'গণহত্যায় নেই আ'লীগের এমন নেতা পাবেন ক্ষমা!'

Published
পড়ার সময়: ৬ মিনিট

গণহত্যায় নেই আ'লীগের এমন নেতা পাবেন ক্ষমা!— সমকাল পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

এখানে বলা হয়েছে, জুলাই গণহত্যা, গুম, খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত নন, এমন আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষমা চাইলে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর প্রস্তাবে এ রকম চিন্তাভাবনাই করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানো গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতারাও অপরাধী নন, এমন নেতাকে রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দিতে 'রিডিম এবং রিকনসিলিয়েশন'-এ রাজি।

তবে আপত্তি রয়েছে বিএনপির তরফ থেকে। দলটি ছাত্রনেতাদের এ চাওয়াকে নতুন দল গঠনের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।

জামায়াতের ভাষ্য, আগে দায়ীদের চিহ্নিত ও বিচার করা হোক; তারপর ক্ষমার চিন্তা হতে পারে।

একাধিক রাজনৈতিক সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, ক্ষমার সুযোগ দিয়ে আ'লীগকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করার চেষ্টা রয়েছে। যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকবে, তারা হবে একটি দল। যারা ১৫ বছরের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চাইবে, তারা হবে আরেকটি দল।

ক্ষমা চাওয়া অংশকে রাজনীতিতে বাধা দেওয়া হবে না। তাদের আ'লীগের মূলধারা হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হবে। এরা নির্বাচনেও অংশ নিতে পারবে। বিভক্ত আ'লীগ অন্যদের জন্য যেমন হুমকি হতে পারবে না, তেমনি রাজনীতিতেও শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে না।

কারচুপির নীলনকশার মাস্টারমাইন্ড যারা— মানবজমিন পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

এখানে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে তৎকালীন দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যে দিনের বেলায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই, কেন্দ্রে ভোটারদের ওপর হামলা, শত শত জালভোট, প্রার্থীদের তুলে নেয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া, প্রকাশ্যে ব্যালটে শত শত সিল মারা, হত্যা, মারধর, জবরদখলের ঘটনা ঘটেছিলো– ভোটচুরির সেসব পরিকল্পনা সাজিয়েছেন রাষ্ট্রীয় দু'টি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।

আর মাঠ পর্যায়ে তা বাস্তবায়ন করেন সংস্থা দু'টির বিভাগ, মহানগর ও জেলা পর্যায়ে কর্মরত পরিচালক, যুগ্ম পরিচালক, উপ-পরিচালক ও সহকারী পরিচালকরা।

এতে বিপুল পরিমাণ টাকা লগ্নি করে আওয়ামী লীগ সরকার। নির্বাচনি মাঠে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেছনে।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট–বিএফআইইউ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে দেশের বিভিন্ন জেলায় যারা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদে কর্মরত ছিলেন, তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা সহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড– এনবিআর অনুসন্ধান শুরু করেছে।

কারচুপির নির্বাচনে যারা জড়িত, মানবজমিনের এই প্রতিবেদনে তাদের নাম পাওয়া যাবে।

হাসিনার আনুগত্যের পুরস্কার ঝিলমিলেও— প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

এখানে বলা হয়েছে, ঢাকার পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের মতো কেরানীগঞ্জে রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পেও 'অনুগত ও তোষামোদকারীদের' মূল্যবান প্লট দিয়েছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার।

সরকারি চাকরি, জনসেবা ও সমজাতীয় খাতে জাতীয়ভাবে 'অসামান্য অবদানের' নামে ঝিলমিলে দেওয়া প্লট সংখ্যা অন্তত ২০৬।

অসামান্য অবদানের নামে প্লট পাওয়া ব্যক্তিদের একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এম আবদুস সোবহান। ২০১৩ সালে তাকে ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পে সংরক্ষিত কোটায় তিন কাঠার একটি প্লট দেওয়া হয়।

তিনি প্রথম মেয়াদে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন।

আবদুস সোবহানের মতো প্লট পেয়েছেন আ'লীগ সরকারের 'অনুগত ও ঘনিষ্ঠ' অনেকে। শেখ হাসিনা সরকারের সাড়ে ১৫ বছরে ঝিলমিল প্রকল্পে সংরক্ষিত কোটায় ২০৬টির বাইরে আর কাউকে প্লট দেওয়া হয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

অসামান্য অবদানের নামে ঝিলমিলে প্লট পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও তার জোটভুক্ত দলের সাবেক সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিল্পী-সাহিত্যিক, আইনজীবী, সরকারি চাকরিজীবী, প্রবাসী, সাংবাদিক, গৃহিণী, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ তিন কাঠা, কেউ পাঁচ কাঠা আয়তনের প্লট পেয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেশির ভাগ প্লট দেওয়া হয়েছে আনুগত্য ও তোষামোদির উপহার হিসেবে। অল্প কিছু প্লট দেওয়া হয়েছে যোগ্য ব্যক্তিদের।

ছাত্রদের দল নিয়ে শক্ত অবস্থানে বিএনপি— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

এতে বলা হয়েছে, সংস্কার ও ভোট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিএনপি'র টানাপোড়েনের মাঝেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালো বিএনপি'র ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণার আগে এই সংঘর্ষে দুই পক্ষে উত্তেজনার আভাস মিলছে।

এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল বুধবার সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সরকারে বসে সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দল গঠন করলে তা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।"

বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে আছে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন রাজনৈতিক দল। চলতি মাসেই এই দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটি।

তবে নতুন দল ঘোষণার আগেই আত্মপ্রকাশ ঘটতে যাচ্ছে আরও একটি ছাত্র সংগঠনের। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আসন্ন ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি অংশ ভিন্ন সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষার নামে নয়ছয়— দেশ রূপান্তর পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম।

এখানে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনা সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণে ২০১৭ সালে একটি প্রকল্প নিয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

কিন্তু এ অর্থ কোন কোন খাতে, কী প্রক্রিয়ায় ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কাগজপত্র দেখাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া অডিট আপত্তি নিষ্পত্তির বিষয়ে দেওয়া হয়েছে বিভ্রান্তিকর তথ্য।

প্রকল্পের ডিপিপিতে বিদেশ সফরের কোনও বিধান না থাকা সত্ত্বেও ১৬ জন বিদেশ ভ্রমণ করেছেন প্রকল্পের অর্থে। প্রকল্প গ্রহণের আগে করা হয়নি সম্ভাব্য যাচাই।

ক্রয়-সংক্রান্ত বিষয়েরও সঠিক হিসাব উত্থাপন করা হয়নি। এমন অসংখ্য অনিয়ম হয়েছে 'মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ ও পুনর্নির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পে।

নাইকোসহ সব মামলায় খালাস খালেদা জিয়া— নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

বলা হয়েছে, আলোচিত নাইকো দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এ মামলার অপর সাত আসামিকেও খালাস দিয়েছেন আদালত।

গতকাল ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।

সর্বশেষ নাইকো দুর্নীতি মামলা থেকে খালাস পাওয়ার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ইলেভেনের সময় ও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দায়ের করা অর্ধশতাধিক মামলার সব ক'টি থেকে খালাস বা অব্যাহতি পেয়েছেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

কুয়েটে রাজনীতি নিষিদ্ধই থাকবে— দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

এতে বলা হয়েছে, গতকাল ১৯শে ফেব্রুয়ারি খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) সিন্ডিকেটের ৯৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত যে কুয়েটে সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকবে।

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্পৃক্ততা পেলে শিক্ষার্থীদের আজীবন বহিষ্কার ও ছাত্রত্ব বাতিল করা হবে। সেইসাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে সিন্ডিকেটের সভায়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কুয়েটে সম্প্রতি যে সংঘর্ষ ঘটেছে, তাতে জড়িত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আর জড়িত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করবে।

আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বহন করবে। ক্যাম্পাস এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

শুরুতে ছাত্র ঐক্যে ফাটল— যুগান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি।

এখানে বলা হয়েছে, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করে প্রকাশ্যে বক্তব্যও দিচ্ছে।

হামলার জন্য ছাত্রদলকে দোষারোপ করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

বিপরীতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের সংগঠনের সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ছাত্রদের একাংশ বাধা দিলে এমন ঘটনার সূত্রপাত হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ক্যাম্পাসগুলোয় প্রাধান্য বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করা হয়।

সরকারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ খরচ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে— বণিক বার্তা পত্রিকার এই প্রধান শিরোনামে বলা হয়েছে, সরকার ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট ৬০৭ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বিদেশী ঋণ পরিশোধ করেছে (সুদ ও আসল মিলিয়ে)। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিশোধ করা হয়েছিল ৪৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

সে অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে সরকারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ ব্যয় বেড়েছে ২৭ শতাংশের বেশি। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে সরকারের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ১৮ বিলিয়ন (সাত হাজার ৮১৮ কোটি) ডলারে।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) শেষে এ বিদেশি ঋণের পরিমাণ ৮০ বিলিয়ন (৮ হাজার কোটি) ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সরকার নতুন বিদেশী ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে ২০০ কোটি ডলারের বেশি।