ইসলামী ব্যাংক নিয়ে রাজনৈতিক ইন্ধনের অভিযোগসহ সামনে আসছে যেসব বিষয়

ছবির উৎস, Getty Images
- Author, সজল দাস
- Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
কিছুদিনের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, এই মূহুর্তে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক পিএলসি।
ব্যাংকটির চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে শুরু হওয়া অস্থিরতার বিষয় গড়িয়েছে জাতীয় সংসদেও।
এমন প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন এখনও চলছে। মাঠের কর্মসূচির পর এবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অনেক আমানতকারী তাদের অর্থ তুলে নিচ্ছেন, এমন অভিযোগ ওঠার পর তা ব্যাংকিং সেক্টরে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
এর মধ্যে মঙ্গলবার এ ইস্যুতে সংসদেও পালটাপালটি বক্তব্য দিয়েছে সরকার ও বিরোধী দল। বিএনপি সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকটির অতীত অনিয়ম এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের নানা খতিয়ান সংসদে তুলে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্যাংকটির শেয়ার প্রকৃত মালিকর কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি তুলেছে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
এছাড়া, ইসলামী ব্যাংক তারল্য সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এরই মধ্যে দশ হাজার কোটি টাকার সহায়তাও চেয়েছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে।
সবশেষ বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আলোচনায় ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যাংক খাতের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি।
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে এই নানামুখী উত্তেজনা দেশের সাধারণ মানুষ এবং আর্থিক খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকিং খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক খাত সংস্কারের বদলে একটি ব্যাংক নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ভালো উদাহরণ নয়।
তবে, বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।
End of বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুুুুন:

ছবির উৎস, AMINUL
গ্রাহকেরা টাকা তুলে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর অনেক আমানতকারী ব্যাংক থেকে অর্থ তুলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়েছে যে, আন্দোলন শুরুর পর প্রথম চার কার্যদিবসে দুই হাজার ৫৭০ কোটি টাকা ব্যাংকটি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
প্রকাশিত খবরগুলোর সত্যমিথ্যা নিশ্চিত করেনি ইসলামী ব্যাংক।
তবে, ব্যাংকটিতে কর্মরত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসির কাছে দাবি করেছেন, নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের পর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
"আমি ১৬ বছর ধরে ইসলামী ব্যাংকে কাজ করছি কিন্তু এত কম সময়ে এই পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়া কখনও দেখিনি। গত কয়দিন আমরা গ্রাহকদেরকে শুধু টাকা দিয়েই যাচ্ছি," বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।
এদিকে, গ্রাহকরা বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নেওয়ায় ইসলামী ব্যাংক বড়ো ধরনের তারল্য সংকটে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
নগদ টাকার সংকট থাকায় ইতোমধ্যে ব্যাংকটির অনেক এটিএম বুথ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বুথে গিয়ে টাকা তুলতে না পারার বিষয়টিও বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের একাধিক গ্রাহক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যাংক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলছেন, "আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে দশ হাজার কোটি টাকা চেয়েছি। কিন্তু এখনও পাবো কিনা, এটা নিশ্চিত নয়।"
তবে, ইসলামী ব্যাংকের এই আবেদনের বিষয়েও বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে, চলমান পরিস্থিতিতে বুধবার ইসলামী ব্যাংকে একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এক বার্তায় জানানো হয়- ব্যাংকটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, ব্যাংকের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আশ্রাফুল আলমকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ছবির উৎস, SCREEN GRAB
সংসদে বিতর্ক-উত্তেজনা
প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে মাঠের অস্থিরতার পর এবার ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে সংসদে বিতর্কে জড়িয়েছে সরকার এবং বিরোধী দল।
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে প্রত্যর্পণ এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় 'অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে' একটি নোটিশের ওপর মঙ্গলবার সংসদে আলোচনা হয়।
সংসদের ৬৮ বিধি অনুযায়ী এই নোটিশ দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
"জোরজবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে ব্যাংকটির শেয়ার ডাকাতি করা হয়েছিল," অবিলম্বে তাদের কাছে সেই শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
এই নোটিশের ওপর আলোচনায় ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্টের পর ইসলামী ব্যাংকে কী কী অনিয়ম হয়েছে, তার একটি তালিকা সংসদে তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, "নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকার এলসির বিপরীতে লোন দেওয়া হয়েছে, পরে এই মালামাল বিক্রি করে ব্যাংকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি। দুষ্টু লোকেরা বলে সেটা কোনো এক দলের নির্বাচনি তহবিলে গেছে।"
"একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে, তকবিরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে। এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার," বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস নামে একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মি. আহমদ।
তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। পাঁচই অগাস্টের পর নির্বাচনি বৈতরণি পার হতে ১১ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ছবির উৎস, SCREEN GRAB
ব্যাংক দখল করার পর নিয়মবহির্ভূতভাবে নয় হাজার জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
"ছয় হাজার নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যারা যেই ক্যাটাগরি থেকে প্রমোশন পেয়ে যে ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা না, তিনটা করে প্রমোশন দেওয়া হয়েছে- যাদের সবাই একটি রাজনৈতিক দলের মতাবলম্বী," বলেও দাবি করেন তিনি।
এরপরে সংসদে কথা বলেন বিরোধীদলীয় ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতকে বুঝিয়েছেন কিনা সেটি জানতে চান তিনি।
মি. রহমান বলেন, "তিনি যে-সব অভিযোগ আনলেন কোনো একটা দলের দিকে ইঙ্গিত করে, একবারে নাম বলে দিলেই পারতেন যে জামায়াতে ইসলামী। মাঝে মাঝে নেকাব খুলে দেওয়া ভালো তো এটাও বলে দিতেন, নেকাব রাখলেন কেন উনি," বলেন তিনি।
অভিযোগটি প্রমাণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জও জানান বিরোধী দলীয় নেতা। "তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) এটা প্রমাণ করতে পারলে আমি একটা মেডেল দেব তাকে পার্সোনালি," বলেন মি. রহমান।
ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মীদের বিষয়েও কথা বলেন ড. শফিকুর রহমান।
তিনি দাবি করেন, অতীতে কোনো নিয়মনীতি না মেনে দশ হাজার কর্মীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কোনো পরীক্ষা ছাড়াই তাদেরকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
"সরকার পরিবর্তন হওয়ার পরে তাদেরকে আবার পরীক্ষায় আসার কথা বলা হয়েছিল যে বিনা পরীক্ষায় আপনারা চাকরি নিয়েছেন মিনিমাম নিয়ম মেনে এবার চাকরিতে ফিরে আসেন। কিন্তু তারা আসেননি," বলেন মি. রহমান।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে একই ইস্যুতে কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, "একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে নিয়ে চলে যায় এমন নজির বিশ্বে কোথাও নেই।"
রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলামী ব্যাংককে ব্যর্থ করানোর চেষ্টা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
পয়েন্ট অব অর্ডারে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবিও জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
তবে সংসদের নিয়ম বহির্ভূত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংক ইস্যুতে তার পয়েন্ট অব অর্ডার গ্রহণ করেননি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ছবির উৎস, Getty Images
ইসলামী ব্যাংক দখল-পুনর্দখল
ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনীতি নতুন নয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবের কবলে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একসময় জামায়াতে ইসলামীর আদর্শের ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলোচিত শিল্পগোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের দখলে চলে যায়।
২০১৭ সাল থেকে দীর্ঘ সময় ধরে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করে এবং নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলাও করেছে দুদক।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কয়েক হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় আবারও ব্যাংকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থকরা। নিজেদের মতো করে পর্ষদ সাজিয়েছিল তারা।
ক্ষমতায় আসার পর এবার বিএনপি সরকার নিজের অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে ব্যাংকটি নতুন করে সাজাতে চাইছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মূলত দখল এবং পাল্টা দখলের এই লড়াই থেকেই এখন বেসরকারি খাতের ব্যাংকটিতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের অনেকে মনে করেন, ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকটিকে এবার নিজেদের মত সাজাতে চাইছে বিএনপি সরকার। মূলত এ কারণেই ব্যাংকটির দায়িত্বশীল পদগুলোতে আবারও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
গত মাসের ২৪ তারিখে তৎকালীন চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর রাতারাতি নতুন চেয়ারম্যানকে নিয়োগে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আগে থেকেই দেড় মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে রয়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
ঈদের ছুটি শেষে সোমবার ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যানের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু এবার 'ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম' এর ব্যানারে নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে একটি পক্ষ।

ছবির উৎস, SCREEN GRAB
আন্দোলনের আড়ালে কী রাজনীতি?
ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যেই গত ২৪শে মে আগের চেয়ারম্যান পদত্যাগের পর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
ঈদের ছুটি শেষে নতুন চেয়ারম্যানের কাজে যোগ দেওয়ার দিনেই 'ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম' এর ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে একটি পক্ষ।
ওই দিন ঢাকার মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সঙ্গে সংঘাতেও জড়ায় তারা। সেদিন আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এরপর থেকেই ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চলছে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ব্যাংকটি আবারও একটি বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে, এই শঙ্কা থেকেই আন্দোলনে নেমেছেন তারা।
উল্লেখ্য ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের চাপের মুখে পদত্যাগ করেছিলেন ওই সময় ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে থাকা মি. খুরশীদ আলম।
যদিও চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিল বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা নেই বলে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
কিন্তু বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ বাতিলের দাবিতে গ্রাহক পরিচয়ে আন্দোলনের বিষয়টি নানা আলোচনা জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সংসদে এই আন্দোলন নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চলমান আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
"যারা পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহক বলে রাস্তায় আন্দোলন করছে, ভিডিওটা দেখেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় দেখেন," সংসদে বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এই আন্দোলনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রীও। তিনি বলেন, ব্যাংকের ভেতরে এবং বাইরে যে উগ্র কর্মসূচি পালন করা হয়েছে তার মূল উদ্দেশ্য চেয়ারম্যানের পতন নয়, রাজনৈতিক।
এ বিষয়ে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করা হয়েছে।








