'৮৬ খসড়া আইন কফিনে'

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম, '৮৬ খসড়া আইন কফিনে'।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে প্রায় চূড়ান্ত হওয়া ৮৬টি আইনের খসড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কয়েকটি আইনের সংশোধনীও রয়েছে।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে খসড়াগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছিল। কোনো কোনো আইনের খসড়া করতে ১০ বছর লেগেছিল। এখন এগুলো ফেরত পাঠানোর ফলে এগুলো আবার নতুন করে তৈরি করতে হবে।
সব আইনের খসড়া ঢালাওভাবে ফেরত পাঠানো সঠিক হয়নি উল্লেখ করে আইনজীবীদের দাবি, 'অধ্যাদেশের সুযোগ থাকার পরও সব আইন ঢালাওভাবে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো সঠিক সিদ্ধান্ত না।
বর্তমান বা নতুন সরকারের নীতি অনুসরণ করে খসড়াগুলো করতে আবারও বছরের পর বছর পার করে দেবেন আমলারা।
এ সময়ের মধ্যে নতুন করে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল খসড়াগুলো আবারও আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবে। অথচ খসড়াগুলোর মধ্যে সমসাময়িক জরুরি আইনও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এসব আইনের খসড়া উদ্দেশ্যমূলকভাবেই ফেরত পাঠানো হয়েছে। গত সরকারের নীতি এ সরকারের নাও হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, নতুন যে সরকার আসবে আইনগুলো তাদের নীতির ওপর ভর করে করা হবে। কিন্তু আইন প্রণয়নে দলীয় নীতির চেয়ে দেশের স্বার্থই গুরুত্ব পাওয়া উচিত। কিন্তু গণহারে সব ফেরত পাঠানোর ফলে খসড়াগুলো আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে গেল।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।
ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন
বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল
বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, 'প্রাথমিক শিক্ষায় ১১ রকমের স্কুল, পাঁচ ধরনের কারিকুলাম'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রাথমিক পর্যায়ে একই ধরনের কারিকুলামের আওতায় একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলনের কথা বলা হলেও দেড় যুগেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি।
একমুখী শিক্ষাব্যবস্থায় সব শিক্ষার্থীকে একই বই পড়ানো হয় এবং একই ধরনের শিক্ষা দেয়া হয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশের প্রাথমিক পর্যায়ে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত। কিন্তু ব্যতিক্রম বাংলাদেশ।
দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে অন্তত ১১ ধরনের। ধরনভেদে প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমেও রয়েছে ভিন্নতা।
সরকারিভাবে স্বীকৃত বা স্বীকৃতিহীন মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কারিকুলাম চালু আছে অন্তত পাঁচ রকমের।
দেশে বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হলো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডারগার্টেন, উচ্চ বিদ্যালয়সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়, এবতেদায়ি মাদ্রাসা, উচ্চ মাদ্রাসাসংলগ্ন এবতেদায়ি মাদ্রাসা, এনজিও পরিচালিত বিদ্যালয়, এনজিও পরিচালিত শিক্ষা কেন্দ্র, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট স্কুল, কওমি মাদ্রাসা ও ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়।
প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধরন ও কারিকুলামের এ ভিন্নতা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার স্তরে ব্যাপক পার্থক্য সেইসাথে সামাজিক বৈষম্য তৈরি করে দিচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা শেষে প্রতিষ্ঠানের ধরন ও কারিকুলামভেদে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান এবং দক্ষতার মধ্যে যে ফারাক দেখা যায়, সেটি দূর করা অপরিহার্য বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিময় নিদর্শন'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর দেশের সেরা যে বুদ্ধিজীবীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল তাদের স্মৃতি জাগিয়ে রাখতে তাদের বেশ কিছু নিদর্শন সাজিয়ে রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে।
স্বাধীনতার পরে ঢাকার রায়েরবাজার ইটখোলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণকবরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এতেই প্রকাশিত হয় পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যার ষড়যন্ত্র।
বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু হয়েছিল প্রধানত দুটি পর্যায়ে। ঢাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে ২৫শে মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষক, চিকিৎসকসহ অনেককে হত্যা করে।
এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে সুপরিকল্পিতভাবে তালিকা করে ঢাকায় বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, আইনজীবী, সাহিত্যিক, শিল্পী।
এই বুদ্ধিজীবীদের হত্যার পেছনে পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশকে বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্রে দরিদ্র করা, যাতে দেশ স্বাধীন হলেও উঠে দাঁড়াতে না পারে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের দুই নম্বর গ্যালারির একাংশে রয়েছে ২৫ মার্চ রাত ও এরপরে যে বুদ্ধিজীবীরা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের প্রতিকৃতি, পরিচিতি ও বিভিন্ন নিদর্শন।
জাদুঘরের চার নম্বর গ্যালারির একটি বড় অংশে মূলত ডিসেম্বরের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে নিয়ে করা হয়েছে একটি কর্নার। প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী জাদুঘরে আসেন দেশের ইতিহাসের গৌরবময় অর্জনের স্মৃতিময় নিদর্শনগুলো দেখতে।
বরাবরের মতো এবারও কৃতজ্ঞ জাতি বিজয় দিবসের প্রাক্কালে আজ শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করবে শোক ও শ্রদ্ধায়।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা'।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও সরকারের পতনের পর তালিকার কাজ এবং তালিকা প্রণয়ন কমিটি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা প্রণয়নের কাজ এই মুহূর্তে মন্ত্রণালয়ের চিন্তা-ভাবনায় নেই। ভবিষ্যতে কখনো তালিকাটি করা হলেও বর্তমান কমিটিতে যেসব সদস্য আছেন তাদের না থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক ই আজম বলেন, '৫৬০ জনের তালিকা গেজেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা আছে।...৫০ বছর পর এসব তালিকা করাটা অতি দুরূহ একটা ব্যাপার।'
তবে তালিকা প্রণয়নের জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, ' '৫৬০ জনের তালিকা গেজেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা আছে।...৫০ বছর পর এসব তালিকা করাটা অতি দুরূহ একটা ব্যাপার।'।
এদিকে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত চার পর্বে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ৫৬০। তালিকায় থাকা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি শিক্ষক, ১৯০ জন।
এর পরের অবস্থানেই রয়েছেন চিকিৎসক, মোট ১১১ জন। এছাড়া আইনজীবী ৫০ জন, প্রকৌশলী ৩৯ জন এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন ৩৪ জন।
তালিকায় রাজনীতিক ও সমাজসেবী রয়েছেন ২৪ জন। এ ছাড়া সাহিত্যিক ২০ জন, সাংবাদিক ১৯ জন এবং সংস্কৃতিকর্মী ১৭ জন।
তালিকায় বিভিন্ন ধর্মের ধর্মগুরু রয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে ইমাম, মাওলানা ও মাদরাসা শিক্ষক আটজন এবং পুরোহিত ও পাদ্রি রয়েছেন দুজন।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'VC appointment: No uniform policy in 53 years' অর্থাৎ, 'ভিসি নিয়োগ: ৫৩ বছরে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা হয়নি'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অর্থাৎ উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়াটি সংস্কারের জন্য বারবার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের রাজনৈতিক মতাদর্শই প্রাধান্য পায়।
দেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র চারটিতে উপাচার্য নিয়োগের জন্য একটি অভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে।
ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটকে উপাচার্য নির্বাচন করতে হয়।
অন্য ৫১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে উপাচার্য নিয়োগ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, "সরকার চায় ক্যাম্পাসে আজ্ঞাবহ প্রশাসন। তারা চায় প্রশাসন যেন কিছু না করে যখন শাসক দলের ছাত্র কর্মীরা আইন ভঙ্গ করে।"
১৯৯১ সালে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত টাস্কফোর্স নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের সুপারিশ করেছিল। ২০০৩ সালের একটি শিক্ষা কমিশন এবং ২০০৬-২০২৬ সালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কৌশলগত পরিকল্পনায় উপাচার্য নিয়োগের জন্য একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) তার বার্ষিক প্রতিবেদনে অন্তত দুইবার নিয়োগের জন্য একটি নির্দেশিকা প্রণয়নের সুপারিশ করেছে।
সবশেষ সরকার পতনের পর, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সংগঠন "বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক" জানায়, "তোষামোদকারী" ব্যক্তিরা যেন উপাচার্য না হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ "রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপমুক্ত" একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য আইনি পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, 'পড়ে আছে করোনা টিকার দুই হাজার কোটি টাকা'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করোনার টিকা কেনার জন্য সরকার দুই বছর আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক- এডিবি থেকে ঋণ নিয়ে ইউনিসেফকে ৯৪ কোটি ডলার দেয়। এর মধ্যে প্রায় ১৮ কোটি ডলার অর্থাৎ বর্তমান বিনিময়হার অনুযায়ী দুই হাজার কোটি টাকার বেশি অব্যবহৃত থেকে যায়।
দেশ যখন তীব্র ডলার সংকটে তখন অদৃশ্য কারণে প্রায় দুই বছরেও ওই ডলার ফেরত আনা হয়নি। কেন এ অর্থ আনা হলো না, তা কেউ সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারছে না।
টিকা কেনার চুক্তি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ইউনিসেফের মধ্যে হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেওয়ার বিষয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি দিয়ে পড়ে থাকা অর্থ ফেরত আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, এর আগেও এ অর্থ ফেরতের বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে জানাতে বলা হলেও অধিদপ্তর থেকে তা জানানো হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা ক্রয়ের প্রোগ্রাম পরিচালক ডা. মিজানুর রহমান বলেন, দেশে করোনা টিকার যখন সংকট দেখা দেয়, তখন ওই চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী টাকা দিয়ে কিছু টিকা কেনাও হয়।
তবে ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিনামূল্যে টিকা পাওয়ার কারণে এডিবির পুরো টাকা খরচ করার দরকার হয়নি।
জানা গেছে, পুরো টিকা কেনার প্রয়োজন না হওয়ায় ১৭ কোটি ৫৯ লাখ ডলারে ইউনিসেফের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থেকে যায়। স্থিতি অর্থের বিপরীতে সুদ জমা হয়ে এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৮ কোটি ডলার।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম, 'সরকারি কেন্দ্র গ্যাস পাচ্ছে না সরবরাহ হচ্ছে বেসরকারিতে'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বেসরকারি ও বিদেশি কোম্পানির কেন্দ্রে গ্যাস দিলেও সরকারি কেন্দ্র রূপসায় গ্যাস দিতে রাজি নয় মন্ত্রণালয়।
শুধু তা-ই নয়, সরকারি কেন্দ্রে গ্যাস দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য উত্থাপন করায় এক যুগ্ম সচিবকে রাতারাতি বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
খুলনার রূপসায় নিউজপ্রিন্ট মিলের জায়গায় ৪০০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিটে ৮০০ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে বেশ কিছুদিন আগে।
প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটি আগামী তিন বছরের মধ্যে চালু না হলে যন্ত্রপাতি নষ্ট হতে থাকবে।
এ কারণে কেন্দ্রটিতে জরুরি ভিত্তিতে গ্যাস দিতে চায় পেট্রোবাংলা। কিন্তু বাদ সেধেছে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
তারা এই কেন্দ্রে গ্যাস দেবে না। অথচ এই কেন্দ্রের পরে অনুমতি পাওয়া মেঘনাঘাটে সামিট গ্রুপের ৫৮৩ মেগাওয়াট এবং আওয়ামী লীগ আমলের আরেক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের ৫৮৪ মেগাওয়াট কেন্দ্রে গ্যাস দিচ্ছে সরকার।
এমনকি একই স্থানে ভারতের রিলায়েন্সের ৭১৮ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটিতেও গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের দাবি, সামিট, রিলায়েন্স, নাফিজ সরাফাতের কোম্পানিগুলোর সব চুক্তি খতিয়ে দেখতে হবে।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস না দেওয়াটা দুঃখজনক। জনগণের রক্তের ওপর দাঁড়ানো সরকার যদি ভারতপন্থী হয়ে যায়, তাহলে তো দুঃখের সীমা থাকে না।

যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'নবায়নে কঠোর সরকার'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের গত সাড়ে ১৫ বছরে খেলাপি ঋণ নবায়নে চলেছে ছাড়ের ছড়াছড়ি। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ যেমন বেড়েছে, তেমনই খেলাপি ঋণ নবায়নে একের পর এক ছাড়ও বেড়েছে।
প্রথমে নীতিমালা শিথিল করে খেলাপি ঋণ নবায়নে ছাড় দেওয়া হয়েছে। পরে বড় গ্রুপ বা ব্যক্তিবিশেষের জন্য ছাড়ের নীতিমালা করা হয়। এতেও খেলাপিরা তৃপ্ত হয়নি।
আইনকানুন বা বিধিবিধানের কোনো তোয়াক্কা না করে অনেকটা ব্যক্তিবিশেষের চাহিদামতো খেলাপি ঋণ নবায়ন করা হয়েছে। এমনকি বছরের পর বছর ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হলেও তা খেলাপি না করে নিয়মিত রাখা হয়েছে।
তবে বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় বা ব্যক্তিবিশেষ বিবেচনায় যেসব ছাড় দেওয়া হয়েছে সেগুলোর মেয়াদ নতুন করে বাড়ানো হবে না।
খেলাপি ঋণ নবায়ন বা পুনঃতফশিলের ক্ষেত্রে আর ছাড় দেওয়া হবে না। পর্যায়ক্রমে আগে দেওয়া ছাড়ের নীতিমালাগুলো প্রত্যাহার করা হবে।
খেলাপি ঋণ নবায়ন প্রক্রিয়াকে ফিরিয়ে আনা হবে স্বাভাবিক ধারায়। খেলাপিদের ছাড় দিতে গিয়ে যেসব ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে।
ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসাবে এ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, 'ঠাণ্ডায় কাঁপছে দেশ'।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবন-যাত্রায় ছন্দপতন ঘটেছে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রচণ্ড ঠাণ্ডায়। গরম কাপড়ের অভাবে দেশের একটি অংশের মানুষের নির্ঘুম রাত কাটছে।
মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে দেশের পঞ্চগড়, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গা জেলায়। অবশ্য এসব জেলাগুলোর আশপাশের জেলাগুলোতেও প্রচণ্ড ঠাণ্ডা বিরাজ করছে।
ঠাণ্ডার কাঁপুনি থেকে রেহাই পেতে ঘরের মধ্যে খড়-কুটো জ্বালিয়ে শরীর গরমের চেষ্টা করতে হচ্ছে দরিদ্র ও নিরন্ন মানুষকে, তবু কমে না ঠাণ্ডা।
সব বয়সী মানুষকে শীতে কাবু করলেও শিশু ও বৃদ্ধদের কষ্টটা বেশি। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে এই বয়সীদের। সে কারণে হাঁপানি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে এই বয়সীরাই বেশি ভুগছেন।
ঠাণ্ডায় কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নতুন করে কার্যকর হয় বলে অনেকেই ডায়রিয়া ও আমাশয়ে ভুগছেন বলে জানিয়েছেন মেডিসিনের চিকিৎসকরা।
বাংলাদেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল এবং নদী আববাহিকা অঞ্চলে ঘন কুয়াশার কারণে যেমন সূর্যের আলো ফিকে হয়ে গেছে তেমনি ১০ গজ সামনে কী আছে তা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।
সে কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে অনেক দেরি হয়ে যায়। কাজের গতিও কুয়াশার কারণে ধীর হয়ে যাচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ কিংবা কৃষক দেরি করে ক্ষেতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন।








