'বিলুপ্ত বা সংস্কার আলোচনায় র‍্যাব'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম, ‘বিলুপ্ত বা সংস্কার আলোচনায় র‍্যাব’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০০৪ সালে পুলিশের বিশেষায়িত বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) গড়ে তোলা হয়েছিল শীর্ষ সন্ত্রাসী, দাগী ও দুর্ধর্ষ জঙ্গি দমনের এলিট ফোর্স হিসেবে।

এই বাহিনীর নানা ভালো কাজের পাশাপাশি রয়েছে সমালোচনাও। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, গুমঘরে বছরের পর বছর আটকে রাখা এবং বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক কর্মকাণ্ডে এই সংস্থা জড়িত থাকায় সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

আলোচনা আছে এসব ঘটনার পর র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন করে বাহিনী তৈরি করা হবে না কি সংস্কার করে নতুনভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের নিযুক্ত করা হবে।

গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের ভাষ্যমতে, গুমের যে ৪০০টি ঘটনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে, সেখানে ১৭২টি ঘটনায় র‍্যাবের সম্পৃক্ততা পাওয়া গিয়েছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাহিনী বিতর্কিত, সমালোচিত হওয়ার দায়, শুধু সেই বাহিনীর একক দায় নয়। বরং যে বা যারা সরকারে থাকেন তারা কীভাবে বাহিনীটিকে পরিচালিত করেছেন তার ওপর নির্ভর করে ওই বাহিনী মানুষের সুনাম কুড়াবে নাকি সমালোচনার জন্ম দিবে।

তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো কিছু বন্ধ করে দেয়াটা সমাধান নয় বলে তারা মনে করেন। বরং অভিযোগগুলো যাতে না আসে সেটি নিশ্চিত করতে ও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে র‍্যাবের ভূমিকাকে আরো বেশি জোরালো করার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

র‍্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে র‍্যাব এই বিতর্কিত অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, ‘Nation can’t let interim govt fail: BNP’ অর্থাৎ, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে জাতি ব্যর্থ হতে দিতে পারে না: বিএনপি’।

প্রতিবেদনে ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ স্মরণে বিএনপির শোভাযাত্রা কর্মসূচির খবর এবং তারেক রহমানের দেয়া বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার মিছিল বের করার আগে দলের নয়া পল্টন কার্যালয়ের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্যে দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন।

এ সময় তারেক রহমান হুঁশিয়ারি করে বলেছেন, “গণতন্ত্রবিরোধী শক্তি এখনও ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে অস্থিতিশীল করতে নিরলসভাবে চেষ্টা করছে।”

অন্তর্বর্তী সরকারকে কোনো অবস্থাতেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না উল্লেখ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করার আহ্বান জানান।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সমাবেশে ঢাকা ও আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করে গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পক্ষে স্লোগান দিতে থাকা হাজার হাজার সমর্থক ও দলীয় সহযোগীরা অনুষ্ঠানস্থলে সমবেত হন।

কাকরাইল মসজিদ থেকে ফকিরেরপুল ও আশপাশের রাস্তা-ঘাট বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখর ছিল।

তবে কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজটের সম্মুখীন হয়েছেন নগরবাসী।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘ব্যয়ের বহুগুণ আয়, তবু টোল’।

প্রতিবেদনে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের বরাতে বলা হচ্ছে, গত আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা ও মেঘনা-গোমতীর মতো দেশের ২৬টি সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের বহুগুণ উঠে গেলেও সেগুলোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের ওপর টোল আদায় চলছেই।

মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দুটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। তিন দশক আগে চালু হওয়া এই সেতু দুটি থেকে সরকার গত অগাস্ট পর্যন্ত টোল বাবদ আয় করেছে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

এত আয়ের পরও টোল থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেতু ব্যবহারকারীরা টোল আদায় বন্ধের জন্য বিক্ষোভ করেছেন।

তবে বিগত সরকার টোল আদায়ে কোনো ছাড় দেয়নি বরং ২০১৪ সালে ২০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের সব সেতুতে টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত হয়। যার কারণে যানবাহনের ভাড়া বেশি পড়ে এবং পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টোল অনেকটা পরোক্ষ করের মতো, যা গরিবের কাছ থেকে ধনীদের সমান হারে আদায় করা হয়। অথচ ধনী ও সচ্ছলদের থেকে আয়করের মতো প্রত্যক্ষ কর আদায় করতে পারেনি।

অন্যদিকে বিপুল ব্যয় ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ নানা প্রকল্প নিয়ে সরকারের খরচ অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই ব্যয় মেটাতে চাপ তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর।

এতে আরো বলা হয়েছে, টোলের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক হলো, সেতুর ইজারা পান ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। অভিযোগ রয়েছে, টোল আদায় করে ঠিকাদারেরা নিজেরা বেশি লাভবান হয়েছেন। এ কারণে বহু বছর আগে নির্মিত ও তুলনামূলক ছোট সেতু থেকেও টোল আদায় চলছে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, ‘মানুষ বেচে ওরা কোটিপতি’।

প্রতিবেদনে মূলত স্বচ্ছল জীবনের আশায় বিদেশে পাড়ি জমাতে গিয়ে গত ১১ বছর ধরে নিখোঁজ এক ব্যক্তির পরিবারের ভাষ্য তুলে ধরা হয়েছে।

ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার বিশনন্দী ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পারে ছোট্ট এক গ্রাম মানিকপুরের।

বলা হচ্ছে, এই গল্প মানিকপুর ছাড়িয়ে পুরো উপজেলার প্রায় প্রতিটি গ্রামের। ভাগ্যক্রমে কেউ মালয়েশিয়ায় পৌঁছে যান, অনেকেরই সলিলসমাধি ঘটে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সাগরে।

আবার অনেকের ঠিকানা মাঝপথে মিয়ানমার কিংবা থাইল্যান্ডে দালালদের নিষ্ঠুর টর্চার সেলে।

ঘটনার পেছনে উঠে এসেছে দালাল নকীবের নাম। যার দলে আছে অন্তত ৬০ জনের বিশাল মাঠকর্মী।

এই মাঠকর্মীদের কাজ হলো গ্রামের অভাবী সহজ-সরল মানুষ বাছাই করা। এরপর চটকদার প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা। বিনিময়ে মাঠকর্মীদের পকেটও গরম হয়।

এছাড়া ঈসমাইল হোসেন নামে আরেক দালালের নামও উঠে এসেছে।

কালের কণ্ঠ পুরো উপজেলা ঘুরে ৭৯টি পরিবারের সন্ধান পেয়েছে, যাদের পরিবারে একমাত্র কর্মক্ষম পুরুষ মানুষটি সচ্ছল জীবনের খোঁজে বেরিয়ে হারিয়ে গেছেন প্রায় চিরতরে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেড় থেকে দুই দশক আগে নকীব তাঁত শ্রমিক থাকলেও এখন তার চারটি বাড়ি। স্থানীয়দের মতে, মানুষ বেচার কারবার শুরু করেই যেন আলাদিনের চেরাগ হাতে পেয়ে বদলে গেছে নকীবের জীবন।

অন্যদিকে বিশনন্দী গ্রামের ঈসমাইল ২০০৫ সালে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে গড়ে তোলেন আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্র।

সমকালের প্রধান শিরোনাম, ‘মাদকে নজরদারি কম, বাড়ছে ব্যাপ্তি’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বস্তি ও ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রায়ই প্রকাশ্যে সংঘাতে জড়াচ্ছে তারা।

পল্লবীর মিল্লাত ক্যাম্প, বেগুনটিলা ক্যাম্প ও জুট পট্টিতে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

এছাড়া ঢাকার সবচেয়ে বড় মাদক স্পট হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মাদক কারবারিদের মধ্যে প্রায় প্রতিদিনই সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হচ্ছে।

এতে এ পর্যন্ত অন্তত আটজনের মৃত্যু এবং আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুলিশের ঢিলেঢালা নজরদারি ও দুর্বল গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের সুযোগ নিয়ে রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে মাদক কারবারিরা।

চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে মাদক নির্মূলে মনোযোগ পুরোপুরি দেওয়া কঠিন। এই সুযোগে মাদকের ব্যাপ্তি বাড়ছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা করতে দেখা যাচ্ছে। আবার নতুন নতুন কৌশলে বাংলাদেশে ঢুকছে মাদক।

সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই ধরা পড়ছে চালান। সীমান্তের ওপার থেকে আসা নানা ধরনের মাদক ছড়িয়ে পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।

তবে পুলিশের দাবি, ১৮ই অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী শুরু হওয়া পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম, ‘বিচারপতি নিয়োগ কমিশন আইন হচ্ছে’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগে যোগ্য ও দক্ষদের বাছাই করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার জন্য স্বাধীন নিয়োগ কমিশন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে ৪ঠা নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ফুলকোর্ট সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

১৯৭২ সালে গৃহীত দেশের প্রথম সংবিধানেই বিচারপতি নিয়োগে আইন করার কথা বলা হয়েছিল। আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও তা আর হয়নি।

আইনজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থার জন্য পৃথক সচিবালয় ও বিচারপতি নিয়োগের আইন থাকা জরুরি। এত দিন রাজনৈতিক সরকারগুলো তা করেনি।

এখন বাংলাদেশের প্রতিবেশী এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পূর্বসূরি ভারত ও পাকিস্তানের উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগের পদ্ধতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ওই দুই দেশের আদলে কমিশনে কারা থাকবেন, কমিশন কীভাবে নিয়োগের জন্য বিচারক বাছাই করবে— এসব বিষয় খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।

সবকিছু চূড়ান্ত হলে প্রধান বিচারপতির নির্দেশমতো দ্রুত তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এমনটা হলে বিচারপতি নিয়োগের কাজটি আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে এবং জনগণের মধ্যে বিচারপতি নিয়োগে স্বচ্ছতা সম্পর্কে ‘ভিত্তিহীন ধারণা’ দূর হবে।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, ‘Life insurers mired in irregularities’ অর্থাৎ, ‘জীবন বীমাকারীরা অনিয়মে জর্জরিত’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশের এক-চতুর্থাংশ জীবন বীমা সংস্থা আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত যা সমগ্র শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

এর পেছনে খারাপ বিনিয়োগ, উচ্চ এজেন্ট কমিশন এবং অত্যধিক ব্যবস্থাপনা ব্যয় এবং অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সমস্যাগ্রস্থ ব্যাংকগুলোর ওপরেও আর্থিক চাপ অনেক বেড়েছে।

ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (আইডিআরএ) থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে যে ৩৬টি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মধ্যে ৩১টি কোম্পানিকে তিন হাজার ৬৪৩ কোটি টাকার প্রায় ১১ লাখ পলিসি হোল্ডারের দাবি নিষ্পত্তি করতে হবে।

কিন্তু গ্রাহকরা টাকা ফেরত পাবেন কি না তা অনিশ্চিত।

২০২৪ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক পর্যন্ত পাঁচ বছরে জমা হওয়া অমীমাংসিত দাবিগুলো এই সময়ের মধ্যে মোট দাবির ৬৬ দশমিক ২১ শতাংশ।

আইডিআরএ -এর তথ্য অনুযায়ী জীবন বীমাকারীদের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তির হার সাম্প্রতিক বছরগুলিতে হ্রাস পেয়েছে, ২০২০ সালে ৮৫ শতাংশ থেকে ২০২৩ সালে ৭২ শতাংশে নেমে এসেছে।

৩১টি বীমা কোম্পানির মধ্যে নয়টির নিষ্পত্তির হার সবচেয়ে খারাপ।

রাজনৈতিক কারণ এবং আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নিয়ন্ত্রকরা কখনই এই সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে কোনও বড় পদক্ষেপ নেয়নি বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন।

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম, ‘ছোট উদ্যোক্তাদের বড় সমস্যা’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে ৫২ শতাংশ আর্থিক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ব্যাংকগুলোর হাতে থাকার পরও দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ (এসএমই) খাত ধুঁকছে বিনিয়োগের অভাবে। জিডিপিতে এ খাতটির অবদান মাত্র ২০ শতাংশ।

অথচ এসএমই খাত কাজে লাগিয়ে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬০ শতাংশ অবদান এসএমই খাতের।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে বড় শিল্প শুধু বড় হবে, ব্যাংকও তাদেরই চিনবে; বিপরীতে ছোটরা আরও ছোট হবে এটাই যেন বাংলাদেশে নিয়মে পরিণত হয়েছে।

বড়দের জন্য সরকারি উদ্যোগ, ব্যাংকঋণ, অবাধ বাজার ব্যবস্থাপনা আর সিন্ডিকেট সব দরজাই খোলা।

ছোট উদ্যোক্তাদের না চিনে সরকার, না চিনে বিনিয়োগকারী ব্যাংকগুলো। তাদের পথ কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে গেছে।

বাড়ে না কর্মসংস্থান, উল্টো গত জুন শেষে দেশে বেকারত্বের হার বেড়ে আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এমন অবস্থায় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ও কর্মসংস্থানের জন্য সিএমএসএমইতে ঋণ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, জাতিগোষ্ঠী বিবেচনায় ব্রিটেনে সবচেয়ে কম আয় করার তালিকায় রয়েছেও বাংলাদেশিদের নাম। সেখানে ভারতীয়রা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৭০০ পাউন্ড আয় করেন। সেখানে বাংলাদেশিরা আয় করেন গড়ে ৪১৬ পাউন্ড।

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট থেকে প্রকাশিত ইনকাম ইনইকুয়ালিটি ইন ইউকে প্রতিবেদনের ২০২৪ সালের সংস্করণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

জাতিগোষ্ঠীভিত্তিক আয়বণ্টন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশটিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রায় ৪৩ শতাংশেরই অবস্থান সর্বনিম্ন আয় শ্রেণীতে। অর্থাৎ বাংলাদেশিদের অনেকেই এখন সেখানে বাস করছেন দারিদ্র্যসীমার নিচে।

আবার এর উল্টোচিত্রও রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির সর্বোচ্চ আয় শ্রেণীতে অবস্থান করছে বাংলাদেশী কমিউনিটির আট শতাংশ। গত দেড় দশকে যুক্তরাজ্যের গোটা প্রপার্টি বাজারেই বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেশ জোরালো হয়েছে।

লন্ডনসহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় অন্তত অর্ধশত বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকারের বাড়ি কেনার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছে বণিক বার্তা।

এ তালিকায় দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ নির্বাহীর পাশাপাশি রয়েছে ব্যাংকের মাঝারি স্তরের কর্মকর্তার নামও। এদিক থেকে অন্যদের চেয়ে বেশ এগিয়ে তৈরি পোশাক খাতের বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে সরকার বিদেশে বিনিয়োগের জন্য যেটুকু সুবিধা দেয়, সেখান থেকে আবাসন খাতে বিনিয়োগ সম্ভব নয়।

এ কারণে এখানকার অতি ধনী, রাজনীতিবিদ, আমলা ও ব্যবসায়ীরা যুক্তরাজ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করলেও তা অবৈধভাবে দেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে ধরে নেয়া যায়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি অনেক কঠিন, জটিল এবং দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার।