'দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন'

দেড় বছরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এই প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বরাতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হতে পারে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। ভাষণে তিনি বলেন, ছয় সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যানদের নিয়ে একটি 'জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন' করা হবে। এই কমিশনের চেয়ারম্যান হবেন তিনি।
নতুন কমিশনের প্রথম কাজ হবে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জরুরি সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্রুত ঐকমত্য সৃষ্টি করা এবং সবার সঙ্গে আলোচনা করে কোন সময়ে নির্বাচন করা যায়, সে বিষয়ে পরামর্শ চূড়ান্ত করা। রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গঠিত ১৫টি সংস্কার কমিশনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ওপর প্রধানত নির্ভর করছে আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও তারিখ।
ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "কমিশন দায়িত্ব নিয়েছে। এখন থেকে তাদের হাতে দায়িত্ব ন্যস্ত হলো ভবিষ্যৎ সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার। তারা তাদের প্রস্তুতির কাজ শুরু করেছে।"
এই খবরটি আজ দেশের প্রায় সকল পত্রিকার প্রধান শিরোনাম হিসাবে এসেছে।
End of বিবিসি বাংলার সাম্প্রতিক খবর:

নির্বাচন নিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় বিএনপি ও অন্যান্য দল— দৈনিক প্রথম আলো'র প্রথম পাতার একটি শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে ভোটের সময়ের ব্যাপারে একটা ধারণা বা ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল।
তারা বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে নির্বাচনের তারিখের ব্যাপারে সুস্পষ্ট কোনও রোডম্যাপ নেই। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নির্বাচনের সময়ের প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায় তারা।
সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপ দাবির প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের সময় নিয়ে কথা বলায় দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানিয়েছে।
কিন্তু দলটির নেতারা বলেছেন, সংস্কারে কতটা সময় প্রয়োজন বা ঠিক কবে নির্বাচন হবে, সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনও বক্তব্য নেই। বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দল ও জোটগুলোও বলেছে, প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে শুধু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
বামপন্থী দলগুলোও নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এই দলগুলো সংস্কার এবং নির্বাচনের দিনক্ষণ দিয়ে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চায়।

শিক্ষার্থীদের দলের আত্মপ্রকাশ জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারিতে— সমকাল পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, আগামী জানুয়ারি কিংবা ফেব্রুয়ারির শুরুতে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণই তাদের লক্ষ্য।
এরই মধ্যে নাগরিক কমিটির ব্যানারে আত্মপ্রকাশ করেছে তারা। জেলা ও উপজেলায় কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। জানা যায়, এ বছরের বিজয় দিবসে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা ছিল। বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি।
ইতোমধ্যে দলটি ১০০টির কাছাকাছি উপজেলা কমিটি দিয়েছে। আরও ৫০টি কমিটির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সংগঠনটির লক্ষ্য, ৪০০ উপজেলা কমিটি দেওয়ার পর রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এসব কমিটি নিজ নিজ জেলা কমিটি নির্ধারণ করবে।
এ ছাড়া এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনসহ বেশ কয়েকটি দলের সঙ্গে নাগরিক কমিটির আলোচনা হয়েছে। তবে জোটের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
মুক্তিযুদ্ধকে 'ভারতের যুদ্ধ' দাবি মোদির তীব্র সমালোচনা— এটি নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রথম পাতার একটি শিরোনাম। গতকাল সোমবার বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে নিয়ে করা এক টুইটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করেননি।
তিনি সেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের যুদ্ধ বলে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোদি এক পোস্টে ভারতের সাহসী সৈনিকদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগেও তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ভারতের যুদ্ধ বলে দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে নরেন্দ্র মোদি বলেন, "আজ এই বিজয় দিবসে, আমরা ১৯৭১ সালে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ে অবদান রাখা সেনাদের সাহস ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাই। তাদের নিঃস্বার্থ উৎসর্গ এবং অটল সংকল্প আমাদের জাতিকে রক্ষা করেছে এবং আমাদের গৌরব এনে দিয়েছে।"
"এই দিনটিতে তাদের অসাধারণ বীরত্ব এবং তাদের অদম্য চেতনার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাদের আত্মত্যাগ চিরকাল প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের জাতির ইতিহাসে গভীরভাবে গেঁথে থাকবে," তিনি তার টুইটে যোগ করেন।
End of বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

আইসিটি প্রকল্পে শতকোটি টাকা লোপাট— মানবজমিন পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষার মান উন্নয়নে সারা দেশে প্রায় ৪৮ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার।
কিন্তু ক্লাস প্রস্তুতের আগেই সিন্ডিকেট করে প্রায় শতকোটি টাকা লোপাট করা হয়। খোদ আওয়ামী লীগের আমলেই উঠে আসে ৯৬ কোটি টাকা দুর্নীতির তথ্য।
এছাড়াও আরেকটি প্রকল্পের ৭৭ কোটি টাকার দুর্নীতির প্রমাণ পায় আরেকটি তদন্ত কমিটি। ১৬০টি উপজেলায় ডিজিটাল ক্লাসরুম শুরুর আগেই উঠিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।
২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এই প্রকল্প শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও আদতে কোনো ধরনের সুবিধা পাননি শিক্ষার্থীরা। তারপরও যেসব প্রতিষ্ঠানে ক্লাসরুম নির্মাণ হয়েছে সেগুলোও হয়েছে নামকাওয়াস্তে।

১২৬ টাকায়ও রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে ব্যাংক— বণিক বার্তা পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি। এতে বলা হয়েছে, দেশে আবারও অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে ডলারের বাজার।
ব্যাংক খাতের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও (কার্ব মার্কেট) ডলারের বিনিময় হার এখন বাড়ছে। ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দর অনুযায়ী, প্রতি ডলারের বিনিময় হার সর্বোচ্চ হওয়ার কথা ১২০ টাকা।
যদিও এ ব্যাংকগুলোর কোনও কোনোটি এখন রেমিট্যান্সের ডলার কিনছে ১২৬ টাকা দরে। আর কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলার কেনাবেচা হচ্ছে সর্বোচ্চ ১২৫ টাকায়।
গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ডলারের বাজার প্রায় স্থিতিশীল হয়ে এসেছিল। ব্যাংকের পাশাপাশি কার্ব মার্কেটেও ডলারের দর ছিল নিম্নমুখী।
চাহিদা কমে যাওয়ায় কার্ব মার্কেটে প্রতি ডলারের বিনিময় হার ১২১ টাকায় নেমে গিয়েছিল। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতেই ডলারের দর বাড়তে শুরু করেছে।

বৈষম্যহীন-গণতান্ত্রিক নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়— যুগান্তর পত্রিকার দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি। এখানে বলা হয়েছে, গতকাল সোমবার বিজয় দিবস উপলক্ষে অনেকেই সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে যান, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।
বলা হচ্ছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের বিজয় দিবসে ভিন্ন আমেজ ছিল।
ভোরের আলো ফুটতেই শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশে সফররত পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস হোর্তা। সকাল ৭টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।









