পত্রিকা: 'দুদকের মামলার শীর্ষে সরকারি কর্মচারীরা'

নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, 'Public servants top ACC cases' 'দুদকের মামলার শীর্ষে সরকারি কর্মচারীরা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির পরিমাণ গত কয়েক বছরে অনেক বেড়েছে।
ঘুষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার হার সবচেয়ে বেশি।
দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় সরকারি কর্মকর্তারা এখন শীর্ষে, তারপর আছেন বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও জনপ্রতিনিধিরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্নীতির পরও শাস্তি না পাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দুর্নীতির প্রবণতা বেড়েছে। তাঁরা দ্রুত মামলা নিষ্পত্তি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরামর্শ দিচ্ছেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত দুর্নীতির ১৫৩টি মামলায় ৪৭৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ১৪৪ জন সরকারি কর্মকর্তা। অথচ ২০২৩ সালে সরকারি কর্মকর্তা অভিযুক্ত হয়েছিলেন মাত্র ১২০ জন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘুষ ছাড়া অনেক সরকারি দপ্তরে সেবা পাওয়া যেত না। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক জরিপ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মানুষ ঘুষ দিয়ে সেবা নিতে গিয়ে প্রায় এক দশমিক ৪৬ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে দুর্নীতি দমন কমিশনের অভিযান জোরদার হয়।
গত এক বছরে দুর্নীতির ৩৯৯টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে শেখ হাসিনা, তার পরিবার, প্রাক্তন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সেনা ও পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।
যদিও একসময় এ দুর্নীতি দমন কমিশনকে সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো, বর্তমানে কমিশন বলছে তারা প্রমাণের ভিত্তিতে, আইনের আলোকে কাজ করছে।
দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশ এবার আরো নিচে নেমেছে, সারা বিশ্বে ১৫১তম, দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ, আফগানিস্তানের পরেই।


বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য এক জটিল ও গভীর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কূটনৈতিক চেষ্টায় প্রত্যাবাসন এখনো সম্ভব হয়নি, বরং উল্টো প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ জন করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে।
গত এক বছরে এক লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা রাখাইন থেকে পালিয়ে এসেছে। এই নতুন অনুপ্রবেশ বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই অনুপ্রবেশ ঠেকানো।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শহীদুজ্জামান মনে করেন, কূটনৈতিক পথে সমস্যার সমাধান হবে না, বরং শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন আছে।
সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ ধরে রাখতে সচেষ্ট এবং সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে এই সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধানের ওপর জোর দেবে।
বাংলাদেশ মনে করে, রাখাইনে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে দুর্ভিক্ষ রোধ করা যেত এবং নতুন রোহিঙ্গা ঢলের আশঙ্কাও কমে যেত।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ৫৯তম অধিবেশনে গৃহীত রেজল্যুশনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
সামরিক সংঘর্ষ, মানবিক সংকট ও সহিংসতার কারণে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা আরও বাড়ছে এবং তাদের পালিয়ে আসাও থেমে নেই।

ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম, 'নির্বাচন নিয়ে অনৈক্য'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক অনৈক্য দেখা দিয়েছে।
বিএনপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা করছে, জামায়াত ও এনসিপি বলছে, নির্বাচনের আগে সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
কেউ কেউ সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতির দাবি তুললেও বিএনপি তাতে স্পষ্ট বিরোধিতা করছে। এর ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ আরও বেড়েছে।
নির্বাচন কমিশন ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতির কথা বললেও নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা নেই।
বিএনপি ও প্রধান উপদেষ্টার লন্ডন বৈঠকে ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ইঙ্গিত দিলেও জামায়াত ও এনসিপি এতে দ্বিমত পোষণ করেছে।
আবার, নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়া উচিত কিনা তা নিয়েও মতভেদ আছে। এনসিপি ও জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবিও তুলেছে।
এসব বিষয়ে সরকার এখনো স্পষ্ট অবস্থান না নেওয়ায় অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। পিআর পদ্ধতি নিয়েও দলগুলোর অবস্থান দ্বিধাবিভক্ত। কিছু দল পক্ষে, কিছু বিপক্ষে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলগুলোর মধ্যে আস্থা সংকট এবং একাধিক দাবি-সংস্কার নিয়ে মতানৈক্যের কারণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে দ্রুত সংলাপ, স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'বিএনপিতে শুদ্ধি অভিযান'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপিতে চলছে শুদ্ধি অভিযান। দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল ও অপরাধে জড়িত নেতাকর্মীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
'হাইব্রিড' ও 'নব্য বিএনপি' নামধারীরা বেশি এসব অপকর্মে জড়িত, যা তৃণমূলেও বিভাজন তৈরি করেছে। অনেক জায়গায় মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
হাইকমান্ড এখন এসব অপরাধে জড়িতদের তালিকা করে ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যন্ত কমিটিগুলো যাচাই-বাছাই করছে।
যাদের বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
গত ১১ মাসে ৫ হাজারের বেশি নেতাকর্মী বহিষ্কার এবং এক হাজারকে শোকজ করা হয়েছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন, দলের সুনাম নষ্টকারী বা অপরাধে জড়িতদের রেহাই নেই।
অনেকে অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের ছদ্মবেশী কর্মীরা বিএনপিতে ঢুকে ইমেজ নষ্ট করছে। এই পুশ-ইন চক্রের বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে।
বিভিন্ন ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বহিষ্কার করা হয়েছে। যেমন, লালমনিরহাট, কুমিল্লা, ঢাকার বনানী ও চিলমারীতে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বিএনপি বলছে, অপরাধমূলক কাজের বিরুদ্ধে তাদের 'জিরো টলারেন্স' নীতি রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির উচিত এখনই পরিষ্কার অবস্থান নিয়ে সৎ ও ত্যাগী নেতাদের সামনে আনা, না হলে এসব অপকর্মই দলকে বড় বিপদে ফেলতে পারে।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'বিএনপিকে আনুপাতিক উচ্চকক্ষে রাজি করাতে পিআর পদ্ধতির চাপ'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিএনপিকে ভোটের অনুপাতে (পিআর) সংসদের উচ্চকক্ষে রাজি করাতে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ কিছু দল চাপ তৈরি করছে।
যদিও বিএনপি এ প্রস্তাবে রাজি নয়, অন্যদিকে এনসিপি, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতির পক্ষে।
রাজনৈতিক দলগুলো মনে করে, উচ্চকক্ষে পিআর চালু হলে ক্ষমতাসীন দল এককভাবে সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না, যা অতীতে আওয়ামী লীগ করেছিল।
এ কারণে তারা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ চায়, যেখানে উচ্চকক্ষে ভোট অনুযায়ী আসন বণ্টন হবে। তবে বিএনপি চায়, এই আসন নির্ধারিত হোক সংরক্ষিত নারী আসনের মতো দলীয় সংসদ সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে।
এই দ্বিমতের কারণে বিএনপির ওপর রাজনৈতিক ও রাজপথের চাপ বাড়ছে। পিআর ব্যবস্থায় ছোট দলগুলোর সংসদে প্রতিনিধিত্ব বাড়বে, যা অতীতে তারা পায়নি।
জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন এ দাবিতে বড় সমাবেশ করছে এবং অন্যান্য দলকে একত্রিত করছে।
যদিও তারেক রহমান পিআর ব্যবস্থাকে বিভক্তি ও অস্থিতিশীলতার কারণ বলে আশঙ্কা করছেন, অন্যরা বলছে, এটি স্বৈরাচার রোধে কার্যকর হবে।
ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াত বিদ্যমান পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিলেও তারা পিআরের দাবিতে আন্দোলন করছে।
বিএনপি রাজি না হলে নির্বাচনী অনিশ্চয়তা বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে দলগুলো। এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদ পিআরের পক্ষে না থাকলেও রাজনৈতিক সংস্কারে একমত হওয়ায় তারা এসব দলের সঙ্গে সমাবেশে যাচ্ছে, যাতে সমঝোতা টিকে থাকে।

মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, 'নির্বাচন প্রশ্নে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন মতৈক্যে পৌঁছেছে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জামায়াতে ইসলামি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এই দুই বড় ইসলামপন্থি দল নির্বাচনী জোটে একমত হয়েছে, যদিও তাদের আদর্শ ও পথ ভিন্ন।
তাদের লক্ষ্য আগামী নির্বাচনে একত্রে অংশ নিয়ে ইসলামপন্থি ভোট এক বাক্সে আনা এবং বিএনপির বিকল্প হিসেবে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গঠন করা।
ইতিমধ্যে দুই দলের আমীরদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে এবং ২৮শে জুন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রকাশ্য সমাবেশে এই ঐক্যের বার্তা দেওয়া হয়।
সেখানে বলা হয়, ইসলামপন্থিরাই আগামীতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাবে। এ জোটে আরও অন্তত আটটি ইসলামী দল যুক্ত হয়েছে এবং অভিন্ন প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
চরমোনাই পীর ইসলামী ঐক্যের এই উদ্যোগ শুরু করেন এবং তার আহ্বানে অনেক ইসলামী দল ইতিমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে। জামায়াতও তার প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।
মাঠপর্যায়ে নেতাদের মতে, জনগণ এবার ইসলামী দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। এ জোট এক আসনে একজন প্রার্থী দেবে এবং ইসলামপন্থিদের ভোট ভাগ না হওয়ার কৌশলে কাজ করছে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বিএনপির ওপর অসন্তুষ্ট, যদিও জামায়াত এখনো বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
ইসলামী দলগুলো আশা করছে, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ঐক্য গড়ে তুলতে তারা সফল হবে এবং একটি বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'অনিশ্চয়তায় বিনিয়োগ তলানিতে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং মব সন্ত্রাসের কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ তলানিতে নেমে এসেছে।
গত এক বছরে বিভিন্ন আন্দোলন, শ্রমিক অসন্তোষ এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে।
এর ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ১৪ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম হয়েছে। ব্যবসা ও শিল্পে উৎপাদন কমে গেছে, কর্মসংস্থান তৈরি না হওয়ায় বেকারত্ব বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগ গত অর্থবছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ কমেছে। মূলধনী যন্ত্রপাতির আমদানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যার অর্থ নতুন শিল্প স্থাপন বা সম্প্রসারণ হয়নি।
রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ডলার সংকট, ঋণের উচ্চ সুদহার ও দুর্নীতিও বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে দীর্ঘমেয়াদি নীতি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে, তখন বিনিয়োগ বাড়তে পারে।
তবে আপাতত বিনিয়োগকারীরা অপেক্ষা করছেন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার। দেশি কোম্পানিও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
বিশ্বব্যাংকের আইএফসি, এফআইসিসিআই এবং স্থানীয় অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছ নীতি এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। না হলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'Inside the 3-year plan to fix banks' অর্থাৎ, 'ব্যাংকের পরিস্থিতি ফেরাতে ৩ বছরের পরিকল্পনায় যা আছে'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী ব্যাংক খাত সংস্কারের জন্য তিন বছরের একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
এই পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া, আইনি সংস্কার এনে খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার করা এবং ভবিষ্যতে করদাতাদের অর্থ দিয়ে ব্যাংক রক্ষা করা থেকে বিরত থাকা।
এতে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও সহায়তা করছে।
সরকার একটি ব্যাংক সংকট ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল গঠন করবে, নতুন আইনের মাধ্যমে দেউলিয়া আইন ও অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধন করা হবে, এবং খেলাপি ঋণ কেনাবেচার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে।
রাষ্ট্রীয় অর্থে 'খারাপ ব্যাংক' গড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বাংলাদেশ ব্যাংক এরই মধ্যে ১৫টি বেসরকারি ব্যাংকের বোর্ড পরিবর্তন করেছে এবং একটি ব্যাংকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে।
ব্যাংক মালিকদের প্রকৃত পরিচয় জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
জমাকৃত অর্থের সুরক্ষার জন্য 'ডিপোজিট প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স' আইনের আওতায় এখন সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত সুরক্ষা দেওয়া হবে।
এছাড়া, ১৮টি বেসরকারি ব্যাংকের সম্পদ মান যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে, আর ২০২৬ সালের মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের জন্যও একই কাজ করার পরিকল্পনা আছে।
সব মিলিয়ে এই সংস্কারের লক্ষ্য হলো ব্যাংক খাতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে কমে আসছে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে গত এক যুগে পুলিশের ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়, বিশেষ করে শেখ হাসিনার আমলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমন করতে পুলিশকে ব্যবহার করা হয়।
এতে পুলিশের ভেতরে এক ধরনের 'সুপার পাওয়ার' মানসিকতা গড়ে ওঠে। সেনাবাহিনীর মতো ভারী অস্ত্রও দেওয়া হয় তাদের হাতে, যার ফলে সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়।
এর ফলে দুই বাহিনীর মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি হয়। কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যা সেই দূরত্বকে তীব্র করে তোলে।
তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অভ্যুত্থানের পর পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ে এবং নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ে তারা।
তখন সেনাবাহিনী পুলিশের পাশে দাঁড়ায়, লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার, থানার নিরাপত্তা দেওয়া, যৌথ টহল ও অভিযান চালানোতে সাহায্য করে। এতে দুই বাহিনীর মধ্যে আস্থা ও সহযোগিতা বাড়তে থাকে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অতীতে পুলিশ দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে তারা নৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু এখন নির্বাচন ঘিরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে, যা ইতিবাচক।
তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দুই বাহিনীর মধ্যে এই সমন্বয়, আস্থা ও দায়িত্বশীলতা আরও বাড়ানো জরুরি। তা না হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবার খারাপ হতে পারে।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ''রাজনৈতিক' ট্রেনে খরচ ওঠে না, বন্ধের উদ্যোগ'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক আন্তনগর ট্রেন চালু হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের চাপে, যেগুলোর বেশিরভাগই এখন যাত্রী সংকটে পড়ে লোকসানে চলছে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের ইচ্ছায় নতুন রুট চালু, গন্তব্য বাড়ানো এবং নতুন স্টেশনে ট্রেন থামানো হয়, যদিও তার আগে কোনো অর্থনৈতিক সমীক্ষা করা হয়নি।
বিজয় এক্সপ্রেসসহ অন্তত পাঁচটি ট্রেন যাত্রী কম পাওয়ায় আয় দিয়ে খরচ তোলা যাচ্ছে না। রেলওয়ে প্রতিবছর গড়ে আড়াই হাজার কোটি টাকা লোকসান করছে।
এই লোকসান কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার অলাভজনক ট্রেন বন্ধ এবং যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী রুটে ট্রেন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এ জন্য একটি কমিটি গঠন হয়েছে, যদিও এখনো সুপারিশ তৈরি হয়নি।
রেলওয়ের উত্তরাঞ্চলে যেমন কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, ও একতা এক্সপ্রেসে যাত্রী বেশি হলেও বিকল্প কোচ না থাকায় এসব ট্রেন প্রায়ই দেরি করে।
অন্যদিকে, ঢাকা-নোয়াখালী উপকূল এক্সপ্রেস আগে খুব জনপ্রিয় হলেও সড়ক উন্নয়নের কারণে এখন যাত্রী কমে গেছে। অথচ নতুন সুবর্ণচর এক্সপ্রেস চালু করতে চেয়েছিল আগের সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক চাপে না পড়ে রেল পরিচালনায় সমীক্ষা ও লাভ-ক্ষতি বিবেচনায় ট্রেন চালানো উচিত, নইলে রেল এক টাকা আয় করতে আড়াই টাকা ব্যয় করে যাবে।








