পত্রিকা: 'ভারতীয় পুলিশের কাছে তুলে দিয়ে নির্যাতন চালানো হতো কলকাতায়'

পত্রিকা
ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের পত্রিকা
Published
পড়ার সময়: ১০ মিনিট

'ভারতীয় পুলিশের কাছে তুলে দিয়ে নির্যাতন চালানো হতো কলকাতায়' এটি নয়া দিগন্তের শিরোনাম। এই খবরে বলা হচ্ছে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) গুম করার পর বেদম নির্যাতন চালিয়েছে। এরপর ভারতের পুলিশের কাছে তুলে দিলে পাসপোর্ট ছাড়াই কলকাতায় নিয়ে জেলে রাখা হয়।

সেখানেও চলে দফায় দফায় নির্যাতন। সাড়ে তিন মাস রেখে দেয় কলকাতা কারাগারে। ভারতের আরেকটি জেলখানায় নিয়েও চালানো হতো নির্যাতন।

পরে পুশইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কথাগুলো বলছিলেন গুম হওয়া রহমতুল্লাহ। তিনি জানান, '২০২৩ সালে র‍্যাবের একটি দল আমাকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর জম টুপি পরিয়ে হাত বেঁধে একটি ছোট রুমে ৯ মাস আটকে রাখে।'

''তখন তারা আমাকে বলে তোকে একদল মেরে ফেলতে চায়। আমরা চাই তুই বেঁচে থাক। পরে আমাকে ভারত পাঠিয়ে দেয়।''

গতকাল রহমতুল্লাহর সাথে কথা হলে তিনি সেই দিনগুলোর স্মৃতি মনে করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন। গুমের শিকার আরেক ব্যক্তির স্ত্রী গতকাল জানান, ২০১৯ সালে তাঁর স্বামী ইসমাইল হোসেনকে র‍্যাব গুম করে।

তিনি বলেন, ''আমাদের আনন্দ বলতে কিছুই নেই। আমার স্বামীকে গুম করার পর আজ পর্যন্ত কোনো বিচার হয়নি। আমি বেঁচে থাকতে তা দেখে যেতে পারব কি না জানি না। আশা করেছি নতুন সরকারের সময় বিচার পাবো।''

পত্রিকা

খবরে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদ বিষয়ে মতভিন্নতা কমিয়ে আনতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে বৈঠক থেকে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মন্ত্রিপাড়ায় বৈঠকটি হয় বলে দুদলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকের আগে বিকেলে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এবি পার্টি এবং খেলাফত মজলিস একটি বৈঠক করে।

তাতে জুলাই সনদ ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না- এমন মনোভাব তুলে ধরে দলগুলো। প্রয়োজনে সনদের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কথাও বলা হয় বৈঠকে।

রাজনৈতিক সূত্রগুলো সমকালকে বলেছে, মূলত বিএনপির সঙ্গে বৈঠকের আগে জামায়াত এই দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং সবার মতামত বিএনপির কাছে তুলে ধরে।

তবে বিএনপি ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং নির্বাচনের আগে সংবিধান সংস্কারের বিপক্ষে তাদের আগের অবস্থানের কথাই জানায়।

জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ।

যুগান্তরের শিরোনাম 'পাচার ২২ লাখ কোটি টাকা'। খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ব্যাংক খাতে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার ও ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। যার বেশির ভাগ সংঘটিত হয় ঋণপত্র বা এলসির মাধ্যমে।

পণ্য আমদানির নামে এলসি খুলে কথিত পণ্য দেশে না আনা এবং কম পরিমাণে পণ্য আমদানি করে এর চেয়ে বেশি অর্থ পরিশোধ করে দেশ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচার করা হয়েছে।

এভাবে শুধু এলসির আড়ালেই পাচার করা হয়েছে ২২ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার করে এস আলম গ্রুপ। এরপরই রয়েছে বেক্সিমকো গ্রুপ। নাসা গ্রুপের পাচারের টাকাও কম নয়। এছাড়া রপ্তানির আড়ালে বিসমিল্লাহ ও ক্রিসেন্ট গ্রুপের টাকা পাচারের প্রমাণ মিলেছে।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে বেরিয়ে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।

এর মধ্যে আমদানি ও রপ্তানির আড়ালে ৭৫ শতাংশ অর্থ পাচার হলে এর পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৭ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকা।

পত্রিকা

আজকের পত্রিকার শিরোনাম 'নারীর ৬০ শতাংশ কোটা বাদ'। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীর ৬০ শতাংশ কোটা বাদ দেওয়া হয়েছে ; সেই সঙ্গে পোষ্য ও পুরুষ কোটাও।

শুধু মুক্তিযোদ্ধা , শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তান , ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী , শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য মোট ৭ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। বাকি ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে।

এই নিয়োগ হবে উপজেলা অথবা প্রয়োজনে থানাভিত্তিক। গত বৃহস্পতিবার রাতে জারি হওয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা , ২০২৫ - এর প্রজ্ঞাপন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বিধিমালার তথ্য বলছে, সহকারী শিক্ষকের ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে । এর মধ্যে ২০ শতাংশ পদ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা এবং ৮০ শতাংশ পদ অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের দ্বারা পূরণ করা হবে।

আর বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা , শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য ১ শতাংশ এবং ১ শতাংশ থাকবে শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য।

তবে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাক্রম অনুযায়ী এসব পদ পূরণ করা হবে। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হতে হবে ন্যূনতম স্নাতক । শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় শ্রেণি থাকা যাবে না।

পত্রিকা

প্রথম আলোর শিরোনাম 'বাসা, কারখানাও রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়'। সরু গলির শেষ মাথায় পুরোনো ও জংধরা টিনের কয়েকটি ঘর। খবরে বলা হচ্ছে, প্রতিটি ঘর এক কক্ষের। খেটে খাওয়া মানুষ অল্প টাকায় এসব ঘর (ছাপরা হিসেবে পরিচিত) ভাড়া নিয়ে সংসার পেতেছেন।

এর মধ্যে একটি ঘর অবশ্য ব্যতিক্রম। সেখানে কেন্দ্রীয় কার্যালয় খুলেছে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্য বিবেচিত হওয়া ২২টি দলের মধ্যে অন্যতম জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাজাহান সিরাজ)।

রাজধানীর কল্যাণপুরের ১৩ নম্বর সড়কে ওই টিনের ঘর থেকেই রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাচ্ছে দলটি। নিবন্ধনের যোগ্য বিবেচিত হওয়া আরেকটি দল 'বাংলাদেশ সলুশন পার্টি'। তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় গাজীপুরের কাপাসিয়ার গ্রামে পোশাক তৈরির একটি ছোট কারখানায়।

এই কারখানা অবশ্য এখন বন্ধ আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বেকার সমাজ (বাবেস) তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় হিসেবে যে ঠিকানা দিয়েছে, সেটি আসলে দলটির সভাপতির ছেলের বাসা।

যোগ্য বিবেচিত হওয়া ২২টি দলের বিষয়ে ২৩শে থেকে ২৫শে আগস্ট পর্যন্ত তিন দিন সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রথম আলো। এই দলগুলো কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের যে ঠিকানা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া নিবন্ধন আবেদনে উল্লেখ করেছে, তার প্রতিটি পরিদর্শন করেছে প্রথম আলো। এর মধে ১৯টি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় রাজধানী ঢাকায়। বাকি তিনটি দলের কার্যালয় সাভার, কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরের কাপাসিয়ায়।

তার মধ্যে ৪টির কেন্দ্রীয় কার্যালয় আবাসিক ভবনে বা বাসাবাড়িতে। এ ৪টি দল হলো বাংলাদেশ বেকার সমাজ, বাংলাদেশ জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-শাজাহান সিরাজ) এবং জনতার দল।

পত্রিকা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও জোট নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিএনপি। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদেরও নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে দলটির হাইকমান্ড।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের ভোটারদের দোরগোড়ায় যাওয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা ছুটছেন নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায়। করছেন সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক।

ওদিকে সমমনাদের সঙ্গে নিয়েই জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএনপি। এক্ষেত্রে নির্বাচনকেন্দ্রিক জোট হবে, নাকি সমঝোতা হবে- তা শিগগিরই চূড়ান্ত করা হবে।

এ ছাড়া দলের প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য জেলা ও উপজেলা কমিটির কাছ থেকে তথ্য নেবে বিএনপি। মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের জন্য একটি স্বাধীন কমিটিও গঠন করবে দলটি।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। রোডম্যাপকে বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলনের দল এবং জোটগুলো স্বাগত জানালেও ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন ও এনসিপি। রোডম্যাপে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন হয়নি বলে জানিয়েছে জামায়াত।

রোডম্যাপ নিয়ে বিএনপি'র ভাষ্য, নির্বাচন নিয়ে এখন কোনো রকমের সংশয় ও শঙ্কা নেই। এখন মানুষ ও জনগণ নির্বাচনমুখী হয়ে গেছে। দেশে নির্বাচনি পরিবেশ ও আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচনের বিপক্ষে কোনো বক্তব্য কোথাও ঠাঁই পাবে না বলেও মনে করছে দলটি।

ওদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে অনেক আগে থেকেই নেয়ার জন্য নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি'র হাইকমান্ড। নির্দেশনা অনুযায়ী ৩১ দফা নিয়ে সারা দেশে জেলা, উপজেলায় সভা, সমাবেশ ও সেমিনার করছে দলটি। জনগণের ভোটে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কী কী করবে, সে বিষয়েও বার্তা দেয়া হচ্ছে।

পত্রিকা

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম, 'Only 5% road crash victims get compensation' অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ ক্ষতিপূরণ পায়।

খবরে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়া ভুক্তভোগীর সংখ্যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া এবং সচেতনতার অভাবের কারণে বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়েছেন।

কর্মকর্তাদের মতে,সড়ক দুর্ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে আবেদনের সঙ্গে কমপক্ষে অর্ধ ডজন নথি জমা দিতে হয়। ফলে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটি শেষ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৪৭১ জন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাদের পরিবারের সদস্য মোট ৬৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যেখানে এই সময়ের মধ্যে মোট হতাহতের সংখ্যা ছিল ৩১ হাজার ৯০৪ জন।

এর অর্থ হল ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সরকার ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ প্রদান শুরু করার পর থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি গণনার পাঁচ শতাংশেরও কম প্রাপক। তবে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

গত তিন মাসে মোট ৩৫২ জন দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন, যেখানে আগের ২৮ মাসে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১১৯ জন।

ইংরেজি দৈনিক নিউজ এজের শিরোনাম 'Families of victims still cry for justice. খবরে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে জোরপূর্বক গুমের শিকারদের পরিবার এখনও ন্যায়বিচারের জন্য কাঁদছে, কারণ তাদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ, অনেকে গোপন আটক থেকে ফিরে এসেছেন এবং অনেককে নিখোঁজের পর মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

যারা এখনও নিখোঁজ তাদের পরিবারের সদস্যরা তাদের নিকটাত্মীয়দের অবস্থান জানতে চান। অন্যদিকে যারা ফিরে এসেছেন বা মারা গেছেন, তারা ভুক্তভোগীদের জোরপূর্বক গুমের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি চান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের তিন দিন পর ৮ আগস্ট ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তদন্ত এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেয়। ২৭ আগস্ট জোরপূর্বক গুমের তদন্ত কমিশন গঠন করে।

কমিশনটি ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের মধ্যে আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত ১ হাজার ৩৫০টি জোরপূর্বক গুমের ঘটনা তদন্ত করছে। এর মধ্যে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ।

জোরপূর্বক গুমের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল কিন্তু অপরাধীদের এখনও আইনের আওতায় আনা হয়নি।

পত্রিকা

বণিক বার্তার আজকের শিরোনাম 'স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দে এশিয়ার অন্যতম সর্বনিম্ন বাংলাদেশ'। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, আয়ুষ্কাল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭২ বছরের বেশি।

টিকাদান কর্মসূচি প্রায় শতভাগ বাস্তবায়িত হয়েছে। কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় গড়ে উঠেছে বড়সংখ্যক দক্ষ জনবল। সীমিত সম্পদ দিয়েই এসেছে এসব সাফল্য।

তবে এখনো জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে অবকাঠামো থাকলেও চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও ওষুধের ঘাটতি প্রকট। আছে অব্যবস্থাপনা ও অদক্ষতা।

সরকারি বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত। সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যসেবায় পরিচালন ব্যয় ও বিনিয়োগে এশিয়ার স্বল্প ব্যয়ের দেশ এখনো বাংলাদেশ।

এশিয়ার দেশগুলোয় স্বাস্থ্য খাতে সরকারের পরিচালন ব্যয়ের হার যে দেশগুলোয় কম, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। ফলে জনবল সংকট, চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি ও সেবার মানহীনতা থেকেই যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিট (এইচইউ) ২০২৩ সালের জুলাইয়ে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 'রিভিউ অব বাংলাদেশ হেলথ কেয়ার ফাইন্যান্স স্ট্র্যাটেজি ২০১২-৩২' শীর্ষক এ প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করে সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ইত্তেফাকের খবর 'বাড়ছে স্থূলতা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে দেশ'। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে স্থূলতা। আগে এ সমস্যাকে শুধু শহুরে রোগ হিসেবে দেখা হলেও এখন গ্রামাঞ্চলেও মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাস্টফুড, কোমল পানীয় ও ভাজাপোড়া খাবারের প্রতি আকর্ষণ, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা, মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব, হরমোনজনিত জটিলতা ও বংশগত কারণ এই সমস্যার জন্য দায়ী।

স্থূলতা শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য কমিয়ে দেয় না, বরং এটি বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়ায়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হূেরাগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, অস্থিসন্ধিজনিত ব্যথা এবং এমনকি কিছু ক্যানসারের সঙ্গেও স্থূলতার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ফলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেশের জন্য 'নীরব মহামারি' হিসেবে অভিহিত করছেন।

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভের (বিডিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নারীদের মধ্যে অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতার হার ৪৫.৬ শতাংশ এবং পুরুষদের মধ্যে ৩২.৬৭ শতাংশ। ইউনিসেফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে স্থূলতার হার ৯.৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০০০ সালে দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্থূলতার হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ, যা ২০২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ শতাংশে। গবেষকরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে এ হার ২৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে বিশ্বে ৮০ কোটির বেশি মানুষ স্থূলতায় ভুগছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে এ সংখ্যা চার গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪০০ কোটিতে।