পত্রিকা: 'আগের সব সংস্থার নিবন্ধন বাতিল, কমলো পর্যবেক্ষকের বয়সও'

পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকা
Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'আগের সব সংস্থার নিবন্ধন বাতিল, কমলো পর্যবেক্ষকের বয়সও'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নতুন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আগের ৯৬টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল করেছে।

কমিশনের দাবি, গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদন দিয়েছে, তারা আর নিবন্ধন পাবে না।

এছাড়া নতুন নীতিমালায় পর্যবেক্ষকদের বয়সসীমা ২৫ থেকে কমিয়ে ২১ করা হয়েছে এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি থেকে বাড়িয়ে এইচএসসি নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগ্রহী সংস্থাগুলোকে নিয়ম মেনে আবেদন করতে হবে এবং পাঁচ বছরের জন্য নিবন্ধন দেওয়া হবে।

নিবন্ধিত সংস্থা নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরদিন পর্যবেক্ষণ করতে পারবে এবং সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদ ভোটার তালিকা সংশোধনের খসড়া আইনের অনুমোদন দিয়েছে, যাতে নির্বাচনের আগে ১৮ বছরে পৌঁছানো নতুন ভোটারদের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

এদিকে, ইসির পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, এটি একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যেটা অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের বাদ দেওয়ার চেষ্টা।

তবে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন এটিকে ইতিবাচক বলছে এবং আগের বিতর্কিত সংস্থাগুলো বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।

নীতিমালার অন্যান্য নিয়ম-কানুন মূলত আগের মতোই রাখা হয়েছে।

পত্রিকা
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'গোপালগঞ্জ থমথমে, বাড়ল কারফিউ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশকে কেন্দ্র করে সহিংসতার পর পুরো শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বুধবারের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার কারফিউ আরও বাড়ানো হয় এবং বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।

তবে আজ শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল থাকবে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

চারজন নিহত এবং ৪০ থেকে ৪৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছে। নিহতদের দাফন ও সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। শহরের দোকানপাট বন্ধ, যান চলাচল বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ঘটনার তদন্তে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাত্রলীগের কিছু নেতা কর্মী মিছিল করে বিভিন্ন সড়কে গাছ ফেলে ব্যারিকেড দেয় এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনসিপির সমাবেশে হামলা চালায়।

ককটেল বিস্ফোরণ, অগ্নিসংযোগ, গাড়ি ভাঙচুর এবং জনতার সহিংসতা পুরো শহর অস্থিতিশীল করে তোলে।

কালের কণ্ঠ
ছবির ক্যাপশান, কালের কণ্ঠ

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'টার্গেট ছিল শীর্ষ নেতাদের হত্যা'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সমাবেশে হামলাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত এবং মূল লক্ষ্য ছিল শীর্ষ নেতাদের হত্যা।

আগের রাত থেকেই জেলার গ্রাম-গঞ্জ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র কর্মীদের গোপনে জড়ো করা হয়।

হামলাকারীরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে শহরের বিভিন্ন অলিতে-গলিতে অবস্থান নেয়। তারা আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও বোমা নিয়ে সমাবেশস্থলে ও রাস্তায় ওঁৎ পেতে ছিল।

বুধবার সকালে ও দুপুরে একাধিকবার হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে একবার সরাসরি এনসিপি নেতাদের গাড়িবহরে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়।

চারজন নিহত হন, এবং অনেকেই গুলিবিদ্ধ হন। এনসিপির নেতারা দাবি করেছেন, গোপনে হামলার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে নেতারা গোপালগঞ্জ থেকে জীবিত না ফিরতে পারেন। অনেক বড় গাছ কেটে রাস্তা অবরোধও করা হয়।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় পুলিশ আগেই এসব বিষয়ে অবগত থাকলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বরং ভুল তথ্য দিয়ে নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিল। কেউ কেউ বলছেন, পুলিশের কিছু সদস্য হয়ত হামলায় সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল।

ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানিয়েছেন, হামলাকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নয়া দিগন্ত
ছবির ক্যাপশান, নয়া দিগন্ত

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'সংঘাতের ইঙ্গিত ছিল স্পষ্ট, নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা ঘিরে সহিংসতা ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

কয়েক দিন আগেই বিভিন্ন এলাকায় থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শহরের অলিগলিতে জড়ো হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও হুমকির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত করা হয়।

দাবি করা হয়, এনসিপি নাকি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে হামলা করবে কিংবা গোপালগঞ্জের নাম পরিবর্তনের ষড়যন্ত্র করছে। এতে স্থানীয় মানুষও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

পহেলা জুলাইয়ের পদযাত্রার দিন সকাল থেকে পুলিশ ও ইউএনওর গাড়িতে হামলা হয়। তারপরও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়নি।

দুপুরে সমাবেশে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়—বোমা ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে। পুলিশ তখনও সরে পড়ে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের আগাম বার্তা থাকলেও মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি।

হামলার সময় মঞ্চ, গাড়িবহর ও সমাবেশস্থলে একাধিকবার আক্রমণ হয়। শহরের রাস্তায় গাছ ফেলে ও বাঁশ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।

এতে চারজন নিহত হন, অনেকে আহত হন। এ ঘটনাকে বিশ্লেষকেরা 'নিরাপত্তা ব্যর্থতা' বা 'অপারেশনাল ফেইলিওর' হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল এনসিপিকে গোপালগঞ্জে সভা করতে না দেওয়া।

প্রথম আলো
ছবির ক্যাপশান, প্রথম আলো

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে দলটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তাদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে সরকারপন্থী একটি মহল কাজ করছে।

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমাবেশে হামলা, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, ১৪৪ ধারা জারি, এসব ঘটনাকে নির্বাচন প্রতিহতের নীলনকশা বলে মনে করছে বিএনপি।

বৈঠকে দলটি গোপালগঞ্জের হামলায় হতাহতদের ঘটনায় গভীর নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে।

সভায় অভিযোগ করা হয়, আওয়ামী লীগের সমর্থিত দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে।

পাশাপাশি মিটফোর্ডে নৃশংস হত্যাকাণ্ডে বিএনপিকে জড়ানো এবং দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অশ্লীল মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

বিএনপি মনে করে, এইসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করছে এবং নির্বাচনি পথকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তারা সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানায়।

সভায় সরকারের ব্যর্থতা ও প্রশাসনের উদাসীনতার কঠোর সমালোচনা করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

যুগান্তর
ছবির ক্যাপশান, যুগান্তর

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর, '১১ মাসেও ঐকমত্য হয়নি, ঝুলে আছে মৌলিক সংস্কার'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে অভ্যুত্থানের পর এক বছর হতে চললেও সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো ঐক্যমত্য গড়ে ওঠেনি।

"জুলাই সনদ" নামে একটি জাতীয় রূপরেখা প্রকাশের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেও তা সম্ভব হচ্ছে না।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের অধীনে ১৪টি বৈঠক হলেও বড় কিছু বিষয়ে মতবিরোধ থেকেই গেছে।

বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাঠামো, প্রধান উপদেষ্টার নিয়োগ, সংসদীয় পদ্ধতির সংস্কার, দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের গঠন এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে দলগুলো একমত হতে পারেনি।

কিছু বিষয়ে যেমন সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার, প্রধান বিচারপতির নিয়োগ, হাইকোর্ট বেঞ্চ স্থাপন ইত্যাদিতে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে।

তবে এখনো বড় ইস্যুগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি। দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য, অবিশ্বাস ও দোষারোপের রাজনীতি আলোচনা প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যুত্থানের এক বছরে যে বিভাজন তৈরি হয়েছে তা উদ্বেগজনক। এখন সবচেয়ে জরুরি রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলা। অন্যথায় এই সংস্কার প্রক্রিয়া ভেস্তে যেতে পারে।

"জুলাই সনদ" ঘোষণার জন্য সরকার ৩১ জুলাই সময় বেঁধে দিলেও, সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এ নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে।

দেশ রূপান্তর
ছবির ক্যাপশান, দেশ রূপান্তর

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'তীব্র গাড়ি সংকটে বাংলাদেশ পুলিশ'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ পুলিশ এখন ভয়াবহ গাড়ি সংকটে রয়েছে। গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় অনেক থানা ও পুলিশের প্রায় এক হাজার ১৫০টি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়ায় এই সংকট আরও বেড়েছে।

বর্তমানে প্রায় চার হাজার ৪৫০টি গাড়ির ঘাটতি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি মোটরসাইকেলে, যা থানার প্যাট্রোল ডিউটির জন্য সবচেয়ে জরুরি।

এছাড়া ডাবল কেবিন পিকআপ ও এসইউভি (জিপ) গাড়িরও বড় ঘাটতি রয়েছে। ফলে থানার নিয়মিত টহল, অপরাধ দমন, কিংবা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা জানাচ্ছেন, আগে যেখানে সাত থেকে ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো যেত, এখন অনেক সময় ৩০ মিনিটও লাগছে, যা অপরাধ প্রতিরোধে সমস্যা তৈরি করছে। এমনকি জরুরি অভিযানে গিয়েও যানবাহনের অভাবে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এই ঘাটতি নিয়ে পুলিশকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের দায়িত্বও পালন করতে হবে, যা আরও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

কারণ নির্বাচনের সময় এক থানার গাড়ি দিয়ে আরেক থানায় সহায়তা দেয়ার সুযোগ থাকবে না। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারাও স্বীকার করছেন, বিশেষ করে মাঠপর্যায়ে অভিযানের জন্য গাড়ির তীব্র সংকট তাদের কার্যক্রমে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

গাড়ির ঘাটতি পূরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বণিক বার্তা
ছবির ক্যাপশান, বণিক বার্তা

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রধান শিরোনাম, 'NCTB to launch new curriculum in 2027 based on global models' অর্থাৎ, '২০২৭ সালে বৈশ্বিক মডেলের ওপর ভিত্তি করে নতুন পাঠ্যক্রম চালু করবে এনসিটিবি'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২৭ সাল থেকে বাংলাদেশে নতুন শিক্ষা কারিকুলাম চালু হতে যাচ্ছে, যা শুরু হবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে এবং ধাপে ধাপে ওপরের শ্রেণিগুলোতে সম্প্রসারিত হবে।

এই কারিকুলাম তৈরি করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), যারা এর জন্য যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া সহ ১৬টির বেশি দেশের শিক্ষা মডেল পর্যালোচনা করছে।

এর লক্ষ্য মুখস্থ বিদ্যার পরিবর্তে হাতে-কলমে শেখা, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা চালু করা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবকদের আন্দোলনের পর এই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

নতুন কারিকুলামে দেশপ্রেম, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে, পাশাপাশি থাকবে বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণমূলক মূল্যায়ন।

আগামী ডিসেম্বরে এর খসড়া প্রস্তুত হবে। এসএসসি ২০২৭-এ যারা দেবে, তারা পুরোনো ২০১২ সালের কারিকুলামেই পড়াশোনা করবে। নতুন কারিকুলাম পুরনো ২০১২ ও ২০২২ সালের কিছু উপাদানও অন্তর্ভুক্ত করবে।

তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশিক্ষণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন ছাড়া শুধু কারিকুলাম পাল্টালে কাজ হবে না।

অভিভাবকরাও বলছেন, সঠিক মূল্যায়ন পদ্ধতি না থাকলে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপই বাড়বে। এজন্য তারা পরিষ্কার দিকনির্দেশনা এবং শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

পত্রিকা

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, 'NBR withdraws advance tax on imports of cotton, man-made fibres' অর্থাৎ, 'তুলা ও কৃত্রিম তন্তু আমদানির ওপর অগ্রিম কর প্রত্যাহার করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত তুলা ও কৃত্রিম আঁশ আমদানির ওপর আরোপিত দুই শতাংশ অগ্রিম আয়কর (এআইটি) প্রত্যাহার করেছে।

এই সিদ্ধান্তটি শিল্পখাতের ব্যাপক চাপের পর নেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে শিল্প শ্রেণিভুক্ত আমদানিকারক রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আইআরসি)ধারীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। তবে বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন না।

এ বছরের বাজেটে চালু হওয়া এই দুই শতাংশ করের কারণে টেক্সটাইল মিল মালিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তারা জানান, এমনিতেই ধুঁকতে থাকা শিল্পে এটি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং বহু স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক খাতের জন্য ব্যবহৃত তুলার প্রায় ৯৯ শতাংশ আমদানি করে, যার বড় একটি অংশ আসে আফ্রিকা, ভারত, চীন, এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

বিটিএমএ'র ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহুদ্দিন জামান খান জানান, এই কর থাকলে তার কারখানার কার্যকর কর হার ৬৪ শতাংশ হতো, যা অবাস্তব।

তিনি বলেন, তুলা আমদানিতে শুধু কর বাবদ বছরে ৩২ কোটি টাকা দিতে হতো, যা বাস্তবসম্মত নয়।

এনবিআর-এর দাবি করেছিল এই কর পরবর্তীতে সমন্বয়যোগ্য, তবে শিল্পমালিকরা জানান, লাভের হার এত কম যে এই সমন্বয় বাস্তবে কার্যকর নয়। উপরন্তু, কর ফেরতের প্রক্রিয়াও জটিল।

শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার এই কর প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এতে করে পোশাক শিল্পের জন্য স্বস্তির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।