পত্রিকা: 'রাজনীতির অন্তরালে নতুন অঙ্ক'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

'রাজনীতির অন্তরালে নতুন অঙ্ক' এটি নয়াদিগন্তের শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলার পর রাজনৈতিক অঙ্গন আবার সরগরম হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ-অধিকার পরিষদের সংঘর্ষ এবং পরে সেনা-পুলিশের লাঠিপেটায় নুরসহ বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে নতুন হিসাব-নিকাশ চলছে।

ঘটনাটি কেবল তাৎক্ষণিক সহিংসতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়,বরং আগামী নির্বাচন ও জাতীয় রাজনীতির ভবিষ্যৎ অঙ্কের সাথেও জড়িয়ে গেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

রাজনীতিতে এখন প্রধানত দুটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে- এক, জাতীয় পার্টিকে ঘিরে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কি শুরু হয়েছে?

আর দুই, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দলের আসনে বসানোর কোনো গোপন প্রচেষ্টা কি চালানো হচ্ছে?

গণঅধিকার পরিষদ বরাবরই জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে 'ফ্যাসিবাদের দোসর' আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। তবে এতদিন সেটি খুব আলোচনায় না এলেও নুরের ওপর হামলার পর এই দাবি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে।

'রাজনীতিতে উত্তাপ, আজ যমুনায় জরুরি বৈঠক' প্রথম আলোর শিরোনাম। খবরে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভিন্নতার মধ্যেই হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আজ রোববার বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার রাতে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে ঘিরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের লাঠিপেটায় নুরুল হকের আহত হওয়ার ঘটনায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারসহ দেশের প্রায় সব দল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে গতকাল শনিবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের এক সভায় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানা গেছে, বিএনপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিকেল সাড়ে চারটায় ও এনসিপির সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

'ঝুলে যাচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ!' যুগান্তরের শিরোনাম এটি। খবরে বলা হচ্ছে, ঝুলে যাচ্ছে বহু কাঙ্ক্ষিত 'জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫'! সনদের দুটি বিষয় নিয়ে আগেই সনদের আইনি ভিত্তি।

দ্বিতীয়ত, নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দেওয়া সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন। অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দূরত্ব কমেনি। কোনো দল ছাড় দেবে সে ইঙ্গিত মেলেনি।

রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিত খসড়ার ওপর যে মতামত দিয়েছে, সেখানে প্রত্যাশার প্রতিফলন নেই। ঐকমত্যে না এসে রাজপথের হুমকি দিচ্ছে দলগুলো। এক্ষেত্রে নিজেদের পক্ষ ভারী করতে অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

ফলে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও আইনি ভিত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এতে নির্ধারিত সময়, ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুলাই সনদ ঘোষণা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ দলগুলোর দূরত্ব কমাতে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আজ বৈঠক করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

জানতে চাইলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই সনদ ঝুলে যাবে কিনা তা আমি বলতে পারব না। এটি আপনাদের বিশ্লেষণ। তবে আমাদের জায়গা থেকে কাজ করছি।

কালের কণ্ঠের শিরোনাম 'রাজনীতিতে উত্তাপ, শঙ্কা'। এ খবরে বলা হচ্ছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে একধরনের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠার মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সংঘর্ষ, নুরুল হক নুরের ওপর নৃশংস হামলা দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়িয়েছে।

দেশের নানা এলাকায় জাতীয় পার্টির অফিস ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

গতকাল শনিবার অন্তর্বর্তী সরকারের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নূরের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, 'সরকার দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছে যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন যথাসময়ে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন বিলম্বিত বা বানচাল করার জন্য সব ষড়যন্ত্র, বাধা অথবা প্রচেষ্টা দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে।'

আর চার মাস পরে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এরই মধ্যে নির্বাচনী রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে কমিশনের পক্ষে বলা হয়েছে, এবারের নির্বাচন হবে ইতিহাসের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচন।

ইসির এই রোডম্যাপ ঘোষণাকে বিএনপি ও তাদের মিত্র দলগুলো স্বাগত জানালেও জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভালোভাবে নেয়নি।

সমকালের শিরোনাম 'ফলাফলে শিক্ষকের বৈষম্যের শিকার ৬০% শিক্ষার্থী'। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রে শিক্ষকের দ্বারা বৈষম্যের শিকার হন ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাস দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে ফলাফলে বৈষম্যের পাশাপাশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী।

সহপাঠী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও কর্মচারীদের দ্বারাও শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হন বলে জরিপে উঠে এসেছে।

শিক্ষার্থীরা প্রধানত লিঙ্গভিত্তিক, ধর্মীয়, শারীরিক ও জাতিগত বৈষম্যের শিকার হন বলে জরিপে দেখা গেছে। সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৪২ শতাংশ তরুণ-তরুণী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৫১ ও ছাত্র ৪৯ শতাংশ।

বৈষম্যের কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিষণ্ণতা, উদ্বেগ, একাকিত্ব ও পড়াশোনায় অনেকেই মনোযোগহীনতায় ভুগছেন।

গতকাল শনিবার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানায় আঁচল ফাউন্ডেশন।

'জাপার হঠাৎ সক্রিয়তায় উত্তাপ' আজকের পত্রিকার শিরোনাম। এ খবরটিতে জানা যাচ্ছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় পার্টির (জাপা)নড়াচড়ায় হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনীতি। দলটি নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে আবারও।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন,এর মূলে রয়েছে সুবিধার জন্য বারবার ভোল পাল্টানো জাপাকে ঘিরে তৈরি হওয়া সন্দেহ।

সংস্কার,জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর)নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)অনৈক্যের সময় জাপার এই সক্রিয়তা কয়েকটি দল সন্দেহের চোখে দেখছে।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'PRIMARY SCHOOLS: Dropouts up after 14 years of decline'.খবরে বলা হচ্ছে, গত ১৪ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পাওয়ার পর গত বছর স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার হঠাৎ করে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারি একটি প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

গত মাসের শেষের দিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই)প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান (এপিএসএস)২০২৪ অনুসারে,২০২৩ সালে ঝরে পড়ার হার ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে ঝরে পড়ার হার আকস্মিক বৃদ্ধির জন্য মুদ্রাস্ফীতিজনিত আর্থিক চাপ এবং শ্রমবাজারে প্রাথমিক প্রবেশসহ একাধিক কারণকে দায়ী করা হয়েছে। যার সবকটিই পরিবারগুলোকে স্কুলে পড়ার চেয়ে তাৎক্ষণিক বেঁচে থাকার অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করেছে।

মেয়েদের তুলনায় স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার ছেলেদের বেশি। ২০২৩ সালে ঝরে পড়া ছেলেদের হার ছিলো ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ।

২০২৪ সালে তাদের হার বেড়ে ১৯ দশমিক শুন্য দুই শতাংশ হয়েছে। মেয়েদের হার ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সারা দেশে ১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি শিশু পড়াশোনা করছে।

ইংরেজি পত্রিকা নিউ এইজের শিরোনাম 'Attack on Nur sparks outrage all over'. খবরে বলা হচ্ছে, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ-সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। শুক্রবার সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লাঠিচার্জে তিনি এবং বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন।

এই ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। শনিবার অনেক জেলায় বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা এই হামলার বিচার এবং দোষীদের জবাবদিহিতার দাবি জানায়।

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী,ইসলামী আন্দোলন,এবি পার্টি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং গণসংহতি আন্দোলন পৃথক বিবৃতিতে নূর এবং তার দলের নেতা-কর্মীদের ও তাঁর দলের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার অফিসের সামনে জাতীয় পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের একদিন পর, শনিবার সন্ধ্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে অজ্ঞাতপরিচয় একদল ব্যক্তি কাকরাইলে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা চালায়।

এ খবরে বলা হয়েছে, বণিক বার্তা আয়োজিত 'বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ ২০২৫'-এ বক্তারা বলেছেন, দেশের সব উন্নয়ন তখনই সার্থক হবে, যখন নাগরিকরা সুস্থ থাকবে। সুউচ্চ ভবন, বড় বড় সড়ক-সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ইট-পাথর, লোহালক্কড়নির্ভর উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে যদি মানুষ সুস্থ না থাকে।

দেশের টেকসই উন্নয়নে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন বক্তারা। 'বাংলাদেশ হেলথ কনক্লেভ ২০২৫'-এ প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, 'মানসম্মত মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া নাগরিক অধিকার। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ শতাংশেরও কম, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ কারণেও সরকারি-বেসরকারি খাতের সমন্বয় জরুরি।

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম-ঘাটতি কোথায় এবং প্রতি বছর কেন মানুষ বিদেশে অর্থ ব্যয় করে চিকিৎসা নিতে যায়, সেটা খতিয়ে দেখা উচিত বলেও মনে করি।'