পত্রিকা: 'মৌলভীবাজারের সিলিকা বালু লুট হচ্ছে নির্বিচারে'

Published
পড়ার সময়: ১০ মিনিট

'মৌলভীবাজারের সিলিকা বালু লুট হচ্ছে নির্বিচারে'- আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর।

এই খবরে বলা হয়েছে, মৌলভীবাজারের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে নদী আর ছড়া। এ জেলায় রয়েছে কয়েক শ ছড়া। কিন্তু সিলিকা বালু লুটের কারণে এসব ছড়া শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

এখানকার অর্ধশতাধিক ছড়া থেকে রাতের আঁধারে একটি মহল বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে; কিন্তু তা ঠেকানোর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই। প্রশাসন অনেকটা নীরব ভূমিকা পালন করছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ জেলায় সিলিকা বালুর কোয়ারির তালিকায় রয়েছে ৫২টি ছড়া। এর মধ্যে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর অনুমোদিত ৩৩টি সিলিকা বালু কোয়ারি রয়েছে।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজারের সিলিকা বালুর কোয়ারি ইজারা বন্ধের দাবি নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। উচ্চ আদালত ৫২টি ছড়ার মধ্যে ১৯টির ইজারায় স্থগিতাদেশ দেন। এই ১৯টি ছড়া থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করা হয়।

পরে এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট (ইআইএ) ও এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান (ইএমপি) প্রাপ্তি সাপেক্ষে ৩৩টি ছড়ায় সিলিকা বালুর কোয়ারি ইজারার অনুমোদন দেওয়া হয়।

পত্রিকাটির অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ১৪২৮ ও ১৪২৯ বাংলা সনে ৫০টি ছড়ায় সিলিকা বালুর কোয়ারিতে ইজারা-সংক্রান্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) অনুমোদিত ৩৩টি ছড়ার সিলিকা বালুর কোয়ারি রয়েছে।

এসব ছড়ার মধ্যে মাত্র ৬টির সিলিকা বালুর কোয়ারি ইজারা দেওয়া হয়, যার মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। মেয়াদ শেষ হলেও জেলার বেশির ভাগ সিলিকা বালুর কোয়ারি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'অন্তরালে জোট নিয়ে দৌড়ঝাঁপ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশ এখন নির্বাচনমুখী, তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে দৌড়ঝাঁপ বাড়ছে।

বিএনপির নেতৃত্বে ১২ দল, সমমনা জোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি দল প্রায় নিশ্চিতভাবে একসঙ্গে ভোটে যাবে।

এছাড়া গণতন্ত্র মঞ্চ, এবি পার্টি, এনসিপি, গণ-অধিকার পরিষদের সঙ্গেও বিএনপির যোগাযোগ চলছে। তবে বিএনপি স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা জামায়াতের সঙ্গে জোট করবে না।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও কিছু ইসলামী দল আলাদা জোটের উদ্যোগ নিয়েছে।

আসন বণ্টন নিয়ে এখনো টানাপোড়েন চলছে। বিএনপি ৬০টির বেশি আসন ছাড়তে চায় না, কিন্তু এনসিপি ৩০টি আসনের দাবি তুলেছে।

জামায়াতও ৫০টি আসন চাইছে, যা না পেলে তাদের নির্বাচনে না যাওয়ার হুমকি শোনা যাচ্ছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের বিকল্প শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টিও আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের ধারণা, আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ কর্মীরা জাতীয় পার্টির ওপর নির্ভর করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যারা নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলছে, সেটি আসলে কৌশল মাত্র। শেষ পর্যন্ত সবাই নির্বাচনে অংশ নেবে।

বিএনপি বলছে, যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য সরকার গঠনের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।

ফলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে বড় তিনটি জোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবচেয়ে আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, '৪ ধরনের অপরাধ বেশি, চ্যালেঞ্জ 'মব' নিয়ন্ত্রণ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত এক বছরে দেশে খুন, ডাকাতি, অপহরণ ও ধর্ষণের মতো বড় চার অপরাধ বেড়েছে, যদিও ছিনতাই, চুরি ও চোরাচালান কিছুটা কমেছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুনের মামলা প্রায় চার হাজারে পৌঁছেছে, ডাকাতির মামলা আগের বছরের তুলনায় তিনগুণ বেড়েছে, আর অপহরণের মামলাও দ্বিগুণের বেশি হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ হাজার। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণ।

গত এক বছরে শতাধিক মানুষ গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন, পুলিশের ওপরও একাধিকবার হামলা হয়েছে। অনেক সময় পুলিশ ভয়ে ঘটনাস্থল থেকেও সরে গেছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়নি।

প্রতিবাদ ও আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সহিংসতায় রূপ নিলেও তা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া যায়নি।

পুলিশের দুর্বলতা, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, আস্থার সংকট ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাবে মানুষের নিরাপত্তাবোধ নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে রংপুর ও গাজীপুরের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড জনমনে আতঙ্ক বাড়িয়েছে।

যদিও সরকার ও পুলিশ বলছে, মবের বিরুদ্ধে তারা এখন 'জিরো টলারেন্স' নীতি নিয়েছে, তবু পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মব সহ অন্যান্য অপরাধ আরও বাড়তে পারে, তাই পুলিশকে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

এই খবরে বলা হয়েছে––আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বকেয়া ছিল প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্যাস খাতে পেট্রোবাংলার বকেয়া ছিল ২৭ হাজার কোটি (গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত) এবং বিদ্যুতে বিপিডিবির বকেয়া প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

এক বছরের ব্যবধানে তা পরিশোধ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, বকেয়া পরিশোধের চেয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি কমিয়ে আনা বেশি জরুরি ছিল।

কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার গত অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। আর গ্যাস খাতে বিশেষত এলএনজিতে ভর্তুকি দিতে হয়েছে ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে এসব বিষয়ের টেকসই ও পরিকল্পিত সমাধান না হলে পরবর্তী সরকারের অর্থনৈতিক বড় বোঝা তৈরি হবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে সরকার বলছে, বিদ্যুৎ খাতের মৌলিক যে সংস্কার তা শুরু করা হয়েছে। সেগুলোর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম দূর করতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ বাতিল করেছে।

বিতর্কিত এ আইনটি বাতিলের সিদ্ধান্তের জন্য সরকার যেমন প্রশংসিত হয়েছে, তেমনি সংশ্লিষ্টরা বলছেন—আইনের আওতায় সম্পাদিত চুক্তিগুলো জনসমক্ষে উন্মুক্ত করতে না পারায় জনগণ এখনো জানে না, এ আইনের মাধ্যমে কী কী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছিল।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংস্কার শুধু চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়টি এমন নয়। এখানে সংস্কার বলতে দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নিশ্চয়তা এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে এ খাতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা বলে মনে করেন এ খাতের বিশ্লেষকরা।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'Shahjalal nternational Airport Terminal-3: Operations face further delay' অর্থাৎ, 'শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর টার্মিনাল-৩: কার্যক্রম আরও বিলম্বিত হচ্ছে'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হতে আবারও দেরি হচ্ছে। কারণ বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএবি) এখনো জাপানের একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারেনি।

চুক্তি করতে আরও এক থেকে দুই মাস লাগবে, আর জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ শেষ করতে আরও পাঁচ-ছয় মাস সময় লাগবে। ফলে বছরের শেষ নাগাদ চালুর নতুন সময়সীমাও পূরণ নাও হতে পারে।

টার্মিনালের নির্মাণ প্রায় শেষ হলেও এখনো রাজস্ব বণ্টন নিয়ে সিএএবি ও জাপানি কনসোর্টিয়ামের সমঝোতা হয়নি।

কনসোর্টিয়ামে আছে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিত্জ ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন।

তারা টার্মিনালের সব অপারেশন পরিচালনা করবে, আর নিরাপত্তা দেখবে সিএএবি। প্রায় ছয় হাজার জনবল লাগবে, যার মধ্যে চার হাজার নিরাপত্তার জন্য।

বিমানের যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং প্রথম দুই বছর কনসোর্টিয়ামের তত্ত্বাবধানে চলবে।

নতুন টার্মিনাল চালুর দাবিতে ব্যবসায়ীরা চাপ দিচ্ছেন, বিশেষ করে ভারত হঠাৎ তৃতীয় দেশ হয়ে ট্রানশিপমেন্ট বন্ধ করার পর থেকে পোশাক রপ্তানিতে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এই টার্মিনাল পুরোপুরি চালু হলে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বছরে দুই কোটি ৪০ লাখে পৌঁছাবে, আর কার্গো সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে ১০ লাখ টনে দাঁড়াবে। তবে চূড়ান্ত চালুর সঠিক তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজশাহীর পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের বামনশিকড় গ্রামে এক মর্মান্তিক ঘটনার পর চারজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহতরা হলেন মিনারুল ইসলাম (৩৫), তার স্ত্রী মনিরা খাতুন (২৮), ছেলে মাহিম (১৪) ও মেয়ে মিথিলা (৪)।

ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যার পর মিনারুল নিজে আত্মহত্যা করেন। শুক্রবার সকালে একই ঘর থেকে তাদের লাশ পাওয়া যায়।

ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যা মিনারুল লিখেছেন বলে মনে করছে পুলিশ।

সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ঋণের বোঝা ও খাওয়ার অভাবের কারণে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের হত্যা করে আত্মহত্যা করেছেন।

তিনি লিখেছেন, একা মারা গেলে পরিবার কষ্টে বাঁচবে, তাই তাদেরও সঙ্গে নিয়েছেন। চিরকুটে আরও লেখা ছিল, এই ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না এবং পরিবারের কেউ যেন তাদের দাফনকাজে অর্থ ব্যয় না করে।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান জানান, প্রাথমিকভাবে স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বাসরোধে হত্যার পর মিনারুল গলায় ফাঁস দিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আত্মীয়-স্বজনও নিশ্চিত করেছেন, চিরকুটটি মিনারুলের লেখা এবং তাতে আর্থিক সংকটের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।

গ্যাসকূপ খনন প্রকল্প নিয়ে বিদেশি কোম্পানির করা মামলায় প্রাথমিকভাবে ৫২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মুখে পড়েছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্সকে।

তিনটি গ্যাসকূপ খনন করতে ২০১৭ সালে আজারবাইজানের কোম্পানি সকারের সঙ্গে ৩৯৯ কোটি টাকার চুক্তি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। চুক্তি ভঙ্গসহ কয়েকটি অভিযোগ এনে বাপেক্সের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি আদালতে মামলা করে আংশিক রায়ও পায় তারা।

বাপেক্স এখন এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

আপিলের জন্য বাপেক্স ইতোমধ্যে মামলার রায় পর্যালোচনা করেছে। রায় ও পর্যালোচনার তথ্য বিশ্লেষণ করে একাধিক আইনজ্ঞ মনে করছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা করতে না পারা এবং আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা পরিচালনায় উপযুক্ত আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দিতে না পারায় এ ক্ষতির মুখে পড়েছে বাপেক্স। মামলার বাকি রায় এলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

জ্বালানি বিভাগ ও বাপেক্স সূত্র জানায়, সকার ২০২০ সালে সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল আরবিট্রেশন সেন্টারে (এসআইএসি) এ মামলা করে। গত ৪ জুলাই আদালত আংশিক রায় দেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মামলায় বাপেক্স চূড়ান্তভাবে হেরে গেলে প্রকল্পের মোট খরচের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হবে সকারকে। আর টাকা তারা পাবে আংশিক কাজ করে। যদিও তাদের খনন করা কূপে গ্যাস পাওয়া যায়নি। খনন কাজে কোম্পানিটির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন ছিল।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রধান শিরোনাম, 'Rising targets, stalled reforms: Can Bangladesh deliver on FY26 export goals?' অর্থাৎ, 'ক্রমবর্ধমান লক্ষ্যমাত্রা, স্থবির সংস্কার: বাংলাদেশ কি ২০২৬ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে?'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছরই রপ্তানির বড় লক্ষ্য ঠিক করে, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ হয় না।

২০২৬ অর্থবছরে পণ্য ও সেবায় ৬৩ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্য ধরা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ বেশি।

অথচ গত বছর লক্ষ্য পূর্ণ হয়নি, রপ্তানি বেড়েছিল মাত্রআট দশমিক পাঁচ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব লক্ষ্য গবেষণাভিত্তিক নয়, বরং আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মতো।

ব্যবসায়ীরা বলেন, সরকার পুরনো সমস্যাগুলো সমাধান না করলেও তাদের নিজস্ব চেষ্টাতেই রপ্তানি বাড়ছে।

রপ্তানিকারকরা দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন যেমন, গ্যাস সংকট, ব্যাংকিং জটিলতা, কাস্টমসে বিলম্ব, বন্দরজট, পরিবহন সমস্যা, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতা।

ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় কেন্দ্রীয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস নিয়েও এক দশক ধরে ঝুলে আছে উদ্যোগ।

এই ওয়্যারহাউস থাকলে ছোট রপ্তানিকারকেরা সহজে কাঁচামাল আমদানি করে সেখানে জমা রাখতে পারতেন এবং প্রয়োজনে তা ব্যবহার করতে পারতেন। এতে কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ হতো, খরচ কমত, উৎপাদন দ্রুত হতো।

অনেক কারখানায় সক্ষমতা থাকলেও গ্যাস ও ব্যাংকিং সমস্যার কারণে নতুন অর্ডার নিতে পারছে না। আবার দেরিতে টাকা পাওয়ায় ব্যবসায়ীদের শাস্তি গুনতে হয়, চালান বন্ধ হয়ে যায়।

বিশ্ববাজারেও চাপ আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের প্রতিযোগিতা, ভারতের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নতুন বাণিজ্যচুক্তি, সব মিলিয়ে রপ্তানি দাম কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

তবে ব্যবসায়ীদের মত, যদি গ্যাস, ব্যাংকিং, কাস্টমস ও আইনশৃঙ্খলা সমস্যা সমাধান হয়, বাংলাদেশ শুধু লক্ষ্য পূরণই নয়, আরও বেশি রপ্তানি করতে পারবে।

নিউ এজের প্রধান শিরোনাম, 'ACC reform gets stuck' অর্থাৎ, 'আটকে আছে দুদকের সংস্কার'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অন্তবর্তী সরকার সাত মাস আগে দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

কমিশন ২০২৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি ৪৭টি সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টা মুহম্মদ ইউনূসকে জমা দেয়, যার লক্ষ্য ছিল দুদক-কে আরও গতিশীল ও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব থেকে মুক্ত করা।

সুপারিশের মধ্যে রয়েছে দুদককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, কমিশনারের পদ সংখ্যা বাড়ানো, কর্মকর্তাদের বেতন দ্বিগুণ করা এবং লিঙ্গভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

এছাড়াও, অবৈধ অর্থ বৈধ করার সুযোগ বন্ধ করা, পদোন্নতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা এবং তদন্ত ও নীতিনির্ধারণে প্রাধিকার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

তবে সরকার কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেনি।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কিছু সুপারিশ ইতিমধ্যেই পূর্ববর্তী আইনের মাধ্যমে প্রয়োগের আওতায় এসেছে, তাই নতুন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন, "সংস্কার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না, যা হতাশাজনক।"

অপরদিকে, দুদক এখনো রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। অভিযোগ অনুসন্ধান ও মামলার প্রসেসে পক্ষপাতিতার ঘটনা ঘটছে।

টআইবি'র প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক বছরে ৭২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দাখিলের পর স্বেচ্ছায় মামলা প্রত্যাহার দুদকের কার্যকারিতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ তৈরি করেছে।

কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় কাঠামোগত সংস্কার অসম্পূর্ণ থেকে গেছে এবং সরকারের ইচ্ছাশক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'সমীক্ষা ছাড়াই চলছে ২৭৬ কোটি টাকার ইলিশ প্ৰকল্প'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে এবং সরাসরি পাঁচ লাখ মানুষ এ কাজে যুক্ত। এই গুরুত্বের কারণে সরকার ২০২০ সালে "ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প" হাতে নেয়।

প্রকল্পটি ২০২০ সালে ২৪৬ কোটির বেশি ব্যয়ে অনুমোদন পায়, কিন্তু সমীক্ষা ছাড়াই শুরু হওয়ায় নানা জটিলতার মুখে পড়ে।

এখন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৬ কোটির বেশি এবং মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৫ পর্যন্ত। প্রকল্পের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও চার বছর দশ মাসে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৫৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ,

দুই মাসে ৪২ শতাংশ কাজ শেষ করা অসম্ভব বলে মনে করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

প্রকল্পে নতুন এলাকা যুক্ত করা, ৬০টি ড্রোন কেনা ও অন্যান্য কারণে বিলম্ব হয়েছে। করোনার সময়ও অগ্রগতি কম হয়।

প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল মা ইলিশ ও জাটকা রক্ষায় আইন প্রয়োগ, অভয়াশ্রম গঠন এবং জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি করা। ইলিশ আহরণ পাঁচ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিকটন থেকে ছয় দশমিক ২০ লাখে উন্নীত করা এবং সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।

এ জন্য গরু পালনের প্রশিক্ষণ ও বাছুর বিতরণ, বৈধ জাল সরবরাহ, সচেতনতা সভা, বিশেষ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। তবে সব কাজ পরিকল্পনামাফিক হয়নি।

অনেক অভয়াশ্রমে সীমারেখা বা সাইনবোর্ড বসানো হয়নি, অবৈধ জালের উৎপাদনও বন্ধ হয়নি। এতে ইলিশের প্রজননক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং জেলেরা জীবিকা হারাচ্ছে।

এছাড়া সমীক্ষা ছাড়া পরিকল্পনা নেওয়ায় প্রকল্পটি এখনও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি।

বিশ্বের মোট ইলিশের ৮০ শতাংশ আহরিত হয় বাংলাদেশ থেকে। কিন্তু প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস, নদীর পরিবর্তন, জালের অপব্যবহার ও অতিরিক্ত আহরণের কারণে উৎপাদন কমছে।

এতে জেলেরা বেকার হচ্ছে, জীবিকা হারাচ্ছে এবং উপকূলীয় ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।