আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তেলেঙ্গানার কারখানায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জন, আরও লাশের খোঁজ চলছে
- Author, মেরিল সেবাস্টিয়ান
- Role, বিবিসি নিউজ, কোচি
- Published
- পড়ার সময়: ৩ মিনিট
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানায় একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী কারখানায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো খবর প্রকাশ করেছে।
সোমবার সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজের একটি ইউনিটে সবাই যখন কাজ করছিলেন ওই সময় এই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে অনেকে আহত হন এবং তাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
"ধ্বংসাবশেষ থেকে ৩১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে," প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়াকে এই তথ্য জানিয়েছেন জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিতোষ পঙ্কজ।
এক ভুক্তভোগীর ছেলের অভিযোগের ভিত্তিতে সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, ভেতরের যন্ত্রপাতি এবং অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে তারা ৯০ দিনের জন্য কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রাখছে।
"দুর্ভাগ্যবশত এই ঘটনায় অনেক মানুষের প্রাণহানি হয়েছে এবং আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন," সিগাচি ইন্ডাস্ট্রিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। আহতদের সংখ্যা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে তারা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে বিস্ফোরণের ফলে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ওই সময় সেখানে প্রায় ৬০ জন ছিলেন।
শ্রমিকদের অনেকেই দেশের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, বিহার, উত্তরপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্য থেকে আসা অভিবাসী।
কারখানার ওই ইউনিটে মাইক্রোক্রিস্টালাইন সেলুলোজ তৈরি করত, যা প্রায়শই ওষুধ, প্রসাধনী ও খাদ্য শিল্পে জমাট বাঁধানোর উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
"শ্রমিকরা স্প্রে ড্রায়ার চালানোর সময় চাপ তৈরি হয়েছিল বলে মনে হচ্ছে," একজন জ্যেষ্ঠ উদ্ধার কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন।
"সূক্ষ্ম ধুলোর রাসায়নিক কণাও বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী আগুনকে ত্বরান্বিত করেছে।"
উদ্ধার কর্মকর্তারা সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছেন, কমপক্ষে ২৫ জনকে বিভিন্ন মাত্রার পোড়া ক্ষত এবং আহত অবস্থায় নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেকেই বিষাক্ত ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
উদ্ধারকর্মীরা এখনো বিস্ফোরণস্থলের ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করছেন এবং এএনআই সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন যে তারা নিশ্চিত নন যে কতজন এখনো আটকা পড়ে আছেন।
"সব কাজ শেষ হয়ে গেলে আমরা মূল্যায়ন করতে পারব যে ধ্বংসাবশেষের নিচে আর কোনো মৃতদেহ রয়ে গেছে কিনা বা সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে কিনা," রয়টার্সকে একথা বলেছেন তেলেঙ্গানা অগ্নি দুর্যোগ সংক্রান্ত জরুরি বিভাগের পরিচালক জিভি নারায়ণ রাও।
কর্মকর্তারা বলছেন, যেসব মৃতদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যাচ্ছে না তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
রাজ্যের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস সরকার "এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক" প্রকাশ করেছে এবং জানিয়েছে যে নিহত এবং আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের জন্য প্রতি দুই লাখ ভারতীয় রুপি এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন।