পত্রিকা: 'আ.লীগ নেতাদের ব্যাংক হিসাবে পুলিশের চোখ'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার একটি শিরোনাম— আ.লীগ নেতাদের ব্যাংক হিসাবে পুলিশের চোখ।

এই খবরে বলা হয়েছে, শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দিয়েছে পুলিশ।

পাশাপাশি আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজনরাও আছেন সন্দেহের তালিকায়।

পুলিশ সূত্র জানায়, নেতা, তাদের স্ত্রী, সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের ব্যাংক হিসাবের গত ১৬ বছরের লেনদেন, বিশেষ করে বড় অঙ্কের টাকা জমা বা উত্তোলনের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

পুলিশের এ পদক্ষেপকে অনেকে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিবেচনা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'প্রায় এক মাস আগে পুলিশ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিট ও দুদক আলাদাভাবে তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা, তাদের স্বজন এবং তাদের সঙ্গে লেনদেনকারীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রায় সব ব্যাংকেই এ ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।'

দুই দলকে সন্তুষ্ট রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের চেষ্টা— সমকালের প্রথম পাতার খবর এটি। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে ঢাকার বেশ কয়েকটি পত্রিকা আজ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সমকালের এই খবরে বলা হয়েছে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে সন্তুষ্ট রেখে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ বের করার চেষ্টা করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

যেখানে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রস্তাবে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টে অভিমত গ্রহণ থাকবে।

আবার জামায়াতসহ সাত দলের চাওয়া অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশ জারির মাধ্যমে নির্বাচনের আগেই সংবিধান সংস্কার কার্যকরের প্রস্তাবও থাকবে।

এনসিপি, ছয় দলের গণতন্ত্র মঞ্চ এবং কয়েকটি বাম দলের প্রস্তাবিত গণপরিষদ বা সংবিধান সভাও রাখা হবে।

গত শুক্রবার রাতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের ভার্চুয়াল সভায় এসব আলোচনা হয়।

বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক মতবিরোধে আটকে থাকা জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ প্যানেল দুইটি 'প্যাকেজ প্রস্তাবের' পরামর্শ দিয়েছে।

৪৪ হাজার গ্রেপ্তার, জামিনে ৭৩%— প্রথম আলোর প্রধান সংবাদের শিরোনাম এটি।

এই খবরে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল বেড়েছে। এ অবস্থায় পুলিশ সদর দপ্তর গত বছরের পাঁচই অগাস্টের পর থেকে এ বছরের ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে গ্রেপ্তার ও জামিনের তথ্য যাচাই করেছে।

'ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও জামিনসংক্রান্ত তথ্য' শিরোনামে পুলিশের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ মাসে এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৪৭২।

এদের মধ্যে ৩২ হাজার ৩৭১ জন জামিন পেয়েছেন। অর্থাৎ মোট প্রায় ৭৩ শতাংশ আসামির জামিন হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই আসামিরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কালের বিভিন্ন মামলা এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতন-পরবর্তী সময়ে মিছিল বা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের আটটি রেঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে চট্টগ্রামে। ১৩ মাসে এই রেঞ্জে গ্রেপ্তার হন সাত হাজার ৮২৩ জন। এর মধ্যে জামিন পেয়েছেন ছয় হাজার ২৭৫ জন।

আর সবচেয়ে কম গ্রেপ্তার হয়েছে সিলেট রেঞ্জে। যেখানে এই সময়ে গ্রেপ্তারের সংখ্যা এক হাজার ৩৯৮, আর জামিন মিলেছে এক হাজার ১৭৪ জনের।

এক দশকে অর্ধেকে নেমেছে নারী অভিবাসন— বণিক বার্তার প্রধান খবর এটি।

এতে বলা হয়েছে, জীবিকার সন্ধানে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার নারী কর্মী বিদেশে পাড়ি জমান। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, জর্ডান ও লেবাননই তাদের প্রধান গন্তব্য।

বাংলাদেশে থেকে যাওয়া অধিকাংশই সেখানে কাজ করেন গৃহকর্মী বা গার্মেন্ট শ্রমিক হিসেবে।

তবে দিন দিন নারী কর্মীর বিদেশ যাওয়ার হার কমছে। এক দশক আগেও যেখানে প্রতি বছর এক লাখের বেশি নারী কর্মী বিদেশে যেতেন, সেখানে এখন সংখ্যাটি অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বিদেশের কর্মক্ষেত্রে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়া, অতিরিক্ত সময় কাজ করতে বাধ্য করা, পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়া, এমনকি যৌন হয়রানির মতো গুরুতর অভিযোগ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।

এসব কারণে নারী অভিবাসনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম— শিশুদের টিকার সংকট

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদের নিয়মিত টিকা দেয়ার ক্ষেত্রে সংকট দেখা দিয়েছে। এই সংকট কোথাও তীব্র, কোথাও-বা কম।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় দেয়া এসব টিকার সংকট চলছে কয়েক মাস ধরে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, টিকা কেনা এবং তারপর সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, এ সংকট দীর্ঘমেয়াদি হবে না।

ইপিআইয়ের আওতায় সরকার বর্তমানে ১১টি কর্মসূচিতে ৮টি রোগের টিকা দেয়।

দেশে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব হতে পারে— এটি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য। গতকাল কুমিল্লায় দলটির সম্মলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি তা বলেছেন, এ সংক্রান্ত খবর যুগান্তর প্রথম পাতায় প্রকাশ করেছে।

তারেক রহমানের মতে, আগামী দিনে দেশে গুপ্ত স্বৈরাচারের আবির্ভাব হতে পারে। সেই গুপ্ত স্বৈরাচার থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হবে।

এজন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেন তিনি। দেশ গঠন করার কথা বলেন, এর কোনও বিকল্প নেই বলে জানিয়ে দেন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেছেন, জনগণ যেভাবে চায় আমাদের ঠিক সেভাবেই চলতে হবে। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

আমাদের একটাই লক্ষ্য সবার আগে বাংলাদেশ। যেখানে বাংলাদেশের স্বার্থ সেখানেই বিএনপি— যোগ করেন তিনি।

দূষণে দুর্দশা বুড়িগঙ্গার— কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম এটি।

এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আজ রোববার বিশ্ব নদী দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে দেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি পত্রিকাগুলোতেও এ সংক্রান্ত খবর গুরুত্ব পেয়েছে আজ।

রাজধানীর পাশ দিয়ে বয়ে চলা বুড়িগঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে দূষণে ধুঁকছে। ভরা বর্ষায়ও নদীর দূষণ সেভাবে কমে না।

এই নদী কি দূষণমুক্ত করা যাবে? ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাতের মতে তা সম্ভব। এজন্য তিনি কয়েকটি উপায়ের কথাও বলেছেন।

বর্জ্যে বিষাক্ত ঢাকার ৪ নদী শিরোনামে পত্রিকাটির আরেকটি খবরে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১০ নদীর একটি বুড়িগঙ্গা। এই নদীর পানিতে ক্ষতিকর ক্রোমিয়াম, আয়রন ও জিংকের মতো ভারী ধাতু রয়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর সদরঘাট এলাকায় দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ ০.২৪ মিলিগ্রাম।

অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-২০০৭ অনুযায়ী মৎস্য ও জলজ প্রাণীর জন্য প্রতি লিটার পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন প্রয়োজন পাঁচ মিলিগ্রাম বা তার বেশি।

বুড়িগঙ্গাসহ রাজধানী ঢাকার চারপাশে থাকা তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যার পানিতে প্রতিদিন মিশছে ৮০ হাজার কিউবিক মিটার তরল বর্জ্য। অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে এই দূষণ বাড়ছে। এই দূষণে নদ-নদীর পানি তার স্বাভাবিক রং হারিয়ে ফেলেছে।

সংবাদের প্রধান শিরোনাম— 'বিশেষ পরিস্থিতিতে' নির্বাচন, এদেশে কাজ করা 'খুবই মুশকিল', বললেন সিইসি

এতে বলা হয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন 'বিশেষ পরিস্থিতিতে' হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

তা নিয়ে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

'আমরা ফেসিং সো ম্যানি চ্যালেঞ্জ, বোথ সিন অ্যান্ড আনসিন'— এই কথা বলেছেন সিইসি।

তার মতে, 'বাংলাদেশে কাজ করা খুবই ডিফিকাল্ট। পার্টিকুলারলি যে অবস্থার মধ্যে দিয়ে দেশটা যাচ্ছে, কাজ আদায় করে নেয়া কিছু কিছু পক্ষের লোকের জন্য খুবই সুবিধা, আর বেশিরভাগ পক্ষের লোকের জন্য ডিফিকাল্ট। এই সিচুয়েশনে এখন দেশ দাঁড়ায় আছে।'

গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

We are fully with yoU: World leaders to CA Yunus; দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার খবর এটি।

যেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা।

মুহাম্মদ ইউনূসকে সমর্থন জানাতে গত শুক্রবার নিউইয়র্কে তার হোটেল স্যুইটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাবেক নেতৃবৃন্দ একত্রিত হন।

লাটভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও নিজামি গঞ্জাভি আন্তর্জাতিক কেন্দ্রের (এনজিআইসি) সহ-সভাপতি ভাইরা ভিকে-ফ্রেইবারগার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে।

তারা বাংলাদেশকে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সহযোগিতা ও গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেয়ার অঙ্গীকার করেন।

ইউনূস এভাবে অপ্রত্যাশিত সমর্থন পেয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ সময় তিনি বলেন, 'এটি একেবারেই অপ্রত্যাশিত। আপনাদের একসঙ্গে আমাদের সমর্থনে দাঁড়ানো সত্যিই অবিশ্বাস্য। আমি একেবারেই মুগ্ধ।'

আরেকটি ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের প্রধান শিরোনাম— Dozens hurt in clashes during road blockade in Khagrachari

এই খবরে বলা হয়েছে, খাগড়াছড়িতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় এক ডজন মতো ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

এক পাহাড়ি কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে এদিন সেখানে অবরোধ কর্মসূচি চলছিল, যখন কি না খাগড়াছড়ির সঙ্গে সড়কপথে সব ধরনের যোগাযোগও বন্ধ হয়ে পড়ে, তার মধ্যেই সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং জনগণের জান ও মালের ক্ষতিসাধনের আশঙ্কায় জেলার পৌরসভা ও সদর উপজেলায় ১৪৪ ধারাও জারি করা হয়েছে।