বিএনপির আন্দোলন, বিবিসির পাতায় নারী আর রেডিওর সমাপ্তি নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, Anadolu Agency
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি বাংলা
- Published
আজ শুরু করছি আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে একটি প্রশ্ন দিয়ে, এবং বলতেই হবে, প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লিখেছেন সাতক্ষীরার প্রসাদপুর থেকে শামীমা আক্তার লিপি:
‘’বহুদিন বিবিসি বাংলা অনুষ্ঠান শুনে আসছি। এখানে লিখেও আসছি। কিন্তু নারী শ্রোতা হিসেবে খুব বেশি কাউকে লেখক হিসেবে পাইনি। এর কারণ কী?
''যতদূর জানি, নারীরা যথেষ্ট পরিমাণে বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠানে লিখে থাকে। তবে বাংলা প্লাটফর্ম হিসেবে বড় মঞ্চ বিবিসি বাংলায় নেই কেন?’’
ভাল প্রশ্ন করেছেন মিস আক্তার। প্রীতিভাজনেষুতে আমি সব সময়ই পুরুষদের প্রাধান্য দেখে আসছি। আমি চেষ্টা করেছি নারী লেখকদের সাক্ষাতকার নিয়ে অন্য নারী শ্রোতাদের আগ্রহী করার জন্য, কিন্তু কোন ফল পাইনি।
ফোন-ইন অনুষ্ঠানেও এক সময় প্রায় শত ভাগ কলারই পুরুষ হতেন। কিন্তু সেখানে চেষ্টা করে নারীদের অংশগ্রহণ অনেক বাড়ানো গেছে। কিন্তু প্রীতিভাজনেষুতে কেন নারী শ্রোতারা চিঠি লেখেন না, তা আমার বোধগম্য নয়।
তবে আজকের মেইলবক্স কিছুটা ব্যতিক্রমী, কারণ আজকের প্রথম তিনটি চিঠিই হবে নারী শ্রোতার।

ছবির উৎস, Zero Creatives
ছোট ভিডিও, ভাল ভিডিও
এবারে আমাদের একটি নিয়মিত পরিবেশন নিয়ে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ থেকে সামিরা সুলতানা লিজা:
‘’বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করা হচ্ছে। আমি নিয়মিত ভিডিওগুলো দেখে থাকি। আমার ভাল লাগে এই সাক্ষাৎকার পর্বগুলো।
''বিবিসি বাংলার বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্মিত ছোট ছোট ভিডিওগুলো থেকে আমরা অনেক কিছু খুব সহজে জানতে পারি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বিশ্লেষণমূলক ভিডিও থেকে বিষয়গুলো সহজে অনুধাবন করতে পারি।
''তবে একটা কথা না বললেই নয়, সাক্ষাৎকার নেয়ার ব্যাপারে বেশ দক্ষ শৈলীতে ভরপুর হলেন আকবর হোসেন। তাঁকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।‘’
আপনাকেও ধন্যবাদ সামিরা সুলতানা। সাক্ষাতকারগুলো আপনার ভাল লেগেছে জেনে আমাদেরও ভাল লাগলো। আপনার শুভেচ্ছা আমি আকবরকে পৌঁছে দিয়েছি।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 1
সিউল নয়, সোল
আমাদের অনুষ্ঠানে একটি শব্দের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন ঢাকার মনিজা রহমান গার্লস কলেজ থেকে মাহবুবা ফেরদৌসি হ্যাপি:
‘’সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হ্যালোউইন উৎসবের সময় পদদলিত হয়ে দেড়শ'র বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছে।
''আমি লক্ষ্য করেছি উপরোক্ত সংবাদটি পরিবেশনার সময় বিবিসি বাংলা তার রেডিওর খবরে এবং ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পাতায় দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীর নাম সোল ব্যবহার করেছে।
''অথচ আমরা ছোট বেলা থেকে সিউল ব্যবহার করে আসছি এবং বাংলাদেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমও সিউল উচ্চারণ ব্যবহার করছে। বিবিসি বাংলার কিছু পুরাতন নিউজেও সিউল উচ্চারণের ব্যবহার লক্ষ্য করেছি। আমার প্রশ্ন তাহলে সঠিক উচ্চারণ কোনটি - সিউল, না সোল?’’

ছবির উৎস, Getty Images
ভাল প্রশ্ন করেছেন মিস ফেরদৌসি। সব গণমাধ্যমের নিজস্ব একটি স্টাইল থাকে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বিভিন্ন দেশ, শহর, ব্যক্তির নাম নিজ ভাষায় কীভাবে লেখা হবে।
আমরা বেশ কয়েক বছর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বাংলা ভাষায় নয়, সেরকম নাম সে ভাষায় যেভাবে উচ্চারণ করা হয়, আমরা যতদূর সম্ভব সেভাবেই উচ্চারণ করবো এবং লিখবো।
সেই হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীর নামের সঠিক উচ্চারণ হল সোল। অতীতে আমরা সিউল বলেছি এবং লিখেছি ঠিকই, কিন্তু সেটা ভুল ছিল। সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে সোল।

ছবির উৎস, Anadolu Agency.
বিএনপির দাবি
বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
এবারে বাংলাদেশে বিরোধী দল বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচি নিয়ে কয়েকটি চিঠি। প্রথমে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
‘’নির্বাচন কালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিএনপি বিভাগীয় গণ সমাবেশ শুরু করেছে। হাজার হাজার কর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছে এবং সফলভাবেই সমাবেশগুলো শেষ হচ্ছে।
''কিন্তু সবার প্রশ্ন একটাই - আসলেই কি বিএনপি নির্বাচন কালীন নির্দলীয় সরকারের দাবি আদায় করতে পারবে? মানুষ শুধু সমাবেশ দেখছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের উপর কোন ধরণের চাপ সৃষ্টি হয়নি বলেই মনে হচ্ছে।
''এদিকে আবার সরকার বিএনপির এই গণ-সমাবেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। পাল্টাপাল্টি গণ সমাবেশ হবে এটাই বাস্তবতা। কিন্তু দেশে অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা হোক এটা সাধারণ জনগণ চাই না। একদিকে যেমন মানুষের ভোটাধিকার প্রাপ্তির আশা জাগছে, অন্যদিকে তেমনি আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।‘’
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. শামীম উদ্দিন, কেউ চায় না যে দেশে অরাজকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক।
তবে অনেকেই আশা করবেন যে, বিএনপি নির্বিঘ্নে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারবে, এবং এর ধারাবাহিকতায় জনগণ ভোট দিতে আগ্রহী হবে আর আগামী নির্বাচনটি বিগত দুটি নির্বাচনের চেয়ে অর্থবহ হবে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 2
বিদেশী হস্তক্ষেপ?
আগামী বছরের ডিসেম্বর বা ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে যে সংসদীয় নির্বাচন হবে, তার প্রস্তুতিপর্ব ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম:
‘’এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। বাধা বিপত্তিকে সামনে রেখে দলটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে যাচ্ছে।
''যখন দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলছে, তখন বিএনপি আন্দোলন করছে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। বিএনপি কি একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য বহির্বিশ্বের নজর দেওয়ার ইঙ্গিতের আশা করছে?''
আপনার প্রশ্নটা একটু জটিল মি. ইসলাম। আমি যতটুক বুঝেছি, আপনি জানতে চাইছেন বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বহির্বিশ্বের নজর বা হস্তক্ষেপ কামনা করছে কি না।
প্রশ্ন তাই যদি হয়, তাহলে আমি বলবো- না, আমার মনে হয় না বিএনপির সমাবেশ কর্মসূচি বিদেশীদের লক্ষ্য করে করা হচ্ছে।
আমার মনে হয়, বিএনপি নিজ কর্মীদের উজ্জীবিত করতে চায় এবং দেশের মানুষকে দেখাতে চায় তারা শক্তিশালী একটি রাজনৈতিক দল যাদের দেশব্যাপী সংগঠন আছে, জনগণের সমর্থন আছে।

ছবির উৎস, Future Publishing

জনগণ কোথায়? তারা কী চায়?
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক ঘটনাবলী নিয়ে আরো লিখেছেন রংপুরের পীরগাছা থেকে মোহাম্মদ মিলন খন্দকার খালেক:
‘’যতোই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনের সময়, ততোই যেন বাড়ছে উভয় দলের নেতা কর্মীদের কর্মতৎপরতা - জনগণের পক্ষে কথা বলার জন্য কেউ মাঠে, কেউ মিডিয়ায়, কেউবা বিভিন্ন মাধ্যমে।
''কখনো সমাবেশের আগে ধর্মঘট, কখনো মিছিল মিটিংয়ের আগে গ্রেফতার। কখনো সরকারের যে কোনো উন্নয়ন মূলক কাজের আগে, বিরোধী দলের উস্কানি মূলক আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।
''আসলে জনগণ কোথায়, জনগণ কি চায়? যেন তা শোনার মত কেউই নেই। বিবিসি বাংলা'র কাছে কি এর কোনো উত্তর আছে?’’
জনগণ কোথায় বা তারা কী চায়., সে প্রশ্নের উত্তর বিবিসির কাছে নেই মি. খালেক। কিন্তু নিশ্চয় আপনার কাছে আছে। কারণ, আপনিই তো জনগণের অংশ।
আমরা যদি এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজি তাহলে আমারও তো আপনার মত মানুষের কাছে, জনগণের কাছে জানতে চাইবো।
তবে একটা কথা একদম ঠিক, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, রাজনৈতিক দলগুলো তত ঘন ঘন আপনাদের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দেবে।

ছবির উৎস, Anadolu Agency
বিবিসির খবরে গলদ
আমাদের অনুষ্ঠানে একটি ভুল তথ্যর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন চট্টগ্রাম থেকে হাবিবুল্লাহ:
‘’বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ সামনে রেখে দুদিন আগে থেকে গণ পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সাধারণ জনগণ যেভাবে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, তা নিয়ে ৬ই নভেম্বর আপনাদের রেডিও অনুষ্ঠানে একটি রিপোর্ট ছিল, যেখানে একটা তথ্যগত ভুল ছিল।
''রিপোর্টে প্রতিবেদককে অন্তত দুবার বলতে শুনা যায়, বরিশালের মতো বিএনপির আগের চারটি বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরেও পরিবহন ধর্মঘটের ঘটনা ঘটেছে। তথ্যটা পুরোপুরি সত্য নয়। বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ঘিরে পরিবহন ধর্মঘটের ট্রেন্ডটা বিএনপির দ্বিতীয় বিভাগীয় সমাবেশ থেকে আরম্ভ হয়েছে।
''চট্টগ্রামের গণ সমাবেশ ঘিরে পরিবহন ধর্মঘটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি নিজে চট্টগ্রাম শহরে বাস করি, সেদিন অন্যদিনের মতোই আমি শহর জুড়ে গাড়ি চলাচল করতে দেখেছি এবং চট্টগ্রামে ওইদিন পরিবহন ধর্মঘটের কোনো ঘোষণা ছিল বলেও আমি শুনতে পাইনি।‘’
আপনি ঠিকই বলেছেন মি. হাবিবুল্লাহ। বরিশালে বিএনপির সমাবেশের আগে তিনটি শহরে পরিবহন ধর্মঘট হয়েছিল।
চট্টগ্রামে বিএনপি কিছু হামলার অভিযোগ তুলেছিল কিন্তু কোন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়নি। এই ভুলের জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দু:খিত।

সাম্প্রদায়িক উসকানি
এবারে ভিন্ন একটি সমস্যা। আমাদের পরিবেশনায় একটি খবর না দেখে হতাশ হয়েছেন বলে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
‘’এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা সৃজনশীল প্রথম পত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া হয়েছে মর্মে একটি অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি ৭ই নভেম্বর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
''অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে বুয়েটের ছাত্র ফারদিনের লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের বরাত দিয়ে গণমাধ্যম খবর বেরিয়েছে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার এ মৃত্যুর ঘটনাটিও সামাজিক মাধ্যমে বেশ আলোচিত হচ্ছে।
''প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানির অভিযোগের বিষয়ে ৮ই নভেম্বর বিবিসি বাংলার প্রবাহ অনুষ্ঠানে একটি প্রতিবেদন প্রচার করা হলেও, আলোচিত দুটি ঘটনার বিষয়ে বিবিসি বাংলার ডিজিটাল প্লাটফর্ম ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পাতায় কোন রিপোর্ট চোখে পড়েনি, যা আমার মতো অনেক শ্রোতা পাঠককেই হতাশ করেছে।
''অনেক ছোটখাটো বিষয় বিবিসি বাংলা গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করলেও উপরোক্ত বিষয়ে বিবিসির ডিজিটাল প্লাটফর্মে নীরব থাকার রহস্য কি?’’
এখানে কোন রহস্য নেই মি. রহমান। সামাজিক মাধ্যমে কোন খবর ভাইরাল হলেই সেটা আমাদের পরিবেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
আমরা সব সময় বিচার করি কোন খবর রেডিওর জন্য, আর কোন খবর শুধু অনলাইনের জন্য করা হবে, যেটা আপনারা আমাদের ফেসবুক পাতায়ও দেখতে পাবেন। এই বিচার আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী করি, যেটা সাংবাদিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব, কর্তব্য এবং এখতিয়ারও বটে।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উস্কানির ঘটনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে বলেই রেডিওতে খবর পরিবেশন করা হয়েছিল।

রেডিও শ্রোতা বঞ্চিত
আজ শেষ করার আগে আমাদের রেডি সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে দুটি চিঠি নেয়া যাক। প্রথমে, রেডিও বন্ধ করার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন খুলনার গঙ্গারাম থেকে মোস্তাফিজুর রহমান:
‘’আগের পুরাতন দিনটা খুব মিস করছি। ছোট বেলা থেকে সেই গ্রামের সবার হেড ফোন লাগানো ফোনে ঝন করে বিবিসি বাংলার শব্দ। কেউ মুদি দোকান খুলে,কেউ সাইকেল চড়তে চড়তে,আবার কেউ চায়ের চুমুকে বসে কানে হেড ফোন লাগিয়ে বিবিসি বাংলা শোনার সেই সোনালি মুহূর্ত।
''বিবিসি বাংলার রেডিও অনুষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত কি যুক্তিযুক্ত হয়েছে? আমার মতে বিবিসি বাংলার ঐরকম হাজারো শ্রোতাকে বঞ্চিত করা হবে।‘’
অনেক শ্রোতা যে বঞ্চিত হবে তা নিয়ে কারো সন্দেহ নেই মি. রহমান। বিবিসিও বঞ্চিত হবে লক্ষ লক্ষ রেডিও শ্রোতার সঙ্গ থেকে।
কিন্তু সব প্রতিষ্ঠানকেই ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে যখন মাথার ওপরে অর্থ সঙ্কট ঝুলতে থাকে।
বিবিসি তার আর্থিক অবস্থা এবং মিডিয়ার ভবিষ্যৎ বিবর্তন বিশ্লেষণ করে ডিজিটাল কার্যক্রমে বেশি সম্পদ বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ঢাকা নয় কেন?
ছোট একটি প্রশ্ন করে লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী:
‘’বিবিসি বাংলা আর মাত্র কয়দিন তার পরে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু আমার একটি প্রশ্ন। দীর্ঘদিন ধরে বিবিসি বাংলা প্রচার হয়ে আসছে। আর এখন ডিজিটাল যুগে বিবিসি বাংলা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিবিসি কি ঢাকা অফিস থেকে প্রচার করা যায় না?’’
প্রথমে আমি একটি জিনিস পরিষ্কার করে দেয়া উচিত, মি. চক্রবর্তী। বিবিসি বাংলা কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। শুধুমাত্র আমাদের রেডিও সম্প্রচার বন্ধ হবে।
আমাদের তিনটি সাপ্তাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান, আমাদের দৈনিক অনলাইন পরিবেশনা আর ইউটিউব-ফেসবুক সহ সামাজিক মাধ্যমে আমাদের কার্যক্রম পুরো দমে অব্যাহত থাকবে।
আর এসব কার্যক্রম সবই হবে আমাদের ঢাকা অফিস থেকে, আর কিছু কন্টেন্ট আসবে ভারতে আমাদের কর্মীদের কাছ থেকে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থেকে মুজাহিদুল ইসলাম অয়ন ।
খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার।
রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী থেকে আবিদুর রহমান মারুফ।
দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক।
চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা।
আর ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক।








