পত্রিকা: 'আন্দোলনে নামতে পারে এনসিপি'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

জুলাই জাতীয় সনদে বিভিন্ন দলের সই করা, অনুষ্ঠান ঘিরে জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, শেষ মুহূর্তে অঙ্গীকারনামায় সংশোধনসহ এ সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর আজ ঢাকার দৈনিকগুলো প্রথম পাতায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার একটি শিরোনাম— আন্দোলনে নামতে পারে এনসিপি

এতে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগেই উঠেছিল জুলাই জাতীয় সনদের দাবি। আর তাদের ছাড়াই সনদ স্বাক্ষরকে প্রতারণা হিসেবে দেখছে দলটি।

এই অবস্থায় সনদে নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামার কথা বলছেন দলটির নেতারা।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেছেন, '৩১ অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। আমরা আশা করি, এই সময়ের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে। সেটা না হলে প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আবারও রাজপথে নামব।'

আলোচনার মাধ্যমে জুলাই সনদ বিষয়ে এনসিপির দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে জানতে চাইলে দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, "আমরা যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি, সনদে যতটুকু অর্জিত হয়েছে, সেটাকে টেকসইভাবে বাস্তবায়ন, গণভোটের বিষয়ে ফয়সালা, নোট অব ডিসেন্টের (আপত্তি) জায়গাগুলো পরিষ্কার করা— এই বিষয়গুলোতেই আমরা কমিশনের সঙ্গে আলাপ জারি রাখব। প্রয়োজনে আমাদের যে রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে , সেগুলো জনগণকে সঙ্গে নিয়ে পালন করব।'

জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করায় এনসিপির নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং দলটির ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা কথা হচ্ছে।

তবে দলটির নেতারা বলছেন, তাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং দাবি আদায়ের লড়াই সমানতালে চলবে।

প্রথম আলোর প্রধান খবর— জুলাই জাতীয় সনদে ২৪ দলের সই

প্রতিবেদটিতে বলা হয়েছে, অনিশ্চয়তা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত সই হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫।

রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে তৈরি এই সনদে গতকাল শুক্রবার সই করেছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল ও জোট।

পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরাও সনদে সই করেছেন।

তবে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের গড়া দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অনুষ্ঠানে যায়নি, সনদে সইও করেনি।

এছাড়া, চারটি বামপন্থী দল জুলাই সনদে সই করেনি। আর গণফোরাম অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকলেও সই করেনি সনদে।

যদিও দলগুলো চাইলে পরেও সনদে সই করতে পারবে।

সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় প্রথম পর্বে ৩৩টি এবং দ্বিতীয় পর্বে ৩০টি দল অংশ নিয়েছিল।

কমিশন যেসব দলের সঙ্গে আলোচনা করে সনদ প্রস্তুত করেছে, তার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত দলের পাশাপাশি অনিবন্ধিত কিছু দলও আছে।

অন্যদিকে, নিবন্ধিত অনেক দল কমিশনের আলোচনায় ডাক পায়নি।

মূলত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের ভূমিকা বিবেচনা করে দলগুলোকে বাছাই করেছিল ঐকমত্য কমিশন।

নির্বাচন কমিশনে এখন নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫২। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত আছে।

দৈনিকটির আরেকটি খবরে বলা হয়, সনদে সই করা দলের মধ্যে ১৯টি নিবন্ধিত।

এদিকে, সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে সংঘর্ষ এবং কিছুটা বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে অনুষ্ঠানস্থলের অনেক আসন ফাঁকা দেখা যায়।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের দ্বিতীয় প্রধান খবর— Last-minute changes: Proclamation of independence retained অর্থাৎ শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন: স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র রাখা হয়েছে।

এই খবরে বলা হয়েছে, জুলাই সনদে একেবারেই শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন এনেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে যুক্ত হয়েছে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র।

গণফোরাম এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) চারটি বাম দল সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাদ দেয়ার সুপারিশের বিরোধিতা করে। তারই প্রেক্ষিতে পরিবর্তন আসে জুলাই সনদে।

সংবিধানের তফসিল থেকে সাতই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাদ দেয়ার বিষয়েও দলগুলো আপত্তি তুলেছিল।

এখন চূড়ান্ত করা সনদ অনুযায়ী, জুলাই সনদ অনুসারে সংবিধানে সংস্কার হলে তাতে সংবিধানের তফসিলে ৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা থাকবে না। তবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংবিধানের তফসিলে থাকবে।

এর পাশাপাশি দাবির মুখে জুলাই যোদ্ধাদের আইনগত দায় মুক্তির বিধানও সংযুক্ত করা হয়।

তারা এ সংক্রান্ত দাবি তুলে গতকাল দুপুরে সংসদ ভবন এলাকায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়ে। তখন সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এতে বলা হয়েছে, অবকাঠামোগত সব কাজ শেষ হলেও পর্যাপ্ত কয়লা সরবরাহ ও সঞ্চালন লাইনের জটিলতার কারণে দফায় দফায় পিছিয়ে যাচ্ছে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর তারিখ।

বিপরীতে, কেন্দ্রটি সচল রাখতে পরিচালন ব্যয়, বিদেশি ও স্থানীয় পরামর্শক ফি, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত, প্রশাসনিক খাতসহ বিভিন্ন ব্যয়ে প্রতি মাসে গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ১২ মিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪৬ কোটি ১৬ লাখ টাকার বেশি।

দৈনিক হিসাবে যার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি টাকা।

আর্থিক এ ক্ষতির বিষয়টি মূল্যায়ন করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) দেয়া চিঠিতে কেন্দ্রটির পরিচালনা প্রতিষ্ঠান আরপিসিএল-নরিনকো পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি বলছে, বাণিজ্যিক উৎপাদন বিলম্বিত হওয়ায় কেন্দ্রটির অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হবে প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয়ের সঙ্গে। এতে সামগ্রিক প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে, যা শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ট্যারিফে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

আর ব্যয় বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরএনপিএলের উৎপাদিত বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি খরচ পড়বে অন্যান্য কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের তুলনায় অনেক বেশি।

এর ফলে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় মূল্যও বৃদ্ধি পেতে পারে।

তিন মাস আগে রেকি করে ৫০০ ভরি স্বর্ণ চুরি— মানবজমিনের প্রথম পাতার একটি সংবাদ এটি।

এতে বলা হয়, ঢাকার মালিবাগের ফরচুন শপিংমলে একটি স্বর্ণের দোকানে চুরির ঘটনায় ১৯০ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার স্বর্ণের কিছু অংশ গলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে।

গ্রেপ্তার করা হয়েছে এ ঘটনায় জড়িত চোরচক্রের চার সদস্যকেও।

ডিবি বলছে, চক্রটি পেশাদার ও সংঘবদ্ধ। তারা গত তিন মাস ধরে ফরচুন শপিং মলের স্বর্ণালংকার চুরির পরিকল্পনা করছিল। সে অনুযায়ী তারা বেশ কয়েকবার রেকি করে। ঘটনার আগের দিন বাথরুমের জানালায় চিকন সুতা বেঁধে যায়, পরে রাতে সেই সুতার সঙ্গে রশি বেঁধে উপরে উঠে গ্রিল কেটে মার্কেটে প্রবেশ করে চুরি করে।

চুরির উদ্দেশ্যে তারা হাতুড়ি, শাবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম আগে থেকেই মার্কেটের পেছনে টিনের চালের নিচে লুকিয়ে রাখে।

এদিকে, চুরি যাওয়া দোকানের মালিক দাবি করেছেন, দোকানে মোট ৫০০ ভরি স্বর্ণ ছিল। উদ্ধার হয়েছে ১৯০ ভরি। বাকি স্বর্ণের সন্ধান পেতে তদন্ত চলছে। একজন আসামি এখনও পলাতক।

এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত কৃষিকাজ ও গরুর ফার্মে কাজ করতো। গোপনে পরিকল্পিতভাবে বড় ধরনের চুরির প্রস্তুতি নিতো।

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর— আইনশৃঙ্খলার অবনতি উদ্বেগজনক

এতে বলা হয়েছে, অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পর এর উন্নতির কোনও লক্ষণ নেই।

বরং দিনে দিনে তা আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।

জাতীয় নির্বাচনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই পরিস্থিতি তপ্ত হচ্ছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরাও চিন্তিত।

এ বিষয়ে গত সপ্তাহে আইজিপির নেতৃত্বে ঊর্ধ্বতনরা বিশেষ বৈঠক করেছেন।

কী কারণে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাই বেশি উত্তাপ ছড়িয়েছে পুলিশে।

যারা অবনতি ঘটাচ্ছে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনাসহ কিছু কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এসব সিদ্ধান্ত গত বৃহস্পতিবার রাতে বিশেষ বার্তায় পুলিশের ইউনিট প্রধান, রেঞ্জের ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া, গণঅভ্যুত্থান চলাকালে পুলিশের থানা, ফাঁড়ি থেকে বিপুল পরিমাণে যেসব অস্ত্র-গোলাবারুদ লুট হয়, তার উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার হয়নি এখনও।

এ নিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, 'বেহাত অস্ত্র-গোলাবারুদ নিয়ে আমরা ভয়ের মধ্যে আছি।'

সমকালের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম— নানা প্রেক্ষাপটে আগেও ৯ বার স্থাপিত হয় সাব-জেল

এই খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে সাব-জেল বা অস্থায়ী কারাগার ঘোষণার পর এ নিয়ে নানা আলোচনা চলে।

যদিও গত ৫৪ বছরে কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারের বাইরে বিশেষ প্রেক্ষাপটে আরও ৯ বার সাব-জেল স্থাপন করা হয়েছে। কার্যক্রম শেষে এসব সাব-জেল গুটিয়ে নেওয়া হয়।

শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ছাড়াও বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্তদের এসব অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয়েছিল।

সেনানিবাসের ভবনে সাব-জেল স্থাপন এ ধরনের দশম ঘটনা।

কারাগার সূত্র বলছে, ১৯৭৩ সালে দেশে প্রথম সাব-জেল স্থাপন করা হয় খুলনার বয়রাতে। দালাল আইনের আওতায় তখন সেখানে অনেককে রাখা হয়েছিল।

কারা অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সমকালকে বলেছেন, জেলা বা কেন্দ্রীয় কারাগারের নিয়মে পরিচালিত হয় সাব- জেল। এর জন্য আলাদা কোনও আইন বা ব্যবস্থা থাকে না। কারাবিধি অনুযায়ী যে বন্দি যে মর্যাদা পেয়ে থাকেন, সাব-জেলের ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য।

Stolen asset recovery: Zero budget but target is catching billions; অর্থাৎ চুরি হওয়া সম্পদ উদ্ধারে লক্ষ্যমাত্রা বিলিয়ন, কিন্তু বাজেট শূন্য। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রথম পাতার খবর এটি।

এতে বলা হয়েছে, বিলিয়ন ডলারের সম্পদ চুরি ও অর্থপাচার পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। কারণ সম্পদ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সংস্থা নিয়োগের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে কোনও বরাদ্দ দেয়া হয়নি।

যদিও সম্পদ পুনরুদ্ধারে গত বছরের সেপ্টেম্বর টাস্কফোর্স গঠিত হয় এবং চলতি বছরের মার্চে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ২০ মিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছিল তারা। সাত মাস পরও এ নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।