'তিউনিসিয়ার মতো খাদে পড়তে যাচ্ছে কি বাংলাদেশ'

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

তিউনিসিয়ার মতো খাদে পড়তে যাচ্ছে কি বাংলাদেশ— আজ বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম এটি।

অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাওয়ায় এই সময়ে সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে আজ বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

বণিক বার্তার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিউনিসিয়ার জনগণ ২০১১ সালে স্বৈরশাসক জাইন এল আবিদিন বেন আলিকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত করলে দেশটিতে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিবর্তনের ব্যাপক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়। তবে সেখানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জনতুষ্টি অর্জনেই মনোযোগী ছিল বেশি। তাতে দেশটিতে নতুন করে উসকে দেয় ঘৃণা ও সংঘাতের চর্চাকে। দেখা দেয়, দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতা।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর ছয় মাস পেরোলেও এখনো আর্থসামাজিক খাতে জনআকাঙ্ক্ষাগুলো সেভাবে পূরণ হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটা এবং অর্থনীতি পূর্ণ গতিশীল করে তোলার পরিবর্তে যেকোনো আন্দোলনের মুখে যেকোনো দাবিকে দ্রুত মেনে নেয়াসহ নানা ধরনের অকার্যকর ও অগুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সময় নষ্ট হচ্ছে বেশি।

যদিও একই সময়ে জনজীবনে নাভিশ্বাস তুলে দিচ্ছে মূল্যস্ফীতি। মূলধনের প্রবাহ কমে গিয়ে শ্লথ হয়ে পড়েছে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি। আসছে না দেশি-বিদেশি নতুন বিনিয়োগ। বাড়ছে দারিদ্র্য ও কর্মহীনতা।

এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাংলাদেশেও তিউনিসিয়ার মতো আত্মঘাতী জনতুষ্টিবাদ বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

খবরে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ক্ষোভে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিন দিন ধরে বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দুই দিনে তিনটি বিবৃতি দিতে হয়েছে। উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও জনগণকে শান্ত হওয়ার জন্য এবং সরকারকে কাজ করতে দিতে আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তবে ঘটনা পুরোপুরি থামানো যায়নি।

এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে 'সরকারের বিবৃতিনির্ভর নির্লিপ্ততায়' ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিও পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। দলটি এক বিবৃতিতে বলেছে, সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। জনগণ এভাবে নিজের হাতে আইন তুলে নিলে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিবৃতিতে দিয়েছেন দেশের ২৬ বিশিষ্ট নাগরিক।

এ ধরনের হামলা, ভাঙচুরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দাবি-দাওয়া নিয়ে সড়কে নামা লোকজনকে সরাতে বলপ্রয়োগ না করার যে প্রতিশ্রুতি ডিএমপির তরফ থেকে এসেছিল তা এক সপ্তাহের বেশি রাখতে পারল না পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শিক্ষক প্রার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জের পাশাপাশি জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের বাধা ডিঙিয়ে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন পুলিশের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ড হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

গত বৃহস্পতিবার এক রায়ে এই চাকরিপ্রত্যাশীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায়। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ হাজার ৫শ' ৩১ জনের নিয়োগ বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে সেদিন নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

আজকের পত্রিকার প্রধান খবর— তেল পরিবহন আ. লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রণেই।

এতে বলা হয়েছে, তেল পরিবহনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) বহরে থাকা ১৭৭ জাহাজের মধ্যে ১১৮টিই আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, নেতা ও আমলাদের মালিকানাধীন। আওয়ামী লীগ আমলে টেন্ডার ছাড়াই বিপিসির বহরে জাহাজ ঢোকান তারা।

এক্ষেত্রে ত্রুটিহীন জাপানি জাহাজগুলো সরিয়ে দেয়া হয়। 'বয়স হয়েছে' উল্লেখ করে ৭০টি জাপানি জাহাজ জ্বালানি পরিবহনের বহর থেকে বাদ দেয়া হয়। অথচ আইনে বয়সের কথা উল্লেখ নেই।

বিপরীতে আওয়ামী লীগ নেতাদের মালিকানায় দেশে তৈরি এসব ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিপিসি সূত্র জানায়, বছরে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। যার মধ্যে ৫০ লাখ টন নদীপথে পরিবহন করা হয়। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, নেতা ও আমলাদের জাহাজে পরিবহন করা হয় প্রায় ৭০ শতাংশ জ্বালানি তেল।

বাংলাদেশ অয়েল ট্যাংকার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আবুল বশর আবু জানান, বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠরা বিনা টেন্ডারে অসংখ্য জাহাজ বিপিসির বহরে যুক্ত করে তারা ফায়দা লুটে নিলে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।

মধুচন্দ্রিমা শেষ, রাজনৈতিক স্থিতি অনিশ্চিত— কালের কণ্ঠের দ্বিতীয় প্রধান খবর এটি।

খবরে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। নানা চ্যালেঞ্জ আর সংকটের মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের গুরুদায়িত্ব এই সরকারের ওপর। রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের মুখেও সরকার এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট পথনকশা ঘোষণা করেনি।

দেশে কবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে, তা অনিশ্চিত। সরকার থেকে সর্বশেষ এই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে যে এ বছরের শেষ দিকে নির্বাচন হতে পারে।

বেলজিয়ামভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি) কয়েক দিন আগে তাদের পর্যবেক্ষণে বলেছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মধুচন্দ্রিমা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। আর এ বছর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়বে।

সরকারের এই ছয় মাসের মূল্যায়নে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত ছয় মাসে অর্থনীতিতে তেমন চাঞ্চল্য ফেরেনি। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়নি। দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসে না।

এদিকে, স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার অনিয়ন্ত্রিত ক্ষোভ সামাল দিতে তৎপর হতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে।

গতকাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা দেশের সব নাগরিককে অবিলম্বে সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি কেউ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য উসকানিমূলক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাত্ক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে— মানবজমিনের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।

খবরে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে বর্তমান সরকার শিগগিরই পদক্ষেপ নেবে। বার্তা সংস্থা বাসসকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের 'ঐকমত্য' তৈরি হচ্ছে। যা অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের মানুষ তৎকালীন ক্ষমতাসীন ওই দলের অগণতান্ত্রিক এবং একগুয়েমি মনোভাব ও কার্যকলাপ মেনে নিতে পারেনি বলেই ৫ই অগাস্টের আগে ও পরে তাদের মধ্যে দলটি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে 'ঐকমত্য' প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন ঐকমত্য তৈরি হলে সরকারের জন্য যেকোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা সহজ হবে।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া নিয়ে বলতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াও ৪টি আইন রয়েছে, যেখানে সরকার নির্বাহী আদেশে যেকোনো দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে। তবে এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

চট্টগ্রামে কি আদৌ পাহাড় থাকবে— নয়াদিগন্তের প্রধান শিরোনাম এটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার অর্ধশতাব্দীতে চট্টগ্রামে হারিয়ে গেছে সিকিশত পাহাড়। এর বাইরে যেসব পাহাড় টিকে ছিল সেগুলোও পাহাড়খেকোদের লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে একের পর এক হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চট্টগ্রামে আদৌ পাহাড় থাকবে কি না সে প্রশ্ন এখন সামনে আসছে।

পাহাড়খেকোরা এরই মধ্যে চট্টগ্রামের ৩৪ স্থানের পাহাড়ি ভূমিকে নথিতে অন্য শ্রেণিভুক্ত করে রেখেছে যাতে সহজেই কেটে ফেলা যায়।

বর্ষাকালে ন্যাড়া পাহাড়গুলো প্রচুর পানি শোষণ করে একপর্যায়ে ধসে পড়ে জীবনহানি যেমন ঘটাচ্ছে, তেমনি নগরীতে জলাবদ্ধতারও অন্যতম কারণ এই পাহাড়কাটা।

আর পাহাড়কাটার সাথে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা যেমনি আছেন, তেমনি সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেও রয়েছে অভিযোগ। পাহাড় কেটে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বসতিতে আবার সরকারি বিভিন্ন সংস্থার (বিদ্যুৎ, পানি) সেবাও পৌঁছে গেছে।

এমন পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পাহাড় রক্ষায় নদী রক্ষা কমিশনের আদলে পাহাড় রক্ষা কমিশন গঠনের পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

খবরে বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসে জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নেই। মূল্যস্ফীতি আগের মাসগুলোর তুলনায় সামান্য কমলেও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষকে ভোগাচ্ছে।

ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া অভ্যুত্থানে অংশ নেয়া দলগুলো এবং সরকার জাতীয় ঐকমত্যের কথা বললেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি।

সরকারের কাজে গতিহীনতার জন্য একাধিক উপদেষ্টাসহ অনেকেই জনপ্রশাসনের স্থবিরতাকে দায়ী করছেন।

অন্যদিকে বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, চাকরি স্থায়ীকরণ, নিয়োগসহ সরকারি চাকরিজীবীদের নানা দাবি নিয়ে আন্দোলন মোকাবেলা করতে হচ্ছে সরকারকে। গত ছয় মাসে অন্তত দেড়শ আন্দোলন হয়েছে। যৌক্তিক, অযৌক্তিক দাবি নিয়ে সড়ক বন্ধ করে আন্দোলন সাধারণ মানুষকে ভোগালেও তা নিরসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

জুলাই গণহত্যা ও আওয়ামী লীগ শাসনামলের অনিয়মের বিচারের গতি ধীর বলে অভিযোগ অভ্যুত্থানের অংশীজনের। রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, সংস্কারের গতিও ধীর।

কেবল রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় এ খাতে স্বস্তি এসেছে।

BNP worried over law and order, অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপি উদ্বিগ্ন। ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের দ্বিতীয় প্রধান শিরোনাম এটি।

এতে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে বিএনপি। দলটির নেতারা দেখা করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিশেষ করে ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবন ভাঙার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে।

বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, সারাদেশে দুই দিনে হওয়া হামলা ও ভাঙচুর জাতীয় স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ব্যাহত করতে পারে।

এসব হামলা-ভাঙচুর নিছক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং 'সুপরিকল্পিত' হতে পারে বলেও মনে করেন দলটির নেতারা। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির পাশাপাশি আওয়ামী লীগকে লাভবান করতে পারে।

সৃষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করার পরিকল্পনা করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে।

দলটির সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বিএনপি মহাসচিব দেশে ফেরার পর আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি দলটির একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার সাথে দেখা করতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

সংস্কার নির্বাচনের দিকে সরকার— দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম এটি।

খবরে বলা হচ্ছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাসের ছোট যাত্রায় সফলতার পাশাপাশি রয়েছে ব্যর্থতাও। পুলিশ-প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার মূল যে চ্যালেঞ্জ শুরুতেই ছিল, তা এখনো রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনাসহ নানা ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। এমনকি গণঅভ্যুত্থানে পরোক্ষভাবে জড়িতদের অনেকেই আশাহত হয়েছেন।

এতকিছুর পরও সরকারের সংস্কারের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সেই সঙ্গে এ বছরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা রাজনৈতিক দলসহ সবার মধ্যে আশা তৈরি করেছে।

বিশেষ করে গত বুধবার এক বিদেশি সংবাদমাধ্যমকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার ইতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। সেখানে ড. ইউনূস বলেছেন, চলতি বছরের শেষে নির্বাচন হতে পারে। তার এ বক্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, সরকার সংস্কারের পাশাপাশি নির্বাচনের দিকেও এগোচ্ছে।