'দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা'

ইরানের প্রেসিডেন্ট এব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু নিয়ে সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ইরানের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টার সত্যিই দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল, নাকি এটি দেশটির প্রধান শত্রু ইসরায়েলের নাশকতা– তা নিয়ে জোরালো প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার পাশাপাশি এ প্রশ্ন উঠে এসেছে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের লেখায় এবং মূলধারার গণমাধ্যমেও।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা বলছে, পর্বতে ধাক্কা খেয়ে ভেঙে পড়ে রাইসির হেলিকপ্টার। সে সময় দুর্ঘটনাস্থলে ভারী বৃষ্টি ও ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা খুব কম ছিল।
তা সত্ত্বেও সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে আসছে ইসরায়েলের দুর্ধর্ষ গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের নাম। তারাই কৌশলে রাইসিকে হত্যা করল কি না– উঠছে সেই প্রশ্ন।
এ মৃত্যুর জন্য অনেকে ইসরায়েলকে প্রধান সন্দেহভাজন মনে করার কারণে শুরুতেই ইসরায়েলকে বলতে হচ্ছে– ‘আমরা দায়ী নই।’
গত পহেলা এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। এতে ইরানের দুই জেনারেলের মৃত্যু হয়।
জবাবে আঞ্চলিক চিরবৈরী ইসরায়েলের ভূখণ্ডে প্রথমবার শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের সামরিক বাহিনী। রাইসির নেতৃত্বেই সেই হামলা চালানো হয়েছিল।
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ছায়াযুদ্ধ চালাতে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক কিংবা ইয়েমেনের মতো দেশকে মদদ দিয়ে থাকে ইরান। ফিলিস্তিনের হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহরও বড় পৃষ্ঠপোষক ইরান।
আর সংগঠন দুটি ইসরায়েলের ঘুম হারাম করে দিয়েছে। ফলে ইরানকে সব সময়ই ঘায়েল করতে সচেষ্ট থাকে ইসরায়েল।
এসব কারণে রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার জন্য তেল আবিবকে দায়ী করছেন ইসরায়েলবিরোধী কর্মী ও ভাষ্যকাররা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার প্রধান শিরোনামে এব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে করা হচ্ছে। এ কারণে পত্রিকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খবরের দিকে নজর দেয়া হয়েছে।
যেমন কালের কণ্ঠ তাদের প্রথম পাতায় ষষ্ঠ উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ প্রসঙ্গে শিরোনাম করেছে, ‘দ্বিতীয় ধাপেও ভোটার উপস্থিতি নিয়ে দোলাচল’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, চার ধাপে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দেশের ১৫৬ উপজেলা পরিষদে আজ ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
গত ৮ই মে অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম ধাপের নির্বাচন। সে সময় ভোট পড়ার হার ছিল রেকর্ডসংখ্যক কম- ৩৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।
দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণে এই পরিস্থিতি হয় কি না সেটাই প্রশ্ন।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর জানিয়েছেন, ভোটের হার কেমন হবে সেটা আবহাওয়া পরিস্থিতি, প্রার্থীর জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করবে।
তিনি বলেন, ভোটের হার বেশি হলে আমরা খুশি, না হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
আরেক নির্বাচন কমিশনার মো. আহসান হাবিব খান বলেছেন, এক শতাংশ ভোটার এলেও নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। তবে দ্বিতীয় ধাপে ভোটের হার বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
প্রথম ধাপের মতো এ ধাপের ভোটও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা নির্বাচন কমিশনের (ইসি)।
যদিও দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের ১৮ দিনব্যাপী প্রচার-প্রচারণা ঘিরে ঘটেছে হামলা ও সংঘাতের ঘটনা।

বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর, ‘বিএনপির নেতৃত্বে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে ভাইস চেয়ারম্যান, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ নির্বাহী কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে শিগগিরই।
ইতোমধ্যে দলটির হাইকমান্ড সংগঠন ঢেলে সাজানোর এই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলন-পরবর্তী বিভিন্ন সাংগঠনিক প্রতিবেদনে সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় নেতাদের তালিকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখন অর্ধশতাধিক পদ শূন্য রয়েছে। নেতাদের মৃত্যু, দলত্যাগ, অব্যাহতি, পদোন্নতি ও পদাবনতিজনিত কারণে এসব পদ শূন্য হয়েছে।
এছাড়া বয়সের কারণে অনেকে দলীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন।
সহসা জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের সম্ভাবনা না থাকায় এবারে বিভিন্ন পদে দায়িত্বশীল নেতাদের ‘কন্ট্রিবিউশন ও ডেডিকেশন’ (অবদান ও উৎসর্গ) বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে শীর্ষ পদগুলোতে নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে বর্তমানে পদ রয়েছে ১৯টি। বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। সেইবার ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ শুরু থেকেই দুটি পদ শূন্য ছিল।
পরবর্তীতে এম কে আনোয়ার, তরিকুল ইসলাম, আ স ম হান্নান শাহ ও মওদুদ আহমদ মারা গেলে এবং সাবেক সেনাপ্রধান মাহবুবুর রহমান পদত্যাগ করলে মোট সাতটি পদ শূন্য হয়।
পরে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়োগ দেয়ায় এখন পাঁচটি পদ খালি রয়েছে স্থায়ী কমিটিতে।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর সম্মেলন (কাউন্সিল) করে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি নির্বাচন করার কথা। সে হিসেবে মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি দিয়ে চলছে বিএনপির কার্যক্রম।

অনলাইনে তথ্য বিক্রি নিয়ে দ্য ডেইলি স্টার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম, ‘Personal data up for sale online!’ অর্থাৎ ‘ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে বিক্রির জন্য তোলা হচ্ছে’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কিছু সরকারি কর্মচারী শত শত ফেসবুক, টেলিগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নাগরিকদের এনআইডি কার্ড এবং ফোন কলের বিবরণ বিক্রি করছে বলে প্রমাণ পেয়েছে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার- এনটিএমসি।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি চিঠিতে, এনটিএমসি বলেছে যে ব্যক্তিগত তথ্য ২১টি হোয়াটসঅ্যাপ, ৪৮টি টেলিগ্রাম এবং ৭২০টি ফেসবুক গ্রুপ এবং পেজের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে, যেগুলোয় ৩২ লাখ সদস্য এবং ফলোয়ার রয়েছে।
তবে ওই চিঠিতে কতজনের ডেটা বিক্রি হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি।
এনটিএমসি প্রথমে তার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্ট প্ল্যাটফর্মে (এনআইপি) অস্বাভাবিক বেশি সংখ্যক লগইন হওয়ার ঘটনা শনাক্ত করে।
এই লগ ইন করা হয়েছিল র্যাব-৬ এর অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের এক পুলিশ সুপার এবং সহকারী পুলিশ সুপারের আইডির মাধ্যমে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, দুই কর্মকর্তার লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড অর্থের বিনিময়ে মেসেজিং গ্রুপের সদস্যদের দেওয়া হয়েছিল। এতে কেউ সংবেদনশীল ডেটাতে অ্যাক্সেস পেয়ে যায়।
চলতি মাসের শুরুতে এবং গত মাসে, আইডিইএ টু প্রকল্পের দুই ডাটা এন্ট্রি অপারেটরকে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ এবং মেসেজিং অ্যাপে বিক্রি হওয়া কল ডিটেইল রেকর্ডগুলো এনটিএমসি সার্ভার থেকে নেওয়া হয়েছিল।
এনটিএমসি জানিয়েছে যে সংবেদনশীল তথ্যের অননুমোদিত ব্যবহার এবং অবৈধ স্থানান্তরের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় সাপেক্ষে এনটিএমসি বাংলাদেশের সমস্ত ইলেকট্রনিক যোগাযোগ নিরীক্ষণ করার জন্য আইনত অনুমোদিত।
ব্যক্তিগত তথ্য চুরি রোধে এনটিএমসি কিছু সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে একটি নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি), সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার (এসওসি), এবং এনআইডি এবং জন্ম নিবন্ধনের সার্ভারগুলিকে সুরক্ষিত করার জন্য অডিটিং প্ল্যাটফর্ম, এনআইডি সার্ভার পরিচালনাকে কেন্দ্রীকরণ করা এবং একটি হাবের মাধ্যমে সংযুক্ত সংস্থাগুলিকে তত্ত্বাবধান করা।

জীবনযাত্রার খরচ ক্রমশ বেড়ে যাওয়া নিয়ে প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর- ‘মানুষের আয় কম, ব্যয় বেশি’।
প্রতিবেদনে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবের বরাতে বলা হয়েছে, টানা দুই বছর ধরে মূল্যস্ফীতির হারের তুলনায় মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার কম।
এর মানে, প্রতি মাসে যতটা মূল্যস্ফীতি হচ্ছে, মজুরি বাড়ছে তার চেয়ে কম হারে। বিপুলসংখ্যক মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয়ের গতি বেশি।
ফলে ক্রয়ক্ষমতা ক্রমাগত কমছে। তাই খরচের গতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন দরিদ্র ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ।
টানা ১৪ মাস ধরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নয় শতাংশের ওপরে রয়েছে। অর্থাৎ ১৪ মাস ধরে আপনি যত পণ্য ও সেবা কিনছেন, তার জন্য আপনাকে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে গড়ে নয় শতাংশ বেশি দাম দিতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি একধরনের করের মতো, যা ধনী-গরিবনির্বিশেষে সবার ওপর চাপ বাড়ায়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সর্বশেষ গত এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি আবারও ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
এ অবস্থায় দুই বছর ধরে চালের দাম ওঠানামার মধ্যে আছে। মোটা চালের কেজি এখন ৫০ টাকার বেশি। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবেই, প্রতি কেজি চিকন চালের দাম ৭৬ টাকা।
দুই বছরের ব্যবধানে পেঁয়াজ, আলু, পটোল, বেগুন—এসবের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। এক কেজি রুই মাছ ৩০০ টাকার নিচে পাওয়া যায় না। ১৮০ টাকার কমে পাঙাশের কেজি মিলবে না। ব্রয়লার মুরগির দাম ২০০ টাকার বেশি।
যাদের মাসিক আয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। সেই আয় দিয়ে বাসাভাড়া, সন্তানের পড়াশোনা, বাজার, চিকিৎসা—এসব খরচ আর চলছে না।
খাবারের দাম বাড়লে মানুষের কষ্ট বাড়ে। কারণ, খাবার কিনতেই আয়ের অর্ধেকের বেশি খরচ করেন গড়পড়তা মানুষ।
বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের ৭১ শতাংশ মানুষই খাবারের দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের নিখোঁজ হওয়া নিয়ে ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর, ‘হুন্ডি সিন্ডিকেটের কবজায় এমপি আজিম!’
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভারতে নিখোঁজ হওয়া ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনানের সন্ধান সোমবার পর্যন্ত পায়নি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, বেশ কয়েকটি কারণকে সামনে রেখে ডিবি পুলিশ এমপি আজিমের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে।
তার বিরুদ্ধে হুন্ডি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে। ঢাকা থেকে সড়কপথে ভারতে স্বর্ণ চোরাচালানের রুটও তিনি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে, ঢাকা বা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভারতে হুন্ডিতে টাকা পাঠানোর সিন্ডিকেটের একটি বড় ‘চেইন’ ঝিনাইদহে নিয়ন্ত্রিত হয়।
অর্থাৎ ভারতের হুন্ডি সিন্ডিকেট যোগাযোগ করে ঝিনাইদহে। ঝিনাইদহ থেকে ভারতে নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে টাকা (ভারতীয় রুপি) পৌঁছে দেওয়ার মেসেজ পাঠানো হয়।
এক্ষেত্রে দুই দেশের হুন্ডি সিন্ডিকেটের মধ্যে টাকা/রুপি অবৈধ লেনদেনের সময় একটি মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এমপি আজিমের বিরুদ্ধে।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই সিন্ডিকেটই কৌশলে তাকে কলকাতা থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করেছে বলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ধারণা করছে। তবে সব কিছুর সত্যতা মিলবে তাকে উদ্ধারের পর।

সরকারি আমলাদের বিদেশ যাত্রা নিয়ে আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর, ‘লিফট ও এসি দেখতে বিদেশ যাচ্ছেন আমলারা’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সচিবালয়ে নতুন ২০ তলা ভবনের জন্য নয়টি লিফট ও ২৪০০ টন ক্ষমতার চিলার এসি কেনা হচ্ছে।
এসব লিফট ও এসির প্রাক্-জাহাজীকরণ পরিদর্শনের (পিএসআই) নামে বিদেশ সফরে যাচ্ছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তিনজন আমলা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাতজন প্রকৌশলী।
পৃথক তিনটি দলে সুইজারল্যান্ড, ফ্রান্স ও মালয়েশিয়া ভ্রমণ করবেন তারা।
তবে বিদেশভ্রমণের এসব দলে কারিগরি কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন—এমন কর্মকর্তা বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে চলছে কানাঘুষা।
কথা উঠেছে, ঠিকাদারের উপঢৌকন হিসেবে এই সফরে যাচ্ছেন গণপূর্তের কর্মকর্তারা। এর বিনিময়ে পণ্যের দাম বাড়িয়ে নেওয়ার সুবিধা পান ঠিকাদাররা।
বিদেশ সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব জানান, ‘এ ধরনের সফর মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মনোনীত করে থাকেন। এখানে আমার বলার কিছু নেই।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সচিবালয়ের ২০ তলা ভবনে ৯টি লিফটের জন্য ২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ছয়টি লিফট ১৬০০ কেজি ক্ষমতার।
বাকি তিনটির দুটি এক হাজার কেজি এবং একটি ৬৩০ কেজি ক্ষমতার। এছাড়া ২৪০০ টন চিলার এসি কিনতে ব্যয় ধরা হচ্ছে ৫১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, লিফট কেনার জন্য ১৭ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছিল। সেখানে কমবেশি ৪০ শতাংশ বাড়িয়ে এখন ২২ কোটির মতো করা হয়েছে।

ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর, ‘Govt backtracks on ban on battery-run rickshaw’ অর্থাৎ, ‘ব্যাটারিচালিত রিকশার ওপর নিষেধাজ্ঞা থেকে সরে এসেছে সরকার’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকা শহরে অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে সরকার।
বিকল্প কর্মসংস্থান নিশ্চিত না করে ঢাকায় যানবাহন নিষিদ্ধ করার সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সোমবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের চালকরা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বলেন, রাজধানীর সীমিত এলাকায় ব্যাটারি চালিত রিকশা চালানো যাবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী অবশ্য জোর দিয়েছিলেন যে মারাত্মক ট্রাফিক দুর্ঘটনার কারণে ২০১৫ সাল থেকে আরোপিত ২২টি জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারি-চালিত রিকশা, থ্রি-হুইলার এবং অ-মোটরচালিত যানবাহন চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে।
গত বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকা মহানগরীর সড়কে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে মিরপুর এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় চালকদের। বিক্ষোভকারীরা শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে, যার ফলে কিছু ব্যস্ত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা করেছে যে তারা ২৭শে মে তিন চাকার যানবাহনের রুট পারমিট এবং লাইসেন্স প্রদান এবং এই যানবাহনের জন্য একটি নীতি চূড়ান্ত করার দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করবে।

তরল মুদ্রার সরবরাহ বাড়া নিয়ে বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, ‘নির্বাচনের পরে দেশে নগদ টাকার চাহিদা বেড়ে গেছে’।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের ব্যাংকগুলো থেকে নগদ টাকা তোলার চাপ সামলাতে প্রতিনিয়ত ইস্যুকৃত নোটের পরিমাণ বাড়িয়ে চলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংকের ভাষ্য, ঈদ ও রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে নগদ অর্থের প্রয়োজন বেশি থাকে। আবার ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপের কারণেও নগদ টাকার চাহিদা বাড়ছে।
তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের সব ক্ষেত্রেই ঘুষ, দুর্নীতিসহ কালো টাকার দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এ কারণে এখানে নগদ অর্থের চাহিদা কমছে না।
যদিও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কথা বলে অর্থবছরের শুরুতে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছিল।
ঘোষিত মুদ্রানীতির প্রধান লক্ষ্যই ছিল বাজারে অর্থের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ক্রমাগতভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইস্যুকৃত নোটের স্থিতি বাড়ছে।
বাজারে অর্থের প্রবাহ কমাতে চলতি অর্থবছরে নীতি সুদহার (রেপো রেট) কয়েক দফা বাড়িয়ে সাড়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।












