পত্রিকা: 'নির্বাচনি জোট গঠনের চেষ্টায় জামায়াত, অধিকাংশ ইসলামি দলের না'

Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী সব ইসলামি দলকে এক ছাতার নিচে এনে বড় জোট গঠনের চেষ্টা করছে।

তবে অধিকাংশ ইসলামি দল এ প্রস্তাবে খুব একটা আগ্রহী নয়। তাদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে আদর্শিক ও চিন্তাধারার বড় ধরনের পার্থক্য আছে, যা জোট গঠনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন ইসলামি দলের অনেক নেতা প্রকাশ্যে না বললেও ভেতরে ভেতরে জামায়াতের সঙ্গে এক হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করছেন।

কেউ কেউ আবার জামায়াতকে বাদ দিয়ে আলাদা ইসলামি জোট করার কথাও ভাবছেন।

যদিও জামায়াত আশাবাদী যে শেষ মুহূর্তে ঐক্য সম্ভব হবে, কিন্তু জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ অনেক দলের শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট করেছেন তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যেতে চান না।

তাদের মতে, মওদুদীর চিন্তাধারা ও জামায়াতের রাজনৈতিক অবস্থান অন্য ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মাঠপর্যায়ের আলেমদের মধ্যেও জামায়াতের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বা চরমোনাই পীরের অনুসারীরা ঐক্যের পক্ষে থাকলেও এখনো জামায়াতের সঙ্গে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো সমঝোতা হয়নি।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, দেশে নিবন্ধিত ১০টি ইসলামি দলের মধ্যে অধিকাংশই জামায়াতকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। ফলে জামায়াত নেতৃত্বে বৃহৎ ইসলামি জোট গড়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'বিশ্ববাজারে পণ্যের দরপতন, বাংলাদেশে সুফল কম'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিশ্ববাজারে চাল, তেল, গ্যাসসহ নিত্যপণ্যের দাম রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের আগের তুলনায় অনেক কমে এসেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমলেও বাংলাদেশে এখনো দাম চড়া।

গত জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ছিল আট দশমিক পাঁচ শতাংশের বেশি, যেখানে ভারতে তা এক দশমিক পাঁচ শতাংশ আর পাকিস্তানে প্রায় চার শতাংশে নেমেছে।

বাংলাদেশে চালের বাজারে সবচেয়ে বড় অস্বস্তি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমলেও দেশে বরং দাম বেড়েছে।

সরকারি ও বেসরকারি আমদানি সত্ত্বেও চালের দাম কমেনি। ২০২০ সাল থেকে ক্রমেই চালের দাম বাড়তে থাকে এবং নতুন সরকার আসার পরও তেমন স্বস্তি আসেনি।

ভোজ্যতেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় অর্ধেক নেমে এলেও দেশে কমেছে সীমিত হারে।

একইভাবে এলপিজি গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দামও বিশ্ববাজারে অনেক কমলেও বাংলাদেশে তেমনভাবে সমন্বয় করা হয়নি।

সরকার নির্ধারিত দর বাজারে কার্যকর হয় না, ফলে ভোক্তাকে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ডলারের দাম বৃদ্ধি, কার্যকর তদারকির অভাব এবং বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে এ বৈষম্য তৈরি হয়েছে।

সরকার কিছুটা মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছে, তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে এখনো নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এ কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ কঠিন ভোগান্তিতে রয়েছে।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে বড় পরিবর্তনের আশা পাকিস্তানের'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। স্বাধীনতার পর এই প্রথম শুধু দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশ সফরে আসছেন।

তার সফরে ছয়-সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক পাসপোর্টধারীদের ভিসা অব্যাহতি, সাংস্কৃতিক বিনিময়, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যৌথ গ্রুপ গঠন, গবেষণা ও সংবাদ সংস্থার মধ্যে সমঝোতা।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেই ঢাকায় অবস্থান করছেন।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে পরিবর্তন আসছে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঠান্ডা হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছে।

চীনের ঘনিষ্ঠ মিত্র পাকিস্তান, ভারতকে চাপে রাখতে কৌশল নিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতি এখন জাতীয় ও অর্থনৈতিক স্বার্থকেই গুরুত্ব দিচ্ছে, তাই সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দেশের বৈঠকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতা, সার্ককে সচল করা, জঙ্গিবাদ দমনসহ নানা বিষয় আলোচনায় আসবে।

বাংলাদেশ বিশেষভাবে পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ক্ষতিপূরণ, আটকে থাকা পাকিস্তানিদের প্রত্যাবাসন ও অন্যান্য বকেয়া ইস্যু তুলবে।

দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হতে যাচ্ছে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেয়ায় গুম করে আমাকে ট্রাইব্যুনালে সুখরঞ্জন বালির অভিযোগ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক সাক্ষী সুখরঞ্জন বালি অভিযোগ করেছেন যে, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য না দেওয়ায় তাকে গুম, নির্যাতন ও ভারতে পাচার করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০১২ সালের ৫ই নভেম্বর ট্রাইব্যুনালের গেটের সামনে থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

সেখানে প্রায় দুই মাস ধরে চোখ বেঁধে বৈদ্যুতিক শকসহ অমানবিক নির্যাতন করা হয়, বিশেষ করে তার গোপনাঙ্গে।

তাকে কোটি টাকা ও বাড়ি দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও তিনি সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বালি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে তার ভাই পাকিস্তানি সেনাদের হাতে নিহত হন। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা ও কয়েকজন প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা তাকে জোর করে সাঈদীর নাম নিতে চাপ দেন।

তিনি তা প্রত্যাখ্যান করলে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। পরে সত্য সাক্ষ্য দিতে ট্রাইব্যুনালে গেলে তাকে আবারও অপহরণ করা হয় এবং ভারতের সীমান্তে পাঠানো হয়।

বিএসএফ তাকে আটক করে দমদম কারাগারে পাঁচ বছর বন্দী রাখে। পরে মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় মুক্তি পান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ট্রাইব্যুনালের ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হয়নি, বরং উল্টো তার আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

বালির দাবি, সাঈদীর বিরুদ্ধে মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সাজানো।

তাকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছে বৃহৎ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে। তিনি এই অন্যায়ের ন্যায়বিচার ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'DUCSU polls: History rewritten with record number of women candidates' অর্থাৎ, 'ডাকসু নির্বাচন: রেকর্ড সংখ্যক নারী প্রার্থী দিয়ে নতুন ইতিহাস লেখা হলো'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে এবার ইতিহাস সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো রেকর্ড সংখ্যক নারী প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ডাকসুর দীর্ঘ ইতিহাসে নারীরা সবসময়ই পিছিয়ে থেকেছেন। শেষবার কোনো নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন ৫৯ বছর আগে এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন ৬২ বছর আগে।

এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই পদগুলোতে নারীর উপস্থিতি ছিল না। এবার পরিস্থিতি বদলেছে।

তবে এবারের নির্বাচনে পাঁচজন নারী ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে, একজন সাধারণ সম্পাদক পদে এবং চারজন সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে লড়ছেন।

এছাড়া অন্তত ৫৪ জন নারী অন্য পদেও প্রার্থী হয়েছেন। মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক, অর্থাৎ ৪৮ শতাংশই নারী।

নারীদের এই অংশগ্রহণ ছাত্ররাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নারীদের সক্রিয় ভূমিকা তাদের আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।

প্রার্থীরা জানাচ্ছেন, তারা সমতা, শিক্ষা সংস্কার, গবেষণা বাজেট বৃদ্ধি, ছাত্রাবাস সংকট সমাধান ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

তবে বড় রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অনেকেই তাদের প্যানেলে নারীকে শীর্ষ পদে মনোনয়ন দেয়নি, যা নেতৃত্বের অভাবের প্রতিফলন।

প্রার্থীরা বলছেন, তারা সহানুভূতি বা নামমাত্র উপস্থিতি হিসেবে আসেননি, বরং যোগ্যতা ও অবদানের ভিত্তিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

প্রায় অর্ধেক ভোটারই নারী হওয়ায় এবারের ডাকসু নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নারীদের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, '৫ কম্পানির পেটে ৫৪৯২ কোটি'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের বীমা খাত বর্তমানে বড় ধরনের আস্থার সংকটে পড়েছে। গ্রাহকদের হাজার হাজার কোটি টাকার দাবি পরিশোধ করছে না বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান।

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) প্রতিবেদনে দেখা যায়, মাত্র পাঁচটি কোম্পানির কাছেই আটকে আছে পাঁচ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা, যা মোট অপরিশোধিত দাবির ৭৭ শতাংশ।

এর মধ্যে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স একাই প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা আটকে রেখেছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ, অনেক এজেন্ট টাকা নিয়ে পালিয়েছে, আবার যে টাকা কোম্পানিতে জমা হয়েছে সেটিও নানা অজুহাতে ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

ফলে গ্রাহকরা বছরের পর বছর দাবি নিয়ে ঘুরছেন কিন্তু টাকা পাচ্ছেন না। এতে পুরো খাতে আস্থাহীনতা বাড়ছে।

আইডিআরএ বলছে, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও পর্যাপ্ত আইনগত ক্ষমতার অভাবে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারছে না।

যদিও কিছু কোম্পানি শতভাগ দাবি পরিশোধ করেছে, তবু অধিকাংশই পিছিয়ে। বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ গ্রাহক তাদের পাওনা ফেরত পাননি।

একসময় জিডিপিতে বীমা খাতের অবদান ছিল প্রায় ১ শতাংশ, এখন তা নেমে এসেছে দশমিক ৪৫ শতাংশে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো দাবি পরিশোধ না হওয়াই গ্রাহকের আস্থা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেকেই এখন বীমা নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন, যা সম্ভাবনাময় খাতটির বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, 'NBR officials to head two revenue divisions' অর্থাৎ, 'দুটি রাজস্ব বিভাগের প্রধান হবেন এনবিআর কর্মকর্তারা'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সরকার ২০২৫ সালের রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশ সংশোধন করেছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীর অনুমোদন দেয়। মূল আইনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে ভেঙে দুটি আলাদা বিভাগ করা হয়েছিল, রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

তবে এতে প্রবল আপত্তি জানায় এনবিআর কর্মকর্তারা। প্রায় দেড় মাস ধরে তারা কলম বন্ধ, অবস্থান কর্মসূচি, এমনকি কর্মবিরতিও পালন করেন।

এর ফলে ব্যবসা ও রাজস্ব সংগ্রহ ব্যাহত হয়। পরে সরকার জুনে এনবিআর সেবা 'অপরিহার্য' ঘোষণা করলে আন্দোলন স্থগিত হয়।

সংশোধিত আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে, দুই বিভাগের সচিব হবেন কেবল সেই কর্মকর্তারা যাদের রাজস্ব, অর্থনীতি, বাণিজ্যনীতি ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা আছে।

আগে যেকোনো উপযুক্ত কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ ছিল। একইভাবে আয়কর নীতি, শুল্কনীতি, ভ্যাটনীতি, আন্তর্জাতিক চুক্তি ও গবেষণা সংশ্লিষ্ট উপবিভাগগুলোতেও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এমনকি তথ্যপ্রযুক্তি, নিরীক্ষা, হিসাবরক্ষণ ও আইন প্রণয়নে দক্ষ ব্যক্তিদেরও সুযোগ থাকবে সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ রাজস্ব ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে নেওয়া হয়েছে।

তবে সংশোধনী আসার আগে প্রায় ২০০ কর্মকর্তার বদলি, ৩২ জনের সাময়িক বরখাস্ত ও কয়েকজনকে আগাম অবসর দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল।

পরামর্শক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এসব সংশোধনী আনা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতিসংঘের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রফতানি খাতের অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বর্তমানে মোট রফতানির ৮১ শতাংশই তৈরি পোশাক, আর যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে সবচেয়ে বড় বাজার।

২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রফতানির গড় শুল্কহার ছিল ১০ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন সিদ্ধান্তে শুল্কহার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ।

এর ফলে বাংলাদেশের রফতানি আয় প্রায় ২১ শতাংশ কমে যেতে পারে। শুধু পোশাক নয়, ওষুধসহ অন্যান্য খাতও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উঠবে। কিন্তু শুল্ক বাড়ার ফলে গ্র্যাজুয়েশনের টেকসই হওয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

কারণ এলডিসি মর্যাদায় ডিউটি-ফ্রি ও কোটামুক্ত সুবিধা থাকলেও উত্তরণের পর তা আর থাকবে না। এতে কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, এখনই এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে তা দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করবে।

তাদের মতে, অন্তত তিন থেকে ছয় বছর সময় পিছিয়ে দিলে নতুন বাজার খোঁজা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও নীতি সংস্কার করার সুযোগ পাওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্র্যাজুয়েশন বিলম্ব করতে হলে জাতিসংঘের কাছে শক্ত যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে।

বিশেষ করে মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ সূচক ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার নতুন তথ্য প্রমাণ করতে হবে। না হলে বাংলাদেশ কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, 'AI push lifts outsourcing exports near $1b already in first half' অর্থাৎ, 'এআই ব্যবহারের কারণে দেশের আউটসোর্সিং রফতানি প্রথম ছয় মাসেই প্রায় এক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের আউটসোর্সিং খাত এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রভাবে দ্রুত বিকশিত হচ্ছে।

এআই টুলস দেশের তরুণ কর্মীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ইংরেজি ক্ষমতা বাড়াচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে দীর্ঘদিনের দক্ষতা ব্যবধান কমাচ্ছে।

এআই ব্যবহার দ্রুত অটোমেশন নিশ্চিত করছে এবং উচ্চমূল্যের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা যাচ্ছে।

২০২৫ সালের প্রথম ছয় মাসে বাংলাদেশের আউটসোর্সিং আয়ের পরিমাণ ৯০০ মিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের আয়ের চেয়েও বেশি।

এআই ব্যবহার করে মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন, কোডিং, ভিডিও এডিটিং ও অ্যানিমেশনসহ নানা খাতে সময় ও খরচ কমেছে।

উদাহরণস্বরূপ, থ্রিডি ডিজাইনের কাজ যা আগে ছয় ঘন্টা লাগত, এখন এক ঘন্টায় শেষ হয়। এআই ব্যবহার করে কিছু কোম্পানি মানুষ ও সময়ের খরচও কমাতে পেরেছে।

ফলে ব্যবসায়িক আউটপুট বেড়ে গেছে এবং রফতানি সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সাররাও এআই ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়াচ্ছে, সাধারণ ডাটা এন্ট্রি থেকে উচ্চমূল্যের কাজ যেমন লোগো, ওয়েবসাইট, ভিডিও এডিটিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনে এগোচ্ছে।

তবে উচ্চ খরচের এআই টুলস, ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব ও ক্লায়েন্টের উচ্চ প্রত্যাশা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

তবুও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্স খাত এখনো এআই-চালিত রূপান্তরের শুরুতেই আছে।

বৈশ্বিক চাহিদা বাড়ার সঙ্গে খাতের সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে, বিশেষ করে ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্বাস্থ্যসেবা সমর্থন ও ক্রিয়েটিভ ডিজাইন খাতে।

সংবাদের প্রধান শিরোনাম, 'নবায়নযোগ্য বিদ্যুতে পিছিয়ে বাংলাদেশ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আছে।

দেশের বিদ্যুতের মাত্র পাঁচ দশমিক ২৫ শতাংশই নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপন্ন হয়, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্রধান এবং ছাদ সৌরবিদ্যুৎ খুব কম মাত্রা রাখে।

বায়ুতে কিছু সম্ভাবনা থাকলেও জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সীমিত। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি কম।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তবে বাস্তবতা দেখায়, গত ১৭ বছরে মাত্র ২৪৫ মেগাওয়াট ছাদ সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তাই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০০ মেগাওয়াট অর্জন করা চ্যালেঞ্জিং।

বিশ্বব্যাপী নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন জীবাশ্ম জ্বালানির চেয়ে সস্তা হলেও বাংলাদেশে উচ্চ মূলধন ব্যয়, দুর্বল বিদ্যুৎ গ্রিড, প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত অস্পষ্টতার কারণে অগ্রগতি ধীর।

দেশের স্থাপিত বিদ্যুতের সক্ষমতা ২৭,৪২৪ মেগাওয়াটের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ মাত্র ১৬২৫ দশমিক ৯৫ মেগাওয়াট।

সৌরবিদ্যুৎ সবচেয়ে বেশি, তারপরে হাইড্রো, বায়ু, বায়োগ্যাস ও বায়োম্যাস।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, রুফটপ সোলার একটি সম্ভাবনাময় খাত। যথাযথ নীতি, সরকারি সহায়তা এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের তৃণমূল মানুষের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব।

জমির স্বল্পতা ও উচ্চ মূল্যের কারণে এ খাত সম্প্রসারণে বাধা আছে, তবে সঠিক উদ্যোগ নিলে অগ্রগতি সম্ভব।