রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ: পোল্যান্ডে পড়া মিসাইল ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে, বলছে নেটো

Published

পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের পর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিরক্ষা জোট নেটোর সদস্যরা ক্ষেপণাস্ত্রটি কোত্থেকে ছোড়া হয়েছে তা জানার চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী পোল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলীয় পেশেভোডুফ গ্রামে মঙ্গলবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে দু’জন শ্রমিক নিহত হয়।

সেদিন রাশিয়া ইউক্রেন-জুড়ে একশটির মতো মিসাইল নিক্ষেপ করে যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

নেটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়।

এর পরপরই পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর এই প্রথম নেটোর কোনো সদস্য দেশে মিসাইল আঘাত হানলো।

নেটোর সংবিধান অনুসারে এই জোটের কোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণকে জোটের সবকটি দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

রাশিয়া শুরু থেকেই বলে আসছে এই বিস্ফোরণের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

কারা নিক্ষেপ করেছে

ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন দেশ থেকে ছোড়া হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে যে ইউক্রেনীয় বাহিনী হয়তো রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য এই মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।

নেটোর প্রধান ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে মনে হচ্ছে ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতার কারণে এরকমটা হয়ে থাকতে পারে।

ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের তিনি বলেছেন, “এখানে ইউক্রেনের কোনো দোষ নেই, তারা নিজেদেরকে রাশিয়ার বোমা থেকে বাঁচাতে চেষ্টা করছিল।”

পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই ডুডা বলেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলা চালানো হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

মি. ডুডা বলেন পোল্যান্ডের গ্রামে যে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণ ঘটেছে সেটি ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে আসার “সম্ভাবনা বেশি।”

পোলিশ প্রেসিডেন্ট এটিকে “দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিস্ফোরণের পর পোল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার তৈরি তবে এটি কারা নিক্ষেপ করেছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।

বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও বলেছেন, “ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেই” ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডে গিয়ে পড়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন। তবে বলেছেন, “তবে এই সন্দেহও নিশ্চিত হতে হবে।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ইন্দোনেশিয়ার বালিতে জি-টুয়েন্টি সম্মেলনে সাংবাদিকদের বলেছেন, “আসলে কী ঘটেছে আমরা সবাই তা জানতে চাই।”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়া থেকে ছোড়ার “সম্ভাবনা কম।”

প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই বক্তব্যের প্রশংসা করে রাশিয়া বলেছে যে তারা “সংযত ও পেশাদারি” প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকফ বলেছেন, ওয়ারশকে শুরুতেই এটা পরিষ্কার করা দরকার ছিল সেখানে মিসাইলের যেসব টুকরো পাওয়া গেছে সেগুলোর ইউক্রেনের এস-৩০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশ।

কিয়েভ বলছে, রাশিয়া মঙ্গলবার ইউক্রেনে ৯০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী দাবি করছে এসব ক্ষেপণাস্ত্রের ৭৭টিকে তারা গুলি করে ধ্বংস করেছে।

কয়েকটি মিসাইল পোল্যান্ডের কাছে ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লাভিভে আঘাত করেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তাদের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে রাশিয়া এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের এক দিন পর পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য নেটো জোট ব্রাসেলসে এক জরুরি বৈঠকে বসেছে।

তারা এই বিস্ফোরণকে “করুণ ঘটনা” বলে উল্লেখ করেছে।