দিল্লিতে আপের হারের কারণ ও এর প্রভাব সম্পর্কে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, দিল্লি বিধানসভা ভোটে একাধিক বিষয়ে আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে কাজ করেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা
    • Author, রূপসা সেনগুপ্ত
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৮ মিনিট

দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বেশ কিছুটা সময় কেটে গেছে। কিন্তু ভারতের রাজধানীর রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ এখনও কমেনি।

ভোটের ফল বলছে, দুর্নীতির ছোঁয়ামুক্ত রাজনীতি, নেতাদের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং দিল্লির উন্নয়ন–– মূলত এই তিন 'প্রতিশ্রুতি' দিয়ে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করা অরবিন্দ কেজরিওয়াল আম আদমি পার্টি (এএপি বা আপ) ভোটে পরাজিত হয়েছে। প্রায় ২৭ বছর পর বিধানসভা ভোটে জিতে দিল্লির ক্ষমতা আবার দখল করেছে গেরুয়া শিবির।

প্রায় ১২ বছর আগে 'অল্টারনেটিভ পলিটিক্স' এর আমেজে ভারতের রাজনীতির ময়দানে নামা আপের 'ন্যারেটিভ' মন জিতেছিল দিল্লির শিক্ষিত সমাজের। আর আম জনতার মন কেড়েছিল দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি। বিদ্যুৎ ও পানি সংক্রান্ত বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতিও ভোটারদের আগ্রহ তৈরি করেছিল।

এর ফলস্বরূপ, পরের বিধানসভা ভোটগুলোয় নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে পেরেছিল আম আদমি পার্টি।

আপের 'নাতিদীর্ঘ' রাজনৈতিক সফরে, পুরানো নেতাদের দলত্যাগ বা তাদের অন্য দলে যোগদান সত্ত্বেও অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলের প্রতি 'আস্থা' রাখতে দেখা গিয়েছিল দিল্লিবাসীকে। এমনকি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বা মধ্যবিত্ত-সহ টার্গেট ভোটারদের মন জিততে কংগ্রেস ও বিজেপির পাল্টা প্রতিশ্রুতিও এই সমীকরণটা বদলাতে পারেনি।

একরকম সবাই যখন ধরেই নিয়েছিলেন যে দিল্লির মানুষ কেন্দ্রে বিজেপিকে চায় আর বিধানসভা ভোটে তারা 'অন্য বিকল্প' খোঁজেন, ঠিক তখনই পুরো অঙ্কটা পাল্টে গেছে।

২০২৫-এর বিধানসভা ভোটে আপের হার, বিজেপিরএই জয় আর দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পদের আগামী দাবিদারকে নিয়ে যেমন আলোচনা তুঙ্গে, তেমনই আম আদমি পার্টির পরাজয়ের কারণ এবং ওই দলের 'অস্তিত্বের' ওপর এই হার প্রভাব ফেলবে কি না তা নিয়েও বিশ্লেষণ চলছে।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল

ছবির উৎস, Arvind Kejriwal/X

ছবির ক্যাপশান, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল

আম আদমি পার্টির পরাজয়

২০২০ সালের বিধানসভা ভোটে আটটা আসন জিতেছিল বিজেপি। আর সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্ধ আরবিন্দ কেজরিওয়ালের দল সে বছর জিতেছিল ৬২টা আসন।

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মি. কেজরিওয়াল এবং সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মনীশ সিসোদিয়া দু'জনেই সাম্প্রতিক ভোটে হেরেছেন। আপের এই দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে আবগারী দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল এবং তাদের কারাগারেও কাটাতে হয়েছে।

দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানো আতিশী অবশ্য নিজের আসনে জয়ী হয়েছেন। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভোটের অঙ্কটাই বদলে গিয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে ৩৪-৩৮ শতাংশ ভোট শেয়ার বজায় রাখলেও বিজেপির ভোট শেয়ার বেড়ে ৪৫.৬ শতাংশ হয়েছে। আম আদমি পার্টির ভোট শেয়ার ১০ শতাংশ পয়েন্ট কমে ৫৩.৬ শতাংশ থেকে ৪৩.৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

কংগ্রেসে তাদের ভোট শেয়ার ২০২০ সালে ৪.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.৩ শতাংশ করতে পারলেও আখেরে লাভ হয়নি। অথচ ১৯৯৮ থেকে ১৫ বছর দিল্লি শাসন করেছে কংগ্রেস।

ভোট স্বচ্ছ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন অতিশী

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ভোট স্বচ্ছ হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন অতিশী
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

ভোটের ফল প্রকাশের পর মি. কেজরিওয়াল বলেছেন, "আমরা জনগণের রায় বিনয়ের সাথে গ্রহণ করি এবং আমি বিজেপিকে তাদের জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। সঙ্গে আশা করি তারা দিল্লির মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করবে।"

একইসঙ্গে তার দল ক্ষমতায় থাকাকালে দিল্লির যে উন্নয়ন হয়েছে তার খতিয়ান আরও একবার তুলে ধরতে ভোলেননি তিনি। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "আমরা দিল্লিবাসীর জন্য শিক্ষা, পানি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামোতে অনেক কাজ করেছি।"

"আগামী পাঁচ বছরে, আপ কেবল একটি গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে না, দিল্লির জনগণের জন্যও হাজির থাকবে।"

অল্টারনেটিভ পলিটিক্সের কথা বলে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেছিলেন, এটা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "আমরা ক্ষমতার জন্য রাজনীতিতে আসিনি। বরং আমরা একে জনগণের সেবা করার একটা মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করি।"

অন্যদিকে, পরাজয় স্বীকার করেও পাল্টা অভিযোগ খাড়া করেছেন আতিশী। তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে বিশ্লেষণ চলছে কেন আপ হারলো। কিন্তু এটাই দিল্লির মানুষের আদেশ। আমরা তাকে সম্মান করি। এত গুন্ডামির মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন হয়েছে, দিল্লির ইতিহাসে এমন নির্বাচন কখনও হয়নি। প্রকাশ্যে টাকা ও মদ বিলি করা হচ্ছে।"

সাম্প্রতিক অভিযোগ

আগের বিধানসভা নির্বাচনে দিল্লির বস্তি অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিল আপ। কিন্তু এইবার সেই চিত্র পাল্টে গেছে। মধ্যবিত্তদের ভোটও যে তারা ধরে রাখতে পেরেছে এমনটা নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে 'স্বচ্ছ রাজনৈতিক ভাবমূর্তি'কে সামনে রেখে একসময় রাজনীতির ময়দানে নেমেছিল আম আদমি পার্টি, সেখান থেকে তারা অনেকটাই 'সরে এসেছে' এবং তা সাধারণ মানুষের 'চোখে পড়েছে'।

অন্যদিকে, দিল্লির দূষণ কমানো, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, যমুনার জল পরিশোধনের মতো একাধিক বিষয়েও তারা নজর দেয়নি। এর প্রভাব ভোটে পড়েছে।

দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ আপের শীর্ষনেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ দলের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করেছে।

আম আদমি পার্টির সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লির আবগারি নীতিতে বদল এনে কিছু লোককে 'অনৈতিক' সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। লাইসেন্স ফি কমানো এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর অভিযোগও ওঠে। মি. সিসোদিয়া এবং মি. কেজরিওয়ালকে এসব অভিযোগে গ্রেফতারও করা হয়।

দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় মানুষদের চিকিৎসার জন্য তৈরি মহল্লা ক্লিনিককে কেন্দ্র করেও আম আদমি পার্টির বিরুদ্ধে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।

মি. কেজরিওয়ালের বিলাসবহুল বাসভবনকে ঘিরেও বিরোধীরা একের পর এক 'তোপ' দেগেছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এই অভিযোগগুলো যেমন আমজনতার কাছে আপের ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও প্রভাবিত করেছে, তেমনই বিজেপি কিন্তু এই অভিযোগকে ঘিরেই আম আদমি পার্টিকে 'কোণ ঠাসা' করতে ছাড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে গেরুয়া শিবিরের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে এরকম কথাই বারবার শোনা গেছে।

আপের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ উঠেছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, আপের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে নানা রকম অভিযোগ উঠেছে

ভাবমূর্তিতে 'ফাটল'?

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শিখা মুখার্জী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছিলেন তিনি ও তার দল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিহীন একটা সরকার চালাবেন। কিন্তু তার ও মণীশ সিসোদিয়ার বিরুদ্ধে আবগারী দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে দেখা গেছে। বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে।"

তবে আপ নেতাদের জামিন দেয়ার সময় আদালত জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পোক্ত প্রমাণ পেশ করতে পারেনি।

"এদিকে সাধারণ মানুষের মনে হতে থাকে, আম আদমি পার্টিও কি অন্যান্য দলের মতোই যেখানে নানা কেলেঙ্কারি হয়, টাকা নয়-ছয় হয়? অথচ তারা শুরু থেকে অন্যরকম রাজনীতির কথা বলে এসেছিল," যুক্ত করেন শিখা মুখার্জী।

তিনি আরও বলেন, "আর ব্যক্তিগতভাবে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে যা কাজ করেছে তা হলো তার বাসভবন সংস্কার। কারণ সাধারণ মানুষ ভাবতে থাকেন যে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ক্ষমতায় আসার পর মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রা ত্যাগ করেছেন এবং তিনি বিলাসবহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। এতে তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।"

রাজনৈতিক মনোবিজ্ঞানী, সামাজিকতত্ত্ববিদ আশিস নন্দীর মতে, এই ভাবমূর্তিই কিন্তু আম আদমি পার্টির উত্থানে সাহায্য করেছিল।

তার কথায়, "আম আদমি পার্টির উত্থান দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের হাত ধরে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং তারই মতো নেতাদের সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি ভেবে জনতা ভোট দিয়েছিল। একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ এই ভাবমূর্তিতে ফাটল ধরিয়েছে।"

দলের শীর্ষ নেতারা গ্রেফতার হওয়ার পর জেলে গেছেন। জামিন পেতে আইনি লড়াই লড়তে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই সময়টায় একটা 'শূন্যতা' তৈরি হয়। কারণ, বিজেপি পাল্টা প্রচার করতে থাকে যে দলের সামনের সারির নেতারা আইনি লড়াইয়ে ব্যস্ত, তারা দিল্লির মানুষের কথা ভাবেন না।

মি. নন্দী বলেছেন, "বিজেপি কিন্তু এই সময় এবং সুযোগকে কাজে লাগাতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি। তারা আপের বিরুদ্ধে মাঠ পর্যায়ে সমানে প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু এখানেই আর একটা প্রশ্ন আসে। সেটা হলো ভারতের কোন দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নেই? নির্বাচনি বন্ডের একটা বড় অংশ তো বিজেপির ঝুলিতে গেছে।"

প্রসঙ্গত, নির্বাচনি বন্ডের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে বেনামে অর্থ দেওয়া যায়। এই বন্ড ২০২৪ সালে বাতিল করেছে ভারতের শীর্ষ আদালত। সেই বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন মি. নন্দী।

কংগ্রেসের ভূমিকা

ভোটের এই সমীকরণে ইন্ডিয়া জোটের শরিক কংগ্রেস কিছুটা হলেও আপের হয়ে 'ব্যাটিং' করতে পারত বলে মনে করেন আশিস নন্দী। তিনি বলেছেন, "ভোটের ফলাফল থেকে এটা স্পষ্ট যে কংগ্রেস এবং আপ একসঙ্গে লড়লে বিজেপিকে বেগ পেতে হতো। কিন্তু কংগ্রেস আপের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়েছে।"

"আমি মনে করি, এখানে কংগ্রেস বিজেপির বি টিমের ভূমিকা পালন করেছে। এখানেই সমীকরণটা বদলে যায়।"

একই মত পোষণ করেন শিখা মুখার্জী। তার কথায়, "কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি একে অপরের বিরুদ্ধে এই ভোটে লড়েছে। আপ জিততে পারত যদি কংগ্রেস তাদের সঙ্গে লড়ত। তারা সেই সুযোগ পায়নি, কারণ কংগ্রেস তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা প্রচার চালিয়েছে। ঠিক এইভাবেই তারা পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধেও প্রচার করে থাকে।"

"আম আদমি পার্টিকে নিশানা করল কংগ্রেস, কিন্তু বিজেপিকে কিছু বলল না। এর মানে দাঁড়ায় অর্থাৎ বিজেপি আপের বিষয়ে যা বলছে সেটা ঠিক।"

এই প্রসঙ্গে তিনি বিজেপির কৌশলের কথাও বলেছেন। তার কথায়, "২৭ বছর কিন্তু দিল্লিতে আসতে পারেনি বিজেপি। মিনিউসিপাল স্তরে তাদের ক্ষমতা বেশ মজবুত। আপকে ভাঙতে তারা দলের একের পর এক নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে। এরপর তদন্ত হয়েছে, দলের বেশ কয়েকজন নেতা জেলে গিয়েছেন। কেউ কেউ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন এবং তাদের ওপর থেকে অভিযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।"

অন্যদিকে, আপের পরাজয়ের নেপথ্যে ভোট শেয়ারও রয়েছে বলে জানিয়েছেন শিখা মুখার্জী। তার কথায়, "আপের ভোট শেয়ার কমেছে। এর কিছুটা বিজেপির কাছে গিয়েছে এবং কিছুটা কংগ্রেসের ঝুলিতে।"

আসাদুদ্দিন ওয়াইসির দলের মতো একাধিক দলের পৃথক উপস্থিতির ফলে আপের ভোট শেয়ার কমেছে বলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। এই দলগুলোর ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় বিজেপির সুবিধা হয়েছে।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, যে মতাদর্শের কথা বলে আপ রাজনীতিতে এসেছিল সেখান থেকে তারা সরে এসেছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা

প্রভাব

প্রশ্ন উঠেছে, এই পরাজয়ের প্রভাব আপের উপর কতটা পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে বিজেপি এবং কংগ্রেসের তুলনায় আম আদমি পার্টি একেবারে নতুন। এর ভিত তেমন পোক্ত হয়ে ওঠেনি, তাই হারের পর আপের সামনে একাধিক 'চ্যালেঞ্জ' রয়েছে।

শিখা মুখার্জী বলেছেন, "আপ কিন্তু ক্যাডার বেসড দল নয়। সংগঠন ছাড়া কোনো দলের যে যে দুর্বলতা থাকতে পারে, তা আপের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আপের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আগামী পাঁচ বছরে তারা দিল্লি এবং জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের কীভাবে তুলে ধরবে সেটা ঠিক করা।"

"প্রথম তাদের সংগঠন তাদের তৈরি করতে হবে। দ্বিতীয়ত, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, মণীশ সিসোদিয়া, সঞ্জয় সিংয়ের মতো নেতাদের ওপর চাপ বাড়বে। এতে দলের নেতৃত্ব নিয়ে একটা সমস্যা তৈরি হতে পারে।"

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, সাম্প্রতিক হারের প্রভাব পাঞ্জাবে পড়বে কি না কারণ সেখানেও আপের সরকার।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "অবশ্যই প্রভাব পড়বে। কারণ কংগ্রেস বুঝেছে আপকে এইভাবে দুর্বল করা যায়। তাই এমনটাও হতে পারে যে কংগ্রেস আপের সরকারকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করবে এবং এতে বিজেপির সায় থাকবে। এই সংকট থেকে পাঞ্জাবে আপের নেতারা কীভাবে মোকাবিলা করবেন সেটা দেখার।"

এখই আপের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে না বলে মনে করেন মি. নন্দী। তার কথায়, "একটা ভোটে হেরে কোনো দল শেষ হয়ে যায় না। তবে তাদের নেতৃত্ব নিয়ে সমস্যা হতে পারে এবং বিজেপি তাদের সমস্যা বাড়াবে।"

"অন্যদিকে, দিল্লিতে ক্ষমতায় এসেও বিজেপি রাস্তা-ঘাট বা যমুনার জল, যা এই নির্বাচনে একটা বড় ইস্যু ছিল, তার উন্নয়নের জন্য কিছু করবে বলে মনে হয় না যদি না কেন্দ্র কোনো সদিচ্ছা দেখায়। আপ সেটাকে কাজে লাগাতে পারে কি না সেটা দেখার।"