আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
'পুলিশ লাঞ্ছিত হলে সর্বোচ্চ শক্তিপ্রয়োগ'
নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'পুলিশ লাঞ্ছিত হলে সর্বোচ্চ শক্তিপ্রয়োগ'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বুধবার সন্ধ্যায় ডিআইজি (অপারেশন) মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক বেতার বার্তায় বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্য জনসাধারণের হাতে মারধর বা লাঞ্ছিত হন, তবে পুলিশ সর্বোচ্চ শক্তি ব্যবহার করবে।
প্রতিটি জেলার এসপি এই বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিবেন। তবে এই বার্তার বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের কর্মকর্তারা কিছু জানাতে পারেননি।
পুলিশ বাহিনীতে এমন বার্তার পর বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কিছু পুলিশ সদস্য মনে করেন, পুলিশকে আরও শক্তিশালী হতে হবে, আবার কেউ কেউ চাইছেন, এই ধরনের নির্দেশনা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হোক।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের মধ্যে মনোবল অনেকটাই কমে গেছে এবং অপরাধীচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। খুন, ছিনতাই, ডাকাতি বেড়ে গেছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে দেশে ২৯৪ জন খুন হয়েছেন এবং এক হাজার ৪৪০ জন নারী-শিশু নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
এছাড়া, পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ট্রমা এবং মানসিক চাপে থাকা সদস্যরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ভয় পাচ্ছে। এতে করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে।
পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, '৬ মাসে পুলিশের ওপর ২২৫ হামলা, 'মব' নিয়ে উদ্বেগ'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত ছয় মাসে পুলিশের ওপর ২২৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বেশিরভাগ হামলা সংঘবদ্ধ জনতার মাধ্যমে "মব" তৈরি করে করা হয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা এলাকায় পুলিশের এক সদস্যের ওপর হামলা করা হয়, যার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ইউসুফ আলী কেঁদে ফেলেন, কারণ তার পোশাক ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে কিছু ঘটনায় আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হামলাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক দল বা অপরাধীচক্রও জড়িত। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তত ১৩টি আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা এবং রাজনৈতিক হুমকির ঘটনাও বেড়েছে।
বিশেষত, পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে মানুষের ক্ষোভের কারণে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশের ওপর হামলা বাড়লে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সুতরাং, রাজনৈতিক নেতাদের ও জনগণের উচিত পুলিশের কাজে সহযোগিতা করা, যাতে তারা নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে।
পুলিশ বাহিনীও কঠোর হওয়ার চিন্তা করছে, যেন আইন প্রয়োগে কোনো বাধা না আসে।
কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'দ্বৈত নাগরিকত্বে ঝোঁক বাড়ছে'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ১০১টি দেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যা ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৪৪টি নতুন দেশ যুক্ত করার মাধ্যমে সম্প্রসারিত হয়।
যদিও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, মন্ত্রী এবং এমপিরা এ সুযোগ নিতে পারেন না, তবে অনেকেই আইন ভেঙে দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে বড় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
সঠিক হিসাব না থাকলেও, প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি সরকারি সনদ পেয়েছেন।
বিশেষ করে ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তারা বৈধভাবে এই নাগরিকত্ব গ্রহণ করছেন, তবে সরকারি চাকরি করা ব্যক্তিরা এটি নিতে পারেন না।
অনেক মানুষ দ্বৈত নাগরিকত্ব নেন উন্নত জীবনযাপনের এবং আর্থিক সচ্ছলতা অর্জনের জন্য।
কিন্তু কিছু অবৈধ নাগরিকত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি, বিশেষত সাবেক মন্ত্রী ও এমপিরা, বিভিন্ন অভিযোগের সম্মুখীন হচ্ছেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেলেও, বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'টান পড়বে রোহিঙ্গাদের খাবারে, বিপর্যয়ের শঙ্কা'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তার সংকট ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) তাদের সহায়তা অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছে, ফলে প্রতিটি রোহিঙ্গার খাদ্য রেশন ১২ দশমিক ৫০ ডলার থেকে কমিয়ে ছয় ডলারে নামানো হয়েছে।
এই সংকট রোহিঙ্গাদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও আইনশৃঙ্খলার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়ে যেতে পারে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে।
মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রচেষ্টা সফল হয়নি এবং তাদের অধিকাংশের জন্য সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে চাপ বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য ৯০০ মিলিয়ন চেয়ে পাওয়া গেছে ৬০০ মিলিয়ন। ২০২৩ সালে রোহিঙ্গাদের জন্য ৮৭ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৯ হাজার ৬০০ কোটি টাকা চেয়ে মিলেছে এর ৫০ শতাংশ।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জেআরপিতে ৪৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও পাওয়া যায় ৩১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। ২০১৮ সালে প্রতিশ্রুত ১০০ কোটি ডলারের বিপরীতে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ২০১৯ সালে ৯২ কোটি ডলারের বিপরীতে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার পাওয়া গিয়েছিল। ২০২০, ২০২১ ও ২০২২ সালে প্রতিশ্রুতির চেয়ে যথাক্রমে ৬০, ৭৩ ও ৬৩ শতাংশ সহায়তা পাওয়া গেছে।
তবে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বাংলাদেশের সফরের সময় রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতি এবং বাজেট সংকট নিয়ে আলোচনা করবেন।
রোহিঙ্গাদের জন্য খাদ্য সহায়তা, বাসস্থান, পানি এবং নিরাপত্তা সেবা দেয়ার জন্য আরও সহায়তার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'আইসিডিডিআর,বির শীর্ষ অর্থের জোগানদাতা ছিল ইউএসএআইডি'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আইসিডিডিআর,বি (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান যা ডায়রিয়া, কলেরা এবং অন্যান্য সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।
এই প্রতিষ্ঠানটি বেশিরভাগ অর্থায়ন পায় আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলি, বিশেষ করে মার্কিন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (ইউএসএআইডি) থেকে। ইউএসএআইডি এই প্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে বেশি অর্থ সাহায্য করে।
তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক নির্বাহী আদেশে ইউএসএআইডির সহায়তা স্থগিত হয়ে গেছে।
এর ফলে আইসিডিডিআর,বি-র গবেষণা প্রকল্পে কাজ করা এক হাজারেরও বেশি কর্মী চাকরিচ্যুত হয়েছেন। এই সংকট দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আইসিডিডিআর,বি সাধারণত দুটি ধরনের অনুদান পায়—একটি হচ্ছে আনরেস্ট্রিকটেড গ্র্যান্টস (যেগুলো স্বাধীনভাবে ব্যয় করা যায়), এবং অন্যটি হচ্ছে রেস্ট্রিকটেড গ্র্যান্টস (যেগুলো নির্দিষ্ট প্রকল্পের জন্য ব্যয় করতে হয়)।
ইউএসএআইডি ২০২৩ সালে আইসিডিডিআর,বিকে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অর্থায়ন করেছে। এই অর্থায়ন বন্ধ হয়ে গেলে, যক্ষ্মা, পোলিও, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলি থমকে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশী তহবিলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের নিজস্ব বাজেট বাড়ানো প্রয়োজন।
আজকের কাগজের প্রধান শিরোনাম, 'ফেরত পাঠাতে ৫০০ জনকে চিহ্নিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর, তার সরকার অবৈধভাবে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে।
এদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০-৫০০ নাগরিককেও চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তাঁদের ফেরত পাঠানো হতে পারে।
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবৈধ হয়ে পড়া ব্যক্তিদের বাংলাদেশে পাঠানো শুরু করেছে, এবং প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৬-৭ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন বৈঠক করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সরকারি দপ্তরগুলো বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো নাগরিককে ফিরিয়ে নেওয়ার নীতি সকল দেশের জন্য প্রযোজ্য এবং কোনো দেশের নাগরিককে ফেরত না নিলে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ার সুযোগের উপর প্রভাব পড়তে পারে।
যারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত আসছেন, তাদের বেশিরভাগই বৈধ পাসপোর্ট থাকলে বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফিরছেন।
তবে, যদি কোনো ব্যক্তি বৈধ পাসপোর্ট না থাকে, তাহলে তাঁকে একটি বিশেষ পারমিট দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়। সরকার বিমানবন্দরে তাদের সহায়তা করবে।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'Teacher crisis plagues public med colleges'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট চলছে, যার ফলে শিক্ষার মানে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর ৪৩ শতাংশ শিক্ষক পদ খালি রয়েছে। বিশেষত, অধ্যাপক পদে ৬৫ শতাংশ, সহকারী অধ্যাপক পদে ৫১ শতাংশ এবং সহযোগী অধ্যাপক পদে ৪৫ শতাংশ পদ খালি আছে।
বর্তমানে ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে ৪টি কলেজে কোনো অধ্যাপক নেই এবং ১৮টি কলেজে মাত্র এক বা পাঁচজন অধ্যাপক আছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে ভবিষ্যৎ চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
নতুন মেডিক্যাল কলেজগুলোর শিক্ষক সংকট আরও গুরুতর, যেখানে অধ্যাপক পদগুলোর ৭৫ শতাংশ খালি রয়েছে।
এছাড়া, দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষক পদোন্নতি না হওয়ায় এই সংকট আরও বাড়ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বিষয়টি সমাধানে প্রচেষ্টা চলছে এবং আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আসার আশা রয়েছে।
তবে, শিক্ষক সংকট কাটাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
নিউ এজের প্রধান শিরোনাম, '83,500 applications pending' অর্থাৎ, '৮৩,৫০০ আবেদন ঝুলে আছে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এমপিও সিস্টেমে কর্মরত শিক্ষকদের অবসর সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রায় ৮৩ হাজার ৫০০ আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থের অনিয়ম এবং পেনশন বিতরণের দেরি এই সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে, গত বছরের ৫ই অগাস্ট সরকান পরিবর্তনের পর প্রায় পাঁচ মাস ধরে পেনশন বিতরণ বন্ধ ছিল।
বর্তমানে ৪৪ হাজার ৫০০ আবেদন অবসর সুবিধা বোর্ডের কাছে এবং ৩৯ হাজার আবেদন কল্যাণ ট্রাস্টের এর কাছে পেন্ডিং রয়েছে।
শিক্ষকদের পেনশন দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদুদ্দিন মাহমুদ, যিনি বলেন, সাত হাজার থেকেআট হাজার কোটি টাকা তহবিলের অপব্যবহার হয়েছে।
অনেক শিক্ষক এই সুবিধা পেতে পাঁচ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করেছেন, এবং অনেককেই কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করতে হয়েছে।
এই অবসর সুবিধা বিতরণে এখনও সমস্যা রয়েছে। বোর্ড ও ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ জানান, মাসে এক হাজার আবেদন গড়ে জমা পড়ছে।
বর্তমানে অবসর সুবিধা দেওয়ার জন্য আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।
অবসর সুবিধা বিতরণে পাঁচ মাসের বিরতি এবং প্রশাসনিক জটিলতা ছিল, তবে জানুয়ারি থেকে আবার শুরু হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, 'Bangladesh to drop 11 projects from Indian LoC due to prolonged process' অর্থাৎ, 'দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণ রেখা থেকে ১১টি প্রকল্প বাতিল করবে বাংলাদেশ'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ভারতের সীমান্ত বা লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) এর আওতায় থাকা ৪০টি প্রকল্পের মধ্যে ১১টি প্রকল্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এর ফলে মোট এলওসি অর্থায়ন সাত দশিমক ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে চার দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার হবে। এই সিদ্ধান্তটি গত ৫-৬ই মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে নেওয়া হয়।
বৈঠকে আলোচনায় আসা যে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রয়েছে অথবা যেগুলো অনুমোদিত হলেও নির্মাণ শুরু হয়নি, সেগুলো বাতিল করা হবে।
বৈঠকে ভবিষ্যতে আমব্রেলা বেজড প্রজেক্ট আর এলওসি-এ অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ধীরগতির হওয়ায় অনেকেই সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে, প্রকল্পগুলোর প্রস্তাব তৈরির সময়সীমা, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং ভারতীয় কনসালটেন্টদের বাধ্যতামূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া সমস্যা সৃষ্টি করছে।
এতে প্রকল্পগুলোর নির্মাণ শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে এবং অর্থ ছাড়ের বিষয়েও জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশকে অতিরিক্ত সময় ছাড়া ঋণের মূলধন ও সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা দেশের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
বর্তমানে, বাংলাদেশ এবং ভারত যৌথভাবে একটি প্রযুক্তিগত কমিটি গঠন করবে, যা এলওসি থেকে বাদ পড়া প্রকল্পগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করবে।