'সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা'

সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতারা— আজকের পত্রিকা’র প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর জনরোষ থেকে বাঁচতে এবং গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য (এমপি), দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাসহ পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এরই মধ্যে অনেকে গোপনে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশ ছেড়েছেন। দালাল ও ইমিগ্রেশনকে ‘ম্যানেজ’ করে পালাতে গিয়ে প্রতারণার শিকার কেউ কেউ গ্রেফতারও হচ্ছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কয়েকজন সাবেক মন্ত্রী ছাড়া অধিকাংশ ব্যক্তি দেশ ছাড়ার জন্য ভারত সীমান্ত বেছে নিয়েছেন। দেশত্যাগের জন্য তারা যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, সিলেট, দিনাজপুরের হিলি ও পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত ব্যবহার করেছেন।
তারপর তারা ভারতের ত্রিপুরা, আগরতলা, আসাম ও মেঘালয় রাজ্যে অবস্থান নিয়েছেন। সেখান থেকে কেউ দুবাই, কেউ জার্মানি, কেউবা যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের পারাপারের কাজে বিভিন্ন সীমান্তে গড়ে উঠেছে একাধিক চক্র। এ চক্রের সদস্যরা প্রভাবশালীদের পার করে দিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন বাংলাদেশে— বণিক বার্তা পত্রিকার প্রধান শিরোনামে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার এখন পাকিস্তানের চেয়েও বেশি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আগস্টে এ হার কিছুটা কমলেও তা দুই অংকের ঘরেই রয়েছে এখনো। গত মাসে দেশে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
সেক্ষেত্রে, গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি এখন সর্বোচ্চে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, নেপাল ও ভুটান।
এ সাত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এ অঞ্চলে সবচেয়ে কম মূল্যস্ফীতি এখন শ্রীলংকায়। আগস্টে শ্রীলংকায় মূল্যস্ফীতির হার ছিল মাত্র দশমিক পাঁচ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এক দশমিক চার শতাংশ মূল্যস্ফীতি রয়েছে মালদ্বীপে।
ভুটানে দুই দশমিক শূন্য চার, নেপালে তিন দশমিক ৫৭, ভারতে তিন দশমিক ৬৫ ও পাকিস্তানে নয় দশমিক ৬৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে।

Army given magistracy power, অর্থাৎ সেনা কর্মকর্তাদের দেওয়া হলো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা—এটি দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।
এখানে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ৬০ দিনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।
এই ম্যাজেস্ট্রেসি ক্ষমতার অর্থ হল, একজন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মানুষকে আটক করতে ও হেফাজতে রাখতে পারবেন। আত্মরক্ষা ও বিশেষ প্রয়োজনে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতার অধিকারী ওই সেনা কর্মকর্তা গুলিও চালাতে পারবেন।
সরকারের এমন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, "আমরা বিভিন্ন জায়গায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং স্থিতিশীলতা ব্যাহত হতে দেখছি। বিশেষ করে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। এমন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সেনা সদস্যদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।"
এই খবরটি আজ দেশের প্রায় সব পত্রিকার প্রথম পাতায় এসেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের, তাদের ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না— এটি মানবজমিন পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। সেইসাথে, এটি মূলত আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশ।
গতকাল নয়া পল্টনে আয়োজিত সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মি. রহমান বলেছেন যে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফসল। তাই, এই সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।
প্রায় ১৭ মিনিটের ওই তিনি আরও বলেন, “এই সরকারের কোনও কোনও কার্যক্রম সকলের কাছে হয়তো সাফল্য হিসেবে বিবেচিত নাও হতে পারে। কিন্তু এই সরকারের ব্যর্থতা হবে আমাদের সকলের ব্যর্থতা। বাংলাদেশের পক্ষের গণতন্ত্রকামী জনগণের ব্যর্থতা। এটি আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে। সুতরাং, এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্য আজ আরও অনেক পত্রিকার প্রধান শিরোনাম হিসাবে স্থান করে নিয়েছে। যেমন— সমকাল, নিউ এজ, দৈনিক ইত্তেফাক, নয়া দিগন্ত ইত্যাদি।

পণ্য রপ্তানির আড়ালে বেক্সিমকোর অর্থ পাচার— প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান শিরোনামে বলা হচ্ছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে পোশাক রপ্তানির আড়ালে বেক্সিমকো ৯৫৭ কোটি টাকা পাচার করেছে।
রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের এই আয়োজন সম্পন্ন করেছে বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমানের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর আর গ্লোবাল।
বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি করেছেন পিতা। এই পণ্যের কাঁচামাল কিনতে রিজার্ভ থেকে ডলার ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই পণ্য দুবাইয়ে বসে কিনেছে পুত্রের প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ে সেই অর্থ দেশে আসেনি। এভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইসহ তিনটি দেশে আটকে গেছে প্রায় ৮ কোটি ডলার (৯৫৭ কোটি টাকা)।
বেক্সিমকো গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে গত ১২ বছরে তিনটি দেশে পোশাক রপ্তানি দেখিয়ে রাষ্ট্রমালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে এ অর্থ পাচার করা হয়েছে।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

সংস্কারে সঙ্গী হবে যুক্তরাষ্ট্র— দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, দেশ পুনর্গঠন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা ও চুরি যাওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
গতকাল রবিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ সহায়তা চান।
পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান যে তারা অন্তর্র্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তা দিতে আগ্রহী।
এই খবরটিও আজ দেশের অনেক পত্রিকায় এসেছে। তবে সমকাল পত্রিকায় এটি এসেছে ‘এ সরকারকে সময় দিচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায়’ শীর্ষক শিরোনামে।

Female RMG worker killed in clash— 'সংঘর্ষে নারী পোশাক শ্রমিক নিহত' এটি নিউ এজ পত্রিকার দ্বিতীয় শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী তৈরি পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন।
নিহতের নাম রোকেয়া বেগম (৩৫)। তিনি জিরাবো এলাকায় ম্যাসকট গার্মেন্টস লিমিটেডের কারখানায় সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর ছিলেন।
তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক জানান, সকালে মাসকট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বন্ধ কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে।
“ম্যাসকট কারখানার শ্রমিকরা নিকটবর্তী রেডিয়েন্স গার্মেন্টসে হামলা চালালে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সেই সংঘর্ষে রোকেয়ার মৃত্যু হয়।”

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
সাড়ে ৩ কোটির জমিতে হাজার কোটি ঋণ— এটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, আটা, ময়দা ও সুজির একটি কারখানায় এক হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।
এই কারখানার নাম সিলভার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, যার অবস্থান চট্টগ্রাম নগরীর সাগরিকা বিসিক শিল্প এলাকায়। কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব জমি বন্ধক নিয়ে এই ঋণ ছাড় করা হয়েছে, সেগুলোর মৌজামূল্য মাত্র সাড়ে তিন কোটি টাকা। এমনকি ওই জমির দলিলও ভুয়া বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে।
ঋণ প্রদান সংক্রান্ত নথিপত্রে দেখা গেছে, গত বছরের ৬ এপ্রিল থেকে ১৫ মে দেড় মাসের মধ্যে ‘বাই মুরাবাহা (ব্যাংকের জিম্মায় পণ্য সংরক্ষণ করে ব্যবসা পরিচালনা)’ ক্যাটাগরিতে ৮৫০ কোটি টাকা সিলভার ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের নামে ঋণ ছাড় দেয় ইসলামী ব্যাংক। বাকি ১৫০ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড বিনিয়োগ সীমা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলভার ফুডের ওই ব্যাংকে কোনো পণ্য আমদানির রেকর্ড নেই। ঋণের বিপরীতে কারখানার ভবন কাম গোডাউনসহ ২২ হাজার ২৯০ বর্গফুটের দুটি প্লট, ঢাকার নারায়ণগঞ্জে ৪৭২ শতক জমি ও প্রজেক্ট মেশিনারিজ কোলাটারেল বা জামানত হিসেবে দেখানো হয়েছে, যার ভ্যালু বা মূল্য দেখানো হয়েছে ১০৯ কোটি টাকা।

দ্বন্দ্ব উসকে দেয়ার মিশন আ’লীগের— এটি নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বিদেশে বসে প্রতিবিপ্লবের মাধ্যমে এখনও সরকার হটানোর ছক কষছেন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দেশের ভেতরে আত্মগোপনে থাকা দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের মাঠপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সক্রিয় রয়েছেন বলে একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে জানা গেছে।
যুবলীগের এক সহ-সম্পাদকের বরাতে বলা হয়, আওয়ামী লীগকে হটিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে ছাত্ররা সরকার গঠন করতে পারলেও তারা শান্তিতে থাকতে পারবে না। দাবিদাওয়াসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করছে এবং সামনের দিনগুলোতে এরকম আরও আন্দোলনের কর্মসূচি দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েক স্তরে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের লোক রয়েছে। যারা এখনো বিভিন্ন মাধ্যমে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।”









