন।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কাছে ইতোমধ্যে একাধিক প্রার্থী লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ছয় দিনের থাইল্যান্ড সফর শেষে সোমবার দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক হবে।
বৈঠকে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা।
চরম গরম আবহাওয়া নিয়ে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘২১ জেলা তাপপ্রবাহের উচ্চ ঝুঁকিতে’।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানচিত্রে গাঢ় থেকে হালকা রঙের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা পরিস্থিতির সচিত্র ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এপ্রিলের প্রথম দিনে উত্তরাঞ্চল দিয়ে শুরু হয়েছিল মৃদু তাপপ্রবাহ। ওই তাপপ্রবাহ গতকাল সোমবার দেশের প্রায় সব জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ২১ জেলার অধিবাসীরা তাপপ্রবাহের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। সিলেট ও নেত্রকোনা জেলায় তাপপ্রবাহ না থাকলেও তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩২ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চিত্র তুলে ধরেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। সরকারের কাছে দেওয়া তাদের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তাপপ্রবাহের কারণে সারা দেশের অন্তত ৭০ শতাংশ মানুষ কষ্ট ও বিপদে আছেন।
এর বড় অংশ প্রচণ্ড গরমের কারণে দৈনন্দিন কাজ করতে পারছে না। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
গত ২৯ দিনে সারা দেশের গড় তাপমাত্রা এই প্রথম প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে টানা ২৯ দিন দেশের বড় অংশজুড়ে এবারই প্রথম অতি উষ্ণতা দেখা দিয়েছে।
সোমবার দেশের বেশির ভাগ এলাকার তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ছিল। আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৫০ শতাংশের বেশি।
বঙ্গোপসাগর থেকে মেঘ ও জলীয় বাষ্প আসা বেড়ে যাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে গেছে। ফলে গরমের অনুভূতি মূল তাপমাত্রার চাইতে চেয়ে দুই থেকে পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি ছিল।
এই আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা কোথাও থাকলে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা থেকে ওই এলাকার অধিবাসীদের জন্য লাল সতর্কতা (রেড অ্যালার্ট) জারির পরামর্শ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার জন্য সরকার যেমন আগাম প্রস্তুতি নেয়, গ্রীষ্মকালের জন্যও রাস্তায় পানির ব্যবস্থা করা, সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং স্বেচ্ছাসেবক তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
এই গরমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা নিয়ে সংবাদের প্রধান শিরোনাম, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা-বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তীব্র দাবদাহে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালু রাখা ও বন্ধ ঘোষণা নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত বদল করছে শিক্ষা প্রশাসন।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় একেকবার একেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এর ফলে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।
এই পরিস্থিতিতে তাপপ্রবাহের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে স্কুল-মাদ্রাসা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
সোমবার বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে এ আদেশ দেয়।
যেসব স্কুলে এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ব্যবস্থা আছে বা পরীক্ষা চলমান আছে সেসব স্কুলের জন্য এবং ‘ও লেভেল’, ‘এ লেভেল’ পরীক্ষা ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এই আদেশ প্রযোজ্য হবে না বলে হাইকোর্ট জানিয়েছে।
চলমান তাপপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১৮ জনের মৃত্যু ঘটনা নিয়ে সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের নজরে আনেন আইনজীবী মনির উদ্দিন।
দাবদাহের মধ্যে বৃস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করা নিয়ে হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেছেন, সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে এক ধরনের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে।
সবকিছুতেই কেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর আদালতের নিদের্শনা নিয়ে আসতে হবে?
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আপিল বিভাগে যাবেন বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত জায়গায় এই সময়, শুষ্ক মৌসুমেই একটা পড়ালেখার সুযোগ থকে। যেমন হাওরাঞ্চল, চরাঞ্চল- যেখানে বন্যার সময় প্লাবিত হয়ে যায়, বৃষ্টির সময়- সেখানে তো পড়াশোনা বিঘ্নিত হয়। সেখানে শুষ্ক মৌসুমে কেন বন্ধ থাকবে?
একই ইস্যুতে প্রধান শিরোনাম করেছে নিউ এজ। পত্রিকাটির দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম হলো তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে ‘Upto 16hrs of power cuts in areas, temp soars to 43C’ অর্থাৎ, ‘বিভিন্ন এলাকা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, তাপমাত্রা বেড়ে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চলমান তাপপ্রবাহ আরও বাড়তে থাকার মধ্যে সোমবার দেশের কিছু অংশে মানুষ ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুত বিচ্ছিন্ন ছিল।
যা এ যাবতকালের সবচেয়ে খারাপ লোডশেডিং-এর ঘটনাগুলির মধ্যে একটি।
ঢাকায় দিনের তাপমাত্রা সোমবার ৪০ দশমিক পাঁচ সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল যা গত ৬৪ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় উষ্ণতম দিন। অথচ এই গরমের মধ্যে সোমবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলেছিল।
এই ভয়ানক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে কৃষকরা কান্নায় ফেটে পড়েন। এই তাপপ্রবাহ এবং খরা তাদের ফসল পুড়িয়ে ফেলেছে। বিদ্যুতের অভাবে তারা ফসলের জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেচ দিতে পারেননি।
আমের বাগান, পান চাষ এবং বোরো ধানের ক্ষেত সবই পানির অভাবে মারা যাচ্ছে।
কৃষিবিদরা ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছেন যে খরার সাথে তীব্র তাপ এই বছর ফসল উৎপাদনকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। বর্তমানে বোরো ধান বৃদ্ধির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।
এ অবস্থায় এক ঘণ্টাও লোডশেডিং এখন বিপর্যয়কর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভারত বিদ্যুৎ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় এবং জ্বালানি-তেল-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বিল অপরিশোধিত থাকায় লোডশেডিং বাড়তে শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে যে সোমবার দুপুর ২টায় লোডশেডিং সর্বোচ্চ তিন হাজার ১৯৬ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে যেখানে ১৬ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের চাহিদার বিপরীতে ১২ হাজার ৭৫৩ মেগাওয়াট উৎপাদন হয়েছে।
তাপপ্রবাহে বৃষ্টির খবর নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, ‘After fiery April, milder May beckons’ অর্থাৎ, ‘জ্বলন্ত এপ্রিলের পর, মৃদু মের আভাস’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঝলসে যাওয়া এপ্রিলের পর মে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা এই আভাস দিয়েছেন।
তারা বলেছেন, আসছে মাসে বৃষ্টি হতে পারে এবং সাধারণত এই মাসে তাপপ্রবাহের মেয়াদ অনেক কম হবে, যদিও এখনও আবহাওয়ায় কিছুটা আর্দ্রতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যে, ২রা মে থেকে দেশে কিছু বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে, যা ৭৬ বছরের রেকর্ড করা ইতিহাসের দীর্ঘতম তাপপ্রবাহের পরে স্বস্তি বয়ে আনবে।
মূলত ২রা মে থেকে 8ঠা মে পর্যন্ত বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হবে। এর পরে, তাপমাত্রা বাড়তে পারে এবং মে মাসে দুই থেকে তিনটি মৃদু তাপপ্রবাহ এবং এক থেকে দুটি তীব্র তাপপ্রবাহ হতে পারে।
যদিও মে মাসকে উষ্ণতম মাস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে কর্মকর্তা বলেছেন, এল নিনোর নিউট্রালাইজেশনের কারণে আসছে মে স্বাভাবিকের চেয়ে কম গরম হতে পারে।
এল নিনো শুরু হওয়ার প্রায় সাত মাস পর সেন্ট্রাল নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের পরিস্থিতি এখন নিউট্রাল অবস্থায় ফিরে এসেছে।
অনদিকে, লা নিনা নামে পরিচিত একটি শীতল পর্যায় সেপ্টেম্বর এবং নভেম্বরের মধ্যে ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এল নিনো গত বছরের জুন মাসে শুরু হয় এবং এটি বাংলাদেশে অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত এবং দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে।
এদিকে ঋণখেলাপির জালিয়াতি নিয়ে সমকালের প্রধান শিরোনাম, ‘ঋণ জালিয়াতিতে এবার ছক্কা সাদ মুসার'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চট্টগ্রামের শিল্পগোষ্ঠী সাদ মুসা গ্রুপের খুব একটা নাম ডাক না থাকলেও গ্রুপটির কর্ণধার মোহাম্মদ মহসিন ব্যাংক খাতে সুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বের হয়েছেন।
গেল এক দশকে রপ্তানিতে কাঁচামাল কেনাবেচা দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানটি বের করে নিয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকার ঋণ। এই ঋণের সবটাই এখন খেলাপি।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অভিযুক্ত এই ঋণ ব্যবসায় না খাটিয়ে দেশে জমি, ফ্ল্যাট কিনেছেন এবং অর্থ পাচার করে যুক্তরাষ্ট্রে গড়েছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বা শাখার সহায়তায় সাদ মুসা গ্রুপকে ঋণ দিয়ে দেশের ২৪টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন মহাবিপদে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের কারণে সংকটে পড়েছে ন্যাশনাল ব্যাংক। ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখায় গ্রুপটির চারটি প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ এক হাজার ১৭৮ কোটি টাকা।
করোনার প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় দেয়া প্রণোদনা ঋণের ১৮৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যবসায় না লাগিয়ে নগদে তুলে নেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের এর বাইরে ১৬টি ব্যাংক সাদ মুসা গ্রুপকে তিন হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা এবং সাতটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ২৬৯ কোটি টাকা দিয়ে এখন গ্যারাকলে।
দুর্নীতির খবর নিয়ে প্রধান শিরোনাম করেছে কালের কণ্ঠ, যার শিরোনাম, ‘দাদা এমদাদের দাদাগিরি দুদকের জালে’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) এমদাদুল হক ওরফে দাদা এমদাদ ঢাকার পাশের রূপগঞ্জ এবং জন্মস্থান সিরাজগঞ্জে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।
এক যুগের বেশি সময় ধরে সাবেক মন্ত্রীর এপিএসের চাকরিতে থাকাকালে সম্পদের এ পাহাড় গড়েন তিনি।
শুধু সিরাজগঞ্জে তার প্রায় শতকোটি টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জেও রয়েছে তার বিপুল সম্পদ।
ড্রেজার ব্যবসার পাশাপাশি তার বিনিয়োগ রয়েছে আবাসন খাতেও। জমি দখল, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে রূপগঞ্জের মাদক সাম্রাজ্যও নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি।
এসব খাত থেকে অর্জিত অবৈধ অর্থে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন দাদা এমদাদ।
তবে দাদা এমদাদের এসব অবৈধ সম্পদ এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জালে।
তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য পেয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে সংস্থাটি। এরই মধ্যে তাকে তলব করে চিঠিও দিয়েছে দুদক। তবে কৌশলে তিনি কালক্ষেপণ করছেন।
দুদক সূত্র জানায়, অর্জিত সম্পদের তথ্য চেয়ে তাকে যে চিঠি দিয়েছে দুদক, তার উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এমদাদ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, চাঁদা না দিলে গাড়ি চলে না, ঘোরে না কারখানার চাকা। টাকা না দিলে রূপগঞ্জে নিরাপদে চলা যায় না। আর চাঁদা দিলে দোকান খুলে নির্বিঘ্নে মাদকও বিক্রি করা যায়।
এমদাদুল হক দায়িত্বকালীন ১৩ বছরে পেয়েছেন এক কোটি টাকার কিছু বেশি। কিন্তু এই সামান্য বেতনের আড়ালে এমদাদ গড়ে তুলেছেন বিপুল অবৈধ সম্পদ।
ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ নিয়ে মানবজমিনের প্রথম পাতার খবর, ‘ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ ৪ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ব্যাংক খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ বাড়ছে সরকারের। এ ঋণ গ্রহণ মূলত বাণিজ্যিক ব্যাংকনির্ভর। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৩৯ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা।
সঞ্চয়পত্রে সরকারের ঋণ কমে যাওয়া, আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়া, আবার ডলারের উচ্চ দরের কারণে বিদেশি ঋণ পরিশোধে সরকারের খরচ অনেক বেড়েছে।
আবার আশানুরূপ বিদেশি ঋণও আসছে না। যে কারণে প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে সরকারকে কিছু ঋণ নিতে হচ্ছে।
অবশ্য ঋণের সবই নেয়া হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
অবশ্য সরকারের এ ঋণ চলতি অর্থবছরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় খুব কম বলে জানানো হয়েছে।
সঞ্চয়পত্রের চেয়ে এখন ট্রেজারি বিল ও বন্ডে সুদহার বেশি পাওয়া যাচ্ছে। আবার বিল বন্ডের সুদ আয়ের বিপরীতে কোনো কর দিতে হয় না। এখানে কেনারও নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই।
যে কারণে এখন বিনিয়োগকারীদের অনেকে সঞ্চয়পত্র থেকে টাকা তুলে বিল ও বন্ডে রাখছেন। ফলে অন্য সব ব্যবস্থার চেয়ে এখানে সুদহার বাড়ছে।
এদিকে আইএমএফ এর সফর নিয়ে নয়াদিগন্তের প্রথম পাতার খবর, ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের তদারকি বাড়ানোর পরামর্শ আইএমএফের’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একধরনের গ্রাহক ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছেন। কিন্তু তা যথাসময়ে ফেরত দিচ্ছেন না। বরং বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা ছাড়ের আওতায় পার পেয়ে যাচ্ছেন।
কখনো ঋণ পরিশোধ না করেও খেলাপি হচ্ছেন না, কখনো নামেমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন। আবার কখনো ঋণ পুনর্গঠনের নামে ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন।
বছরের পর বছর ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের কারণে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে সফররত আইএমএফের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানতে চেয়েছে।
একই সাথে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে তদারকি ব্যবস্থা বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন।
সোমবার আইএমএফের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক বিভাগের সাথে বৈঠক করে এসব বিষয়ে পর্যালোচানা করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার শর্ত কতটুকু পরিপালন করা হয়েছে সে বিষয়ে পর্যালোচনা করছে আইএমএফের প্রতিনিধিরা।
পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে পর্যালোচনা করেছে আইএমএফ ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিরা।
এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আগাম ঝুঁকিব্যবস্থাপনা নিরূপণে ১৬টি কার্যপ্রণালী নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।