''৩২ বিচারপতির সরকারি বাসায় 'অবিচার''

সংবাদপত্র

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সংবাদপত্র
Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উচ্চ আদালতের ৩২ বিচারপতির বাসায় সরকারি কর্মচারীকে (এমএলএসএস) দিয়ে গৃহকর্মীর কাজ করতে বাধ্য করানোর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়েছে।

এতে ১৯ বিচারপতির পরিবারের বিরুদ্ধে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের কথা উঠে এসেছে। এ ছাড়া ১৬ বিচারপতি ও সাতজনের পরিবারের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, তাদের মুখের ভাষা অশালীন। এ বিষয়ে তিন সদস্যের জাজেস কমিটি অনুমোদন করে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে ১০২ বিচারপতি কর্মরত। একজন বিচারপতি প্রতি মাসে ৩২ হাজার টাকা গৃহস্থালি ভাতা পান। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে বিচারপতির আদালতের চেম্বারের জন্য একজন পিয়ন এবং বাসার কাজের জন্য একজন করে দারোয়ান ও বাবুর্চি দেওয়া হয়।

তবে বেশ কয়েকজন বিচারপতি প্রভাব খাটিয়ে তাদের বাসায় দুই থেকে ছয়জন এমএলএসএস নিয়েছেন। এর মধ্যে চার অবসরপ্রাপ্তসহ হাইকোর্ট বিভাগের ৩২ বিচারপতির বাসায় ৭০ জন (১০ নারীসহ) এমএলএসএসকে কাজে বাধ্য করানোর অভিযোগ উঠেছে।

সমকাল পত্রিকা

'গুমের নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা' এটি যুগান্তরের শিরোনাম। খবরে বলা হয়েছে, গুমের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততা পেয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত এ সংক্রান্ত কমিশন। এ কাজে শেখ হাসিনা ছাড়াও প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা মিলেছে কমিশনের তদন্তে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুসহ র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশও করেছে কমিশন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আয়নাঘর পরিদর্শনের অনুরোধ জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা।

শনিবার গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন (দ্য কমিশন অব এনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসাপিয়ারেন্স) প্রধান উপদেষ্টার কাছে অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। বিকাল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তদন্ত কমিশনের সদস্যরা 'আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ' শিরোনামে প্রতিবেদনটি জমা দেন। কমিশন সদস্যরা এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ১৬৭৬টি অভিযোগের মধ্যে ৭৫৮ জনের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করেন বলে জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা হিসাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। এছাড়াও হাসিনা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেছে।

যাদের মধ্যে আছেন-সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশ কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

যুগান্তর
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

খবরে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে বিরোধী রাজনীতিকে বিগত সরকার সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেছে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু মানুষ বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তারা অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। ২০২৩ সালে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্ষিক সন্ত্রাস বিষয়ক রিপোর্টে এসব কথা বলেছে।

সারা বিশ্বে ওই বছর ঘটে যাওয়া বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনা নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে- 'কান্ট্রি রিপোর্টস অন টেরোরিজম ২০২৩'। বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, ওই বছরে বহুজাতিক সন্ত্রাসী সহিংসতার কোনো রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।

বিশেষত কর্তৃপক্ষ উগ্র জঙ্গি, বিশেষ করে আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট গ্রুপ আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং আইসিস সংশ্লিষ্ট জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য। যুক্তরাষ্ট্র প্রশিক্ষিত বাংলাদেশ পুলিশ ইউনিটগুলো সন্দেহজনক কয়েক ডজন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।

ইন্টারপোলের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে বাংলাদেশ। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ জাতীয় পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের একটি ওয়াচলিস্ট তৈরি করেছে। কিন্তু আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের মধ্যে কার্যকরভাবে তা শেয়ার করা হয়নি।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, মে মাসে পার্বত্য চট্টগ্রামে দু'জন সেনা কর্মকর্তা নিহত হন। এরজন্য সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদী উগ্রপন্থি কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টকে (কেএনএফ) দায়ী করে। একই রকম হামলায় মার্চ মাসে আরেক সেনাসদস্য নিহত হন।

মানবজমিন

দেশ রূপান্তরের শিরোনাম 'আইনি লড়াইয়ে অনাগ্রহী আ.লীগ'। খবরটিতে বলা হচ্ছে, গণআন্দোলনে টানা ১৫ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় একের পর এক গ্রেপ্তার হচ্ছেন দলটির প্রভাবশালী নেতারা।

যাদের মধ্যে রয়েছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা।

ভারতে আশ্রয় নেওয়া দলীয় প্রধান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গ্রেপ্তার নেতাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে এরই মধ্যে মামলা হয়েছে আড়াই শর বেশি।

এর মধ্যে গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটির শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গণহত্যার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর তাদের অনেককে ট্রাইব্যুনালে হাজিরও করা হয়েছে।

তবে মামলার আসামি হলেও এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যেসব মামলা হচ্ছে তা আইনগতভাবে মোকাবিলা করার কথা ভাবছেন না তারা।

এসব মামলাকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, হয়রানিমূলক ও বিদ্বেশপ্রসূত' উল্লেখ করে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন।

দেশ রূপান্তর পত্রিকা

ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের শিরোনাম 'ACC, NBR, CID teams to probe 10 corporate giants' খবরে বলা হচ্ছে দেশের আলোচিত ১০টি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের পাচার করা অর্থ ফেরাতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডর (এনবিআর) সমন্বয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই একটি যৌথ অনুসন্ধানী দল গঠন করা হবে।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বেক্সিমকো, বসুন্ধরা গ্রুপ, এস আলম গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, জেমকন গ্রুপ, নাবিল গ্রুপ, সামিট গ্রুপ, শিকদার গ্রুপ ও আরামিট গ্রুপ।

যৌথ এই অনুসন্ধানী দলটি পাচারের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস দলটিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেবে। অনুসন্ধানী দলটির কার্যালয় হবে বিএফআইইউ বা বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডেইলিস্টার

'কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায়'। এটি প্রথম আলোর শিরোনাম।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মিয়ানমারের মংডু শহর আরাকান আর্মির দখলে চলে যাওয়ার পর থেকে আশপাশের পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু উচ্ছেদ আতঙ্কে আছেন।

সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর দখল করে একটি জায়গায় জড়ো করে ঘিরে রেখেছেন। সুযোগ পেলে রোহিঙ্গারা নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়তে পারেন। তবে বাংলাদেশ জলসীমায় বিজিবি ও কোস্টগার্ডের কড়া পাহারা রয়েছে।

বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মংডুর আশপাশের সুধাপাড়া, উকিলপাড়া, সিকদারপাড়া, ফয়েজীপাড়া ও নুরুল্লাপাড়ার ৩৭ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে উচ্ছেদ করে তাদের কয়েক শ ঘরবাড়ি দখল করা হয়েছে।

বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের সংগঠন 'আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস'-এর সভাপতি মোহাম্মদ জুবায়ের প্রথম আলোকে বলেন, ইতিমধ্যে কয়েকটি গ্রাম থেকে ৩৭ হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে উচ্ছেদ করে পেরাংপ্রু নামে একটি জায়গায় জড়ো করে ঘিরে রাখা হয়েছে। টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায় চলে যেতে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম আলো

'নিখাদ শ্রদ্ধায় শহীদদের স্মরণ' এটি আজকের পত্রিকার শিরোনাম। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের নানান আয়োজন নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

খবরে বলা হচ্ছে, প্রতিবছরের মতো এ বছরও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সকাল থেকে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমির শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শুরু হয় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে বাঙালি জাতি যখন নিশ্চিত বিজয়ের প্রতীক্ষায় ক্ষণ গুনছে, তখনই দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী এ দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তানদের ধরে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল। তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ ফেলে রাখা হয়েছিল এই রায়েরবাজার বধ্যভূমিসহ আরও কিছু স্থানে। ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশের মানুষ যখন বিজয়ের আনন্দে মাতোয়ারা, তখন একদল মানুষ ছুটে গিয়েছিলেন রায়েরবাজারের এই বধ্যভূমিতে, নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইটের ফাঁকে ফাঁকে খুঁজে পাওয়া যায় অনেকের বিভিন্ন মাত্রার বিকৃত মরদেহ।

এ বছর রায়েরবাজার বধ্যভূমির স্মৃতিসৌধে লোকসমাগম আগের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তুলনায় কম ছিল। অনেকেই বললেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণেই স্মৃতিসৌধে আগত মানুষের সংখ্যা কম ছিল। একনজর দিয়েই বোঝা গেছে, গতকাল যাঁরা স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন তাঁদের অনেকেই সমাজের সাধারণ মানুষ, যারা মূলত হাজির হয়েছে প্রাণের টানে।

আজকের পত্রিকা

নয়াদিগন্তের শিরোনাম 'খেয়ালখুশিমতো খরচ হয়েছে জলবায়ু তহবিলের অর্থ'। এই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী গ্রামের মৃত্যুঞ্জয় রায়। পেশায় একজন কৃষক। লবণাক্ততার কারণে তার জমিতে আগে তেমন আবাদ হতো না। তবে, গত বছর থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের 'ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে খুলনা কৃষি অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন' প্রকল্পের মাধ্যমে সেই সমস্যার কিছুটা সমাধান হয়েছে বলে জানান।

এই প্রকল্পের আওতায় জমির ভেতর ছোট পুকুর খননের পর বৃষ্টির পানি ধরে রেখে তা সেচ কাজে ব্যবহার করছেন তিনি। মৃত্যুঞ্জয় জানান, আগে জমিতে পানির অভাবে কিছুই হতো না। এবার ৪ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছি। জমির পাড়ে সবজি চাষ করেছি। ধান কেটে আবার তরমুজ লাগাবো। কিন্তু, সমস্যা হলো খাবার পানিতে। বাড়ি থেকে অনেক দূরে একটি এনজিও'র ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার) রয়েছে, সেখান থেকে পানি কিনে খেতে হচ্ছে তার পরিবারকে।

শুধু মৃতুঞ্জয় নন, তার মতো ওই গ্রামের প্রায় সব পরিবারকেই হেঁটে, রোদ বৃষ্টি মাড়িয়ে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। অনেককে আবার কয়েক কিলোমিটার হেঁটে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। খুলনা, সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষকে খাবার পানির জন্য রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়।

অথচ জলবায়ু পরির্বতনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ জানেন না 'বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট (বিসিসিটি)' বা জলবায়ু তহবিল নামে কোনো কিছু আছে। এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য বিগত সময়ে তেমন কিছু না করলেও রাস্তার সড়ক বাতি স্থাপন, পার্ক তৈরি, পুকুরের ঘাট বাঁধানো, এমনকি জলবায়ুর টাকায় ভবন তৈরি করে তা ব্যক্তিগত রিসোর্টে পরিণত করারও নজির আছে। যেমনটা হয়েছে ভোলার চরফ্যাশনে 'জ্যাকব টাওয়ার' নির্মাণে। জলবায়ু ট্রাস্টের টাকায় স্থানীয় এমপির (তৎকালীন) নামে সুউচ্চ এই টাওয়ার তৈরি করা হয়। ভোলার চর কুকরি-মুকরিতেও জলবায়ু প্রকল্পের টাকায় বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হয় বলে জানা যায়।

নয়াদিগন্ত পত্রিকা

বণিক বার্তার শিরোনাম 'আইএফআইসি আন্তর্জাতিক ব্যাংক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে পতিত'। এই প্রতিবদেনটিতে বলা হচ্ছে, দেশে সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নে প্রথম বিনিয়োগ কোম্পানি 'ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্স' বা আইএফআইসি লিমিটেড। ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ কোম্পানিটির লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশী বিনিয়োগকে বৈশ্বিক অঙ্গনে নিয়ে যাওয়া।

লক্ষ্য বাস্তবায়নে শুরুর দিকে বেশ তৎপর ছিল কোম্পানিটি। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে সে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত ও পতিত হয়ে পড়ে আইএফআইসি।

বিনিয়োগ কোম্পানি আইএফআইসির হাত ধরে ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল 'ব্যাংক অব মালদ্বীপ লিমিটেড'। এটি ছিল মালদ্বীপে প্রতিষ্ঠিত প্রথম জাতীয় ব্যাংক। ব্যাংকটির মালিকানার ৪০ শতাংশ ইকুইটির জোগান দিয়েছিল আইএফআইসি।

মালদ্বীপের ওই ব্যাংকটির পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও ছিল আইএফআইসির হাতে। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আইএফআইসির কর্মকর্তারা এশিয়ার দ্বীপদেশটির মানুষকে ব্যাংকিং শিখিয়েছে। যদিও সময়ের পরিক্রমায় ব্যাংকটির মালিকানা থেকে আইএফআইসি ছিটকে পড়েছে। আর 'ব্যাংক অব মালদ্বীপ লিমিটেড' এখন দেশটির সেরা ব্যাংক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকের শেষদিক থেকেই পথ হারাতে শুরু করে আইএফআইসি ব্যাংক। ওই সময় থেকেই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অলিগার্কদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। যখন যে দল ক্ষমতায় যাচ্ছে, তখন সে দলের সুবিধাভোগীরা ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ দখলে নিচ্ছেন। দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারদরের কারসাজিতেও আইএফআইসি ব্যাংক জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে।

গত দেড় দশকে ব্যাংকটিতে জমাকৃত গ্রাহকদের আমানতের একটি অংশ ঋণের নমে লুণ্ঠিত হয়েছে। এ সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তার ছেলে আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান আইএফআইসি ব্যাংক পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।