দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে বাংলাদেশ দলের সামনে কিছু প্রশ্ন

বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল মার্ক উডের বলে বোল্ড

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল মার্ক উডের বলে বোল্ড
Published

ঢাকার মিরপুরে শুক্রবার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ইংল্যান্ড।

বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে এই ম্যাচটি।

এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য একদিকে সম্ভাবনার, অন্যদিকে শঙ্কারও।

বাংলাদেশ যদি এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাতে পারে তবে সিরিজ বাঁচিয়ে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে, আর হেরে গেলে ২০১৬ সালের পর এই প্রথম ঘরের মাটিতে সিরিজ হারের শঙ্কা রয়েছে।

সেবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই হেরেছিল বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ড এখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেট দল, ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড।

এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ঘরের কন্ডিশন কাজে লাগিয়েও প্রথম ওয়ানডেতে হেরে গেছে।

যদিও তামিম ইকবাল ও জস বাটলার, দুই দলের দুই অধিনায়কের মত এক ডাউইড মালানই ছিলেন দুই দলের পার্থক্য, তবে বাংলাদেশের আরও কিছু দুর্বলতা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার পর স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বাংলাদেশের খেলার ধরনে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা গেছে।

শট সিলেকশন নিয়ে প্রশ্ন

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

গতিশীল বোলারদের বলে বাংলাদেশ বরাবরই হিমশিম খায়।

প্রথম ওয়ানডেতেও তাই হয়েছে।

জফরা আর্চার এই মন্থর উইকেটেও ঘণ্টায় ১৪০-১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করে গেছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা উইকেট দিয়ে এসেছেন শট সিলেকশনের কারণে।

স্পিন বলে মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসান স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে আউট হয়েছেন।

প্রথম চার উইকেট ১০৬ রানের মাথায় হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের কোচ চান্ডিকা হাথুরুসিংহে আগেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন স্পিন নির্ভর আক্রমণ সাজাবে টিম ম্যানেজমেন্ট এবং স্পিনবান্ধব উইকেটে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

এখানেও বাংলাদেশ দল একাদশের গভীরতা ও উইকেট কাজে লাগাতে পারেনি।

বরং ইংল্যান্ডের বোলাররা দ্রুতই কন্ডিশন ধরে ফেলেছে এবং সে অনুযায়ী বল করেছে।

মইন আলী ও আদিল রাশিদ দুটি করে উইকেট নিয়েছেন।

রাশিদের বল ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন মুশফিক, ৩৪ বল খেলে মাত্র ১৬ রান তুলেছিলেন তিনি।

সাকিব আল হাসান মইন আলীর স্ট্যাম্প লাইনের বল সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়েছেন।

এই চাপ পড়েছে ইন-ফর্ম ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তর ওপর।

নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নিলেও স্বাচ্ছন্দ্যে ইনিংস এগিয়ে নিতে পারেননি শান্ত।

ফিফটি তোলার পরপরই ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

এমনকি পার্ট টাইম বোলার উইল জ্যাকসও পাঁচ ওভার বল করে একটি উইকেট নিয়ে নিয়েছেন।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে অসামঞ্জস্য

দুই দলের ব্যাটিং দুর্বলতাই চোখে পড়েছে তবে ডাউইড মালান ছিলেন এখানে ব্যতিক্রম।

একপ্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়লেও মালান ছিলেন অটল।

বাংলাদেশের কোনও ব্যাটসম্যানই উইকেট বুঝে ব্যাট করেননি।

টসও বাংলাদেশ জিতেছিল প্রথম ওয়ানডেতে।

মিরপুরের যে উইকেট তাতে পরে ব্যাট করাই তুলনামূলক সহজ বলে বিবেচিত, কিন্তু বাংলাদেশ আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যাট করতে নামার পর ইংল্যান্ডের বিশ্বমানের ফাস্ট বোলারদের ঠিকমতো খেলতে পারেননি তামিম ইকবালরা।

নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচ শেষে বলেন, “সত্যি বলতে উইকেট স্পিনারদের জন্য দারুণ ছিল কিন্তু ইংল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররা দারুণ সমন্বয় নিয়ে বল করেছে।”

বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদও নিজের নয় ওভারে মাত্র ২৬ রান দিয়ে জস বাটলারের উইকেট নিয়েছেন।

কিন্তু বাংলাদেশের বোলারদের খুব বেশি কিছু করার ছিল না।

তামিম ইকবালের মতে বাংলাদেশের মূল সমস্যা ছিল ব্যাটিং। ২০৯ রান নিয়ে বোলাররা যেমন বল করেছে সেটাকে ইতিবাচক বলছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

তবে স্কোরবোর্ডে যথেষ্ট রান প্রয়োজন হবে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে।

জস বাটলার বলেছেন, মালান দেখিয়ে দিয়েছেন এই ধরনের উইকেটে কীভাবে ব্যাট করতে হয়।

মালানের ১১৪ রানের ইনিংসটিকে ‘মাস্টারক্লাস’ বলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ শুরু থেকে ইংল্যান্ডের ওপর একটা চাপ বজায় রেখেছিল, বিশেষত সাকিব আল হাসানকে প্রথম ওভারেই এনেছেন তামিম ইকবাল।

সাকিব জেসন রয়ের উইকেট নিয়ে নেন।

৬৩ রানের মাথায় ইংল্যান্ডের চারটি উইকেটের পতন ঘটেছিল কিন্তু এই চাপ বজায় রাখতে পারেনি শেষ পর্যন্ত।

মুস্তাফিজকে আরও আগে বল দেয়া

বিশ্লেষকরা বলছেন, মুস্তাফিজুর রহমানকে আরেকটু আগে ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল।

বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু নিজের বিশ্লেষণে এই বিষয়টি আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন।

মিরপুরের উইকেটে মুস্তাফিজ বল করতে পছন্দ করেন, মিরপুরের অন্যতম সফল বোলার তিনি।

অসম বাউন্স এবং বলের গ্রিপের কারণে মুস্তাফিজের কাটার এবং স্লোয়ার বলগুলো মিরপুরের কন্ডিশনে কার্যকরী হয়ে ওঠে।

কিন্তু মুস্তাফিজ বল হাতে পান অনেক দেরিতে।

পরিসংখ্যান বলছে, মিরপুরের উইকেটে মুস্তাফিজ পাওয়ার প্লেতেই বেশি উইকেট পেয়েছেন।

বোলার নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের সাথে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের সঙ্গী ‘৩০-৩৫ রানের আক্ষেপ’।

নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছেন, “আমি ইনিংস বড় করতে পারিনি। এমন নয় যে আমাদের ব্যাটসম্যানরা পারে না। তবে এদিন হয়নি।”

এসব প্রশ্নের সঠিক উত্তর যদি না দ্বিতীয় ওয়ানডেতে না দিতে পারে, তবে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশের সিরিজ জয়ের ধারা শুক্রবারই শেষ হতে চলেছে।