'নানা উদ্যোগের পরও রিজার্ভ কমছে'

Published

বৈদেশিক মুদ্রার সংকট নিয়ে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম – ‘নানা উদ্যোগের পরও রিজার্ভ কমছে’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ডলারের সংকটের মধ্যেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের মজুত বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তবে কাজ হচ্ছে না। উল্টো কমছে রিজার্ভ।

রমজান ও আসন্ন ঈদ ঘিরে গত কয়েক মাসে রেমিট্যান্সে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু রিজার্ভের মজুত বাড়ানো যাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারো রমজানের শুরু থেকেই প্রতিদিন গড়ে ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার এসেছে। মাস শেষে ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

অথচ সবশেষ বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৯.৪৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছর ডিসেম্বর শেষে তা ছিল ২১.৮৭ বিলিয়ন ডলার।

এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট বা প্রকৃত রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে, যা শুধু আইএমএফকে দেয়া হয়। প্রকাশ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেই হিসাবে দেশের ব্যয়যোগ্য প্রকৃত রিজার্ভ এখন ১৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া তথ্যে ‘গ্রামে ব্যাংকের ঋণ ও আমানত কমছে’ শিরোনামে প্রধান খবরটি প্রকাশ করেছে দৈনিক যুগান্তর।

বলা হচ্ছে, গ্রামে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে গ্রামে ব্যাংকের শাখাগুলোর মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে ঋণ বিতরণ।

ব্যাংকিং কার্যক্রমের প্রধান এ দুটো উপকরণ কমায় গ্রামে আমানতের স্থিতি যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে ঋণের স্থিতিও। একই সঙ্গে গ্রামে ব্যাংকগুলোর শাখাও কমেছে।

এর বিপরীতে এজেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের প্রসার ঘটছে গ্রামে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হচ্ছে, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে গ্রামে আমানতের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে তা বেড়ে ৪ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। জুনে তা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৫৯ কোটি টাকায়।

এরপর সেপ্টেম্বরে তা কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকায়। জুনের তুলনায় সেপ্টেম্বরে আমানত কমেছে ২৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। তবে ডিসেম্বরে তা সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটিতে।

পরিবেশদূষণে দেশে মৃত্যু পৌনে ৩ লাখ’, দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।

‘দ্য বাংলাদেশ কান্ট্রি এনভায়রনমেন্ট অ্যানালাইসিস (সিইএ) ২০২৩’ নামে বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনের উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে খবরে।

যা থেকে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশে ২০১৯ সালে তিন ধরনের পরিবেশদূষণে প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষের অকালমৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে ৫৫ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বায়ুদূষণের কারণে।

দূষণের কারণে ওই বছর দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১৭ দশমিক ৬ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

চলতি মাসেই সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৩’ প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে দেশ হিসেবে বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশে। আর নগর হিসেবে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ নগর ছিল ঢাকা।

পরিবেশ দূষণের ভয়াবহতাকে প্রধান শিরোনামে রেখেছে দৈনিক নয়া দিগন্তও।

এছাড়া, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে পত্রিকাটির প্রথম পাতায় আরেকটি শিরোনাম ‘হঠাৎ অবস্থা এমন হয় সবাই বলছিল আর বোধহয় সময় পাওয়া যাবে না

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্ধৃত করা হয় প্রতিবেদনে।

“বুধবার রাতে তিনি এত অসুস্থ হয়েছিলেন যে, চিকিৎসকরা সবাই বলছিল আর বোধহয় বেশি সময় পাওয়া যাবে না। আল্লাহর কাছে হাজারো শুকরিয়া যে, তাকে তারা আপাতত চিকিৎসা দিয়ে সেই অবস্থা থেকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন।”

গুলশানের বাসায় চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গত বুধবার দুপুরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মিসেস জিয়াকে প্রথমে হাসপাতালে নেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়।

পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা তাকে বাসায় রেখেই চিকিৎসা দেন।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারেও বিশ্বব্যাংকের পরিবেশগত বিশ্লেষণটিকে তুলে ধরা হয়েছে।

প্রথম পাতায় এছাড়াও স্থান পেয়েছে, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের অবস্থা নিয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন যার শিরোনাম, ‘ICB Islamic Bank in dire straits’ বা ‘চরম সংকটে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক’

উপশিরোনামে লেখা হয়েছে, শীঘ্রই কোনো শক্তিশালী ব্যাংকের সাথে এই ব্যাংকটির একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বলা হচ্ছে, ব্যাংকিং খাতের সংকট দূর করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের যে রোডম্যাপ তাতে পদ্মা ব্যাংকের পর, এবার আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের একীভূত হবার পালা আসছে।

২০০৮ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক বিলুপ্ত করে গঠন করা শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংকটির তারল্য সংকট এতটাই প্রবল যে পুর্ণ মাত্রায় কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের শেষের দিকে এক হাজার ৮২৩ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতিতে পড়ে ব্যাংকটি। এর মোট বিতরণকৃত ৭৯০ কোটি টাকা ঋণের ৮৭ শতাংশই মন্দঋণ।

আওয়ামী লীগে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের সঙ্গে কোন্দলের বিষয়টিকে সামনে এনে দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, ‘আধিপত্য হারানোর ভয় এমপিদের

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের তৃণমূলে বড় ধরনের কোন্দল দেখা দিয়েছে।

দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সংসদ সদস্যরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের আগামী দিনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন। পাঁচ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সংসদীয় নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ড দলের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে উপজেলা চেয়ারম্যানদের বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এতে সংসদ সদস্যদের মধ্যে ভয় সংক্রমিত হয়েছে।

গত বুধবার পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় এক অনুষ্ঠানে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজের পছন্দের প্রার্থী হিসেবে আবদুল মোতালেব তালুকদারের নাম ঘোষণা করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মহিববুর রহমান।

এতে প্রার্থী হতে আগ্রহী যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল নাখোশ হয়েছেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ শুরু হয়েছে।

বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য পঙ্কজ নাথের সঙ্গে একাধিক প্রার্থীর বিরোধ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে আছেন।

আওয়ামী লীগের তৃণমূলে বড় হচ্ছে বিভেদ দেয়াল, এটি দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম। এখানেও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের আধিপত্য ধরে রাখার প্রসঙ্গ এসেছে।

নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত হওয়ার খবরও স্থান পেয়েছে পত্রিকাটির প্রথম পাতায়।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশের দাবি, উইন রোজারিও নামে ওই মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তাদের ওপর কাঁচি নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে তারা গুলি চালাতে বাধ্য হয়।

তবে পরিবার বলছে, উইনকে তাঁর মা জড়িয়ে ধরে পুলিশের প্রতি গুলি না চালানোর অনুরোধ করেন। পুলিশ তা আমলে না নিয়ে গুলি করেছে।

নিহত ১৯ বছরের উইনের বাড়ি বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার পুবাইলের হারবাইড গ্রামে। বাবা ফ্রান্সিস রোজারিও ও মা ইভা কস্তা।

মা-বাবা, এক ভাইসহ তারা দীর্ঘদিন ধরে ওজোন পার্ক এলাকায় থাকেন। ফ্রান্সিস রোজারিও ২০১৪ সালে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছিলেন।

শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার নিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজ-এর শিরোনাম '10 lakh students drop out of school in four years' বা 'চার বছরে স্কুল ছেড়েছে ১০ লাখ শিক্ষার্থী'

শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো-ব্যানবেইসের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদ্রাসা, কারিগরি, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থী বাড়ছে।

কিন্তু, একই সময়ে মাধ্যমিক-স্তরের স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।

গত চার বছরে মাধ্যমিক পর্যায় থেকে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই হার ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন।

২০০৯ সাল থেকে মাদ্রাসা, কারিগরি এবং ইংরেজি-মাধ্যম স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়াকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে শিক্ষাবিদরা পরিস্থিতির জন্য দারিদ্র্য, শিক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি, নিম্নমানের শিক্ষা এবং মূল্যস্ফীতিসহ বিভিন্ন কারণকে দায়ী করেছেন।

ব্যানবেইসের প্রতিবেদনের তথ্য ও কেস স্টাডির সমন্বয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বণিক বার্তা।

বিগত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অভিভাবক সন্তানদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে মাদ্রাসা বেছে নিয়েছেন।

আবুল কালাম নামে পটুয়খালীর একজন অভিভাবকের মন্তব্য, ‘‌আমাদের সময় মাদ্রাসায় শুধু ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো। কিন্তু এখন আলিয়া মাদ্রাসা ও স্কুলে একই বই পড়ানো হয়। বরং মাদ্রাসায় বাড়তি হিসেবে ধর্মীয় বিষয়গুলো পড়ানো হয়। সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করালে আধুনিক ও ধর্মীয়—দুটো শিক্ষাই পাওয়া যাচ্ছে। আর এখন দেশে অনেক ভালোমানের মাদ্রাসা রয়েছে। মাদ্রাসা থেকে পড়েও ছেলে-মেয়েরা ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। এ কারণে সব দিক বিবেচনা করে দুই সন্তানকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছি।’

শিক্ষাতত্ত্ব ‍ও পরিসংখ্যান ব্যুরো (ব্যানবেইস) প্রকাশিত শিক্ষা পরিসংখ্যান-২০২২ অনুযায়ী বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসাগুলোয় ইবতেদায়ি (প্রাথমিক সমমান) থেকে কামিল (স্নাতকোত্তর সমমান) পর্যন্ত ৪০ লাখ ২০ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছেন, যা ২০ বছরে সর্বোচ্চ।