পত্রিকা: 'ঝুঁকি নিয়েই উড়ছে বোয়িং-৭৩৭'

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'ঝুঁকি নিয়েই উড়ছে বোয়িং-৭৩৭'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ নিয়ে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির অভিযোগ উঠেছে।
ছয় মাস হ্যাংগারে মেরামতের পর জোড়াতালি দিয়ে ব্যাংকক রুটে চালানোর দিনই মাঝআকাশে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
পাইলট ঝুঁকি এড়াতে ১৪৬ যাত্রীসহ ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনেন, ফলে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
আগের দিন ঢাকা-সিলেট রুটেও একই বিমানে প্রেসারাইজেশনের সমস্যা হয়েছিল, যা 'টেক অফ' হয়েছে বলে প্রকৌশলীরা জানানোর পর ব্যাংকক ফ্লাইট চালানো হয়।
কিন্তু আবারও ত্রুটি দেখা দেয়। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এ বিমানটি বহুদিন গ্রাউন্ডেড ছিল এবং বহুবার মেরামত সত্ত্বেও নির্ভরযোগ্য হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বহরে থাকা ৪টি ৭৩৭-এর মধ্যে দুটি নিরাপদ হলেও বাকি দুটি এএফএল ও এএফএম চালানো মানেই ঝুঁকি, তাই দ্রুত বহর থেকে সরানো উচিত।
যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তারা বলেন, আতঙ্কজনক বিমানে ফ্লাইট চালানো উচিত নয়।
শুরুতে এই দুটি উড়োজাহাজ লিজে আনা হলেও সমস্যার পর ফেরত দিতে গেলে লিজ কোম্পানির শর্ত পূরণ সম্ভব হয়নি।
ফলে বাধ্য হয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ এক যুগের বেশি চালানোর পর এগুলো কিনে নেয়। এখন এগুলো নিয়ে বারবার ত্রুটি ও যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে, যা বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।


বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, '২৪ ঘণ্টায় চার জেলায় ৫ হত্যাকাণ্ড, ৬ মাসে সারা দেশে ১৯৪১ খুন'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় চার জেলায় পাঁচটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা, টঙ্গীতে স্যুটকেসে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, মৌলভীবাজারে ব্যবসায়ী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেলকে দোকানে ছুরিকাঘাত, নাটোরের লালপুরে প্রাইভেটকার চালক সাইদুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা এবং সিলেটের কীন ব্রিজ এলাকায় ডালিম আহমদকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়।
এসব ঘটনায় পুলিশ সাতজনকে আটক করেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে এক হাজার ৯৩১টি খুনের মামলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি জুন মাসে।
ঢাকা রেঞ্জে খুনের সংখ্যা সর্বাধিক, এরপর চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী রেঞ্জে বেশি ঘটনা ঘটেছে। শুধু ঢাকাতেই এ সময়ে খুনের মামলা হয়েছে ২১৭টি।
গত বছরের পুরো সময় জুড়ে এই খুনের সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৪৩২টি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুন, ছিনতাই, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়ে গেছে এবং অপরাধীদের শক্তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে বেশি হয়ে উঠছে।
অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের আরও কঠোর ও সক্রিয় পদক্ষেপ জরুরি।
পুলিশ দাবি করছে, জুলাই- অগাস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় অনেক মামলা হয়েছে, তবে বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে এবং অপরাধ দমনে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'আতঙ্কের জনপদ গাজীপুর, সাত মাসে ১০৩ খুন'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে। গত সাত মাসে জেলায় ১০৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যার মধ্যে মহানগরে ঘটেছে ৩৫টি।
খুনের কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিরোধ, মাদক, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, জমিজমা ও পারিবারিক কলহ উল্লেখযোগ্য।
সাম্প্রতিক ঘটনায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা, আরেক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেনকে বেদম মারধর, টঙ্গীতে ব্যাগে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার, শ্রীপুর ও মধ্যপাড়ায় স্ত্রী হত্যার ঘটনা, এবং কোনাবাড়ীতে চোর সন্দেহে যুবক হৃদয়কে পিটিয়ে হত্যা অন্তর্ভুক্ত।
এছাড়া ছিনতাইকারীর হাতে কলেজ শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান ও যুবক রঞ্জুর মৃত্যু, চাঁদাবাজির ঘটনায় বৃদ্ধ নাসির পালোয়ানের মর্মান্তিক হত্যার মতো ঘটনা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও বনের ভেতরেও অজ্ঞাত লাশ পাওয়া যাচ্ছে, যেগুলোর অনেকের পরিচয় মেলে না।
পুলিশ জানায়, জেলা ও মহানগরে অধিকাংশ খুন জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধ থেকে হয়েছে, কিছু মাদক ও নারী-সংক্রান্ত।
গত সাত মাসে জেলার ৫৯টি খুনের মধ্যে ৪৮টির রহস্য উদ্ঘাটন ও ৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে অপরাধীদের আস্তানা হয়ে ওঠা চান্দনা চৌরাস্তা, টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় দৃশ্যমান কঠোর পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয়, মূল্যবোধের অবনতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্বলতা এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়াচ্ছে।

ছবির উৎস, পত্রিকা
কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা বাড়ছে'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, হুমকি ও হয়রানি ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।
চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতি উন্মোচন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছেন।
অনেককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে।
টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, তিনজন নিহত হয়েছেন।
তবে গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যার পর এই সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে।
জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২৭৪টি হামলায় ১২৬ জন আহত হয়েছেন, অনেকে হুমকি, লাঞ্ছনা ও মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এমনকি নারী সাংবাদিকও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যে দেখা যায়, পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীদের হুমকিও পাচ্ছেন সাংবাদিকরা।
দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় কিছু সাংবাদিককে পুলিশ তলব করেছে। তুহিন হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে গাজীপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
নোয়াব ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারকে সরাসরি আঘাত করছে।
তাদের দাবি, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করতে হবে, নইলে গণতন্ত্রের ভিত দুর্বল হবে।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র অব্যাহত, সক্রিয় হচ্ছে 'হিট প্ল্যান-২'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করে শেখ হাসিনাকে ফের দেশে আনার জন্য পরিকল্পিত 'আগস্ট রিটার্ন হিট প্ল্যান' আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ভেস্তে গেছে।
সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার একদল দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা একসঙ্গে কাজ করে এ ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেন। তবে ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে 'হিট প্ল্যান-২' চালু করেছে, যা অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের চেষ্টা হবে।
তাদের লক্ষ্য তিনটি: জাতীয় নির্বাচন বানচাল, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা ঠেকানো এবং এমন পরিস্থিতি তৈরি করা যাতে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ফিরতে পারেন।
এই চক্র কলকাতা ও দিল্লিতে গোপন অফিস খুলে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্যও নেপথ্যে সহায়তা দিচ্ছেন।
প্রথম ধাপের ষড়যন্ত্রে তারা বিপ্লবী সরকার গঠন ঠেকানো, আন্দোলনের নেতৃত্বে বিভেদ তৈরি ও বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশে কিছু সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু বিশ্বস্ত সোর্স ও ক্রসচেকের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নস্যাৎ করে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। পুলিশ, বিএনপি ও সব রাজনৈতিক দলকে আগাম প্রতিরোধমূলক কাজ করতে হবে।
গণমাধ্যমকেও গুজব ও অপতথ্য রোধে দায়িত্বশীল হতে হবে। মূল বার্তা হলো গণ-অভ্যুত্থানের ঐক্য ভাঙা যাবে না, নইলে যেকোনো সময় বিপদ নেমে আসতে পারে।

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'দুর্বল তদন্তে ৫৩% আসামি খালাস'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় অর্ধেকের বেশি আসামি খালাস পেয়েছে।
মোট ২৯৫টি মামলার রায়ে ১৩৮টিতে সাজা হলেও ১৫৭টি মামলায় আসামিরা রেহাই পেয়েছে, যা ৫৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও তদন্তে দুর্বলতা, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে ফাঁকফোকর রাখা, আইনজীবীদের গাফিলতি, সাক্ষীর অনুপস্থিতি এবং দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার কারণে আসামিরা খালাস পায়।
দুদক মূলত জনগণের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে, যার মধ্যে অনেকই আক্রোশমূলক বা মেরিটবিহীন, ফলে অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থতা ঘটে।
দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে চার হাজার ২৮৫টি অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান ছিল, এর মধ্যে ৪৫১টি মামলায় রূপ নেয় এবং বাকি অভিযোগ নিষ্পত্তি হয়।
একই সময়ে ৫১৮টি মামলার তদন্ত শেষ হলেও ১০৭টিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে মামলা শেষ করা হয়। তদন্ত ও অনুসন্ধানের ব্যর্থতার জন্য কর্মকর্তাদের কখনো জবাবদিহির আওতায় আনা হয়নি, যা বিশেষজ্ঞরা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা মনে করছেন।
দুদকের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, রেকর্ডভিত্তিক অনুসন্ধান ও দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া মামলার ফলাফলকে প্রভাবিত করে।
সাত-আট বছর ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় সাক্ষী ও প্রমাণ দুর্বল হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দ্রুত বিচার, নিজস্ব গোয়েন্দা ইউনিটের তথ্য ব্যবহার, শক্তিশালী প্রসিকিউশন এবং প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করলেই সাজার হার বাড়ানো সম্ভব।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ভর করছে দলগুলোর ওপর'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, তারা নিজে কোনো পদ্ধতি ঠিক করবে না; বরং বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।
আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠক হবে।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সনদ বাস্তবায়নের আইনি ও সাংবিধানিক বৈধতা কীভাবে দেওয়া যায়, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে।
প্রথম দুই দফা আলোচনায় অনেক বিষয়ে ঐকমত্য হলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণ হয়নি। বিএনপি মনে করে, পরবর্তী সংসদই বৈধতা দিতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি চাইছে সনদকে আইনি কাঠামোয় এনে দ্রুত বাস্তবায়ন করতে।
সংবিধান সংস্কারে ক্ষমতার ভারসাম্য, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ ও বিরোধী দলের হাতে সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি হলেও সব প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়নি।
আলী রীয়াজের মতে, শুধু নির্বাচন নয়, প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন দরকার। নির্বাচনব্যবস্থার ভাঙন রোধে কাঠামোগত সংস্কারের কথাও এসেছে।
কমিশনের ব্যয় সরকারের দুটি সচিবালয় বহন করছে এবং অডিট হলে তা প্রকাশ পাবে।
পুরো প্রক্রিয়ায় কমিশনকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের অনুঘটক হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও বাকি।

প্রধান শিরোনাম,'No DC fit list in 7 months' অর্থাৎ, '৭ মাসেও ডিসি ফিট তালিকা নেই'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত সাত মাসেও সরকার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগের জন্য "ফিট লিস্ট" তৈরি করতে পারেনি।
নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ ও প্রশাসনের ভেতরে অনীহা দেখা দিয়েছে। মূলত দুটি কারণে প্রক্রিয়া আটকে আছে।
একসময় ডিসি হওয়া ছিল কাঙ্ক্ষিত পদ, কিন্তু এবার অনেকে নির্বাচনী দায়িত্ব এড়িয়ে চলতে চাইছেন।
অভিযোগ আছে, ক্ষমতাসীনসহ তিনটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল নিজেদের অনুগত কর্মকর্তাদের বসাতে চাপ দিচ্ছে।
এমনকি যারা আগেই অপেক্ষমাণ তালিকায় ছিলেন, তাদেরও অনেকে নির্বাচনের আগে অযোগ্য ধরা হচ্ছে।
২৪তম বিসিএসের ২১ জন ডিসি ইতিমধ্যেই যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত হলেও, নতুন নিয়োগ না হওয়ায় তারা দায়িত্বে রয়েছেন। শারীয়তপুরে বিতর্কিত এক ঘটনায় ডিসি অপসারণ হলেও বিকল্প নিয়োগ হয়নি।
২৫তম, ২৭তম, ২৮তম ও ২৯তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনেকে সাক্ষাৎকারেই আসেননি। অনেকে আশঙ্কা করছেন, সরকার বদলালে বদলি, বাধ্যতামূলক অবসর বা ওএসডি হওয়ার ঝুঁকি আছে। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক চাপ, সমন্বয়কের নামে হস্তক্ষেপ ও সহিংসতার ভয়ে তারা পিছিয়ে যাচ্ছেন।
ডিসি পদ জেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা, নির্বাচন ও সব সরকারি কার্যক্রমের মূল দায়িত্ব হলেও বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে স্বাধীনভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন।

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'বিটিআরসি আইন করেও কমাতে পারছে না গ্রামীণফোনের মনোপলি'
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতে গ্রামীণফোন বহু বছর ধরেই একক আধিপত্য ধরে রেখেছে।
গ্রাহক সংখ্যা, আয় ও তরঙ্গ বরাদ্দ, সব দিকেই তাদের বাজার অংশীদারত্ব প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ, যা প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক বেশি।
বিটিআরসি ২০১৯ সালে গ্রামীণফোনকে এসএমপি বা তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাসম্পন্ন অপারেটর ঘোষণা করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে, যাতে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ে।
তবে এসব পদক্ষেপ সত্ত্বেও গ্রামীণফোনের আধিপত্য কমেনি, বরং তাদের আয় ও মুনাফা বেড়েছে। বর্তমানে দেশের চার অপারেটর, গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটক।
এই চারটি প্রতিষ্ঠান মিলে ১৯ কোটি গ্রাহককে সেবা দেয়, যার অর্ধেকই গ্রামীণফোনের দখলে।
২০২৪ সালে তাদের আয় ছিল ১৫ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা, যা রবির (নয় হাজার ৯৫০ কোটি) ও বাংলালিংকের (পাঁচ হাজার ৯৭৮ কোটি) তুলনায় অনেক বেশি।
প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিযোগ করছে, গ্রামীণফোন বাজারে প্রভাব খাটিয়ে অসম প্রতিযোগিতা তৈরি করছে এবং ডাম্পিং প্রাইসে সিম বিক্রি করছে।
রবি ও বাংলালিংক এ বিষয়ে প্রতিযোগিতা কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে। কমিশনের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতিযোগিতা আইনের কিছু লঙ্ঘন ধরা পড়েছে, যা যাচাই শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
বিটিআরসি এখন এসএমপি নীতিমালার কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়ন করছে, তবে গ্রামীণফোন বলছে, তারা সব নিয়ম মেনে চলছে এবং তারা ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ দাবি করে।








