নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের 'খোঁড়া গর্তে' পড়েই হারলো পাকিস্তান

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে নিজেদের 'খোঁড়া গর্তে' পড়ে হারলো পাকিস্তান

ছবির উৎস, Getty Images

Published
পড়ার সময়: ৩ মিনিট

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ২০২৫-এর প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক পাকিস্তানকে ব্যাটে-বলে একরকম পর্যদস্ত করে টুর্নামেন্ট শুরু করলো নিউজিল্যান্ড।

টস জিতে পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ান নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠায়, পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড তুলেছে ৩২০ রান, জবাবে ২৬০ রান করতে পারে পাকিস্তান।

৬০ রানের জয় তুলে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।

কেবলই শেষ হওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজে এই একই মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সাড়ে তিনশ রান তাড়া করার স্মৃতি থেকেই বোলিং নেয়া পাকিস্তানকে বাস্তবতার জমিনে নামিয়ে এনেছে নিউজিল্যান্ড।

গ্রুপ-এ'তে বেশিরভাগ আলাপ আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছিলো ভারত আর পাকিস্তান নিয়ে, তবে নিউজিল্যান্ড যেন প্রথম ম্যাচেই জানান দিলো, এটা আইসিসি টুর্নামেন্ট, এখানে তাদের দাপটই আলাদা।

পাকিস্তান নিজেদের জন্য যেন 'গর্ত খুঁড়েছে'

যখন ১৩ ওভার ২ বল চলে তখন টেলিভিশন স্ক্রিনে দেখাচ্ছে পাকিস্তানের ডট বলের সংখ্যা ৬০, অর্থাৎ ৮০ বলের ৬০ বলেই কোনও স্কোরিং শট খেলতে পারেনি পাকিস্তানের টপ অর্ডার, ২০ ওভার পার হতেই পাকিস্তানের আস্কিং রেট ৯ এর কাছাকাছি চলে যায়, এরপর ৩০ ওভারের দিকে সেটি হয়ে যায় ১০ এর মতো।

প্রথম ২৫ ওভারে পাকিস্তান ১০৪টি ডট বল দিয়েছে।

এই সময়টায় ক্রিজে ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও অন্যতম সেরা ব্যাটার বাবর আজম, যিনি ৯০ বলে ৬৪ রানের এক ইনিংস খেলেন, ৭১ স্ট্রাইক রেটে।

৩২০ লক্ষ্য যেখানে সেই ম্যাচে এমন ব্যাটিংকে নিজেদের জন্য 'গর্ত খোঁড়া' বলছেন ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ও ক্রিকেট বিশ্লেষক আকাশ চোপড়া।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, "প্রতিটা ডট বল পাকিস্তানকে ভোগাবে"।

শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই, অনেকটা হাল ছেড়ে দিয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছেন পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা।

পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড তুলেছে ৩২০ রান, জবাবে ২৬০ রান করতে পারে পাকিস্তান।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড তুলেছে ৩২০ রান, জবাবে ২৬০ রান করতে পারে পাকিস্তান।

ফখর জামানের চোট

ম্যাচের শুরুতেই মাঠ ছেড়ে পুরোটা সময় আলোচনায় ছিলেন পাকিস্তানের টপ অর্ডার ব্যাটার ফখর জামান। মাংসপেশিতে টান লেগে মাঠ ছাড়া এই ব্যটার আর ব্যাট করতে পারবেন কি না এমন প্রশ্ন ছিল ঘুরে ফিরে উঠতে দেখা যায়।

শেষ পর্যন্ত ব্যথা নিয়েই মাঠে নামেন তিনি। তবে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি, বারবার মাঠেই পড়ে যাচ্ছিলেন ফখর।

তার ব্যাটে ২৪ রান আসে, এজন্য খেলেছেন ৪১ বল।

ইয়াং-লাথামের দাপট

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

এর আগে নিউজিল্যান্ড ব্যাট করতে নামার পর খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল বলা যাবে না, শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়ছিল।

কেইন উইলিয়ামসন আউট হন ১ রানে, ২০১৯ সালের জুন মাসের পর ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচে এই প্রথম কেইন উইলিয়ামসন ১ অঙ্কের ঘরে অর্থাৎ ১০ রানের নিচে আউট হলেন।

কেইন উইলিয়ামসনের উইকেট সবসময়ই বাড়তি আনন্দ যোগায় প্রতিপক্ষ শিবিরে, নাসিম শাহ'র উদযাপনও ছিল দেখার মতো, খানিকটা মাঝ বরাবর লেন্থের বল উইলিয়ামসনের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেটকিপার ও অধিনায়ক রিজওয়ানের হাতে জমা হয়।

৭৩ রানের মাথায় ড্যারেল মিচেলের উইকেটও হারায় নিউজিল্যান্ড।

পরের ২০ ওভারে ধীরে ধীরে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের ছন্নছাড়া ভাব দূর করতে লড়াই করেন ওপেনার উইল ইয়াং ও অভিজ্ঞ টম লাথাম।

১২৬ বলে ১১৮ রানের জুটি গড়েন এই দুজন, দুজনই নিজ নিজ সেঞ্চুরি তুলে নেন।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ২০২৫ সালে চার ম্যাচে মাত্র এক রান করা টম লাথাম পাকিস্তানে এসেই যেন ফর্ম ফিরে পেলেন, ত্রি-দেশীয় সিরিজের ফাইনাল ম্যাচে ৫৬ রানের ইনিংসের পর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির প্রথম ম্যাচে খেললেন ১০৪ বলে ১১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস।

পাকিস্তানের ফাস্ট বোলাররা প্রায় সবাই রান দিয়েছেন- শাহিন ৬৮, নাসিম ৬৩ ও হারিস রওফ ৮৩ রান দিয়েছেন পুরো ১০ ওভার বল করে।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ফাস্ট বোলাররা ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তানের ব্যাটারদের একরকম আটকে রাখেন, ১০ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নেয় কিউইরা, সেখানেই পাকিস্তান অনেকটা পিছিয়ে পড়ে।

গ্লেন ফিলিপসের ঝড়ো ইনিংস ও উড়ন্ত ক্যাচ

গ্লেন ফিলিপস যখন ব্যাট হাতে ক্রিজে নামেন তখন নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ১৯১, ওভার ৩৭.২।

সেই অবস্থান থেকে শেষ ১২ ওভার চার বলে নিউজিল্যান্ড ১২৯ রান তুলতে সক্ষম হয়।

এই ১২৯ এর মধ্যে ফিলিপস ৩৯ বলে ৬১ রান তোলেন, ৩টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান।

১৫৬ স্ট্রাইক রেটে ম্যাচের মোড় ঘোরানো এক ইনিংস খেলার পর ফিল্ডিংয়ে রিজওয়ানকে আউট করতে দারুণ এক ক্যাচ নিয়েছেন গ্লেন ফিলিপস।