পত্রিকা: 'হেফাজত বিএনপির দিকে, ইসলামী দল জামায়াতে'

আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, আজ ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকা
Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট

সমকাল পত্রিকার আজকের প্রথম পাতার খবর- হেফাজত বিএনপির দিকে, ইসলামী দল জামায়াতে

নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন দাবিতে কওমি মাদ্রাসা ধারার রাজনৈতিক দলগুলো যুগপৎ আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এলেও হেফাজতে ইসলাম রয়েছে বিএনপির দিকে। জামায়াতের সঙ্গে আসা দলগুলোর নেতারা হেফাজতের নেতৃত্বেও আছেন।

কিন্তু দেওবন্দি ধারার সংগঠন হেফাজতের শীর্ষ নেতৃত্ব জামায়াতের সমালোচনায় মুখর, বিএনপির সঙ্গে তাদের দৃশ্যমান সুসম্পর্ক রয়েছে। নিবন্ধিত এবং হেফাজত-সংশ্লিষ্ট দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম রয়েছে বিএনপির সঙ্গে।

যুগপৎ আন্দোলনে আসা দলগুলোর নেতারা সমকালকে বলেছেন, জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদুদী আদর্শের বিরোধিতার কারণে হেফাজতের 'মুরব্বিরা' জামায়াত-বিরোধী। এ কারণে তারা বিএনপির সঙ্গে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীর চিন্তা-ভাবনা ভিন্ন।

গত জুলাইয়ে হেফাজতের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, 'জামায়াতে ইসলামী একটি ভণ্ড ইসলামী দল, সহিহ ইসলামী দল নয়। তারা মদিনার ইসলাম নয় বরং মওদুদীর ইসলাম কায়েম করতে চায়। মওদুদীর মতাদর্শ অনুসরণ করলে ইমান থাকবে না।'

সম্প্রতি তিনি বলেন, 'জামায়াত ক্ষমতায় এলে কওমি মাদ্রাসা থাকবে না।'

জামায়াত এসব বক্তব্যকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়েছে।

জামায়াতের সমালোচনা করলেও হেফাজতের জ্যেষ্ঠ নেতারা বিএনপির প্রতি নমনীয় রয়েছেন।

গত ৬ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজিদুর রহমানসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক করেন। তিন দিন পর এনসিপির কার্যালয়ে বৈঠক করেন।

একই মাসে আরও কয়েকটি দলের সঙ্গে বৈঠক করলেও জামায়াতের সঙ্গে বসেনি সংগঠনটি।

পত্রিকা
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

কালের কণ্ঠ পত্রিকার আজকের শীর্ষ খবর- ভোটের হাওয়ার গতি কম।

এই খবরে বলা হয়েছে- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বর্ষপূর্তির দিন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অব্যাহত দাবি, চাপ ও নানা সংশয়-সন্দেহের মধ্যে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করেছিলেন।

কিন্তু এই ঘোষণার পর শুরুতে দেশব্যাপী ভোটের হাওয়া শুরু হলেও এখন সেই হাওয়ার গতি মন্থর। জনমনে নির্বাচন নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন।

নির্বাচন কি প্রচলিত আসনভিত্তিক পদ্ধতিতে হবে, নাকি কয়েকটি দলের দাবি মেনে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে হবে? কতগুলো দল এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সংবিধান সংশোধনের জন্য গণভোটও কি অনুষ্ঠিত হবে? নাকি নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের সংবিধানসংক্রান্ত সংস্কার জুলাই ঘোষণার ২২ দফার ক্ষমতাবলে একটি 'সাংবিধানিক আদেশ' জারি করে সম্পন্ন করা হবে?

জুলাই ঘোষণার ২৫ দফায় তো বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে সংস্কার সম্পন্ন হবে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনের আগেই এই সংস্কার কি সম্ভব? এ ধরনের আরো অনেক প্রশ্নের জবাব এখনো অজানা।

পত্রিকা

এই খবরে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে বিএনপি। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছে দলীয় বার্তা পৌঁছানো শুরু হয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রার্থী ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।

নির্বাচনের প্রস্তুতি এগিয়ে নিতে অর্ধেকেরও বেশি আসনে তফসিল ঘোষণার আগেই প্রার্থীদের চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে বিএনপি।

ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে কয়েকটি আসনে প্রার্থীও প্রায় চূড়ান্ত। ঢাকা জেলা ও মহানগরে ২০টি আসনের মধ্যে এবার নতুন মুখ আসবে বেশি।

বিএনপি'র একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বাইরেও যুগপৎ আন্দোলনের সমমনা দল এবং জোটের বেশ কয়েকজন নেতাকেও গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছে বিএনপি'র হাইকমান্ড।

সমমনা দলের একজন নেতাকে ঢাকা থেকে নির্বাচন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু এই নেতা নিজ নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচন করতে চান।

ঢাকায় প্রার্থী দেয়ার ক্ষেত্রেও এবার অনেক পরিবর্তন এসেছে। যারা বিএনপি'র হাইকমান্ড থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এসব আসন থেকে নির্বাচন করেননি। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে যাতে নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব বা গ্রুপিং না হয়-সেজন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে না।

পত্রিকা

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে 'সংবিধান আদেশ' ও গণভোটের প্রস্তাব করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

কমিশনের প্রস্তাব আগামী ফেব্রুয়ারিতে যেদিন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, একইদিন গণভোটের মাধ্যমে সনদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে গণভোটের তারিখ (দিনক্ষণ) নিয়ে বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বলছে, জাতীয় নির্বাচনের পরে গণভোট। তবে সবাই একমত হলে নির্বাচনের দিন হতে পারে। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে হবে আলোচনার টেবিলে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চায় জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোটের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করতে। আর সনদের ভিত্তিতেই হবে জাতীয় নির্বাচন।

এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে তারা রাজপথে আন্দোলনে নেমেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বলছে সংবিধান ইস্যুতে গণপরিষদ নির্বাচন জরুরি। এই গণপরিষদের মাধ্যমে নতুন সংবিধান তৈরি করতে চায়। আর গণভোট নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানাবে।

তবে মতভিন্নতার মধ্যেও আশার আলো দেখছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

পত্রিকা

আজকের পত্রিকা-র আজকের প্রথম পাতার খবর, অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে তরুণদের আকৃষ্ট করার প্রত্যাশা।

এই খবরে বলা হচ্ছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং গণঅধিকার পরিষদ একীভূত হতে পারে, এমন আলোচনা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

তরুণদের এই দুটি দল এক হলে তা রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসবে বলে মনে করছেন নেতারা। তাদের আশা, দুই দলের কর্মীরা যেমন বিষয়টিকে স্বাগত জানাবেন, তেমনি তরুণ ভোটাররাও দলের প্রতি আকৃষ্ট হবেন। তবে একীভূত হওয়া নিয়ে দুই দল এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।

দুই দলের একীভূত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, 'রাজনীতির ক্ষেত্রে আমাদের পরিকল্পনাটা হচ্ছে, আমরা আলাদা একটা ব্লক হতে চাই। বিএনপির একটা ব্লক আছে। জামায়াতে ইসলামী বা ইসলামপন্থী দলগুলোরও একটা ব্লক করার চেষ্টা চলছে। আমরাও আমাদের সমমনাদের নিয়ে একত্র হওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা সামনে একসাথে আগাতে পারব কি না, সে সমস্ত বিষয়ে আলোচনা চলছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।'

সারোয়ার তুষার মনে করেন, দুটো দল একসঙ্গে কাজ করলে দেশের মানুষের কাছে একটি ভালো বার্তা যাবে। তিনি বলেন, 'একীভূত কিংবা জোটবদ্ধ হয়ে যদি তরুণেরা একই প্ল্যাটফর্মে আসে, তাহলে অবশ্যই সেটা সারা দেশের মানুষকে একটা ভালো মেসেজ দেবে। বড় দলগুলোর ওপর অনাস্থাজনিত কারণে সারা দেশের মানুষ একটা বিকল্প চাইছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশের মানুষ একটা ভরসা পাবে। আজ অথবা কাল এই তরুণেরাই তো বাংলাদেশ পরিচালনা করবে। সেদিক থেকে এটা একটা ভালো বার্তা দেবে বলে আমার ধারণা।'

পত্রিকা

দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার আজকের প্রথম পাতার খবর- EC gets greater powers under amended laws।

এই খবরে বলা হচ্ছে, এক বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এবং নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ প্রবিধান) (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫–এর খসড়া অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ।

নতুন বিধান অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন (ইসি) নিজস্ব একটি 'ইসি সার্ভিস' গঠন করতে পারবে। এই সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের পাশাপাশি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে।

ইসির সাবেক যুগ্মসচিব শাহজাহান সাজু সংশোধনীগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে ইসি নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্য থেকেই শীর্ষ পদে নিয়োগ দিতে পারবে, যার মধ্যে সচিবও অন্তর্ভুক্ত।

তিনি আরও বলেন, এ পরিবর্তনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিলেন ইসি কর্মকর্তারা।

"এর ফলে সচিবসহ শীর্ষ পদে নিয়োগে সরকারের হস্তক্ষেপের সুযোগ কমবে," মন্তব্য করেন তিনি।

নতুন বিধান অনুযায়ী, সচিব ছাড়াও অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিবসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তা ইসি ক্যাডারের মধ্য থেকেই নিয়োগ পাবেন।

বর্তমানে সচিবালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদ সচিব হিসেবে প্রশাসন ক্যাডার থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়, ২০০৯ সালের নির্বাচন কমিশন সচিবালয় আইনের আওতায়।

পত্রিকা

নয়াদিগন্ত পত্রিকার আজকের শীর্ষ খবর- বিদেশী ঋণের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

এই খবরে বলা হচ্ছে- বিগত সরকারের নির্বিচারে বিদেশী ঋণ গ্রহণের ফলে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নের প্রধান উৎস সরকারি ঋণ দ্রুত বাড়ছে। মাত্র তিন মাস সময়ে সাত বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশী দায় বেড়ে জুন ২০২৫ নাগাদ ১১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

এ সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণ বৃদ্ধি ধীর হলেও স্বল্পমেয়াদি ট্রেড ক্রেডিট ও অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে সামান্য ওঠানামা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ঋণের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে রিজার্ভ, মুদ্রা স্থিতিশীলতা ও ঋণ পরিষেবা খাতে চাপ বাড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

জুন ২০২৫ শেষে মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের ১০৪.৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৭ শতাংশ বেশি। এতে বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিকের গড় বৈদেশিক ঋণ ২০২১-২২-এ ৬০৯.৭০ ডলার থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫-এ ৬৪৮.৮৭ ডলারে পৌঁছেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের এই দ্রুত বৃদ্ধি অবকাঠামো উন্নয়ন ও বড় প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য ইতিবাচক হলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস ও স্বল্পমেয়াদি ঋণের ঝুঁকি অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদি ঋণ ব্যবস্থাপনা ও ঋণ পরিষেবার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পে ব্যয়সঙ্কোচন নিশ্চিত করতে হবে।

পত্রিকা

নিউ এজ পত্রিকার আজকের প্রথম পাতার খবর- Mental health data not updated in 7 years।

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জাতীয় তথ্য সাত বছর ধরে হালনাগাদ হয়নি, যদিও আত্মহত্যার সংখ্যা এবং মানসিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়নে ২০১৮ সালে পরিচালিত জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষায় দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ১৬.৮ শতাংশ এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের মধ্যে ১৩.৬ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছিল।

সমীক্ষায় আরও উঠে আসে, মানসিক রোগ শনাক্ত হওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২ শতাংশের বেশি এবং শিশু-কিশোরদের ৯৪ শতাংশের চিকিৎসা হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরপর থেকে সমস্যা আরও বেড়েছে। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য নির্ভরশীল নানা পরিবর্তনশীল বিষয়ের ওপর- যেমন কোভিড মহামারি, অর্থনৈতিক ধাক্কা, জলবায়ু বিপর্যয়, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক চাপ।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুর রহমান জানান, ২০১৮ সালের সমীক্ষাটিই ছিল সর্বশেষ জাতীয় জরিপ। এর পরবর্তী কোনো গবেষণার জন্য তহবিল মেলেনি।

তিনি বলেন, এ ধরনের গবেষণা ছাড়া পরিসংখ্যান হালনাগাদ করার কোনো ব্যবস্থা নেই।

পত্রিকা

বণিক বার্তা পত্রিকার আজকের শীর্ষ খবর- ক্যান্সার শনাক্তের তিন ধরনের যন্ত্রের সবই অচল।

এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বরিশালের উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রামের বাসিন্দা আমেনা বেগম (ছদ্মনাম)। পঞ্চাশোর্ধ্ব এ নারী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছেন।

স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও রোগ ধরা যায়নি। তবে কোনো কোনো চিকিৎসক ক্যান্সার বলে অনুমান করেন। তাই ঢাকায় এসে চিকিৎসা নিতে বলা হয়।

কিন্তু পেশায় দিনমজুর স্বামী আবুল কালামের পক্ষে সে ব্যয় বহন করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। পরে কিছু অর্থ জোগাড় করে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে (এনআইসিআরএইচ) আসেন।

বহির্বিভাগে চিকিৎসক দেখালে আমেনাকে কিছু পরীক্ষা দেওয়া হয়। সেগুলো নিয়েই এখন দুশ্চিন্তা। কারণ তার যে সমস্যা তা শনাক্তে যে যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করা হয়, সবগুলোই এ হাসপাতালের অচল। পরীক্ষাগুলো তাই করতে হবে বাইরের কোনো ডায়াগনস্টিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বতর্মানে সিটিস্ক্যান, এমআরআই ও মেমোগ্রাফি—প্রধান এ তিন যন্ত্রের সবগুলোই অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে সব মিলিয়ে আটটি রেডিওথেরাপি যন্ত্র ছিল। এর মধ্যে চারটি বহুদিন ধরে অকেজো, আর দুটি যন্ত্র মেরামত-অযোগ্য।

স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে অসংক্রামক রোগে যত মৃত্যু হয়, তার মধ্যে অন্যতম ক্যান্সার। বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশেও ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু ক্যান্সার দ্রুত শনাক্ত করতে না পারলে চিকিৎসা জটিল হয়ে ওঠে এবং মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।

কিন্তু এ দুই জায়গাতেই পিছিয়ে আছে জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটির এমআরআই, মেমোগ্রাফি ও সিটিস্ক্যান মেশিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র নষ্ট হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন।

রেডিওথেরাপি মেশিনও মাত্র দুটি, যা রোগীর তুলনায় যথেষ্ট নয়। ফলে ক্যান্সার শনাক্তের পরীক্ষা-নিরীক্ষা অন্য জায়গা থেকে করাতে হয়। এতে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে বহু গুণে। জরুরি ভিত্তিতে তাই যন্ত্রগুলো চালু করা বা নতুন যন্ত্র স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি।

পত্রিকা

প্রথম আলো পত্রিকার আজকের শেষ পাতার খবর- 'চাহিদা থাকলেও ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি বন্ধ'

এই সংবাদে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি সামান্য কমলেও প্রায় তিন বছর ধরে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ১০ শতাংশের আশপাশে। দীর্ঘ এই মূল্যস্ফীতির চাপে পড়ে তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার ১০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশ। আর উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে খাবারের জোগান দিতে পরিবারের আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশ ব্যয় হয়ে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক এমন চাপ থেকে স্বল্প মানুষদের কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকার ভর্তুকি মূল্যে ট্রাকে পণ্য বিক্রি করে থাকে। কিন্তু চাহিদা সত্ত্বেও এক মাস বিক্রির পর এ মাসের ১৩ তারিখ ট্রাক সেল বন্ধ করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, শহরাঞ্চলে সামাজিক সুরক্ষার তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। তাই উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে কম আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে টিসিবির ট্রাক সেল অব্যাহত রাখা উচিত। তবে বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং ব্যাপক ভর্তুকির কথা বলছেন সরকারি কর্মকর্তারা।

বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও টিসিবি কেন নিয়মিত ট্রাক সেল করছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক (বাণিজ্যিক) মো. শাহাদত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, 'ফ্যামিলি কার্ড চালুর পর থেকে আমরা ট্রাক সেল থেকে সরে এসেছি। কিন্তু রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে তা সীমিত সময়ের জন্য চালু করা হয়েছিল। আমাদের ভর্তুকির নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ রয়েছে। এক কোটি পরিবারের ক্রয় ও বিতরণের জন্য লোকবল নিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। সব মিলিয়ে এটা কত দিন চলবে বা আবার কবে শুরু হবে, সেটা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়।'