'নারীর আর্তচিৎকারে কাঁপলো সিদ্ধেশ্বরী'

Published
পড়ার সময়: ৬ মিনিট

দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম: 'নারীর আর্তচিৎকারে কাঁপলো সিদ্ধেশ্বরী'

খবরে শনিবার ভোরে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী এলাকার একটি ছিনতাইয়ের ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরে বলা হয়েছে, ওইদিন ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে সিদ্ধেশ্বরী এলাকার গ্রিনল্যান্ড টাওয়ারের সামনে শাড়ি পরা একজন নারী রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তার হাতে ছিল একটি ভ্যানিটি ব্যাগ, পাশে একটি ট্রলি ব্যাগ। গাজীপুরের একটি কলেজের শিক্ষক ওই নারী ঘটনার অল্প কিছুক্ষণ আগে সিদ্ধেশ্বরীর বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। হঠাৎ সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকার এসে থামে তার সামনে। মুহূর্তেই ঘটে যায় ভয়ঙ্কর এক দৃশ্য, যা ধরা পড়ে পাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরায়।

ইতোমধ্যেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সাদা প্রাইভেট কারের জানালা খুলে এক ব্যক্তিকে ওই নারীর কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নিতে দেখা যায়। কিন্তু ব্যাগ না ছাড়ায় নারীটি মুহূর্তেই রাস্তায় পড়ে যান।

এরপর ব্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাকেও টেনে নিয়ে যেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের গাড়ি চলে যায়, আর রাস্তায় পড়ে আর্তচিৎকার করতে থাকেন সেই নারী। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম করা হয়েছে, 'কারখানায় উৎপাদনে ধস'

খবরটির বিস্তারিত অংশে বলা হয়েছে, গরমে বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস সরবরাহে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। শিল্প খাতে সরবরাহ কমিয়ে এখন বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের জন্য বেশি গ্যাস দেওয়া হচ্ছে।

এতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে শিল্প কল-কারখানায়। গ্যাস না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদনে ধস নেমেছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে যে, গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোর উৎপাদন এরই মধ্যে ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এতে অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ জানানো হয়েছে, গ্যাসের অভাবে গত কয়েক দিনে তাদের প্রায় ৪০০ কারখানা, পূর্ণক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।

ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হলে সেটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

একই বিষয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠেও প্রধান শিরোনাম করা হয়েছে।

'গ্যাসসংকটে শিল্প উৎপাদনে ধস' শীর্ষক ওই খবরটি ছাড়াও পত্রিকাটির প্রথমপাতার আরেকটি সংবাদের শিরোনাম: 'রাজনৈতিক দলের ঠিকানা চশমার দোকান, মাদরাসা, ঠিকাদারি অফিস'

বিস্তারিত খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনে এখন পর্যন্ত ৬৫টি নতুন দল নিবন্ধের জন্য আবেদন করেছে। আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আরো দুই ডজন দল। ইতোমধ্যেই যেগুলো আবেদন করেছে, তারা চশমার দোকান, মাদরাসা, এমনকি ঠিকাদারের কার্যালয়কেও দলের ঠিকানা হিসেবে দেখিয়েছে।

'বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণময় পার্টি' নামের একটি দলের উদাহরণ টেনে খবরে বলা হয়েছে, সেটি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা দলগুলোর তালিকার তিন নম্বর দল। দলটির চেয়ারম্যান ৪২ বছর বয়সী মো. শিফন ভুঁইয়া ১৫ বছর সিঙ্গাপুরে ছিলেন।

বর্তমানে কোতোয়ালি থানার ১৬ নম্বর রামাকান্ত নন্দী লেনে একটি চশমার দোকান আছে। এই দোকানটিকেই তিনি তার দলের প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতে চান।

খবরটিতে আরও বলা হয়েছে যে, নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা বেশিরভাগ দল নামসর্বস্ব হলেও কিছু সম্ভাবনাময় দলও আত্মপ্রকাশ করছে। আওয়ামী লীগের পরিচয় মুছতেও অনেকে নতুন দল গঠন করছেন বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।

'নতুন এক লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ' দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম এটি।

বিস্তারিত খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে গত শনিবার পর্যন্ত নতুন করে আরও এক লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। ইতোমধ্যে যৌথভাবে তাদের আঙুলের ছাপও সংগ্রহ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশন (ইউএনএইচসিআর) ও বাংলাদেশ সরকার।

তাদেরকে নিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১৩ লাখ ১৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। আঙুলের ছাপও নেওয়া হলেও নতুন আসা রোহিঙ্গাদের চোখের আইরিশের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের অনুমতি এখনও দেয়নি বাংলাদেশ সরকার।

খবরে আরও বলা হয়েছে যে, নতুন আসা রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগই বর্তমানে কক্সবাজারের ২০টি ক্যাম্পে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় অবস্থান করছেন। তাদের আবাসস্থলের ব্যবস্থা করার জন্য এরইমধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

সরকারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বরাত দিয়ে খবরে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নতুন করে আসা এক লাখ ১৩ হাজার রোহিঙ্গার আবাসস্থল গড়ে তোলার মতো জায়গা বর্তমানে তাদের কাছে নেই।

এছাড়া নতুন আবাসস্থল নির্মাণের প্রচেষ্টা দেখানো হলে সেটি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে কঠিন করে তুলবে বলেও মনে করেন তিনি। কারণ এতে রাখাইনে অবস্থানরত অন্য রোহিঙ্গারাও বাংলাদেশে আসতে উৎসাহিত হবেন বলে মনে করেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার।

দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রধান শিরোনাম করা হয়েছে, 'পুরোনো যান সরানোর উদ্যোগে এবারও সাড়া নেই মালিকদের'

খবরের বিস্তারিত অংশে বলা হয়েছে, সড়ক থেকে পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সরিয়ে নিতে অন্তর্বর্তী সরকার ছয় মাসের যে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল, সেটি আগামী মে মাসে শেষ হবে। নতুন যানবাহন কেনার জন্য মালিকদের ঋণ পেতে সহায়তার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও বিষয়টি নিয়ে মালিকদের কোনো গরজ দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাবে, ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচলকারী ৭৫ হাজারের বেশি বাস, মিনিবাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ট্যাংকলরির আয়ুষ্কাল পেরিয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো এসব যানবাহন দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে এবং পরিবেশ দূষণ করছে।

খবরে আরও বলা হয়েছে যে, পুরোনো যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও নেওয়া হয়েছিল। তখনও তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মালিকেরা। এবারও তারা সাড়া না দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকার সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কতটুকু সফল হবে, সেটি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

'ঢাকার যানবাহনের ৪৯ শতাংশই মোটরসাইকেল ও অযান্ত্রিক'- এটি দৈনিক বণিকবার্তা পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।

খবরটিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকায় যত যানবাহন চলছে, তার ৪৯ শতাংশ মোটরসাইকেল এবং রিকশা-ভ্যানের মতো অযান্ত্রিক বাহন বলে এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে। ঢাকার জন্য সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (আরএসটিপি) হালনাগাদ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ সমীক্ষা পরিচালিত হয়।

সমীক্ষাটির তথ্য মতে, ঢাকার রাস্তায় চলাচলরত মোট যানবাহনের মধ্যে মোটরসাইকেল প্রায় ২৭ শতাংশ। আর রিকশা, ভ্যান, ঠেলাগাড়ির মতো অযান্ত্রিক বাহনের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি প্রায় ২০ শতাংশ এবং থ্রি-হুইলার অন্তত ১৪ শতাংশ।

খবরে আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ঢাকায় এমন কোনো মোড় নেই, যেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় থাকা মোটরসাইকেল চালকের দেখা মিলবে না। অন্যদিকে, ঢাকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বাদে সব রাস্তা আর মোড়ে দেখা মিলবে পায়ে নয়তো ব্যাটারিচালিত রিকশার। ছোট ছোট এসব যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক যানবাহনের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকছে। সেইসঙ্গে, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম: 'UP Chairman's absence, People suffer amid service disruptions.' অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে মানুষ।

বিস্তারিত খবরে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হয় আত্মগোপনে চলে গেছেন, না হয় বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলে রয়েছেন। সারা দেশে চার হাজার ৫৭৫ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের মধ্যে অন্তত এক হাজার ৫৩৫ জন বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জন্মসনদ প্রাপ্তিসহ প্রয়োজনীয় সেনা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

আরেকটি ইংরেজি দৈনিক দ্য নিউ এজের প্রধান শিরোনাম করা হয়েছে, 'HC orders expert committee to investigate online gambling.' অর্থাৎ অনলাইনে জুয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ কমিটিকে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

খবরটিতে বলা হয়েছে, জুয়ার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করতে রোববার সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। বিষয়টি তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তারকাদের মধ্যে যারা অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রচারণায় যুক্ত রয়েছেন, তাদেরকেও তদন্তের আওতায় আনতে বলেছে আদালত।

দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথমপাতার শিরোনাম: 'শেখ হাসিনাকে 'চুপ' রাখতে পারবেন না মোদি'।

বিস্তারিত খবরে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে বলেছেন যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে বসে বিভিন্ন উসকানিমূলক কথা বলছেন।

সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে তিনি শেখ হাসিনাকে 'চুপ' রাখার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়ে ছিলেন। কিন্তু জবাবে মোদি বলেছিলেন তিনি এটি পারবেন না। কারণ হিসেবে নরেন্দ্র মোদি বলেন যে, ভারতে সবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এবং সেটি সবার জন্য উন্মুক্ত।